Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৫২ || কেমন ছিলেন তারা?! ।। শাইখ খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল হুসাইনান রহিমাহুল্লাহ - শেষ পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৫২ || কেমন ছিলেন তারা?! ।। শাইখ খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল হুসাইনান রহিমাহুল্লাহ - শেষ পর্ব

    আল হিকমাহ মিডিয়া পরিবেশিত
    কেমন ছিলেন তারা?!
    ।। শাইখ খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল হুসাইনান রহিমাহুল্লাহ– ।।
    –।।থেকে- শেষ পর্ব


    দাওয়াহ ইলাল্লাহর ক্ষেত্রে কেমন ছিলেন তারা?


    তাদের ইলম ছিল, ইবাদতের প্রতিযোগিতা ছিল, তাকওয়ার চর্চা ছিল। কিন্তু এসব কিছুর মাঝে শুধু আত্মকেন্দ্রিক জীবন নিয়েই তারা পড়ে থাকতেন না। বরং তারা ছিলেন দাওয়াহ ইলাল্লাহর উজ্জ্বল নক্ষত্র। আল্লাহ তায়ালা বলেন-

    وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ (33)

    “অর্থঃ তার চেয়ে আর কার কথা অতি উত্তম হতে পারে যে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহবান করে। এবং নিজে নেক আমল করে, আর বলে আমি মুসলিমদের একজন”(সুরা হা-মীম ৪১:৩৩)

    আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন-

    كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللّهِ وَلَوْ آمَنَ أَهْلُ الْكِتَابِ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُم مِّنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَأَكْثَرُهُمُ الْفَاسِقُونَ

    তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্যেই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। আর আহলে-কিতাবরা যদি ঈমান আনতো, তাহলে তা তাদের জন্য মঙ্গলকর হতো। তাদের মধ্যে কিছু তো রয়েছে ঈমানদার আর অধিকাংশই হলো পাপাচারী। (সুরা ইমরান ৩:১১০)

    হে আল্লাহ! কেন আমরা শ্রেষ্ঠ জাতি হলাম? আমাদের কাছে বড় বড় ভবন আছে, এই জন্য? নাকি আমরা নামি দামি হোটেলের মালিক? নামি আমাদের কাছে অনেক ডিগ্রি আছে? কিংবা আমরা দামি দামি ব্রান্ডের গাড়িতে চড়তে পারি? না.. না.... আল্লাহ তায়ালা বললেন, তোমরা শ্রেষ্ঠ উম্মত এই জন্য যে, তোমরা সৎকাজে আদেশ প্রদান করো, আর অন্যায় থেকে বারণ করো। হ্যাঁ, এটাই হলো শ্রেষ্ঠ উম্মাহ হবার কারণ। আমর বিল মারুফ নাহি আনিল মুনকার।

    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদেরকে দাওয়াহর তারবিয়াত করতেন। তাদের হৃদয়ে দাওয়ার আগ্রহের বীজ বপন করতেন। এক সাহাবী হযরত মালেক বিন হুয়াইরিস রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার মদিনায় আসলেন, এবং রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে বিশ দিন অবস্থান করলেন। তিনি যুবক ছিলেন। বিশ দিন পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, ‘তুমি নিজ পরিবারের কাছে ফিরে যাও। তাদেরকে ইলম শিক্ষা দাও। সৎকাজের আদেশ করো’এ জাতিয় আরও কিছু নির্দেশ দিলেন। আর বললেন, ‘আমাকে যেভাবে নামাজ পড়তে দেখেছো সেভাবে নামাজ পড়ো’

    তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদেরকে দাওয়ার তারবিয়াত করতেন। তাদেরকে বলতেন, মানুষদের সাথে মিশে তাদেরকে কল্যাণের পথে আহবান করতে। আজ আমরা যেই পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে আছি তা মেনে নিয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করা - এটার শিক্ষা কখনো তিনি সাহাবাদেরকে দেননি। বর্তমান সময়ের বাস্তবতা হলো, আমরা আজ দাওয়াহ ছেড়ে দিয়েছি, মুখ বুজে সহ্য করা শিখেছি। বেশিরভাগ মানুষ আমর বিল মারুফ নাহি আনিল মুনকার থেকে দূরে। ইল্লা মার রহিমাল্লাহতবে আল্লাহ যাকে রহম করেন, তার কথা ভিন্ন। ফলে আমাদের সমাজ দিন দিন অন্যায়ের দিকেই যাচ্ছে

    সুতরাং হে ভাই তুমি দাওয়ার কাজ চালিয়ে যেতে থাকো। হিকমাহ ও উপদেশের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে আহবান করতে থাকো। যদিও তা টেপরেকর্ডারের মাধ্যমে হয়। তুমি একটি ক্যাসেট ছড়িয়ে দাও, কিংবা কিতাব লিখে ছেপে দাও। কিংবা ইউটিউব বা ফেসবুকে ছড়িয়ে দাও হতে পারে এর দ্বারা আল্লাহ তায়ালা কারো হেদায়াতের ব্যবস্থা করবেন।

    আমাদের দেখা কত মানুষ আছে যারা একটি ক্যাসেটের কারণে, একটি বয়ানের কারণে হিদায়াতের পথে চলে এসেছে। তারা আজ মাশায়েখ হয়ে গিয়েছে। ওলামা ও মুজাহিদিন হয়ে গিয়েছে। কত ক্যাসেট আছে যদি মানুষের মাঝে ছড়ানো যেতো তাহলে অকল্পনীয় কল্যাণ বয়ে আনতো “মাফরাকুল জামাআত” শাইখ খালিদ আর রাশিদ এর ক্যাসেট, আল্লাহ তায়ালা এর দ্বারা কত মানুষকে হিদায়াত দিয়েছেন। এমনিভাবে তুমি কোন শাইখের কিতাব বা ক্যাসেট অন্যদের কাছে ছড়িয়ে দিতে পারো। যাতে তুমিও আল্লাহর পথের দায়ীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারো।


    সর্বশেষ কথা!

    উত্তম চরিত্রে সাহাবাদের বাস্তবতা কেমন ছিল?


    সাহাবাগণ কল্যাণের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে চলেছেন। তারা কোরআনের ক্ষেত্রে, ইবাদতের ক্ষেত্রে, জিহাদের ক্ষেত্রে, ত্বলবে ইলমের ক্ষেত্রে, যুহদ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে, জিহাদের ক্ষেত্রে কেমন ছিলেন? তা নিয়ে আমরা আলোচনা করলাম।

    সবকিছুর ন্যয় উত্তম চরিত্রের ক্ষেত্রেও তারা আমাদের জন্য অনুপম আদর্শ ছিলেন। ওয়াফা, ভ্রাতৃত্ব, সিদক ও সততা, মানবতার প্রতি দয়া, ইত্যাদিতেও তারা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিলেন। তারা কেনই বা এমন হবেন না। তারা তো মুহাম্মাদী মাদরাসা থেকে শিক্ষা নিয়েছে। যার ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেই দিয়েছেন-

    وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ

    “অর্থঃ আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী। (সুরা কালাম ৬৮:4)

    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে,

    سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَكْثَرِ مَا يُدْخِلُ النَّاسَ الْجَنَّةَ فَقَالَ ‏"‏ تَقْوَى اللَّهِ وَحُسْنُ الْخُلُقِ

    কোন জিনিসের কারণে বেশি পরিমাণে মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে? বললেন, তাকওয়া এবং উত্তম চরিত্র। (সহীহ বুখারী-২০০৪)

    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন-

    إِنَّ مِنْ خِيَارِكُمْ أَحْسَنَكُمْ أَخْلاَقًا

    নিশ্চয়ই তোমাদের মাঝে শ্রেষ্ঠতম হলো তারা যাদের আখলাক উত্তম।(সহীহ বুখারী-৩৫৫৯)

    আমাদের মাঝে শ্রেষ্ঠতম জন, উত্তম জন, উন্নতজন হলেন আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। সাহাবাদের জীবনীগ্রন্থগুলো আখলাকের ঘটনাবলী দ্বারা ভরপুর কোরবানী, আত্মোত্যাগের ঘটনাবলী তাদের জীবনের পরতে পরতে ভাস্বর।

    আমাদের উচিত তাদের জীবনী সামনে রেখে আমাদের জীবনকে মিলানো। এতেই আছে আমাদের সকল সংকটের সমাধান।


    ওয়ামা তাওফিকী ইল্লা বিল্লাহ

    আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন

    **********




    ​আরও পড়ুন

  • #2
    আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে এমন ইলম দান করুন, যা শুধু নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মানুষকে হক ও কল্যাণের দিকে আহ্বান করার প্রেরণা জোগায়। সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ইবাদত, ইলম ও উত্তম চরিত্রের পাশাপাশি দাওয়াত, আমর বিল-মারুফ ও নাহি আনিল-মুনকারের দায়িত্বও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করেছেন। আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে হিকমাহ, উত্তম চরিত্র ও ইখলাসের সাথে মানুষের কল্যাণে কাজ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

    Comment

    Working...
    X