Announcement

Collapse
No announcement yet.

বোন তোমার নারীত্বের আঁচল এত সুন্দর কেন? {৯ম পর্ব}

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • বোন তোমার নারীত্বের আঁচল এত সুন্দর কেন? {৯ম পর্ব}

    বোন তোমার নারীত্বের আঁচল এত সুন্দর কেন?
    {৯ম পর্ব}

    প্রিয় বোন আমার!
    বিস্তৃত দিগন্তে একটু চোখ মেলে তাকান। অতীতের হতাশা ও ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তাকে ভুলে আজকের দিনকে স্বাগত জানান। কাছের দূরের সকল দুরাশাকে বিদায় জানিয়ে চিরঞ্জীব ও মহাপরাক্রমশালী সত্তার প্রতি ভরসা রাখুন। ইমানের শাখাগত চারাগুলোকে প্রাণসঞ্চার করুন।

    জীবনের প্রথম নিঃশ্বাসটি যেমন ছিলো ইমানের আঙ্গিকে তেমনি শেষ নিশ্বাসটি যেন হয় পরকাল বিশ্বাসী স্বপ্নচারির আলোকে। ভবিষ্যত নিয়ে স্বপ্ন দেখার অর্থ এ নয় যে, আপনি বর্তমানকে পরিবার পরিজনকে উপেক্ষা করবেন। আল্লাহর অমোঘ বিধানকে লঙ্ঘন করবেন। এটা কখনো স্বপ্ন হতে পারে না। স্বপ্ন তো সেটাই যা শরীয়ার ও দুনিয়ার আদলে কল্পনা ও বাস্তবতার মাঝে নিঁখুত সেতুবন্ধন তৈরি করে।

    আপনার চারপাশে কিছু ভগ্নহৃদয়ের সন্ধান পেয়ে যাবেন। জীবন ও মানুষের প্রতি তারা খুব অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। তাকওয়াপূর্ণ কিছু মানুষের জীবন চরিত তাদের হৃদয়গুলোকে জোড়া লাগাতে পারে। শুষ্ক শরীরে আবারো ইমানের ফুল ফোটাতে পারে। তাদের বর্তমানটা যেন হয় বাগানের দরদী মালির ন্যায়। আর আগামীটা যেন হয় মলিনহীন মসৃণ সচ্ছ কাশফুলের ন্যায়।

    ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অন্যতম একটি বৈশিষ্ট হচ্ছে, মহান আল্লাহ তা’আলা প্রতিটি যুগের জন্যই একজন নেতা বা একজন ইমাম নির্বাচন করেছেন। যিনি তাঁর শরীয়তের বাস্তবায়নকারী, ব্যাখ্যা প্রদানকারী এবং তার রক্ষণাবেক্ষণকারী। আর এ ইমামগণ হচ্ছেন নবী কারিম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র বংশধরদের অন্তর্ভূক্ত।

    আর এ বেলায়েত ও ইমামতের আধার হচ্ছেন বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কলিজার টুকরা, জ্ঞানের দরজা হযরত আলীর রা. এর সহধর্মিণী। বেহেশতের যুবকদের সর্দার ইমাম হাসান এবং ইমাম হোসাইন রা. এর সম্মানিত মাতা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা রা.। যিনি সমগ্র বিশ্বের নারী জাতির আদর্শ। যিনি জান্নাতের সকল নারীদের সর্দারণী। পবিত্র কোরআন এবং অসংখ্য হাদীস যাকে ঘোষিত করেছে একজন নিস্পাপ নারী হিসেবে।

    আমরা যদি তাঁর জীবনীর দিকে লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাবো যে, তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে, প্রতিটি কর্মে রয়েছে আমাদের জন্য পরম শিক্ষা এবং সেটি সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা, সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিক, ধৈর্য্য সংযম ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে । বর্তমানে আমাদের দেশে বহুল আলোচিত একটি বিষয় হলো নারী সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রত্যয়। যেমন নারী উন্নয়ন, নারী নীতি, নারী অধিকার, পিতার সম্পত্তিতে সম-অধিকার ইত্যাদি।

    যারা মুখে এসব বুলি আওড়াচ্ছে তারা মূলত বিভিন্নভাবে নারীদের বিভিন্ন ফাঁদে ফেলছেন। তারা নারীদেরকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন।
    এরাই একদিন নারীদের মানবসমাজ বহির্ভূত বিনোদন উপযোগী প্রাণী মনে করতো। তাদেরকে ভূত-প্রেত ভাবতো। তাদের বিকৃত রুচির পরিতৃপ্তির জন্য নারী নামের পুতুলকে কিভাবে সাঁজানো যায় এবং তাদেরকে ভোগের প্রসাদ হিসেবে কিভাবে তার নিকৃষ্ট ব্যবহার করা যায়। এসব নষ্টচিন্তা ও পরিকল্পনাকে তারা নারী অধিকার, নারী উন্নয়ন, নারী মুক্তি ইত্যাদির সুশোভন মোড়কে বাজারজাত করেছে।

    বোন! তুমি তো জানোই। ইসলাম শুরু থেকেই নারীর যথাযথ প্রাপ্য সন্মান ও মর্দাযা দিয়ে এসেছে এবং প্রায় সকল ক্ষেত্রেই পুরুষদের
    সমান মর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করেছে। আল্লাহর দৃষ্টিতে এবং তাঁর প্রদত্ত বিধান অনুযায়ী নারী ও পুরুষ সকলেই সমান। কাজের ক্ষেত্রে, দায়িত্ব ও কর্তব্যের পরিধির মাপে তাদের মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকলে ও ইসলাম মানুষ হিসেবে নারী ও পুরুষকে সমান মর্যাদা দিয়েছে। এমনকি নারীকে একটু বেশিও বটে। কিন্তু কথা হলো সেটা বাস্তবায়নের অত্যাবশ্যকীয় পথ হলো খেলাফতের ময়দান। তা ছাড়া পুরোপুরি নারী অধিকার পাওয়ার কথা কল্পনা করাই বোকামি। এখন আমরা যা চোখে দেখতে পাই তা হলো মর্যাদার আকৃতি। চরিত্র নয়।

    ইতিহাস এমন কিছু সংখ্যক মহীয়সী নারীকে তার বুকে ঠাই দিয়েছে তাদের অন্যতম প্রধান হলেন হযরত ফাতেমাতুয যাহরা রা.। তাঁর মাধ্যমেই দুনিয়ার বুকে ইমামতের ধারা চালু রয়েছে। তিনিই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বংশধর রক্ষায় প্রজ্বলিত শিখা। একজন পরিপূর্ণ আদর্শ মানুষ হিসেবে হযরত ফাতেমা রা. প্রমাণ করতে পেরেছেন যে, পরিপূর্ণতার শিখরে উঠার জন্য নারী হওয়া বা পুরুষ হওয়া জরুরী কোন শর্ত নয়। বরং প্রয়োজন সৎ ইচ্ছা সৎ সাহস।

    তাঁর জন্মকালীন সময়ে আরবে কন্যা সন্তানকে কোন গুরুত্ব দেয়া হতো না। কন্যা সন্তানের জন্মকে লজ্জাজনক মনে করা হতো। এমনকি জীবন্ত মাটির নিচে পুতে ফেলার প্রতিযোগিতা করা হতো। কার আগে কে মাটি খনন কাজ শেষ করতে পারে! কার আগে কে জীবন্ত মানুষটাকে মাটির নিচে পুঁততে পারে! কিন্ত মহান আল্লাহ তাঁর সর্বশেষ রাসূল ও সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানবের ঘরে একজন ফুটফুটে কন্যা সন্তান পাঠিয়ে নারী জাতির জন্য অশেষ সন্মান ও মুক্তির ব্যবস্থা করেছেন। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন জীবিত পূত্র সন্তান না থাকায় মক্কার কাফেররা তাঁকে “আবতার” বা নির্বংশ বলে বিদ্রূপ করতো। এ বিদ্রূপের জবাবে আল্লাহ তাআলা সূরা কাওসার’ নাজিল করেছেন এবং বিদ্রূপ কারীদেরকেই উল্টো নির্বংশ বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

    বোন! তুমি ইতিহাস ঘাটলে জানতে পারবে। সত্যিই যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নির্বংশ বলে উপহাস করতো। সময়ের ব্যবধানে আজ তারাই নির্বংশ ও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র বংশধারা নিরন্তর হয়ে আছে এবং কেয়ামত পর্যন্ত দুনিয়ার বুকে জারি থাকবে। হযরত খাদিজা রা. গর্ভকালীন সময়ে তাঁকে সাহায্য করার মত কেউ ছিলো না। এ চরম সঙ্কটময় মূহুর্তে কোন মহিলা তাঁকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেনি বরং বিভিন্ন ধরনের কটু কথা বলেছে।

    যখন তাঁর প্রসব বেদনা শুরু হলো, তখন ঘরে তিনি একাই ছিলেন। হঠাৎ তিনি ঘরে চার চারজন জন অপূর্ব লাবণ্যময়ী রমণীকে দেখতে পেলেন। তাঁদের অত্যুজ্জল লাবণ্যচ্ছটায় ঘর আলোকিত হয়ে উঠলো। আর তাঁরা বললেন- আমরা আল্লাহর নির্দেশে তোমার পরিচর্যার জন্য আগমণ করেছি। তিনি তাদের দেখে বিস্ময়াভিভূত হলেন।

    হযরত ইমাম জাফর সাদেক রাহি. বলেছেন-[১] হযরত ফাতেমা রা. যাবতীয় নৈতিক ও চারিত্রিক অপকৃষ্টতা থেকে দূরে ছিলেন। আর এ কারণেই তাঁকে ফাতেমা বলা হয়েছে। উম্মুল হাসান, উম্মুল হোসাইন, উম্মুল মুহসিন, উম্মুল আয়েম্মা এবং উম্মে আবিহা। যার অর্থ হল পিতার মাতা। কারণ ধর্ম প্রচার করতে গিয়ে কষ্ট বা বেদনার ফলে তাঁর পিতা যেসব অস্বস্তি বা দূর্ভোগের সন্মুখীন হতেন তা তিনি মুহূর্তেই দূর করে দিতেন। নিজের মায়ার আঁচল দিয়ে বাবার মলিন অবয়ব মোবারক মুছে দিতেন। যার দরুন আল্লাহর হাবিব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অজানা এক প্রশান্তি খোঁজে পেতেন। মেয়ের চতুরতা আর তাকওয়াপূর্ণ চাঞ্চলতা দেখে মুচকি মুচকি হাসতেন। নিরবে নিথর হয়ে যেতেন সন্তানের ভালোবাসায়।

    পিতার প্রশান্তির জন্য ফাতেমা রা. এত বেশি প্রচেষ্টা চালাতেন যে, তা সন্তানের জন্য মায়ের আত্মত্যাগ, নিষ্ঠা ও ব্যথিত চিত্তের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সিদ্দিকাহ্-সত্যবাদিনী। মুবারাকাহ্ -বরকতময়ী। তাহেরাহ্ -পবিত্র। জাকিয়াহ্ পরিশুদ্ধতার অধিকারী। রাজিয়া-সন্তোষ্ট মারজীয়াহ্ সন্তোষপ্রাপ্ত। মুহাদ্দিসাহ্- হাদীস বর্ণনাকারী,বাতুল, সাইয়্যেদাতুন নিসা ও যাহরা- প্রজ্বল তিনি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সুখে-দু:খে, বিপদে আপদে অবিচলভাবে আল্লাহর মর্জির ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন এবং নির্ভরশীল ছিলেন।

    আর এজন্যই তাঁর নাম রাখা হয়েছিলো রাজিয়া-মারজিয়্যা। যাকিয়া নামকরণ করা হয়েছিলো এজন্য যে, তিনি যেমন ছিলেন সতী-সাধ্বী তেমনি কঠোর ত্যাগ ও সাধনা দ্বারা নিজের ইন্দ্রিয়সমূহকে নিয়ন্ত্রণ ও আয়ত্ব করে নিয়েছিলেন। তনুমন এবং আত্মাকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে সক্ষম হয়ে ছিলেন। তিনি পার্থিব ভোগ লিপ্সা ইত্যাদি সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে পেরেছিলেন বলেই তাঁকে বাতুল বলা হতো। আর তিনি সাইয়্যেদা নামে ভূষিত হয়েছিলেন এই কারণে যে, সাইয়্যেদা অর্থ শ্রেষ্ঠ এবং সর্দার। বস্তুতঃপক্ষে দুনিয়ায় তিনি যেমন নারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ছিলেন তেমনি বেহেশতেও রমণীকূলের সর্দার বা রাণী হিসেবে থাকবেন। যাহরা অর্থ কুসুমকলি। বাস্তবিকপক্ষে হযরত ফাতেমা রা. একটি অনুপম সুন্দর সুরভিত কুসুমকলির মতই রূপে ও গুণে সুশোভিত ছিলেন।

    ইতিহাসবিদ ও মুফাসসীরগণ হযরত ফাতেমা রা. এর আরো বহু উপাধির কথা বললেও তিনি ফাতেমাতুয-যাহরা’ নামেই সর্বাধিক পরিচিত । তাঁর বাবা এমন এক ব্যক্তি ছিলেন যাকে বিশ্ব স্রষ্টা সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী বলে আখ্যায়িত করেছেন। আর পবিত্র কুরআনে তাঁর ব্যাপারে বলা হয়েছে।
    ﻭَﻣَﺎ ﻳَﻨْﻄِﻖُ ﻋَﻦِ ﺍﻟْﻬَﻮَﻯ° ﺇِﻥْ ﻫُﻮَ ﺇِﻟَّﺎ ﻭَﺣْﻲٌ ﻳُﻮﺣَﻰ °

    অর্থাৎ “তিনি প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে কোন কথা বলেন না। বরং তাঁর কথা ওহী বৈ কিছু নয়, যা তাঁর ওপর অবতীর্ণ হয়।[২]

    ফাতেমা রা. তাঁর জ্যোতিময় জীবনের সবটুকুই ওহীর সংস্পর্শে এবং মানবতার মূর্ত প্রতীক এমনই একজন পিতার ছাঁয়াতলে অতিবাহিত করেন।
    এটা সত্যি যে, হযরত ফাতেমা রা.আত্মত্যাগ এবং আত্মোৎসর্গ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দাওয়াতী ময়দানে অগ্রগতির পেছনে এক অসম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। হযরত ফাতেমা রা. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নৈসর্গিক ও অনৈসর্গিক প্রতিটি ব্যাপারেই দৃঢ়তার সাথে তাঁরপাশে থেকে সাহস দান করেছেন। ইতিহাসে তার তুলনা নেই বললেই চলে।

    বোন আমার! কোন কোন মনীষীর মতে, ইসলাম এবং মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিশন হযরত আলী রা. জিহাদ আর আম্মাজান খাদীজা রা. দানের মাধ্যমে প্রসার লাভ করেছে। অর্থাৎ আল্লাহ তা’আলা এ দুই মহান ব্যক্তিকে তাঁর রাসূলের প্রধান সহযোগী হিসেবে মনোনীত করেছেন। হযরত আলীর তরবারী এবং আম্মাজান খাদীজার দান ইসলামের বিজয় ও প্রসারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ঠিক তেমনি মেয়ে মাতেমাও তাঁদের একজন।

    হযরত ফাতেমা রা. এমনই একজন মাতার স্মৃতি চিহ্ন আর এমনই একজন পিতার সন্তান। তিনি নবূয়্যতের দশম বছরে হযরত খাদীজা রা. ওফাতের পর আত্মোৎসর্গকারিনী স্নেহময়ী ও মমতাময়ী মায়ের কোল চিরতরে হারিয়ে ফেলেন। আর তখন থেকেই ফাতেমা রা. নবী পরিবারে তাঁর মায়ের শুন্যস্থান পূরণ করেছেন।

    একাদশ হিজরীতে পবিত্র মক্কা নগরীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওফাতের আড়াই মাস পর তিনি শাহাদত বরণ করেন। তাঁর ওসিয়তের কারণে রাতের অন্ধকারে নিভৃত ও গোপনে আমিরুল মু’মিনীন তাঁর দাফন কার্য সম্পন্ন করেন। তাঁকে কোথায় দাফন করা হয়েছে, তা আজ পর্যন্ত অজ্ঞাত রয়েছে। তাঁর মাত্র ১৮ বছর মতান্তরে ২২ বছরের স্বল্পকালীন জীবদ্দশায় বিচ্ছুরিত সুবিশাল ব্যক্তিত্ব হাজার হাজার বছরধরে মানুষকে হেদায়েতের পথ নির্দেশনা দান করে আসছে।

    ইমাম হাসান মুজতাবা, সাইয়্যেদুশ শুহাদা ইমাম হোসাইন, জয়নাব আল কুবরা, উম্মে কুলসুম, মুহসিন মাতৃ গর্ভেই তার মৃত্যু হয়। শৈশব কাল হযরত ফাতেমাতুয যাহরা রা. এমন এক পরিবারে প্রতিপালিত হয়েছেন, শিক্ষা-দীক্ষা ও প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, যে পরিবার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ পরিবার এবং যে পরিবার নৈতিক গুণাবলী ও আধ্যাত্মিক পরিপূর্ণতার অশেষ ফল্গুধারার উৎস।

    তিনি যখন তাঁর মহিমান্বিতা আত্মোৎসর্গী মাতা হযরত খাদিজাতুল কুবরা রা. চিরতরে হারিয়ে ফেলেন তখন সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র পাঁচ বছর। মক্কার জীবনে মুশরিক কোরাইশরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের ওপর প্রচন্ড অত্যাচার করেছিলো। প্রায় দুই বছর বয়সেই তিনি পিতার সাথে কাফেরদের বয়কট ও অবরোধের শিকার হন। তাদেরকে তিন বছর শিহাবে আবু তালিব উপত্যকায় ভীষণ দুঃখ- কষ্ট ও ক্ষুধা-যন্ত্রণার মধ্যে কাটাতে হয়েছে।

    তিনি পিতা-মাতা ও অন্যান্য মুসলমানদের সীমাহীন ধৈর্য ও কষ্টসারি উপলদ্ধি করেছেন। হযরত ফাতেমা রা. শৈশবেই মক্কার সংগ্রামী জীবনের কষ্টকর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। নবূয়্যতের দশম বছরে শিহাবে আবি তালিব থেকে মুক্তির কিছুদিন পরই তিনি তাঁর সন্মানিতা মাতাকে হারিয়ে ফেলেন। যিনি দশ বছর দুঃখ-বেদনা বিশেষ করে অর্থনৈতিক অবরোধের ভীষণ চাপের মুখে ধৈর্যধারণ করে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।

    ইতো মধ্যেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সবচেয়ে বড় সহায় চাচা আবু তালিবকেও হারিয়ে ফেলেন। এ সময় মেয়ে হযরত ফাতেমাতুয যাহরা রা. পিতার দুঃখ ও বেদনা লাঘবে সবচেয়ে বড় ভূমিকা হিসেবে তাঁর পাশে ছিলেন। ইতিহাসে উল্লেখ আছে যে, একদিন আল্লাহর হাবিব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে হারামে নামাজ পড়ছিলেন তখন আবু জেহেল তাঁকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করতে লাগলো এবং সেজদারত অবস্থায় তাঁর ওপর পঁচা দূর্গন্ধময় উঠের নাড়ি ভূড়ি চাপিয়ে দিলো। ফাতেমা রা. তখন অতি অল্প বয়স্কা হওয়া সত্বেও এ সংবাদ পাওয়া মাত্র হন্তদন্ত হয়ে মসজিদের দিকে ছুঁটে আসলেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিঠ থেকে তা নামিয়ে দিলেন।

    ফাতেমা রা. বাবার এ অবস্থা দেখে তাঁর অন্তরটা ভিতরে দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছে। আর বাবা মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেয়ের এ করুণ চাহনি তাঁকে রবের দরবারে শুকরিয়ার মাধ্যম বানিয়ে দিয়েছে। মেয়ের প্রতি বাবার এ ভালোবাসা তিলে তিলে সমুদ্রে পরিণত হচ্ছে। এদিকে ফাতেমা রা. এর বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে গিয়ে নিজ বাবাকে সৃষ্টিকর্তার সামনে আরো সম্মানিত করেছেন নিজ আমল ও আখলাকের বলয়ে। নিজ সত্তাকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন ইলমে ওহীর প্রত্যয়ে। নিজ মেধা-মননকে সাঁজিয়েছেন ইলমে নববীর মানহাজে।[৩]

    প্রিয় বোন আমার!
    তোমার ভেতরের সত্তা চায় পবিত্রতার, সততার সংস্পর্শে জীবন কাটাতে। আর তোমার শরীরের আদ্রতা চায় আরাম আয়েশ ও ভোগ বিলাসে মত্ত থাকতে। তোমার সামনে কিন্তু একজন পথিককে দাঁড় করিয়েছি। এখন তুমিই সিদ্ধান্ত নাও কোন পথ আঁকড়ে ধরবে আর কোন মত ছেড়ে দিবে! তুমি ও সঙ্গীরা ভালো করেই জানো। নারী তার নারীত্বের ভারসাম্য রক্ষা ইমানী দায়িত্ব। নারী তার চরিত্রের সতীত্বতা বজায় রাখা আসমানী কর্তব্য।

    তথ্যাদি
    ______________________________
    ১.সূরা আন নাজম, আয়াত নং ৩-৪
    ২. নবী ঘরে আদরের দুলাল।
    ৩. নবী ঘরে আদরের দুলাল।

  • #2
    আলহামদুলিল্লাহ প্রিয় শায়েখ আপনার নসিহত যেন উত্যপ্ত হৃদয়ে শিতল বারিধারার ছোঁয়া, আল্লাহ যেন এ বারিধারা অব্যহত রাখেন।
    পৃথিবীর রঙ্গে রঙ্গিন না হয়ে পৃথিবীকে আখেরাতের রঙ্গে রাঙ্গাই।

    Comment


    • #3
      আলহামদুলিল্লাহ্ বোনেরা খুবই উপকৃত হচ্ছেন ভায়ের উত্তম পোষ্ট থেকে...ভায়ের এই সিরিজটা থেকে আমাদের সম্মানিতা বোনেরা শিক্ষা গ্রহণ করবেন ইনশা-আল্লাহ্।

      Comment


      • #4
        উপকারী একটা পোষ্ট। জাযাকাল্লাহ

        Comment


        • #5
          আমাদের উচিত বোনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

          মুহতারাম ভাই ধারাবাহিক ভাবে বোনদের জন্য উত্তম লেখাগুলো পেশ করে যাচ্ছেন। বোনেরা অনেক উপকৃত হতে পারবে এ লেখা দ্বারা। আমাদের উচিত বোনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
          তবে ভাইকে আহবান করবো যে,শুধু বোনদের জন্য না লিখে। অন্যান্য বিষয় নিয়েও লেখা দিতে পারেন। যেভাবে আগে দিতেন। পাশাপাশি বোনদের জন্যও দিলেন। এভাবে করলে মনে হয় ভালো হবে।
          আল্লাহ আপনার এবং আমাদের সকল কাজগুলো কবুল করুন। আমিন
          গোপনে আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকার মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত সফলতা ৷

          Comment


          • #6
            আলহামদুলিল্লাহ, খুব উপকৃত হচ্ছি..আপনার লেখাগুলো আমার খুব ভাল লাগে।
            এই বিষয়ে সব পর্ব শেষ হলে একসাথে বই আকারে দেওয়ার বিনীত অনুরোধ।
            ‘যার গুনাহ অনেক বেশি তার সর্বোত্তম চিকিৎসা হল জিহাদ’-শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ.

            Comment

            Working...
            X