প্রিয় ভাইয়েরা, এই নিঃসঙ্গতার জমানায় আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আমাদের দ্বীনি ভাইয়েরা। এই বন্ধনকে কোনোভাবেই দুর্বল হতে দেওয়া যাবে না—কোনোভাবেই না, এক ফোঁটাও না, ইনশাআল্লাহ।
আমাদের ভাইয়েরা কোনো একটি ভুল করলে, এই ফিতনার জমানায় যে ব্যক্তি জিহাদকে আঁকড়ে ধরেছে, দিনের পর দিন আল্লাহকে ভালোবেসে সব ছেড়ে কাজ করে যাচ্ছে, যে আমার বিপদে আমার পাশে দাঁড়াচ্ছে, আমার প্রতি ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে—তার পক্ষে তো হাজার নয়, লক্ষাধিক উত্তম কাজ শাফাআতের জন্য দাঁড়িয়ে যায়, সুবহানাল্লাহ!
দেখুন, দুনিয়াটা আল্লাহ তা‘আলা এমনভাবে সাজিয়েছেন—এটি একটি চূড়ান্ত ফিতনার জায়গা। এমন কোনো ব্যক্তি পাবেন না, যার সাথে আপনার শতভাগ মিলে। এমনকি আপনার নিজের সাথেও আপনার শতভাগ বনে না। আপনি নিজেও অনেক কাজ পছন্দ করেন না, নিজের উপর কখনো বিরক্ত হন, কখনো রাগও করেন যে কেন এই উল্টাপাল্টা করলাম।
এই হালাতে কি এটি সম্ভব যে আমরা কোনো ব্যক্তির উপর শতভাগ রাজিখুশী হয়ে যাবো? অলীক কল্পনায়ও এটি সম্ভব নয়। আমাদেরকে এই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে এবং এর আলোকে মুয়ামালাত করতে হবে, ভাইদের উপর প্রত্যাশা কম রাখতে হবে। আর এসব সামনে রেখে ভাইদেরকে ভালোবাসতে হবে। যেন একসময় এমন না হয় যে, কোনো ভাইয়ের কোনো ভুলত্রুটি বা মতপার্থক্য আমাদের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সম্পর্কের গভীরতা কমানোর কারণ হয়ে যায়।
তবে এসব তাত্ত্বিকভাবে বোঝা অনেক সহজ হলেও বাস্তবতা অনেক অনেক কঠিন। বাস্তবে কোনো বিষয় সামনে আসলে তখন এর সাথে আরও নানা বিষয় যুক্ত হয়ে ডালপালা মেলে। তখন এসবের বিরুদ্ধে মুকাবিলা অনেক কঠিন হয়ে যায়, যদি না আল্লাহ তা‘আলা কারো সহায় হন। তবে এসব জানা থাকলে মুকাবিলা করা অবশ্যই তুলনামূলক সহজ হয়, আলহামদু লিল্লাহ। অন্তত ভুল হলেও দ্রুত নিজেকে ফিরিয়ে আনা সহজ হয়, আলহামদু লিল্লাহ।
মনে রাখতে হবে, আমাদের ভাইয়েরা আমাদের পরিবারের মতো—কিছু ক্ষেত্রে পরিবার থেকেও আপন। এজন্য এই ভাইদের সাথে সম্পর্ক ও ভালোবাসায় কোনোভাবে কোনো ফাটল সৃষ্টি করার সুযোগ শয়তানকে দেওয়া যাবে না। শয়তান আপ্রাণ চেষ্টা করবে কোনোভাবে একটি ফাটল ধরিয়ে দিতে। পক্ষান্তরে আমাদের মুজাহাদা করে যেতে হবে, যেন তার চক্রান্তকে নস্যাৎ করে দিতে পারি, ইনশা আল্লাহ।
এর জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি হলো—বেশি বেশি দোয়া করা। আমার জীবনের একটি উপলব্ধি বলি ভাই, খেয়াল করেছি, যখনই কোনো বিষয়ে দোয়া করা কমে গেছে বা বন্ধ হয়ে গেছে, সেই বিষয়ে দুর্বলতা আসা শুরু হয়ে গেছে, কমতি আসা শুরু হয়ে গেছে। আর দোয়া যত বেশি করছি, ধীরে ধীরে তা সামাল দেওয়া সহজ হয়ে আসছে, আলহামদু লিল্লাহ।
দোয়ার পাশাপাশি উপরে আলোচ্য বাস্তবতা মেনে নেওয়া এবং এ ব্যাপারে নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখা।
তৃতীয়ত, ভাইদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা—ভাইদের করা সামান্য উপকার ও ভালোবাসার শুকরিয়া জানানো - কর্মে, মুখে ও অন্তরে। এতে তাদের প্রতি অন্তরের গভীরে ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে, অন্তরের মাঝে তাদের একটি অবস্থান তৈরি হয়ে যাবে। তখন শয়তানের জন্য তাদের থেকে আমাদের বিমুখ করা কঠিন হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।
رَبَّنَا ٱغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَٰنِنَا ٱلَّذِينَ سَبَقُونَا بِٱلْإِيمَـٰنِ وَلَا تَجْعَلْ فِى قُلُوبِنَا غِلًّۭا لِّلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ رَبَّنَآ إِنَّكَ رَءُوفٌۭ رَّحِيمٌ
“হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এবং আমাদের সেই ভাইদেরকে ক্ষমা কর, যারা ঈমানের ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রবর্তী হয়েছে। আর যারা ঈমান এনেছে, তাদের ব্যাপারে আমাদের অন্তরে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের প্রতিপালক! নিশ্চয়ই তুমি বড়ই দয়ালু, অতি করুণাময়।” (সূরা আল-হাশর: ১০)
আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে বুঝার ও আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
Comment