Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৪৪ || ইসলাম ও গণতন্ত্র ।। মাওলানা আসেম উমর রহিমাহুল্লাহ।। ষড়বিংশ পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৪৪ || ইসলাম ও গণতন্ত্র ।। মাওলানা আসেম উমর রহিমাহুল্লাহ।। ষড়বিংশ পর্ব

    ইসলাম ও গণতন্ত্র
    ।।
    মাওলানা আসেম উমর রহিমাহুল্লাহ।।
    এর থেকে–ষড়বিংশ পর্ব


    তোমরা সর্বোত্তম উম্মত


    পবিত্র কুরআনে উম্মতে মুহাম্মাদিয়াকে অন্যান্য উম্মতের উপর এ কারণেই শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে । আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-

    كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ

    তোমরা হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদেরকে মানুষের জন্য বের করা হয়েছে । তোমরা ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে বারণ করবে, আর আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে [সূরা আল ইমরান : ১০৩]

    আসুন, মুফাসসিরে কুরআন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর নিকট এই আয়াতের তাফসীর পড়ি যাতে আমাদের সবার অন্তর থেকে সব ধরনের ওয়াসওয়াসা এবং শয়তানী কুমন্ত্রণা বের হয়ে যায়। সেই সাথে আমাদের যেন এই কথা জানা হয়ে যায় যে, কোন সেই আমল যার কারণে এই উম্মতকে অন্যান্য উম্মতের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে আর কোন সেই আমল যা ত্যাগ করার কারণে এই উম্মত আজ দুয়ারে দুয়ারে হোঁচট খাচ্ছে । এই আয়াতে কারিমার তাফসীরে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আবব্বাস রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন-

    تأمرونهم أن يشهدوا أن لا اله الله ويقرؤا بما أنزل الله . وتقاتلونهم عليه و,لااله الا الله,أعظم المعروف. والتكذيب هو أنكر المنكر

    তোমরা তাদেরকে নির্দেশ দিতে থাক যে, তারা এর সাক্ষ্য দিক যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মা'বুদ নেই আর আল্লাহ তায়ালা যা নাযিল করেছেন, তা স্বীকার করেআর তোমরা তাদের সাথে এর উপর কিতাল করতে থাক (অর্থাৎ তারা যদি এটা না মানে, তবে তোমরা তাদের সাথে কিতাল কর) এবং লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ সবচেয়ে বড় কল্যাণের কাজআর এই কালেমা অস্বীকার করা সবচেয়ে বড় মন্দ কাজ[1] [তাফসীরে কাবীর ৮/১৮০]

    ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি হযরত আবু হুরাইরা রাযিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে এই আয়াতের তাফসীর ইহা বর্ণনা করেছেন যে-

    خَيْرَ النَّاسِ للنَّاسِ تاْتُونَ بِهِمْ فِي السَّلاَسِلِ فِي اَعْنَاقِهِمْ حَتَّي يَدْخُلُوا فِي الْاِسْلاَمِ

    তোমরা মানুষদের (কাফেরদের) জন্য উত্তম মানুষ । (কারণ) তোমরা (তাদের সাথে কিতাল করে) তাদের গর্দানে শিকল পরিয়ে তাদেরকে আনো (যার কারণে তারা যখন তোমাদের সাথে থাকে এবং কাছে থেকে ইসলাম দেখে, তখন এর ব্যবহার ও ইনসাফ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে) ইসলাম কবুল করে(এভাবে তাদের সাথে তোমাদের কিতাল করা তাদের জন্য রহমতের কারণ হয়ে যায় এজন্য তোমারা এসব কাফেরদের জন্য সবচেয়ে উত্তম মানুষ । [সহীহ বুখারী : ৪১৯১]

    এটা আল্লাহর আইন, যিনি আহকামুল হাকিমীনইহাকে উপহাসের বস্তু বানানো অথবা যার মন চাইল মানল আর যার মন চাইল এর বিরোধিতা করল, এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল, এমন বলা আল্লাহর আইনের অবমাননা ।

    পৃথিবীর কোনো দেশে গিয়ে যদি আপনি সেখানকার আইনের বিরোধিতা করেন, তো আপনাকে এমন না করার জন্য আবেদন করা হবে না। বলা হবে না, এমন কাজ কর না বরং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে আপনাকে বাধা দেয়া হবে। আর যদি এ কথা বলেন যে, আমি এ দেশের আইন শৃঙ্খলা মানি না, তবে বুঝবেন, মানুষের তৈরিকৃত আইনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলে কত ধানে কত চাল হয়!

    সুতরাং আপনি নিজেই ইনসাফের সাথে ফয়সালা করুন যে, মানুষের তৈরিকৃত আইনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলে যখন ক্ষমা করা হয় না, তো আল্লাহর আইন কি নাউযুবিল্লাহ ইবলিসের আইনের চেয়েও তুচ্ছ ও অবজ্ঞেয় হয়ে গেল? যার মনে চাইবে মানবে, আর যার মনে চাইবে না পশ্চাতে ছুড়ে ফেলবে? তাকে শাস্তি দেয়ার জন্য কুরআন বিশ্বাসীদের নিকট শক্তিও থাকবে না? দুনিয়ার সামনে তার আইনকে অপমানিত করা হবে! হেয় ও অবজ্ঞা করা হবে, যারা ইচ্ছা এই আইন দিয়ে ফয়সালা করাবে, আর যার ইচ্ছা ইবলিসের ব্যবস্থা অনুযায়ী ফয়সালা করাবে, এই জন্যেই কি আল্লাহ তায়ালা এই উম্মতকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন?



    আমর বিল মারুফ এবং নাহি আনিল মুনকার ত্যাগ করা


    ইমাম ইবনে কাসির রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

    হযরত কাতাদা রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন,আমার নিকটে এই রেওয়ায়েত পৌঁছেছে যে, একবার হযরত ওমর ফারুক রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হজ্ব করেন। তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করেন- كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ এরপর বলেন, যে ব্যক্তি এই শ্রেষ্ঠ উম্মত হওয়া পছন্দ করে, তার উচিত সে যেনো আল্লাহর বর্ণিত এই শর্ত পুরা করে। (অর্থাৎ আমর বিল মারুফ এবং নাহি আনিল মুনকার)[2] [তাফসীরে ইবনে কাসির, সূরা আলে ইমরান-১১০]

    ইমাম ইবনে কাসির রহমাতুল্লাহি আলাইহি সামনে গিয়ে বলেন-

    আর যেই মুসলমান এই বৈশিষ্ট্য থেকে বঞ্চিত থাকল, তো সে ওই আহলে কিতাবের মত হয়ে গেল, আল্লাহ তায়ালা যাদের তিরস্কার করেছেন তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন-

    كَانُو لَايَتَنَاهَوْنَ عَنِ المُنْكَرِ فَفَعَلُوهُ مَاكَانُوا يَفْعَلُونَ

    তারা পরস্পরকে মন্দ থেকে নিষেধ করত না, যা তারা করত তারা যা করত, তা কতইনা মন্দ! )প্রাগুক্ত(

    ফায়দা : এখানে এ কথাটি আবারও স্মরণ রাখবেন যে, হযরত ওমর ফারুক রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু পবিত্র কোরআনের আয়াত كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍতিলাওয়াত করেন সুতরাং এখানে আমর বিল মারুফ দ্বারা উদ্দেশ্য ইসলামের হুকুম আর নাহি আনিল মুনকার দ্বারা উদ্দেশ্য কুফর থেকে বাধা প্রদান আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তার ‘আল ইতকান ফি উলুমিল কুরআন’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, আবুল আলিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

    কুরআনের প্রতিটি আমর বিল মারুফ দ্বারা উদ্দেশ্য ইসলাম। আর নাহি আনিল মুনকার দ্বারা উদ্দেশ্য মূর্তির (গায়রুল্লাহ) উপাসনা।[3]

    পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-

    لَوْلَا يَنْهَاهُمُ الرَّبَّانِيُّونَ وَالْأَحْبَارُ عَن قَوْلِهِمُ الْإِثْمَ وَأَكْلِهِمُ السُّحْتَ ۚ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَصْنَعُونَ


    কেন তাদেরকে রব্বানী ও ধর্মবিদগণ তাদের পাপের কথা ও হারাম ভক্ষণ থেকে নিষেধ করে না? তারা যা করছে, নিশ্চয় তা কতইনা মন্দ! [সূরা মায়েদা : ৬৩]

    لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَىٰ لِسَانِ دَاوُودَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ۚ ذَٰلِكَ بِمَا عَصَوا وَّكَانُوا يَعْتَدُونَ‎﴿٧٨﴾ كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَن مُّنكَرٍ فَعَلُوهُ ۚ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ

    বনী ইসরাঈলের মধ্যে যারা কুফরি করেছে তাদেরকে দাউদ ও মারইয়াম পুত্র ঈসার মুখে লা'নত করা হয়েছে তা এ কারণে যে, তারা অবাধ্য হয়েছে এবং তারা সীমালঙ্ঘন করত তারা পরস্পরকে মন্দ থেকে নিষেধ করত না, যা তারা করত তারা যা করত, তা কতইনা মন্দ! [সূরা মায়েদা : ৭৮-৭৯]

    রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

    الذي نفس محمدا بيده. ليخرجن من أمتي اناس من قبورهم في صورة القردة والخنا زير . داهنوا أهل المعاصي. سكتوا عن نهيهم وهم يستطعون

    শপথ সেই সত্ত্বার, যার কব্জায় মুহাম্মাদের জীবন! আমার উম্মতের কতিপয় মানুষ কবর থেকে বানর ও শূকরের আকৃতিতে বের হবে (এরা হবে সেই মানুষ) যারা পাপীদের সঙ্গে চাটুকারিতার মাধ্যমে কাজ করবে (তাদেরকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করবে না) আর শক্তি থাকা সত্ত্বেও নাহি আনিল মুনকারের ব্যাপারে চুপ থাকবে [4]

    রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

    إن القوم إذا رأوا الظلم فلم يأخذوا علي يديه. والمنكر فلم يغيروه . عمهم الله بعقابه

    কোনো জাতি যখন কোনো জালেমকে জুলুম করতে দেখেও বাধা দেয় না। তারা অন্যায় কাজ হতে দেখেও তা প্রতিরোধ করে না, আল্লাহ তায়ালা তাদের উপর ব্যাপক (আ’ম) আযাব চাপিয়ে দিবেন [5]

    রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

    لتأمرون بالمعروف ولتنهون عن المنكر . أو ليسلطن الله عليكم شراركم. فليسومونكم سوء العذاب . ثم يدعو خياركم فلايستجاب لهم . لتأمرون بالمعروف ولتنهون عن المنكر . أو ليبعثن الله عليكم من لايرحم صغيركم ولايؤقر كبيركم...

    তোমরা ভালো কাজের নির্দেশ অবশ্যই দিবে এবং মন্দ কাজ হতে অবশ্যই বাধা দিবে। অথবা আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর নিকৃষ্ট মানুষ চাপিয়ে দিবেন, যারা তোমাদেরকে নিষ্ঠুর শাস্তি দিবে । তখন তোমাদের ভলো মানুষেরা দু’আ করবে, কিন্তু তাদের দুআ কবুল করা হবে নাতোমরা ভালো কাজের নির্দেশ অবশ্যই দিবে এবং মন্দ কাজ হতে অবশ্যই বাধা দিবে । অথবা আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর এমন মানুষ পাঠিয়ে দিবেন, যারা তোমাদের ছোটদের প্রতি দয়াশীল হবে না এবং বড়দেরকে সম্মান করবে না[6]

    আল্লাহ তায়ালা হযরত ইউশা বিন নুন আলাইহিস সালামের নিকট ওহী প্রেরণ করেন যে, তোমার কওমের চল্লিশ হাজার নেককার এবং ষাট হাজার গুনাহগারকে ধ্বংস করব । হযরত ইউশা আলাইহিস সালাম আল্লাহকে বললেন, হে আল্লাহ! গুনাহগারদেরকে ধ্বংস করবেন, তা তো বুঝলামকিন্তু নেককারদের ধবং করবেন কেনো?

    আল্লাহ তায়ালা উত্তর দিলেন, আমি যাদের প্রতি রাগাস্থিত হতাম, এরা (এসব নেককাররা) তাদের উপর রাগান্থিত হত না। এরা তাদের (গুনাহগার) সাথে পানাহার করত ।[7]

    أوحي الله الي نبي من أنبياء بني اسرائل : قل لقومك: لايدخلوا مدخل أعدائي ولايطعموا مطاعموا أعدائي ولايركبوا مراكب أعدائي فيكونو أعدائي كما هم أعدائي

    আল্লাহ তায়ালা বনী ইসরাইলের এক নবীর নিকট ওহী প্রেরণ করেন যে, আপনি আপনার কওমকে বলুন, তারা যেন আমার দুশমনদের প্রবেশের স্থানে প্রবেশ না করে। আমার দুশমনদের পানাহারের জায়গায় পানাহার না করে। আমার দুশমনদের বাহনে যেনো আরোহনও তারা না করে। (যদি এমন করে) তাহলে তারা আমার অন্যান্য দুশমনদের মতই দুশমন হয়ে যাবে[8]

    عن مالك بن دينار قال:قرأت في التواة من كان له جار يعمل بالمعاصي فلم ينهه فهو شريكه

    হযরত মালিক বিন দিনার রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি তাওরাতে পরেছি, যার প্রতিবেশি কোনো খারাপ কাজ করে, আর সে তাকে তা থেকে বাধা দেয় না, তবে তাকেও ওই খারাপ কাজের শরিক মনে করা হবে ।[9]


    আমর বিল মারুফ এবং নাহি আনিল মুনকারের প্রতিদান


    রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

    أَفْضَلُ الْجِهَادِ كَلِمَةُ عَدْلٍ عِنْدَ سُلْطَانٍ جَائِرٍ

    জালেম শাসকের বিরুদ্ধে ইনসাফের কথা বলা উত্তম জিহাদ ।[10]

    এর দ্বারা উদ্দেশ্য সেই হক যা ওই শাসকের কাছে খারাপ লাগে । কিন্তু ‘আইনের সীমা’র ভেতর থেকে যদি ‘হক’ বলার অনুমতি তাগুতি আইন দিয়ে থাকে, এরপর যদি হক কথা বলেন, তবে সে এই হাদীসের ফযিলত পাবে না। কারণ এই হাদীসে ফযিলত বলছিল, এটা এমন হক, যা বলার কারণে জীবন যাওয়ার আশঙ্কা রণাঙ্গন থেকেও বেশি থাকেকেননা ইসলামে প্রতিদানের আধিক্যতা কষ্ট ও বিপদের আধিক্যতার কারণে হয়ে থাকে।

    يكون في أمتي قوم يصيبون من الأجر مثل ما أصاب أولهم يقاتلون أهل الفتنة وينكرون المنكر

    আমার উম্মতের মধ্যে এমন একটা কওম থাকবে, যারা পূর্বের উম্মতের মত প্রতিদান পাবে। (এরা হবে সেই সব লোক, যারা) ফিতনাকারীদের সাথে কিতাল করবে এবং অন্যায়কারীদেরকে বাধা দিবে ।[11]


    আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকারের সর্বোচ্চ স্তর : কিতাল


    ইমাম কাফাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

    অন্যান্য উম্মতের উপর এই উম্মতের শ্রেষ্ঠত্বের কারণ হল, এই উম্মত আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকারের সর্বোচ্চ স্তর অর্থাৎ কিতালের উপর আমল করে। কারণ, আমর বিল মারুফ কখনো অন্তর দ্বারা হয়, কখনো মুখ দ্বারা হয় আর কখনো হাত দ্বারা হয়এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী স্তর হল কিতাল। কেননা কিতালে জীবনকে হুমকির মধ্যে ফেলতে হয়সব চেয়ে মারুফ ও ভালো কাজ হল দ্বীন, তাওহীদ এবং রেসালাতের উপর ঈমান আনা আর সবচেয়ে মুনকার ও মন্দ কাজ হল আল্লাহর দ্বীন অস্বীকার করা। তো জিহাদের মাধ্যমে দ্বীনকে সবচেয়ে ক্ষতিকর জিনিস (কুফর) থেকে রক্ষা করা হয়। যাতে মানুষ সবচেয়ে বড় লাভ, দ্বীন পর্যন্ত পৌঁছতে পারে! বিধায় ইবাদতের মধ্যে জিহাদের মর্যাদা মহান হওয়া আবশ্যক। তো জিহাদ যখন (যা ইবাদাতের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম এবং মহান) আমাদের শরীয়ত অর্থাৎ শরীয়তে মুহাম্মাদীতে অন্যান্য শরীয়তের তুলনায় অধিক গুরুত্ব ও শক্তির সাথে পাওয়া গিয়েছে, বিধায় নিঃসন্দেহে এটা অন্যান্য উম্মতের উপর আমাদের উম্মতের শ্রেষ্ঠত্বের কারণ । [তাফসীরে কাবীর : ৮/১৯৩]

    ইমামুল হারামাইন রহমাতুল্লাহি আলাইহি ইরশাদ করেন-

    আমার নিকট এ ব্যাপারে অধিক উত্তম মত হল যা উসূলবিদগণ বলেছেন। তা হল, জিহাদ একটি ‘কহরি দাওয়াত’(অর্থাৎ ইসলাম এমন একটি দাওয়াত, এমন একটি আহ্বান, যার পিছনে একটা শক্তি কার্যকর থাকে ) এ জন্য যত বেশি সম্ভব (জিহাদ) করা উচিত। পৃথিবীতে হয় মুসলমানরা থাকবে না হয় যিম্মিরা (যে কাফের ইসলামী হুকুমতকে ট্যাক্স দিয়ে থাকে) থাকবে[12]


    [1] صحيح البخاري: الجزء 14 .كتاب تفسيرالقرا ن. باب كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ
    [2] (رواه ابن جرير)
    [3] الاتقان في علوم القران: الجزء2.النوع التاسع والثالثون في معرفة وجوه والنظائر.للعلامة عبدالرحمن بن أبي بكر . جلال الدين السيوطي (المتوفي911 ه)
    [4] تفسير الدر منثور في التأويل بالمأثور: الجزء3 . في تفسير سورة المائدة:7978. للعلامة عبدالرحمن بن أبي بكر . جلال الدين السيوطي (المتوفي911 ه).تفسير روح المعاني في تفسير القران العظيم والسبع المثاني: الجزء5. في تفسير سورة المائدة: 7978 للعلامة شهاب الدين محمود ابن عبد الله الحسيني الألوسيز
    [5] مسند أبي يعلي : الجزء الاول. مسند أبي بكر الصديق رضي الله عنه. أحمد بن علي بن المثني أو يعلي الموصلي التميمي
    [6] العقوبات لابن أبي الدنيا : الجزء الاول
    [7] الأمر بالمعروف النهي عن المنكر لابن أبي الدنيا : عبد الله بن محمد بن عبيد الرسي البغدادي(208-281ه)
    [8] প্রাগুক্ত
    [9] প্রাগুক্ত
    [10] سنن أبي داؤد: الجزء11 . كتاب الملاحم . باب الامر والنهي
    [11] الفردوس بماثور الخطاب : الجزء 5. ص 454 . لأبي شجاع شيرويه بن شيرويه الديلمي الهمداني المقلب الكيا(445-509ه)
    [12] روضة الطا لبين و عمدة المفتين : الجزء الاول: ص. 209 . محي الدين أبوزكريا يحي بن شرف النبوي





    আরও পড়ুন​
Working...
X