আজকে আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার ভালোবাসা সম্পর্কে কিছু মুজাকারা করবো ইনশা আল্লাহ। আল্লাহ তা‘আলা এর উপকারী অংশের উপর আমাদের আমল করার তাওফীক দান করুন, আর আমার নফসের, নিয়তের ও কর্মের অনিষ্ট থেকে সবাইকে হেফাজত করুন। আমীন
একজন মুমিন ঈমানের পর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছ থেকে যত উপহার, যত অনুদান, যত অনুগ্রহ আর যত নিয়ামত লাভ করে—এর মধ্যে সবচেয়ে বড় একটা উপহার হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার ভালোবাসা ও সন্তুষ্টি।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সাথে আমাদের সম্পর্ক হলো—আমরা তাঁর বান্দা, তাঁর গোলাম। আমাদের কাজ হলো তাঁর দাসত্ব করা। সেটা করতে গিয়ে আমরা হাজারো ত্রুটি করি, তাঁর প্রশংসা ও শোকরগুজারীর হক আমরা আদায় করতে পারি না। তাই তিনি যদি আমাদেরকে শাস্তি না দেন সেটাই তো অনেক বেশি।
কিন্তু তিনি শুধু ক্ষমাই করেন না, শাস্তিই মওকুফ করেন না, বান্দার প্রতি শুধু ইনসাফ আর ইহসানই করেন না—বান্দা হওয়া সত্ত্বেও তাকে ভালোবাসার পাত্র বানান!! সুবহানাল্লাহিল আযীমি ওয়া বিহামদিহি।
একজন বান্দার জন্য এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে—যে তার রব তাকে ভালোবাসবেন! তার মাওলা তার আমল পছন্দ করবেন, তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন!!
আল্লাহর এই ভালোবাসা ও সন্তুষ্টি তো জান্নাতের চেয়েও বড় নিয়ামত। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ইরশাদ করেন—
وَرِضْوَانٌ مِّنَ اللَّهِ أَكْبَرُ
“আর আল্লাহর সন্তুষ্টি তো সবচেয়ে বড়।” (সূরা তাওবা: ৭২)
এটা যে সবধরনের জান্নাতী নিয়ামতগুলোর চেয়েও আরো বড় নিয়ামত তা একটি হাদীসেও স্পষ্ট এসেছে।
এটা এতটাই বিশেষ একটা উপহার যে, জান্নাতের অন্য সব নিয়ামতের চেয়ে আলাদা করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এটা জান্নাতীদেরকে দিবেন।
জান্নাতীদের সাথে আল্লাহর কথা:
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ
«إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ لِأَهْلِ الْجَنَّةِ: يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ! فَيَقُولُونَ: لَبَّيْكَ رَبَّنَا وَسَعْدَيْكَ، فَيَقُولُ: هَلْ رَضِيتُمْ؟ فَيَقُولُونَ: وَمَا لَنَا لَا نَرْضَى وَقَدْ أَعْطَيْتَنَا مَا لَمْ تُعْطِ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ؟ فَيَقُولُ: أَنَا أُعْطِيكُمْ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ، فَيَقُولُونَ: يَا رَبِّ، وَأَيُّ شَيْءٍ أَفْضَلُ مِنْ ذَلِكَ؟ فَيَقُولُ: أُحِلُّ عَلَيْكُمْ رِضْوَانِي، فَلَا أَسْخَطُ عَلَيْكُمْ بَعْدَهُ أَبَدًا»
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
আল্লাহ তাআলা জান্নাতীদেরকে ডেকে বলবেন: “হে জান্নাতীরা!”
তারা বলবেন: লাব্বাইক হে আমাদের রব, আমরা সানন্দে উপস্থিত।
আল্লাহ বলবেন: তোমরা কি সন্তুষ্ট?
তারা বলবেন: আমরা কেন সন্তুষ্ট হবো না, যখন আপনি আমাদেরকে এমন সব কিছু দিয়েছেন যা আপনার আর কোন সৃষ্টিকে দেননি!
আল্লাহ বলবেন: আমি তোমাদেরকে এর চেয়েও উত্তম কিছু দিবো।
তারা বলবেন: হে রব! এর চেয়ে উত্তম আর কি জিনিস আছে?
আল্লাহ তায়ালা বলবেন: আমি তোমাদের জন্য আমার সন্তুষ্টি অবধারিত করে দিলাম, এরপর আর কখনো তোমাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হবো না! (সহীহ বুখারী: ৬৫৪৯)
আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ
إِنَّ اللَّهَ إِذَا أَحَبَّ عَبْدًا دَعَا جِبْرِيلَ فَقَالَ: إِنِّي أُحِبُّ فُلَانًا فَأَحِبَّهُ، قَالَ: فَيُحِبُّهُ جِبْرِيلُ، ثُمَّ يُنَادِي فِي السَّمَاءِ فَيَقُولُ: إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ فُلَانًا فَأَحِبُّوهُ، فَيُحِبُّهُ أَهْلُ السَّمَاءِ، ثُمَّ تُوضَعُ لَهُ الْقَبُولُ فِي الْأَرْضِ...
হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন তখন জিবরীলকে ডেকে বলেন, নিশ্চয় আমি ‘অমুক’কে ভালোবাসি, সুতরাং তুমিও তাকে ভালোবাসো। তখন জিবরীল (আলাইহিস সালাম)ও তাকে ভালোবাসেন। এরপর তিনি আসমানে ঘোষণা করেন যে, আল্লাহ অমুককে ভালোবাসেন, সুতরাং তোমরাও তাকে ভালোবাসো। তখন আসমানবাসী তাকে ভালোবাসেন, এরপর তার জন্য জমিনেও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করে দেওয়া হয়...(সহীহ মুসলিম: ২৬৩৭)
স্বয়ং আল্লাহ রব্বুল আলামীন যখন জিবরীল (আলাইহিস সালাম)-এর সামনে আপনার নাম নিয়ে বলবেন “আমি তাকে ভালোবাসি, তুমিও তাকে ভালোবাসবে”—এর চেয়ে বড় সৌভাগ্য আর কী হতে পারে!
আল্লাহর ভালোবাসা এত মহামূল্যবান নিয়ামত বলেই রাসূল ﷺ দোয়া করতেন—
وَأَسْأَلُكَ حُبَّكَ وَحُبَّ مَنْ يُحِبُّكَ، وَحُبَّ عَمَلٍ يُقَرِّبُ إِلَى حُبِّكَ
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার ভালোবাসা চাই, আপনাকে যারা ভালোবাসে তাদের মুহাব্বত চাই, এবং যে আমল আপনার ভালোবাসার নিকটবর্তী করে সে আমলের প্রতি ভালোবাসা চাই। (সুনানুত তিরমিজি: ৩২৩৫)
আরেক হাদীসে এসেছে—
اللَّهُمَّ اجْعَلْ حُبَّكَ أَحَبَّ الأَشْيَاءِ إِلَيَّ، وَاجْعَلْ خَشْيَتَكَ أَخْوَفَ الأَشْيَاءِ عِنْدِي، وَاقْطَعْ عَنِّي حَاجَاتِ الدُّنْيَا بِالشَّوْقِ إِلَى لِقَائِك...
হে আল্লাহ! আপনার ভালোবাসাকে আমার সবচেয়ে প্রিয় বিষয় বানিয়ে দিন...(হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৮/২৮২)
আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে এই দোয়াগুলোর মর্ম অনুধাবনের তাওফীক দান করুন, বেশি বেশি এই দোয়াগুলো করার তাওফীক দান করুন, তাঁর ভালোবাসা দিয়ে আমাদেরকে ধন্য করুন। আমীন