ইসলাম ও গণতন্ত্র
।।মাওলানা আসেম উমর রহিমাহুল্লাহ।।
এর থেকে–পঞ্চবিংশ পর্ব
।।মাওলানা আসেম উমর রহিমাহুল্লাহ।।
এর থেকে–পঞ্চবিংশ পর্ব
পঞ্চম অধ্যায়
ইসলামী জীবনব্যবস্থার জন্য সশস্ত্র যুদ্ধ
ইসলামী জীবনব্যবস্থার জন্য সশস্ত্র যুদ্ধ
গণতন্ত্র অথবা ‘মজলিসে শূরা’ নয়: চাই ইসলামী খেলাফত
আমাদের এই আলোচনা থেকে কেউ এ কথা বুঝবেন না যে, গণতন্ত্রের প্রতিই শুধু আমাদের সব বিরাগ ও বিরক্তি। গণতন্ত্র বাদ দিয়ে এই ব্যবস্থায় যৎসামান্য রদবদল করে নতুন এক ব্যবস্থা দেশে চালু করা- যার বাহ্যিক পরিভাষা হবে ইসলাম, আমরা তা গ্রহণ করে নেব- এমন মনে করা ভুল। এমন যে কোনো ব্যবস্থা যাতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনীত শরীয়তকে বিনাবাক্যে আইন হিসেবে স্বীকার করা হবে না, কুরআন এবং হাদীস বিচার ব্যবস্থার উৎস ও মূল (Authority) সাব্যস্ত হবে না (এমনকি সালফে সালেহীনের যুগের প্রচিলত পুরনো ইসলামী পরিভাষাও আমরা বাদ দেব না) গণতন্ত্রের মত এগুলোরও একই হুকুম। সুতরাং গণতান্ত্রিক সংসদের নাম পরিবর্তন করে যদি “ইসলামী মজলিসে শূরা”[1] রেখে দিল, আইনে আরও কতিপয় ইসলামী ধারা সংযোজন করল এবং দাড়িওয়ালা কোনো ব্যক্তিকে দেশের প্রধান বানানো হল-এমন নিযাম ও জীবনব্যবস্থার হুকুম গণতন্ত্রের মতই। এমন ব্যবস্থার দাড়িওয়ালা পরিচালকও এই আধুনিক প্রতিমার রক্ষক ও তত্ত্বাবধায়ক হবে ৷ এরা বরং দাড়ি ছাড়াদের থেকে আরো অধিক ভয়ঙ্কর হবে ।
সুতরাং এ কথা জানা আবশ্যক যে, সীরাতে মুস্তাকীম একটাই। দুনিয়াতে বাস্তবায়ন হওয়ার মত ব্যবস্থা একটাই...। সেটা হল ইসলামী নিযাম...। ইসলামী জীবনব্যবস্থা...। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ
ইসলামই আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত ধর্ম ।
ইসলামের বিপরীতে অন্য সব জীবনব্যবস্থা বাতিল । ভ্রান্ত । আল্লাহর রাসূল খেলাফত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছেন। আর উম্মত সহস্র বছর বুকের তাজা রক্ত দিয়ে তা রক্ষা করেছে।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের এ বিষয়ের উপর ইজমা রয়েছে যে, বিশ্বের বুকে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা এই উম্মতের উপর ফরয। উম্মতের আহলুর রায় (ওলামায়ে কেরাম এবং জাতির নেককার বয়ঃজোষ্ঠ ব্যক্তিগণ) যদি এই ফরয আদায় না করে, তবে গোটা উম্মত গুনাহগার হবে। গণতন্ত্রের দাসত্বের পূর্বে কোনো মুসলমান এ কল্পনাই করতে পারত না যে, এই উম্মত খেলাফত ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে। খেলাফত কি পরিমাণ ফরয, হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইনতিকালের পর হযরত সাহাবায়ে কেরামের এই মোবারক আমল দ্বারা তার গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায়। হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র দেহ তিন দিন পর্যন্ত দাফন করা হতে এজন্য বিলম্ব করা হয় যে, সমস্ত সাহাবায়ে কেরাম মদীনার এক মহল্লায় (সাকিফা বনী সাআদ) খলিফা নির্বাচনের জন্য পরামর্শ করছিলেন। হযরত আবু বকর রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর ব্যাপারে যখন সবাই এক মত হলেন, তাকে যখন খলিফা নির্বাচিত করা হল, এরপর গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাফন করা হয়।
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, খেলাফতের এই গুরুত্ব সাহাবায়ে কেরাম হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেই শিখে ছিলেন । এর দ্বারা আপনারা অনুমান করতে পারেন যে, হযরত সাহাবায়ে কেরাম খেলাফতবিহীন এতটুকু সময়ও বেঁচে থাকা পছন্দ করেননি যে, আগে নবিজির দাফনকার্য সম্পন্ন হোক।
এজন্য সালফে সালেহীন খলিফা নির্বাচনে তিন দিন পর্যন্ত বিলম্ব করার অবকাশ দিয়েছেন। তিন দিনের ভেতর যদি খলিফা নিযুক্ত না হয় তবে নামায রোযার মত খেলাফত প্রতিষ্ঠা করাও প্রতিটি উম্মতের উপর ফরয হয়ে যাবে৷ ইহা ছাড়ার কারণে পুরো উম্মত গুনাহগার হবে। কারণ খেলাফত ফরযে কেফায়া হওয়ার ব্যাপারে সমস্ত উম্মতের ইজমা রয়েছে । আর আহলে ইলমগণ এটাও জানেন যে, ফরযে কিফায়া নির্দিষ্ট সময়ের ভেতর (তিন দিন) আদায় করা না হলে, তা ফরযে আইন হয়ে যায়। অর্থাৎ এখন এটাকে প্রতিষ্ঠা করা প্রতিটি বুদ্ধিমান প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলমানের উপর ফরয হয়ে যায় ।
খেলাফত ছাড়া জীবন যাপন করা কেমন?
হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন হাদীসে তা বর্ণনা করেছেন-
مَنْ مَاتَ وَلَيْسَ فِي عُنُقِهِ بَيْعَةٌ مَاتَ مِيْتَةُ جَاهِلِيَّةً
যে ব্যক্তি খলিফার হাতে বায়আত না হওয়া অবস্থায় মারা গেল, সে জাহেলিয়াতের মৃত্যু বরণ করল ।[2]
من مات وليس عليه إمام مات ميتة جاهلية
যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মারা গেল যে, তার উপর কোনো ইমাম (খলিফা) নেই, সে জাহেলিয়াতের মৃত্যু বরণ করল ।[3]
مَنْ خَرَجَ مِنْ الطَّا عَةِ وَفَارَقَ الْجَمَاعَةَ فَمَاتَ مَاتَ مِيْتَةً جَاهِلِيَّةً
যে ব্যক্তি দল এবং ইসলাম থেকে আলাদা হল এবং সেই অবস্থায়ই মারা গেল, সে জাহেলিয়াতের মৃত্যু বরণ করল।[4]
খেলাফত ছাড়া জীবন যাপন করা কেমন, তা হাদীসগুলোতে স্পষ্টই রয়েছে। বাকি এ বিষয়ে আলোচনা করা এখানে প্রাসঙ্গিক নয়। বিধায় এতটুকুতেই শেষ করা হল।
খেলাফতের (শরীয়ত প্রবর্তন) জন্য সশস্ত্র যুদ্ধ
এক দল লোক রয়েছে, যারা বড় উচ্চকণ্ঠে এ কথা বলে যে, শরীয়ত প্রবর্তনের জন্য এখানে অস্ত্র হাতে নেয়া উচিত নয়। (প্রত্যেক জায়গার সরকারি লোক তাদের দেশের সম্পর্কে এটাই বলে থাকে ৷ এমনকি ভারতের সরকারি আলেমরা হিন্দুদের বিরুদ্ধে পর্যন্ত অস্ত্র হাতে নেয়াকে হারাম বলে।) তাদের বক্তব্য হল (তাগুতি) আইনের অধীনে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেই এখানে ইসলাম প্রবর্তন করা সম্ভব। এমনকি অনেকে তো এ কথা পর্যন্ত বলেন যে, এই “পবিত্র” ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রেও অস্ত্র হাতে নেয়া জায়েয নেই । অথচ তাদের দাবির পক্ষে তাদের নিকট কোনো দলিল-প্রমাণ নেই ।
সর্বপ্রথম আমরা এটা দেখি যে, শরীয়ত প্রবর্তনের জন্য সশস্ত্র আন্দোলনকে শরীয়ত কোন নামে জানে? কুরআন, হাদীস এবং ফিকাহ'র কিতাবগুলোর ভাষ্য দেখলে সহজেই জানা যায় যে, শরীয়ত প্রবর্তনের জন্য সশস্ত্র আন্দোলনকে শরীয়তে ‘কিতাল ফি সাবিলিল্লাহ’ বলা হয়। যার সামান্য পরিমাণ ইলম রয়েছে, এ বিষয়ে তার কোনো দলিলের প্রয়োজন নেই।
আয়েম্মায়ে আরবাআ এবং সমস্ত সালফে সালেহিন এ বিষয়ের উপর একমত (ইজমা) যে, কিতাল ফি সাবিলিল্লাহ এই উম্মতের উপর ফরয। আর যে ব্যক্তি ফরয অস্বীকার করে, সে ইসলাম থেকে খারেজ।
এবার আপনারাই চিন্তা করুন যে, ‘শরীয়ত প্রবর্তনের জন্য সশস্ত্র আন্দোলন করা আমরা জায়েয মনে করি না’ এ কথা কে বলতে পারে? পবিত্র কুরআনের এক আয়াত নয় বরং গোটা কুরআনই তার মাননেওয়ালাদেরকে এ কথার দাওয়াত দিচ্ছে যে, তারা যেনো ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরিক না করে। আর আহলে ইলমের নিকট এ বিষয়টি গোপন নয় যে, এক আল্লাহর ইবাদত গায়রুল্লাহর আইনবিজয়ী থাকা অবস্থায় হতেই পারে না। আর বুঝমান প্রতিটি মুসলমানই এ কথাটি বুঝতে পারবেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইবলিসি ব্যবস্থার বিজয় ও ক্ষমতা বিদ্যমান থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা আল্লাহর নিযাম বাস্তবায়নই হতে দিবে না। কারণ এতে তাদের লাগামহীন প্রবৃত্তি পূজার যবনিকাপাত ঘটবে। এ কারণে আল্লাহ তায়ালা শরীয়ত প্রবর্তনের জন্য কিতাল ফরয করেছেন। জ্বি হ্যাঁ, মুস্তাহাব বা সুন্নাত নয় (যদিও একজন খাঁটি রাসূল প্রেমিকের জন্য সুন্নাত হওয়াই যথেষ্ট ছিল) বরং ফরয করেছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন-
وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ
আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই কর যতক্ষণ না ফিতনার অবসান হয় এবং দ্বীন পূর্ণরূপে আল্লাহর জন্য হয়ে যায় । [সূরা আনফাল : ৩৯]
আর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّي يَقُولُوا لَا إلَهَ إلاَّ اللهُ
আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছ যে, আমি যেনো ততক্ষণ পর্যন্ত কিতাল করি, যতক্ষণ না তারা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর (নিযামের বিজয়) স্বীকার করে ।[5]
সুতরাং হে আল্লাহর বান্দারা! গণতন্ত্রে সাফল্যমন্ডিত হওয়ার জন্য নিজ মুখে এত বড় কথা কেনো বল? পাহাড়ের উপর রাখা হলেও তো পাহাড় আল্লাহর ভয়ে কেঁপে উঠবে। ‘শরীয়ত প্রবর্তনের জন্য কিতাল (তথা সশস্ত্র যুদ্ধ) আমরা জায়েয মনে করি না অথবা আমরা এই বিশ্বাস লালন করি না’ এই কথার অর্থ মর্ম এবং হুকুম কি, দয়া করে তা আহলে ইলমের নিকট জিজ্ঞাসা করে জেনে নিবেন।
এখন আসুন দেখি এদের সম্পর্কে ফুকাহায়ে আহনাফের শীর্ষ ইমাম আবু বকর জাসসাস রহিমাহুল্লাহ কি বলেন-
وَالَّذِي يَدُلُّ عَلَي أَنَّ هَذَا الْحُكْمَ غَيْرُ ثَابِتٍ فِي شَرِيْعةِ النَّبِيِّ صَلَّي اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأنَّ الْوَا جِبَ عَلَي مَنْ قَصَدَهُ إْنْسَانٌ بِالقَتْلِ أَنَّ عَلَيْهِ قَتْلَهُ إِذَا أمْكَنَهُ
আর তা এটাই বুঝাচ্ছে যে, প্রতিরোধ না করার নির্দেশ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়াসাল্লামের শরীয়তে প্রমণিত নেই। ওয়াজিব হল, কোনো মুসলমানকে যখন কেউ হত্যা করার ইচ্ছা করে, তাকে হত্যা করা (অর্থাৎ নিজের পক্ষ হতে প্রতিরোধ করা) জরুরি । যদি তার পক্ষে এটা সম্ভব হয়...।[6]
এরপর গিয়ে বলেন-
يَدُلُّ عَلَيْهِ قَوْلُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَدِيثِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ: مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ». فَأَمَرَ بِتَغْيِيرِ الْمُنْكَرِ بِالْيَدِ، وَإِذَا لَمْ يُمْكِنْ تَغْيِيرُهُ إِلَّا بِقَتْلِهِ فَعَلَيْهِ أَنْ يُقْتَلَ بِمُقْتَضَى ظَاهِرِ قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. وَذَهَبَ قَوْمٌ مِنَ الْحَشَوِيَّةِ إِلَى أَنَّهُ عَلَى قَصْدِهِ إِنْسَانٌ بِالْقَتْلِ أَنْ لَا يَقْتُلَهُ وَلَا يَدْفَعَ عَنْ نَفْسِهِ حَتَّى يَقْتُلَهُ. وَلَوْ كَانَ الْأَمْرُ فِي ذَلِكَ مَا ذَهَبَتْ إِلَيْهِ هَذِهِ الطَّائِفَةُ مِنْ حَظْرِ قَتْلِ مَنْ يُرِيدُ قَتْلَهُ، لَوَجَبَ مِثْلُهُ فِي سَائِرِ الْمَحْظُورَاتِ إِذَا أَرَادَ الْفَاجِرُ ارْتِكَابَهَا مِنَ الزِّنَا وَأَخْذِ الْمَالِ، أَنْ نُمْسِكَ عَنْهُ حَتَّى يَفْعَلَهَا. فَيَكُونُ فِي ذَلِكَ تَرْكُ الْأَمْرِ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيِ عَنِ الْمُنْكَرِ، وَاسْتِيلَاءُ الْفُجَّارِ، وَغَلَبَةُ الْفُسَّاقِ وَالظَّلَمَةِ، وَمَحْوُ آثَارِ الشَّرِيعَةِ. وَمَا أَعْلَمُ مَقَالَةً أَعْظَمَ ضَرَرًا عَلَى الْإِسْلَامِ وَالْمُسْلِمِينَ مِنْ هَذِهِ الْمَقَالَةِ. وَلَعَمْرِي إِنَّهَا أَدَّتْ إِلَى غَلَبَةِ الْفُسَّاقِ عَلَى أُمُورِ الْمُسْلِمِينَ، وَاسْتِيلَائِهِمْ عَلَى بُلْدَانِهِمْ، حَتَّى تَحَكَّمُوا فَحَكَمُوا فِيهَا بِغَيْرِ حُكْمِ اللَّهِ. وَقَدْ جَرَّ ذَلِكَ ذَهَابَ الثُّغُورِ، وَغَلَبَةَ الْعَدُوِّ، حِينَ رَكَنَ النَّاسُ إِلَى هَذِهِ الْمَقَالَةِ فِي تَرْكِ قِتَالِ الْفِئَةِ الْبَاغِيَةِ، وَالْأَمْرِ بِالْمَعْرُوفِ، وَالنَّهْيِ عَنِ الْمُنْكَرِ، وَالْإِنْكَارِ عَلَى الْوُلَاةِ، وَاللَّهُ الْمُسْتَعَانُ.
আর এর পক্ষে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই হাদীস দলিল, যা হযরত আবু সাঈদ খুদরি রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত রয়েছে । তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমাদের মধ্যে কেউ কোনো মন্দ কাজ হতে দেখলে তার উচিত তা হাত দ্বারা বাধা দেয়া৷ হাত দিয়ে বাধা দেয়ার শক্তি না থাকলে মুখ দ্বারা বাধা দিবে। মুখ দ্বারা বাধা দেয়ার শক্তিও যদি না রাখে, তাহলে মনে মনে ঘৃণা করবে । আর এটা ঈমানের নিম্নস্তর।' যাহোক, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মন্দ কাজকে হাত দিয়ে প্রতিরোধ করার নির্দেশ দিয়েছেন । আর মন্দ কাজ প্রতিরোধ করা যখন একমাত্র কতলের মাধ্যমেই সম্ভব, তখন তার প্রতিরোধকারীর জন্য কতল করা জরুরি । হাদীসের বাহ্যিক মর্ম এটাই দাবি করে... আর হাশবিয়া ফিরকার মাযহাব হল, কোনো ব্যক্তিকে যদি কেউ হত্যা করার ইচ্ছা করে, তবে সে ওই হত্যাকারীর সাথে যুদ্ধ করবে না এবং তার প্রতিরোধও করবে না। বরং বিনা প্রতিরোধেই খুন হয়ে যাবে । বিষয় যদি এমনই হয় যেমন এই ফেরকার মাযহাব, প্রতিরোধ করা ছাড়াই খুন হয়ে যাবে । তবে হুকুম তো প্রতিটি নিষিদ্ধ কাজের বেলায়ই প্রয়োগ হবে। কোনো পাপী গুনাহ করতে চাইল, বা সম্পদ লুট করতে চাইল, আমরা তাকে তা করতে দেব। এভাবে তো আমর বিল মারুফ এবং নাহি আনিল মুনকার তরক হয়ে যাবে । পাপী ও জালেমরা বিজয়ী হবে। শরীয়তের নাম চিহ্ন মুছে যাবে । আমার জানা মতে ইসলাম এবং মুসলমানের জন্য এর চেয়ে ক্ষতিকর কথা আর কিছুই নেই। তাদের এই কথা মুসলমানদের সমস্ত বিষয় এবং তাদের নাগরিকদের উপর ফাসেকদের দখল সুগম করে দেয় । এক পর্যায়ে বাজে লোকেরা শাসক হয় । তারা আল্লাহর আইন বাদ দিয়ে অন্য আইন দিয়ে ফয়সালা করে । তাদের এই কথার কারণে ইসলামী সীমান্ত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় এবং দুশমনরা বিজয় লাভ করে।[7]
ইমাম আবু বকর জাসসাস রহমাতুল্লাহি আলাইহি এ কথা বলেছেন যে-
وَاِزَالَتُهُ فَفُرِ عَلَي مَنْ اَمْنْ اَمْكَنَهُ اِزَالَةُ ذَلِكَ بِيَدِهِ اَنْ يُزِيْلَهُ.وَاِزَالَةُ بِيَدِهِ عَلَي وُجُهٍ : مِنْهَا اَنْ لاَ يُمْكِنَهُ اِزَالَتُهُ اِلاَّ بِالسَّيْفِ. وَ اَنْ يَأْ تِيَ عَلَي نَفْسِ فَاعِلِ الْمُنْكَرِ فَعَلَيْهِا اَنْ يَفْعَلَ ذَلِكَ. كَمَنْ رَاَي رَجُلاً قَصَدَهُ اَوْقَصَدَ غَيْرَهُ بِقَتْلِهِ اَوْ بِاَخْذِ مَالٍ اَوْقَصَدَ الزِّنَا بِاِمْرَاَةٍ اَوْ نَحْوِ ذَلِكَ وَعَلِمَ انَّهُ لاَ يَنْتَهِي اِنْ اَنْكَرَهُ بِالْقَوْلِ اَوْ قَاتَلَهُبِمَ دُونَ السِّلاحِ فَعَلَيْهِ اَنْ يَقْتُلَهُ. لِقَوْلِ صَلَّي اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ رَأَي مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ. فَاِذَا لمْ يُمْكِنْهُ تَغْيِيرُ بِالْيَدِهِ الاَّ بِقتْلِ الْمُقِيمِ عَلَي هَذَا الْمُنْكَرِ فَعَلَيْهِ أَنْ يُقْتَلَهُ فَرْضًا عَلَيهِ .
অন্যায় কাজ বন্ধ করার কয়েকটি সুরত হতে পারে । এক, তরবারি (অস্ত্র) ছাড়া বন্ধ করা সম্ভব নয়। যদি কেউ অন্যায়কারীর কাছে আসে, এ মতাবস্থায় যে সে অন্যায় কাজে লিপ্ত রয়েছে, এ ক্ষেত্রে তার জন্য আবশ্যক হল, সে তাকে তরবারির মাধ্যমে বাধা দিবে । যেমন কেউ দেখতে পেল, এক ব্যক্তি তাকে কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করবে, অথবা তার সম্পদ ছিনতাই করবে, অথবা কোনো মহিলার সাথে অপকর্ম করছে । আর সে এ কথা জানে যে, তাকে মুখে বাধা দিলে সে শুনবে না। অন্যায় কাজ হতে ফিরে আসবে না। এমনকি ধস্তাধস্তি করেও তাকে ফিরাতে পারবে না। এমন পরিস্থিতিতে তার জন্য আবশ্যক হল, সে তাকে (অন্যায় কাজে লিপ্ত ব্যক্তি) হত্যা করবে। কারণ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যদি কোনো অন্যায় কাজ হতে দেখে, সে যেনো সেই অন্যায় কাজকে হাত দ্বারা বন্ধ করে ।" সুতরাং অন্যায়কারীকে হত্যা করা ছাড়া যখন অন্যায় বন্ধ করা সম্ভব হবে না, তখন তাকে হত্যা করা তার উপর (যে দেখছে) ফরয। [8]
তিনি আরও বলেছেন-
وَلَمْ يَدْفَعْ احدٌ مِنْ عُلماءِ الاُمَّةِ وَ فُقَهَائِهَا سَاَفِهِمْ وَخَلَفِهِمْ وُجُوبَ ذَلِكَ اِلَّا قَوْمٌ مِنَ الْحَشْوِ وَجُهَّالِ اَصْحَابِ الْحَدِيْثِ. فَاِنَّهُمْ اَنْكَرَ وُا قِتَالَ الْفِئَةِ الْبَاغِيَةِ وَالأَمْرَ بالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيَ عَنِ الْمُنْكَرِ بِالسِّلَاحِ. وَسَمُّوا الأَمْرَ بالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيَ عَنِ الْمُنْكَرِ فِتْنَةً اِذَا اُحْتِيْجَ فِيهِ اِلَي حَمْلِ السِّلِاحِ وَقِتَالِ الْفِئَةِ الْبَاغِيَةِ
এই উম্মতের সালফে সালেহীন, ওলমা ও ফুকাহায়ে কেরামের মধ্য হতে কেউই এর (প্রতিরোধের) উজুবকে অস্বীকার করেনি। শুধু হাশবিয়া ফেরকা এবং কতিপয় গন্ডমূর্খ আহলে হাদীস ছাড়া...। তারা বিদ্রোহী দলের সাথে কিতাল করাকে এবং সশস্ত্র আমর বিল মারুফ এবং নাহি আনিল মুনকারকে অস্বীকার করেছে। তারা এমন আমর বিল মারুফ এবং নাহি আনিল মুনকার, যাতে অস্ত্র ব্যবহার করতে হয়, ফিতনা সাব্যস্ত করেছে...।[9]
এ পৃষ্ঠাতে তিনি আরও বলেছেন-
لِاَنَّهُمْ اَقْعَدُوا النَّاسَ عَنْ قِتَالِ الْفِئَةِ الْبَاغِيَةِ وَعَنِ الْاِنْكَارِ عَلَي السُّلْطَانِ الظُّلْمِ وَالْجَوْرِ. حَتَّي اَدَّي ذَلِكَ اِلَي تَغَلُّبِ الْفُجَّارِ بَلِ الْمَجُوسِ. وَاَعْدَاءِ الْاِسْلَامِ حَتَّي ذَهَبَتْ الثُّغُورُ وَشَاعَ الظُّلْمُ وَخَرَبَتْ الْبِلَادُ وَذَهَبَ الدِّينُ وَالدُّنْيَا وَظَهَرَتْ الزَّنْدَقَةُ وَالْغُلُوُّ وَمَذَاهِبُ الثَّنَوِيَةِ وَالْحُرَّمِيَّةِ وَالْمَزْدَكِيَّةِ وَالَّذِي جَلَبَ ذَلِكَ كُلُّهُ عَلَيْهِمْ تَرْكُ الأَمْرِ بالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيِ عَنِ الْمُنْكَرِ وَالْاِنْكَارِ عَلَي السُّلطَانِ الْجَائِرِ
কারণ তারা (হাশবিয়া এবং কতিপয় গন্ডমূর্খ আহলে হাদীস) মানুষকে (এমন কথা শুনিয়ে যে অন্যায় কাজ বন্ধ করার জন্য শক্তি ব্যবহার করা জায়েয নেই, শাস্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদেরকে এ কাজ করতে হবে) ইসলামের সাথে বিদ্রোহকারীদের সাথে কিতাল করা এবং শাসকের জুলুম নির্যাতন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া থেকে বসিয়ে দিয়েছে। যার ফলে দুশ্চরিত্র, অগ্নিপূজক এবং ইসলামের দুশমনদের বর্তমান সময়ে যিন্দিক শিয়া, কাদিয়ানী, আগাখানি প্রমুখ) বিজয়ের পথ উন্মুক্ত হয়েছে । এই ধারা এ পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ইসলামী মানচিত্রের সীমানা সঙ্কোচিত হচ্ছে। নৃশংসতা ব্যপকতর হচ্ছে। ইসলামী দেশগুলো ধ্বংস হচ্ছে। পতনের, দিকে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে ধর্ম ও পৃথিবী। যিন্দিকেরা (যেমন শিয়া, কাদিয়ানী, আগাখানি, স্যেকুলার এবং যারা প্রকাশ্যে আল্লাহর হদ ও জিহাদ অস্বীকার করে) গালি শিয়া এবং সানাবিয়া, খরমিয়া, মজদাকিয়া ক্ষমতায় এসেছে। এগুলো আমর বিল মারুফ এবং নাহি আনিল মুনকার ছাড়ার কারণে এবং জালেম শাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রতিরোধ না করার কারণেই হয়েছে ।[10]
আজ যদি ইমাম আবু বকর জাসসাস রহিমাহুল্লাহ আমাদের এই যুগের হাশবিয়াদেরকে দেখতেন, যারা মিম্বার এবং মিহরাবে দাঁড়িয়ে কাদিয়ানী মতবাদ প্রচার করে, দাবি করে এবং ফিকহে হানাফী দ্বারা দলিল দেয় যে, এই দেশে (এরা চাই ভারতে হোক কিংবা আমেরিকা ও ব্রিটেনে হোক, কিংবা ইসরাইলেই হোক না কেনো) আমরা সব ধরনের সশস্ত্র আন্দোলনের বিরোধী । এখানে যখন ইসলামী পুলিশ, ইসলামী সেনাবাহিনী এবং ইসলামী আদালত বিদ্যমান রয়েছে, তখন আইন হাতে তুলে নেয়ার এবং লাঠি হাতে রাস্তায় নামার কারো প্রয়োজন কি? যেনাকারী ও বাজে মহিলাদেরকে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিহত করার দরকার কি? নিজের কিংবা অন্য কারো ইজ্জতের উপর আক্রমণকারী পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মোকাবেলা করার অধিকার কোথায়? কারো জনবসতিকে আহমাদাবাদ এবং সুরত বানিয়ে দেয়া হলে, তাদের মসজিদগুলোকে মন্দিরে পরিণত করা হলেও বা সশস্ত্র আন্দোলন করা বৈধতা কোথায়?
সুতরাং সমস্ত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতকে জেনে রাখা উচিত যে, যারা শরীয়ত প্রবর্তনের জন্য সশস্ত্র আন্দোলনকে লাঠিয়াল ইসলাম অথবা তালেবানী ইসলাম বলে উপহাস করে এবং শক্তি প্রয়োগকে অবৈধ মনে করে, তারা আহলে সুন্নাত নয়। তারা হাশবিয়া চেতনার দল। এদের কারণেই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের উপর পাপী, দুশ্চরিত্র, যেনাকারী, মদ্যপায়ী, সতিত্ব্ বিক্রেতা ও নারীর সওদাগর শাসক এবং জেনারেলরা বিজয়ী হয়েছে । এরা হাশবিয়া গ্রুপ ।
এরা কাদিয়ানীদের দোসর। তাই এদের কথা শোনা যাবে না, মানা যাবে না।.... বাহ্যত এদেরকে যেমনই দেখা যাক না কেনো?
আপনি নিজেই ভাবুন! তাদের এই কথা যদি মেনে নেয়া হয় তো আত্মসম্মান কি করে সহ্য করবে যে, কারো বোন, মেয়ে অথবা স্ত্রীর সাথে কোনো জালেম জুলুম করছে, তার শ্লীলতাহানি করছে, আর এই আত্মসম্মানহীন ব্যক্তি তার মাথার কাছে দাঁড়িয়ে কাকুতি মিনতি করতে থাকবে যে, দেখো ভাই, লোকটা হারাম কাজ করছে। আল্লাহ এবং তার রাসূল এমন ঘৃণ্য কাজ করতে নিষেধ করেছেন...?
আপনিই বলুন, পৃথিবীর বুকে এর চেয়ে বেশরম ও আত্মমর্যাদাহীন মানুষ আর কেউ হতে পারে? আল্লাহর রাসূল সত্য বলেছেন-
পূর্ববর্তী নবীদের বাণী হতে যে বিষয়গুলো পাওয়া গিয়েছে, তার মধ্যে এটাও একটা যে, যখন তোমার মধ্যে লজ্জা থাকবে না, তখন তোমার যা ইচ্ছা কর।[11]
একই পয়েন্ট ইমাম আবু বকর জাসসাস রহমাতুল্লাহি আলাইহি উল্লেখ করেছেন যে, অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখার জন্য যদি শক্তি প্রয়োগ ছেড়ে দিতে হয়, তবে এই নিয়ম অন্য সব মন্দ কাজের বেলায়ও মানতে হবে । অর্থাৎ তাদের সামনে যত যাই হবে, শুধু ‘শাস্তিপূর্ণ আমর বিল মারুফ এবং নাহি আনিল মুনকার'-এর দাওয়াত দিতে থাকবে ।
যখন এ কথা প্রমাণিত হল যে, আমর বিল মারুফ এবং নাহি আনিল মুনকারের জন্য অস্ত্র হাতে নেয়া ফরয, যখন এ ছাড়া অন্য আর কোনো সুরতে কাজ হবে না। তো জেনে রাখুন দুনিয়াতে সব চেয়ে বড় মুনকার হল কুফরি। আর এই কুফরকে খতম করার জন্য এবং দাপট নিশ্চিহ্ন করার জন্য অস্ত্র হাতে নেওয়াও ফরয।
এমনকি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, ওই সব কাফেররা যখন তোমাদের কথা মানে না, তোমরা তাদের সাথে কিতাল কর।
[1] আফসোস, জিয়া মজলিসে শূরার শরয়ী পরিভাষাও হেয় করার জন্য এই কদর্য সংসদকে মজলিসে শূরা নাম দিয়েছে। এখানে এই পরিভাষা রদ করা উদ্দেশ্য। অন্যথায় খোদ শূরা ও মাশওয়ারা তো ইসলামী রাজনৈতিক ব্যবস্থারই মৌলিক মূলনীতি সমূহের অংশ।
[2] الصحيح لمسم: الجزء9 كتاب الامارة. باب وجوب ملازمة جماعة المسلمين عند ظهور الفتن وفي كل حال وتحريم الخروج علي الطاعة ومفارقة الجماعة
[3] السنة لابن أبي عاصم : الجزء3 . باب في ذكر السمع وطاعة. مسند أبي يعلي : حديث رقم 7374
[4] الصحيح لمسم: الجزء9 كتاب الامارة. باب وجوب ملازمة جماعة المسلمين عند ظهور الفتن وفي كل حال وتحريم الخروج علي الطاعة ومفارقة الجماعة
[5] صحيح البخاري: الجزء 10 .كتاب الجهاد و السير.باب دعاء النبي صلي الله عليه وسلم الناس الي الاسلام والنبوة ... صحيح مسلم.كتاب الايمان.باب الأمر بقتال الناس حتي يقول لااله الا الله...
[6] احكام القران للجصاص: الجزء5. باب القيام بالشهادة والعدل
[7] প্রাগুক্ত
[8] احكام القران للجصاص: الجزء3. باب الفرض الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر
[9] প্রাগুক্ত
[10] প্রাগুক্ত
[11] صحيح البخاري: الجزء 11 .كتاب أحاديث الانبياء. باب حديث الغار
Comment