Announcement

Collapse
No announcement yet.

নিজের কথাগুলো আল্লাহর কাছেই বলা || মুনশি আব্দুর রহমান

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • নিজের কথাগুলো আল্লাহর কাছেই বলা || মুনশি আব্দুর রহমান


    আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেন-

    قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ
    “আমি অবশ্যই তোমার আকাশের দিকে বারবার মুখ ফিরানো দেখছি।” (সূরা আল-বাকারা: ১৪৪)

    এই আয়াতটা আমি যখনই পড়ি, আমি থেমে যাই। বারবার পড়ার কারণে আমার কাছে এই আয়াতটা কখনোই শুকিয়ে যাওয়া ফলের খোসা বা শুকনো পাতার মতো প্রাণহীন মনে হয় না; বরং এর মধ্যে এমন কিছু আছে যা আমার চিন্তাভাবনাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।

    আল্লাহ আমাকে দেখেন — তিনি শুধু আমার কাজই দেখেন না, বরং আমার আকাশের দিকে তাকানোও দেখেন। তিনি জানেন আমার অন্তর কী চাওয়া নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। তিনি জানেন অন্তর কী চায়, কিন্তু গুনাহের কারণে বা নিজের অযোগ্যতার অনুভূতির কারণে মুখেও সেটা আনতে দ্বিধা হয়।

    এমন রবের এমন কথার পরেও যদি আমরা আকাশের দিকে না তাকাই, মনে হয় যেন আমরা নিজের উপরই কিছুটা জুলুম করে ফেলছি।

    এই আলোচনার সাথে আসলে মূলভাবে দোয়ার সম্পর্ক — অর্থাৎ আল্লাহর সাথে কথা বলার সম্পর্ক। আমি অন্যদের কথা জানি না, তবে আমি যে কাঠামোর মধ্যে বড় হয়েছি, সেখানে আল্লাহর সাথে সম্পর্কের ব্যাপারটি অনেক সময় এক ধরনের “জটিল জগাখিচুড়ি” অবস্থায় থেকে যায়।

    আমরা সাধারণভাবে এমনভাবে বড় হই — “আমরা আল্লাহর ইবাদত করব”—ব্যস, এখানেই শেষ। আল্লাহর সাথে সম্পর্ক কীভাবে গড়ে উঠবে, অন্তর কীভাবে তাঁর সাথে কথা বলবে — এ বিষয়ে কোনো বাস্তব তারবিয়াহ অনেক সময় পাওয়া যায় না। আমাদের অন্তর আল্লাহর কাছে আশা করতে শেখে না, কথা বলতে শেখে না।

    এরপর আমি দেখেছি আরেক শ্রেণি আছে, যেখানে এ বিষয়ে কিছু আলোচনা হয়, কিন্তু তা অনেক সময় তত্ত্বেই থেকে যায় — জীবনে প্রবেশ করে না। আসলে শুধু জানা যথেষ্ট নয়; জানা বিষয়কে জীবনে প্রয়োগ করার তারবিয়াহও অত্যন্ত জরুরি। আমি নিজেও এই ঘাটতি অনুভব করেছি।

    যাকারিয়া (আলাইহিস সালাম)-এর দোয়া —

    وَلَمْ أَكُنْ بِدُعَائِكَ رَبِّ شَقِيًّا

    “হে আমার রব! আমি কখনো তোমার কাছে দোয়া করে বঞ্চিত হইনি।” (সূরা মারইয়াম: ৪)

    এই আয়াত তো পড়া হয়, কিন্তু তা কি সত্যিই হৃদয়ে বসে? আমি জানি না…

    এভাবেই দ্বীন-দুনিয়ার প্রায় সব বিষয়েই আমরা দেখি — আমরা অনেক কিছু সবাইকে বলে বেড়াই, কিন্তু আল্লাহর কাছে বলি সবচেয়ে শেষে, বা কখনো বলিই না।

    তাই নিজের বিষয়গুলো আল্লাহর কাছে বলা — নিজের হালাত, ব্যথা, কষ্ট, চাওয়া সবকিছু তাঁর কাছে তুলে ধরা — এটাই আসলে সম্পর্কের প্রাণ।

    আমি অবাক হয়ে যাই সেই সিরিয়ান শিশুদের কথা ভেবে। সিরিয়ার এক তিন বছরের যুদ্ধাহত শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বলেছিল — “আমি আল্লাহকে সব বলে দিব।

    এই শিশু হয়তো যুদ্ধ, রাজনীতি, আদর্শ — এসব কিছু গভীরভাবে বুঝতে পারেনি। কিন্তু তার বিশ্বাস কত প্রবল! “আমি আল্লাহকে সব বলে দিব”—সে নিশ্চিত ছিল, সে আল্লাহর কাছে ফিরে যাচ্ছে, এবং তাঁর কাছেই নালিশ করবে।

    এ যেন সেই অনুভূতিরই প্রতিচ্ছবি—

    قَالَ إِنَّمَا أَشْكُو بَثِّي وَحُزْنِي إِلَى اللَّهِ وَأَعْلَمُ مِنَ اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ

    “সে বলল, আমি আমার দুঃখ-কষ্টের অভিযোগ শুধু আল্লাহর কাছেই করি। আর আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে যা জানি, তোমরা তা জান না।” (সূরা ইউসুফ: ৮৬)

    আমি ভাবি — আমি কেন সেই সিরিয়ান শিশুর মতো হতে পারলাম না? আমার জীবনে কেন আল্লাহর সাথে এমন খোলামেলা কথোপকথন হয় না?

    আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের অন্তরগুলো পবিত্র করে দিন এবং তাঁর ভালোবাসায় পরিপূর্ণ করে দিন। আমীন​

    “ধৈর্যশীল, সতর্ক ব্যক্তিরাই লড়াইয়ের জন্য উপযুক্ত।”
    -শাইখ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ
Working...
X