আমরা এমন একটি সময়ে আছি—আমরা সবাই জানি, এটাই পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ সময়। মানুষের ধর্মীয়, নৈতিক, চারিত্রিক, সবর, আচরণসহ সকল দিক থেকে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ সময় এখন চলছে।
তবে আলহামদুলিল্লাহ, এই সময়ে আমরা যাদের সাথে কাজ করছি, তারা হলেন এই জমানার সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি। কারণ, মুজাহিদরা সকল যুগেই উম্মাহর সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান।
একই সঙ্গে এটাও বাস্তবতা যে, এই অধঃপতনের যুগে যদি আমরা এমনটি ভাবি—আমি নিজেও একজন মুজাহিদ, আর কোনো ভাই আমাকে এই যুগের সর্বোত্তম মানুষদের একজন মনে করেন—তাহলে এই ভাবনাটা এতই ভয়ানক যে এমন চিন্তায় অন্তর কেঁপে ওঠা উচিত। মা‘আযাল্লাহ! আল্লাহ এমন উজব থেকে আমাদের রক্ষা করুন।
বরং আমাদের চিন্তা এমন হওয়া উচিতঃ এটা কীভাবে সম্ভব যে, আমি সর্বোত্তম মানুষদের অন্যতম হব? সুবহানাল্লাহ! কারণ বাস্তবতা তো তা নয়। আমি নিজেই জানি, আমার প্রকৃত অবস্থা কী। একজন আদর্শ মুসলিমের মানদণ্ড অনুযায়ী নিজেকে প্রকৃত মুসলিম বলতেও আমার ভয় হয়। সেখানে সর্বোত্তম মানুষের কাতারে নিজেকে কল্পনা করা তো আরও অনেক দূরের কথা। সত্যিই, এটি আমার কাছে অসম্ভব বলেই মনে হয়।
বিশ্বাস করুন, আমাদের ভাইদের বড় একটি অংশের হালাত ঠিক একই। তাদেরও একই অনুভূতি হয়। তবে আলহামদুলিল্লাহ, কিছু বুজুর্গ অবশ্যই আছেন—বারাকাল্লাহু ফিহিম—যাদের কারণে আল্লাহ তা‘আলা আমাদের টিকিয়ে রাখছেন, আলহামদুলিল্লাহ।
প্রিয় ভাইয়েরা, এটাই আমাদের বাস্তবতা। দ্বীনের এই ক্রান্তিলগ্নে আমাদের বড় একটা অংশের হালাত এমনই। আপনি যেভাবে অন্য ভাইয়ের ব্যাপারে অনেক প্রত্যাশা রাখেন যে, এই ভাই মহান কোনো বুজুর্গ হবেন, এই যুগের শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে প্রথম যুগের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের অনুরূপ হবেন—তেমনি আরেক ভাইও আপনার ব্যাপারে এমনটাই আশা করেন। অথচ এরকম কোনো ভাই যদি আমার ব্যাপারে আশা করে থাকেন, সত্যি কথা, আমি বলবো যে উনি আমার ওপর ইনসাফ করছেন না, আমার ওপর বোঝা বাড়িয়ে দিচ্ছেন, আমাকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দিচ্ছেন। কারণ আমি শতভাগ নিশ্চিত—আমি এর আশেপাশেও না।
একইভাবে ভাই, আপনি যদি অন্য ভাইয়ের প্রতি এমন প্রত্যাশা রাখেন, তা কি তাদের ওপর জুলুম হবে না?
এজন্য ভাই, আমরা একইসাথে যেমন এটি মানি যে আমাদের ভাইয়েরা এই জমানার সর্বোত্তম ব্যক্তিবর্গ, একইসাথে তাদের ওপর প্রথম জমানার ব্যক্তিদের মতো হয়ে যাওয়ার আশা রাখি না।
আর যদি আমরা এই ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারি, তবে আমাদের আভ্যন্তরীণ ঐক্য, অন্তরের বন্ধন দৃঢ় হওয়া মুশকিল হয়ে যাবে, আল্লাহ না করুন।
কেননা শয়তান চায়, আমরা যেন পরস্পর মতবিরোধে জড়াই আর দুর্বল হয়ে পড়ি।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন—
وَأَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَلَا تَنَـٰزَعُوا۟ فَتَفْشَلُوا۟ وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ ۖ وَٱصْبِرُوٓا۟ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلصَّـٰبِرِينَ
“আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো, পরস্পরে ঝগড়া-বিবাদ করো না, তা করলে তোমরা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং তোমাদের শক্তি-ক্ষমতা বিলুপ্ত হবে। আর ধৈর্য ধারণ করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।”
দেখুন আল্লাহ তা‘আলা কী বলেছেন—وَٱصْبِرُوٓا۟ — সবরের নির্দেশ দিয়েছেন। কেননা, কোনো বিষয়ের জন্য প্রাথমিক সমাধান হচ্ছে সবর, প্রতিক্রিয়া না দেখানো। আর কোনো ক্ষেত্রে সবর দীর্ঘমেয়াদেও আঁকড়ে ধরতে হয়, যেমনটি আঁকড়ে ধরেছিলেন সায়্যিদুনা ইয়াকুব (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে ভারসাম্য, ইনসাফ ও অন্তরের ঐক্য দান করুন। আমীন
Comment