ইসলাম ও গণতন্ত্র
।।মাওলানা আসেম উমর রহিমাহুল্লাহ।।
এর থেকে–দ্বাবিংশ পর্ব
।।মাওলানা আসেম উমর রহিমাহুল্লাহ।।
এর থেকে–দ্বাবিংশ পর্ব
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কুফরি কিন্তু এর সাথে জড়িত সবাই কাফের নয়
এতে কোনো প্রকার সন্দেহ নেই যে, গণতন্ত্র একটি স্বতন্ত্র দ্বীন ও জীবনব্যবস্থা। এটা আল্লাহ এবং তার রাসূলকে স্পষ্ট অস্বীকার করা । কিন্তু এর থেকে এই উদ্দেশ্য নেয়া কখনোই সঠিক হবে না যে, যে ব্যক্তিই এর সাথে জড়িত থাকবে, তাকেই চোখ বন্ধ করে কাফের ফতওয়া দেয়া হবে । কারণ কোনো ব্যক্তির কথা ও কাজ কুফরি হওয়া এক বিষয় আর ওই কথা ও কাজে লিপ্ত হওয়ার কারণে খোদ ওই ব্যক্তিকে কাফের সাব্যস্ত করা আরেক বিষয়। এই স্পর্শকাতর ও গুরুতৃপূর্ণ পার্থক্যের দিকে লক্ষ্য না রাখার কারণে এবং ব্যক্তির উপর কুফরির হুকুম দেয়ার ক্ষেত্রে অসাবধানতা থেকে অতিরঞ্জনের (গুলু) জন্ম নেয় । নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে এই উম্মতের ধ্বংসের কারণ বলেছেন ।
হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
يَا أَيُهَا النَّاسُ إِيَّاكُمُ وَالْغُلُوَّ فِي الدِّينِ فَإِنَّهُ أَهْلُكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ الْغُلُوُّ فِي الدِّينِ
হে লোক সকল! সাবধান! দ্বীনের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি থেকে বাচো। কারন, তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদেরকে দ্বীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি ও অতিরঞ্জনই ধ্বংস করেছে। [সুনানে ইবনে মাজা-১০১,কিতাবুল মানাসিক]
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শরীয়তে এটি একটি স্বতন্ত্র আলোচনা। যাকে ‘তাকফিরে মুতলাক' এবং 'তাকফিরে মুয়াইয়িন’ বলা হয়। এর সতর্কতার বিষয়গুলোও ওলামায়ে কেরাম বর্ণনা করেছেন ।
১. তাকফিরে মুতলাক : কুফরি কোনো কথাও কাজ সম্পর্কে এ কথা বলা যে, এটা কুফর। এতে কথা ও কাজের সাধারণ হুকুম বর্ণনা করা হয়। কোনো ব্যাক্তিকে নির্দিষ্ট করা হয় না।
২. তাকফিরে মুয়াইয়িন: কুফরি কোনো কথা বা কাজে লিপ্ত ব্যাক্তিকে নির্দিষ্ট করে কাফের বলা । এখানে নির্দিষ্ট ব্যাক্তির উপর হুকুম দেয়া হয় ।
মাওয়ানেয়ে তাকফির
নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে কাফের সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে সতর্কতা
নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে কাফের সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে সতর্কতা
মাওয়ানেয়ে তাকফির দ্বারা উদ্দেশ্য এমন প্রতিবন্ধকতা যা কুফরিতে লিপ্ত কোনো বক্তিকে কাফের হওয়া থেকে বাঁচায়। কুফরি কোনো কথা ৰা কাজ যদি কোনো মুসলমান থেকে প্রকাশ পায়, শরীয়ত তৎক্ষণাৎ তার কাফের হওয়ার হুকুম লাগায় না। বরং কিছু সময় মুলতবি রাখে। অর্থাৎ একজন মুসলমান কুফরি কথা বা কাজ করলে তাকে সাথে সাথে কাফের বলে না। এই সুরতেও এমন কিছু বিষয় থাকে, যা তাকে কাফের হওয়া থেকে বাচাতে পারে। এখানে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাওয়ানে বা প্রতিবন্ধকের প্রতি সংক্ষেপে ইঙ্গিত করছি।
১. ওজরে জাহালাত অর্থাৎ অজ্ঞতাবশত এমন কথা বলা বা কাজ করা:
কোনো মুসলমান কথা বা কাজে কুফরিতে লিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও অনেক সুরতে জাহালাত বা অজ্ঞতা কাফের সাব্যস্ত হওয়ার ব্যপারে প্রতিবন্ধক হতে পারে। আহলে ইলমগণ ফতওয়ার উসুল এবং আদবের ভেতর এ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। বিশেষত গণতন্ত্রের মত ধোঁকাময় ব্যবস্থার আলোচনায় যেখানে গণতন্ত্রের প্রকৃত রুপ এবং তার শরয়ী হুকুমের ব্যাপারে অজ্ঞতার অজস্র কারণ বিদ্যমান। অনেক বিখ্যাত আলেম এর পক্ষে ফতওয়া দিয়েছেন, যার কারণে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তিতে পড়েছে। ক্ষমতা বলে গণতন্ত্রের বিরোধিতাকারী আলেমদের গলা চেপে ধরে তাদের আওয়াজ সাধারণ মুসলমানদের পর্যন্ত পৌঁছতে দেয়া হচ্ছে না। এসব অবস্থা সামনে রাখা হলে নিঃসন্দেহে কোনো ব্যক্তির পক্ষে গণতন্ত্রকে সঠিক মনে করা অথবা গণতন্ত্র ব্যবস্থায় জড়িত হওয়ার ভিত্তিতে কাউকে কাফের সব্যস্ত করার পূর্বে জাহালাত বা অজ্ঞতার ওজর সামনে রাখা একজন মুফতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। অন্ততপক্ষে যারা এই নিযাম ব্যবস্থার হাকিকত ও বাস্তবতা বোঝে না, অথবা এর কুফরি হওয়ার বিষয়টি তার নিকট স্পষ্ট নয়, তাকে মাজুর সাব্যস্ত করা হবে। যদিও সে অত্যন্ত ভয়ঙ্কর একটি অপরাধে লিপ্ত, কিন্তু তার বিরুদ্ধে কাফের হওয়ার ফতওয়া দেয়ার পূর্বে তাওয়াক্কুল অবলম্বন বা বিলম্ব করা, তদন্ত করা এবং অজ্ঞতা দূর করা আবশ্যক ।
আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি বলেন-
الاشباه النظائر এর الجمع والفرق এবং اليتيمة উল্লেখ রয়েছে-
যে ব্যক্তি তার অজ্ঞতার দরুন এই ধারণা করে নিয়েছে যে, যেই হারাম ও নিষিদ্ধ কাজ আমি করেছি, আমার জন্য তা জায়েয এবং বৈধ । তো সেই (কাজ ও আমল) যদি এমন বিষয়ের মধ্য হতে হয়, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দ্বীনের অংশ হওয়া অকাট্য ও নিশ্চিতভাবে জানা যায় (অর্থাৎ সেগুলো জরুরিয়াতে দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত) তবে তাকে কাফের বলা হবে, অন্যথায় নয়। [ইকফারুল মূলহিদীন :১৯৭]
২. ইকরাহ বা বাধ্যকরণ :
কোনো কুফরি কথা বা কাজের জন্য যদি মৌলিক কোনো অঙ্গ নষ্ট করার অথবা প্রাণনাশের ধমকি দেয় আর তার প্রবল ধারণাও হয় যে, কুফরি কথা না বললে সত্যি সত্যি মেরে ফেলবে অথবা শরীরের মৌলিক কোনো অঙ্গ নষ্ট করে ফেলবে, এমন পরিস্থিতিতে এই শর্তে কুফরি কথা বলার অনুমতি রয়েছে যে, তার অন্তর ঈমানের উপর অবিচল এবং সন্তুষ্ট থাকতে হবে । তবে কুফরি কালেমা বলার পরিবর্তে তার জন্য শহীদ হয়ে যাওয়াই উত্তম । এমন অত্যচারকে শরীয়তের পরিভাষায় ‘ইকরাহ’ বলা হয় ।
উল্লেখ্য যে, অপারগতার কারণে যে কোনো ধরনের অপরাধে লিপ্ত হওয়ার অনুমতি দেয়া যায় না। যেমন নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য অন্যায়ভাবে অন্য কোনো মুসলমানের জীবন সংহার করা। নিজের দেশ রক্ষার জন্য অন্য মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফেরদের সাথে সঙ্গ দেয়া, ইত্যাদি । অপরগাতকে ওজর বানিয়ে এ সব সন্ত্রাসী কাজ করা বৈধ হবে না। সারকথা হল, ইকরাহও কারো কাফের হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হতে পারে। এটা একটা বিস্তারিত আলোচনার বিষয় । এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য ফিকাহর কিতাবগুলো দেখা যেতে পারে।
৩. তাবিলের ওজর :
একজন মুসলমানের মধ্যে কুফরি কোনো বিষয় পাওয়া যাওয়ার পরও তাকে কাফের ঘোষণা করার ক্ষেত্রে ‘তাবিল’ও প্রতিবন্ধক হতে পারে। যেমন কারো এই তাবিল ও ব্যাখ্যা করে গণতন্ত্রে অবতীর্ণ হওয়া যে, যদিও সে এই ব্যবস্থাকে গলত (ভুল) মনে করে, কিন্তু তার ধারণা অনুযায়ী ইসলামী হুকুমত কায়েম করার অন্য কোনো পথ আর নেই। তাই সে এর মাধ্যমে শরীয়ত প্রবর্তনের চেষ্টা করবে ।
এই তাবিল বা ব্যাখ্যার ব্যাপারে আমাদের আপত্তি রয়েছে এবং এই তাবিলের গলত প্রমাণের জন্য কয়েক ডজন প্রমাণ দেয়াও সম্ভব। আর যদিও এই তাবিলের সাথেও এই কদর্য কুফরি ব্যবস্থায় শরিক হওয়া একটি মারাত্মক অপরাধ, কিন্তু এই তাবিল বা ব্যাখ্যা অনেক সুরতে গণতন্ত্রে শরিক ব্যক্তিকে কাফের ঘোষণা করতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এই ব্যাখ্যার ভিত্তিতেই ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের অন্তর্গত দ্বীনের দুশমন সম্প্রদায়গুলো এবং গণতন্ত্রে শরিক দ্বীনি সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে পার্থক্য নিরুপিত হয়। আর এভাবে পার্থক্য করা এবং সবাইকে নির্বিশেষে একই পর্যায়ভূক্ত সাব্যস্ত করা হতে বিরত থাকাও জরুরি। মোটকথা, তাবিলও কাউকে কাফের বলতে প্রতিবন্ধক হতে পারে। তবে শরীয়তে এ বিষয়েও বিস্তারিত বিবরণ বিদ্যমান রয়েছে যে, কোন কোন ক্ষেত্রে কোন জাতীয় তাবিল গ্রহণীয়।
কারো বিরুদ্ধে কাফেরের হুকুম দেয়া সাধারণ মানুষের কাজ নয়
মাওয়ানেয়ে তাকফির তথা যে সব বিষয় একজন মুসলমানকে কুফরিতে লিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও কাফের হওয়া থেকে বাচায়, এ বিষয়ের আলোচনা আমরা এখানে অতি সংক্ষেপেই করলাম । যাতে আমাদের পাঠকবর্গ এই পার্থক্য খুব ভালোভাবে মস্তিষ্কে বসিয়ে নিতে পারেন যে, বইয়ে কৃত সমস্ত আলোচনা মৌলিকভাবে এই গণতন্ত্র ব্যবস্থা এবং গণতন্ত্র ধর্মের কুফরি হওয়া প্রমাণ করছে । এতে শরিক ও জড়িত নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলের উপর হুকুম দেয়া এখানে আমাদের লক্ষ্য নয় । আর গণতন্ত্রকে কুফরি বলায় এটাও আবশ্যক হয়ে যায় না যে, এতে যে কোনো পর্যায়ে এবং যে কোনোভাবে জড়িত সমস্ত ব্যক্তি আমাদের নিকট সমানভাবে দ্বীন থেকে খারেজ হয়ে গিয়েছে । এমনটা আমরা বলিওনি আর এমন অসতর্ক ও অতিরঞ্জন মত অবলম্বন করা মুজাহিদদের পদ্ধতিও নয় । এই বই হতে এমন কোনো মর্ম গ্রহণ করা একদম ঠিক হবে না। হ্যাঁ, আমরা এটা অবশ্যই চাই যে, আমরা আমাদের প্রিয়তম উম্মতকে গণতন্ত্রের ভয়বহতা সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত করি এবং গণতন্ত্রের ঈমান বিধ্বংসী প্রকৃত রূপকে উন্মোচিত করি। যাতে তারা এই ক্ষতিকর ব্যাধি হতে নিজেদেরকে রক্ষা করে এবং এর বিরুদ্ধে তৎপরতা চালায়।
এখানে সুধী পাঠকদের সামনে প্রিয়তম নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই মোবারক ফরমানও থাকা উচিত। নবীজি ইরশাদ করেন-
إِذَا قَالَ الرَّجُلُ لِأَخِيهِ يَا كَافِرُ فَقَدْ بَاءَبِهِ أَحَدُهُمَا
যে ব্যক্তি তার মুসলমান ভাইকে কাফের বলল, তো কুফর তাদের দুইজনের যে কোনো একজনের দিকে প্রত্যাবর্তন করবে।[1]
এই হাদীসের মর্ম হল, যাকে কাফের বলা হয়েছে, তার মধ্যে সত্যিই যদি কুফরি কোনো বিষয় বিদ্যমান থাকে, তবে তো সে কাফের। কিন্তু তার মধ্যে যদি কুফরি কোনো বিষয় না থাকে এবং সে নিশ্চত না হয়েই যদি তাকে কাফের বলে, তো এ ব্যক্তি নিজেই মারাত্মক গুনাহে লিপ্ত হয়েছে।[2]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
لايجتمع رجلان فيالجنة احدهما قال لأخيه: يا كا فر
দুই ব্যক্তি জান্নাতে. একত্রিত হবে না, যাদের মধ্য হতে একজন আরেক মুসলমান ভাইকে কাফের বলেছে। (মুসনাদ ইসহাক বিন রাহওয়াইহ)
অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি যদি কোনো মুসলমানকে কাফের বলে (যার মধ্যে কুফরির কোনো বিষয় ছিল না) তো যে ব্যক্তি এ কথা বলছে, সে এমন একটা কাজ করল, যা তাকে জান্নাত থেকে বঞ্চিত করতে পারে ।
অতএব কোনো ব্যক্তি যদি কোনো কুফরিতে লিপ্ত থাকে, তো হক্কানী ওলামায়ে কেরাম তার কাফের হওয়ার ফতওয়া না দেয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষ তাকে কাফের বলবে না । তবে সেই কুফরি আমলকে অবশ্যই কুফরি বলা যাবে ।
এ পর্যায়ে আমরা তাকফিরের আলোচনার দিক থেকে মানুষকে তিন স্তরে ভাগ করতে পারি ।
১. সাধারণ মুসলমান : কোনো মুসলমানের জন্যই (চাই সে মুজাহিদই হোক না কেনো) জায়েয নেই যে, সে এসব বিষয় পড়ে সাধারণ মানুষ অথবা কোনো আলেমের বিরুদ্ধে কাফেরের ফতওয়া দিয়ে বেড়াবে । এমন কাজ করা নিঃসন্দেহে তার ঈমানকে হুমকির মধ্যে ফেলতে পারে । সুতরাং যারা আলেম নন তারা শুধু এতটুকু করবেন যে নিজেকে, নিজের পরিবারকে এবং আত্মীয়-স্বজনকে এই কুফরি থেকে রক্ষা করুন, অন্যদেরকে বিরুদ্ধে ফতওয়া দিতে যাবেন না ।
২. আলেম : হযরত ওলামায়ে কেরামও নিজেদেরকে এর থেকে বাচান এবং এর কুফরির বিষয় মানুষের সামনে আলোচনা করুন। তবে নির্দিষ্ট কোনো দল অথবা কোনো আলেমের বিরুদ্ধে ফতওয়া দেয়া, সব আলেমের কাজ নয় । কারণ এই কাজের জন্য ইলমের গভীরতা এবং বিশেষ এক পর্যায়ের ‘রুসুখ’ থাকতে হবে । যা খুব কম আলেমের-ই লাভ হয়ে থাকে ।
৩. মুহাক্কিক আলেম : কাউকে কাফের বলা যে কারো কাজ নয়। এটা অনেক স্পর্শকাতর একটা মাসআলা। অতএব মুহাক্কিক আলেমরাই কেবল এ বিষয়ের বেশি হকদার যে, তারা আল্লাহর ব্যাপারে নিন্দাকারীদের নিন্দার পরোয়া করবে না। তারা যেন কিয়ামতের দিন ‘কিতমানে হক’ তথা সত্য লুকানোর অপরাধে পাকড়াওয়ের বিষয় ভয় করেন । আবেগ, প্রবৃত্তির অভিলাষ এবং ব্যক্তি দুর্বলতা- সব কিছু একদিকে রেখে ইলমী নিয়ম এবং ফতওয়ার আদব ও উসুল অনুযায়ী সর্ব অবস্থায় হক কথা বলে যাবেন । ক্ষমতাসীন ও স্বঘোষিত ইলাহ ও প্রভুদের যত খারাপও অসহ্যই লাগুক না কেন? সবাইকে একদিন মা’বুদে হাকিকীর সামনে গিয়ে দাড়াতে হবে। কামিয়াব সে-ই, যে তাঁর সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করেন এবং দুনিয়ার সব ভয়-ভীতি থেকে মুক্ত হয়ে যান। জীবন ও মৃত্যু আজো তিনিই দান করেন । প্রতিটি বস্তুর উপর তাঁরই রাজত্ব । কারাগারে বিষের ইনজেকশন প্রয়োগকারী, ওলামায়ে কেরাম ও মুজাহিদদেরকে শহীদ করে রাস্তায় নিক্ষেপকারীরা কিছুই নয় ।
[1] صحيح البخاري: الجزء 19 .كتاب الادب.باب من كفر أخاه بغير تاويل فهو كما قال الصحيح لمسلم. الجزء الأول.كتاب الأيمان.باب بيانحال الايمان من قال لأخيه المسلم يا كافر
[2] কুফর ফিরে আসার দ্বারা উদ্দেশ্য এটা নয় যে, যে ব্যক্তি এ কথা বলেছে, সে নিজেই কাফের হয়ে গিয়েছে। বরং এখানে গুনাহের ভয়াবহতা বর্ণনা করা উদ্দেশ্য। ইবনে হাজার রহমাতুল্লহি আলাইহি ফাতহুল বারীতে এই হাদীসের ব্যাখ্যায় প্রণিধানযোগ্য মত ইহা লিখেছেন যে –
الحاصل أن المول له ان كان كافر كفرا شرعيا فقد صدق القائل وذهب بها المقلول له وان لم يكن رجعت للقال معرفة ذلك القول واثم.كذا اقتصر علي هذا التاويل في رجع.وهو من أعدل الاجوبة
Comment