প্রিয় ভাইয়েরা, আমাদের সবকিছুর মূল আসলে এটাই—আল্লাহর সাথে সম্পর্ক। এটাই আসল বিষয়। আর বাকি সবকিছু এর থেকেই বা এর জন্যই।
এ ব্যাপারে আমরা আলহামদুলিল্লাহ আলোচনা শুনি, দারস-নসীহত গ্রহণ করি, বই-পুস্তকও পড়ি। তবে আমার মনে হয়, দিন শেষে কোথাও যেন একটা ফাঁক থেকে যায়। আল্লাহর সাথে সম্পর্কের দরুন হৃদয়ের যে প্রশান্তি বা পূর্ণতা—তা আমি পাই না। বরং আমি স্পষ্টই বুঝতে পারি, আমার অন্তরে এক ধরনের শূন্যতা থেকে যাচ্ছে।
আমি তিলাওয়াত করছি, কিন্তু গলার নিচে নামে না। আমার নামাজ যেন শুধু উঠা-বসার বেশি কিছু না। ইবাদত হয়তো আছে, কিন্তু তাতে প্রাণ নেই। হয়তো এর কারণ—আল্লাহর সাথে আমার সম্পর্ক ঠিক নেই।
আমি নিজেকে প্রশ্ন করলাম—
এত শুনলাম “তায়াল্লুক মা‘আল্লাহ”, কিন্তু আমার জীবনে সেই তায়াল্লুক কোথায়? নেই কেন?
পরে যে উত্তর খুঁজে পেলাম তা হচ্ছে—
দুনিয়াবি যেকোনো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য আমরা যেভাবে সময়, শ্রম, সামর্থ্য ও আন্তরিকতা ব্যয় করি, আল্লাহর সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা সেভাবে কখনো চিন্তাই করি না।
আমার ধারণা, আমি মুখে বলি আল্লাহর সাথে সম্পর্ক আছে, কিন্তু বাস্তবে আমি আজ পর্যন্ত আল্লাহর পরিচয়ই পূর্ণভাবে জানি না। আমার জীবনে আল্লাহর ব্যাপারে আলাদাভাবে জানা, তাঁর পরিচয় বৃদ্ধি করা, সম্পর্ক উন্নত করা—এগুলো নিয়ে কখনো আলাদা ফিকির করি না।
অবচেতনভাবে এর কারণ এমনও হতে পারে যে, নিজের টুটা-ফুটা ইবাদতগুলোই আমি যথেষ্ট মনে করি—যেন অনেক কিছু করে ফেলেছি।
কিন্তু সেই ইবাদতও যে আসলে ফুটা হওয়া বালতির মতো—তা খেয়াল হয় না।
হাত থেকে প্লেট পড়ে ভেঙে গেলে মন খারাপ হয়, আতরের শিশি পড়ে ভেঙে গেলে মন খারাপ হয়, নতুন পাঞ্জাবি রাস্তায় টান লেগে ছিঁড়ে গেলে মন খারাপ হয়—এমন কত শত কারণে আমাদের মন খারাপ হয়। কিন্তু কখনো কি আমরা ভেবে দেখি, আমার কোন আচরণে, কথায় কিংবা কাজে আমি আল্লাহর থেকে দূরত্ব তৈরি করে ফেললাম কি না? আল্লাহর সাথে আমার এই দূরত্ব কি আমার মন খারাপের কারণ হয়?
আসলে আমার জানা যদি অন্তর পর্যন্ত না পৌঁছে, তাহলে সেই জানা আমার কোনো উপকার করতে পারে না। কারণ জানা তো তখনই ফলপ্রসূ হয়, যখন তা হৃদয়ে জীবন্ত হয়ে ওঠে।
আমি একবার পড়েছিলাম, এক মুসাফির আল্লাহর কালাম শুনলেন—
وَفِي السَّمَاءِ رِزْقُكُمْ وَمَا تُوعَدُونَ
“আর আসমানে রয়েছে তোমাদের রিজিক এবং যা তোমাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।”
এই আয়াত শুনে তিনি নিজের উট কুরবানি করে সবার মাঝে বিলিয়ে দিলেন এবং মরুভূমিতে হারিয়ে গেলেন। (বর্ণনায় অতিরিক্ত আলোচনা থাকলেও এখানে শুধু প্রাসঙ্গিক অংশটুকু উল্লেখ করছি।)
তাঁর জন্য এই আয়াতই যথেষ্ট ছিল—তার অন্তরে পূর্ণ প্রশান্তি আনার জন্য। “তোমাদের রিজিক আসমানে”—এই বিশ্বাসই তাকে সম্পূর্ণ নির্ভরশীল করে দিয়েছিল।
আমি কেন এমন হতে পারি না? হয়তো আমি কখনো সেভাবে সততার সাথে আল্লাহর সাথে তায়াল্লুকের (সম্পর্কের) কথা চিন্তাই করিনি। শুধু মুখে বলে এসেছি, অথচ আল্লাহ বলেছেন—তুমি আমার দিকে হেঁটে এলে আমি তোমার দিকে দ্রুততার সাথে এগিয়ে আসি।
তাই আসমানের দিকে হাত তুলে বলা—
“আল্লাহ, আপনি আমাকে ভালোবাসেন, আমাকেও আপনাকে ভালোবাসার তাওফীক দান করুন।”
হে আল্লাহ, আমাদের অন্তরকে আপনার সাথে সত্যিকারের সম্পর্কের মাধ্যমে জীবন্ত করে দিন। আমীন