আল্লাহর সাথে সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো — মানুষের সামনে তাঁর পরিচয়, মহত্ত্ব ও বড়ত্বকে সুন্দরভাবে তুলে ধরা। এটি শুধু একটি দাওয়াহ নয়, বরং হৃদয়ের ইবাদতও বটে।
এই ভাবনাটাই আমাকে একসময় গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। আমি বুঝতে পারলাম—আল্লাহর ব্যাপারে কথা বলা, তাঁর বড়ত্ব ও মহত্ত্ব মানুষকে জানানো — এটা কত বড় একটি সুযোগ এবং আমানত।
আসলে আমি কথা বলতে ভালোবাসি, আগে আরও বেশি ভালোবাসতাম। তখন মনে হলো — এই কথা বলার ক্ষমতাটাই যদি আল্লাহর জন্য ব্যবহার করি!
আসলে একটু চিন্তা করলে বিষয়টা অনন্য লাগে। কিছুদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় “যাহেদ সবুর” নামে একজন ব্যক্তির আলোচনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। কারণ তিনি একজন বাংলাদেশি, যিনি গুগলের একজন ইঞ্জিনিয়ার এবং শাওমি ব্র্যান্ডের একটি ওপেনিংয়ে উপস্থাপনা করেছিলেন। এই ছোট একটি অর্জন নিয়েই কত আলোচনা, কত প্রশংসা!
যদি দুনিয়ার কোনো কোম্পানির সামান্য একটি পণ্য বা সেবার উপস্থাপনার সুযোগকে মানুষ এত বড় করে দেখে, তাহলে চিন্তা করুন — যে ব্যক্তি আল্লাহর ব্যাপারে কথা বলার সুযোগ পায়, সে কত বড় সৌভাগ্যবান!
আমরা যদি বিষয়টি গভীরভাবে বুঝতে পারতাম, তাহলে আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ দেখে সত্যিই অভিভূত হয়ে যেতাম। আল্লাহর তো আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই যে আমরা তাঁর কথা বলব, অথচ তিনি আমাদেরকে তাঁর ব্যাপারে কথা বলার সুযোগ দিয়েছেন—এটা কত বড় অনুগ্রহ!
আফসোস, মানুষ যাহেদ সবুর হওয়ার স্বপ্ন দেখে, কিন্তু কেউ মুস‘আব ইবনু উমাইর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হওয়ার স্বপ্ন দেখে না। অথচ এই ব্যর্থতা আমাদেরই। যদি আমরা আল্লাহর ব্যাপারে সুন্দরভাবে উপস্থাপনা করতে পারতাম, তাহলে অনেকেই হয়তো মুস‘আব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মতো দাওয়াহর আইকন হয়ে উঠতেন, ইনশা আল্লাহ।
মানুষের এমন অনেক কথা ও কাজ থাকে, যা দুনিয়ার দৃষ্টিতে মূল্যহীন মনে হয়, কিন্তু আসমান ও জমিনের মালিকের কাছে তা অত্যন্ত মূল্যবান হয়ে যায়—এবং তা তার জান্নাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, আল্লাহ নবীদেরকে পাঠিয়েছেন মানুষের কাছে আল্লাহর পরিচয় তুলে ধরার জন্য। আর আমরা সেই একই কাজ করার সুযোগ ও অনুমতি পেয়েছি—এটা কত বড় সৌভাগ্য!
তাই আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে আমরা আল্লাহর ব্যাপারে উত্তম কথা বলি, উত্তম আলোচনা করি। যেন আসমান ও জমিনে আমাদের ব্যাপারে ভালো আলোচনা হয়, ইনশা আল্লাহ।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন—
فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ
“অতএব তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমি তোমাদেরকে স্মরণ করব।” (সূরা আল-বাকারা: ১৫২)
দেখুন, মানুষ যখন কোনো কোম্পানি বা ব্যক্তির দ্বারা স্মরণীয় হয়, তখন আমরা সেটাকে সফলতা মনে করি। কিন্তু যখন আল্লাহ আমাদেরকে ফেরেশতাদের মজলিসে স্মরণ করেন—সেই সৌভাগ্যের ব্যাপারে আমাদের কত কম আগ্রহ!
তাই এটি আমাদের জন্য এক বিশাল সুযোগ—মানুষের সামনে আল্লাহর বড়ত্ব, মহত্ত্ব ও সৌন্দর্যের কথা বলা, যাতে তাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি সুধারণা, আশা এবং ইবাদতের আকাঙ্ক্ষা জাগে।
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন—
وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ
“আর তোমার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো।” (সূরা আল-মুদ্দাসসির: ৩)
আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর ব্যাপারে সুন্দরভাবে কথা বলার, মানুষকে তাঁর দিকে আহ্বান করার এবং তাঁর স্মরণে জীবনকে সজীব রাখার তাওফীক দান করুন। আমীন