বালাকোট মিডিয়া পরিবেশিত
ইসলাম এবং গণতন্ত্রের বাস্তবতার বিষয়ে ২০০৭ সালে কৃত শাইখ আব্দুর রহীম গ্রীন (আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন) এর একটি অত্যন্ত উপকারী আলোচনা
ইসলাম ও গণতন্ত্র
।।শাইখ আব্দুর রহীম গ্রীন (হাফিযাহুল্লাহ) ।।
এর থেকে–প্রথম পর্ব
ইসলাম এবং গণতন্ত্রের বাস্তবতার বিষয়ে ২০০৭ সালে কৃত শাইখ আব্দুর রহীম গ্রীন (আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন) এর একটি অত্যন্ত উপকারী আলোচনা
ইসলাম ও গণতন্ত্র
।।শাইখ আব্দুর রহীম গ্রীন (হাফিযাহুল্লাহ) ।।
এর থেকে–প্রথম পর্ব
আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু করছি।
আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর সাহায্য কামনা করি এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় কামনা করি নিজেদের মন্দ হতে এবং নিজেদের মন্দ কর্মের ক্ষতিকর ফলাফল হতে। যাকে আল্লাহ সঠিক পথে পরিচালিত করেন, কেউ তাকে পথভ্রষ্ট করতে পারে না। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, কেউ তাকে সঠিক পথ দেখাতে পারে না।
এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, শুধুমাত্র আল্লাহই ইবাদতের যোগ্য ইলাহ এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর রাসূল।
অতঃপর শ্রেষ্ঠ বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং শ্রেষ্ঠ পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পথনির্দেশ।
আর কাজসমূহের মধ্যে নিকৃষ্ট হলো সেই কাজসমূহ যেগুলো দ্বীন ইসলামে নতুনভাবে উদ্ভাবন করা হয়েছে, আর দ্বীন ইসলামের মাঝে প্রত্যেক নব্য উদ্ভাবিত বিষয়ই হলো বিদআত বা নব উদ্ভাবন, আর এই সকল নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ স্বভাবগতভাবেই আমাদেরকে বিচ্যুত করে সেই সরল পথ থেকে যেটি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে দেখিয়ে গেছেন। আর যে ব্যক্তি বিভ্রান্ত হয় এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দেখানো সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়, সে পর্যায়ক্রমে জাহান্নামের আগুনের দিকে ধাবিত হয়।
নিঃসন্দেহে আমাদের আলোচ্য বিষয় “ইসলাম ও গণতন্ত্র” হচ্ছে এমন একটি বিষয় যেটি বর্তমান সময়ের জন্য অনেক বিতর্ক তৈরি করবে। তবে ইতিমধ্যেই আমি যা বলেছি তার পরিপ্রেক্ষিতে এটা অবশ্যই অন্ততঃপক্ষে মুসলমানদের জন্য কোনো বিতর্কিত বিষয় হওয়া উচিত নয়।
কারণ আমরা যদি অন্য কোনো সময়ে, অন্য কোনো যুগে চলে যেতে পারি, তাহলে আলোচ্য বিষয়টি কোনো উদ্বেগজনক বিষয় হবে না।
“গণতন্ত্র” মতবাদটি ইতিহাসের পাতায় শুধুমাত্র গ্রীসের একটি ছোট রাষ্ট্রেই খুঁজে পাওয়া যায় যেখানে তারা এরকম একটা সরকার ব্যবস্থা পরিচালনা করতো যাকে ঐ সময়কার দার্শনিকরা অভিহিত করেছেন গণতন্ত্র হিসেবে।
আর এটা একটা খুব মজার বিষয় যে, তৎকালীন গ্রীক দার্শনিকরা গণতন্ত্রকে অভিহিত করতো একটি অমানানসই, দুর্বল ও দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার ব্যবস্থা হিসেবে! একজন প্রখ্যাত গ্রীক দার্শনিক বলেছেন যে, গণতন্ত্রের একটি প্রধান সমস্যা হলো তৎকালীন গ্রীকদের সময়ে নেতারা সবসময় জনগণের খেয়াল-খুশির কাছে নতিস্বীকার করতো যাতে তাদের সমর্থন পেতে পারে, আর এভাবে একজন নেতা কখনোই অবিচল, সুস্পষ্ট ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সমর্থ হতো না। আর নীতিগতভাবে একজন নেতার যেরূপ বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত তা সে নিতে পারতো না। কারণ এরূপ করলে সেই নেতাকে জনমতের বিরূদ্ধে যেতে হবে, আর এভাবে সে জনসমর্থন হারাবে, এবং এর ফলে নেতা হিসেবে সে তার অবস্থান ধরে রাখতে সমর্থ হবে না।
এমনকি তখনও, সেই হাজার বছর পূর্বে গ্রীক দার্শনিকরা এই পদ্ধতির কিছু দুর্বলতা ও অসম্পূর্ণতা সম্পর্কে ব্যাখ্যা ও আলোচনা করে গেছেন।
আর সেই তুলনায় এটা হচ্ছে সাম্প্রতিক ইতিহাস যে, গণতন্ত্রের এই মতবাদটি আবারও উদ্ভাবিত ও প্রচলিত হয়েছে, এবং অতঃপর সর্বপ্রথম ছড়িয়ে পড়েছে মূলতঃ ব্রিটেন এর দ্বারা, অথবা হতে পারে প্রথমত ফ্রান্স এবং এরপর ব্রিটেন ও আমেরিকার দ্বারা - মানব কর্তৃক শাসনের একটি আদর্শ পদ্ধতি হিসেবে, একটি আদর্শ উপায় হিসেবে - যার মাধ্যমে মানুষ নিজেদের কাজকর্ম পরিচালনা করে।
এখন, গণতন্ত্রের ঐতিহাসিক ও দার্শনিক পটভূমিতে চলে যাওয়া এবং এর বেড়ে উঠার কারণসমূহ ইত্যাদি আমাদের আজকের বক্তৃতার বিষয়বস্তু না। আর যদিও আমাদের হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকে, আমার হাতে এগুলো নিয়ে বক্তৃতা দেবার জন্য পর্যাপ্ত তথ্য নেই। এবং আমি প্রশ্নও করছি যে, এগুলোর খুব গভীরে গিয়ে কি কোনো উপকার আছে?
এখন, আমি জানি আজকাল পৃথিবীতে অনেক মহল আছে যারা তাদের সমালোচনার মাধ্যমে ইসলামকে এবং তাদের ভাষায় “ইসলামী মৌলবাদ” অথবা “ইসলামী কন্ঠ” কে আক্রমণ করছে, এবং (নিজেদের অজান্তেই) অতীতের মুসলমান শাসকদের মূল্যবান বক্তব্য ও উপদেশ এবং মুসলমানদের মধ্যকার ঐক্যের গুরুত্বকে আলোকিত করে তুলছে।
আমি প্রথমত এর সাথে যোগ করবো যে, আমাদেরকে সতর্ক হতে হবে যেন আমাদের নিজেদের মানুষজন এবং আমাদের সকল কার্যক্রম ও এজেন্ডাসমূহ অমুসলিমদের সাজানো প্রক্রিয়া অনুসারে গড়ে না উঠে।
আমার মনে আছে, ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনাবলী এবং আফগানিস্তানে আমেরিকার কুখ্যাত আগ্রাসনের পর আমি যুক্তরাজ্যে বেশ কিছু বক্তৃতা দিয়েছিলাম, এবং আমার বক্তৃতার মূল বিষয় ছিল তালেবান, আফগানিস্তান ও ইসলামী মৌলবাদ। এবং সেখানে অমুসলিমদের থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গিয়েছিল। আমি আমার বক্তৃতায় এমন সংখ্যক অমুসলিমদের দেখেছিলাম যেটি আমি আগে কখনো দেখি নি।
আমি সেখানে মুসলমানদেরকে যে বার্তাগুলো দিতে চেয়েছিলাম তার মাঝে অন্যতম একটি হলো - যেহেতু আমি প্রশ্ন-উত্তর পর্বে দেখেছিলাম অনেক মুসলমানেরা দাঁড়িয়েছিল এবং তারা অত্যন্ত কঠোরভাবে “মৌলবাদী মুসলমানদের” বিরুদ্ধে কথা বলছিল: “অমুক মৌলবাদী অমুক করেছে” এবং “অমুক মৌলবাদী তমুক করেছে” - আর আমি ঐ মানুষদেরকে উপদেশ দিয়েছি যেমন এখন আপনাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি,
সেই সব লোকদের এজেন্ডা এবং মিডিয়াকে সুযোগ করে দিবেন না যারা আমাদের দ্বীনকে বিশ্বাস করে না, এবং যারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সৌভাগ্যবান উম্মাহ এর অংশ নয়। তাদেরকে সুযোগ করে দিবেন না যাতে তারা আমাদেরকে আরো বিভক্ত করতে পারে! তারা আমাদেরকে বিভক্ত করতে চায় মৌলবাদী ও উদারপন্থী ও আধুনিক মুসলমান হিসেবে! কারণ তারা আমাদেরকে যত বেশী দলে বিভক্ত করতে পারবে, এবং এভাবে আমাদের নিজেদের মধ্যে যত বেশী দ্বন্দ্ব-লড়াই বাঁধিয়ে দিতে পারবে, এবং আমাদেরকে আমাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই যত বেশী ব্যস্ত রাখতে পারবে, তারা তত বেশী খুশি হবে।
তাই আমি “মৌলবাদী মুসলমান”, “ইসলামপন্থী মুসলমান” – এই শব্দগুলো মোটেও পছন্দ করি না। “মৌলবাদ” শব্দটির আক্ষরিক অর্থ অনুযায়ী প্রত্যেক মুসলমানকে অবশ্যই মৌলবাদী হতে হবে। কারণ মৌলিক বা মূলগতভাবে আমরা সবাই ইসলামে বিশ্বাস করি।
আমরা সবাই বিশ্বাস করি যে, কোরআন হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী। আমরা সবাই বিশ্বাস করি যে, কোরআন অবিকৃত রয়েছে এবং অবিকৃত থাকবে যতদিন না আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কোরআনকে তুলে নেন। আমরা সবাই বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ কোরআনের সাথে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন যার সকল কথা সত্য, যার দৃষ্টান্ত হচ্ছে শ্রেষ্ঠ দৃষ্টান্ত, যার জীবন হচ্ছে কোরআনের ব্যবহারিক ব্যাখ্যা, আর এই ব্যবহারিক ব্যাখ্যা আজও আমাদের মাঝে বিদ্যমান রয়েছে। এবং আমরা একে সাধারণ পরিভাষায় বলে থাকি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহ।
আমরা সবাই কোরআনে বিশ্বাস করি, এবং আমরা সবাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আল্লাহহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহতে বিশ্বাস করি। এবং যারা কোরআনের একটি আয়াতে অবিশ্বাস করে এবং যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আল্লাহহি ওয়া সাল্লাম এর একটি হাদীস জানতে পেরেছে এবং তারা এটাও জেনেছে যে হাদীসটি সহীহ এবং তারা তা অবিশ্বাস করেছে, তাহলে তারা পুরো দ্বীনকেই অবিশ্বাস করেছে।
এটাই প্রত্যেক মুসলমান বিশ্বাস করে। এটা আমাদের দ্বীনের মৌলিক বা মূল ভিত্তি।
সুতরাং, আজকের আলোচনার সূচনায় এসেছে আমাদের দ্বীনের মৌলিক বা মৌল বিষয়াদি, কোরআন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহ, এবং এর সাথে আরও যা সংযোজন করতে হবে তা হচ্ছে, সেই সকল মানুষেরাই (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এই দ্বীনকে সবচাইতে উত্তমরূপে বুঝেছিলেন, যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে জীবন অতিবাহিত করেছিলেন এবং তাঁর কথা শুনেছিলেন এবং তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা প্রাপ্ত হয়েছিলেন। তাঁরা হলেন তাঁর সাহাবীগণ; সাহাবীরা ছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবন্ত ছাত্র।
যখন নবীজি নামাজ পড়েছিলেন, তাঁরা সরাসরি তা দেখেছিলেন, তাঁরা দেখেছিলেন যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উটের উপরে বসেছিলেন এবং নবীজির উপর ওহী অবতীর্ণ হচ্ছিল, আর তা এত ভারী ছিল যে, নবীজি ঘামতে শুরু করেছিলেন, এমনকি নবীজি যে উটের উপর বসেছিলেন তা ঝুঁকে গিয়েছিল এবং ওহীর ভারে বসে পড়তে বাধ্য হয়েছিল! তাঁর সাহাবীগণ এটা দেখেছিলেন। তাঁরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে জীবন যাপন করেছিলেন।
অতএব এটাই একমাত্র যুক্তিসঙ্গত ব্যাপার এবং এটা কোরআনের আয়াত দ্বারা সমর্থিত যে, তাঁদের বুঝ ও উপলব্ধিই হলো শ্রেষ্ঠ বুঝ ও উপলব্ধি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর কিতাবে বলেন, যার অর্থ এমন:
যদি কেউ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ঈমানদারদের রাস্তা পরিত্যাগ করে অপর কোনো রাস্তায় চলা শুরু করে, তবে আল্লাহ তাদেরকে তাদের পছন্দকৃত রাস্তায় পরিত্যাগ করবেন এবং পরবর্তীতে তাদেরকে জাহান্নামে আবাস দান করবেন, যা কতই না নিকৃষ্ট আশ্রয়স্থল!(১)
এবং একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুতবা দিচ্ছিলেন। তখন সাহাবীদের হৃদয় কম্পিত হলো এবং তাঁরা কাঁদতে শুরু করেন। এবং তাঁরা এমন অনুভব করছিলেন যেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদেরকে বিদায় জানাচ্ছেন, যেন এটাই ছিল তাঁর বিদায়ী ভাষণ। সুতরাং তাঁদের একজন দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে যেন এটা আপনার বিদায়ী ভাষণ। সুতরাং আমাদেরকে নসীহত করুন।”
তাঁরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছ থেকে কিছু মূল্যবান উপদেশ আশা করছিলেন যাতে তিনি যদি ঐ মুহূর্তে বিদায় নেন, তাহলে কিছু একটা থাকবে যা তাঁরা আঁকড়ে ধরে রাখবেন। আর সুতরাং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলা শুরু করলেন,
তিনি বললেন, “আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি যে, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো,”
“আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি যে, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের আমীরের কথা শুনো এবং মান্য করো যদিও সে হয় একজন আবিসিনিয়ান দাস।”(২)
তিনি আরও বললেন, “আমার পরে তোমরা অনেক মতপার্থক্য দেখবে, তোমরা অনেক ইখতিলাফ দেখবে।”
নবীজি তাঁর সাহাবীদেরকে বলছিলেন যে, আমি বিদায় নেবার পর তোমরা দেখবে যে, মানুষেরা অনেক মতভেদ করছে।
সুতরাং তিনি বললেন, “তোমরা আমার সুন্নাহ এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের (সঠিকভাবে পরিচালিত উত্তরসুরিদের) সুন্নাহ আঁকড়ে ধরো।”
“আর তোমাদের মাড়ির দাঁত দিয়ে একে কামড়ে ধরো এবং দ্বীনে নব-উদ্ভাবিত বিষয় সম্পর্কে সাবধান হও!”(৩)
এটা ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপদেশ। তিনি কেবল নিজের সুন্নাহ আঁকড়ে ধরতে বলেন নি, বরং তিনি আরো বলেছিলেন খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ আঁকড়ে ধরতে, সঠিকভাবে পরিচালিত উত্তরসুরিদের সুন্নাহ।
(১) সূরা নিসা, আয়াত: ১১৫
(২) আহমদ (৪/১২৬), ইবনে মাজাহ (৪৩), হাকিম (১/৯৬)
মন্তব্য: একটি বাস্তবতা হচ্ছে, গায়ের রঙ অনেক কালো, মাথা ছোট আকৃতির এবং উপরন্তু পরিচয় হলো দাস – এমন ব্যক্তিকে সাধারণত কেউই শ্রদ্ধা করতে চায় না। আর এই হাদীসটি এখানে এমনই একজন ব্যক্তির (আবিসিনিয়ান দাস) বর্ণনা করেছে এই বিষয়ে গুরুত্বারোপ করার জন্য যে, ইসলামী শরীয়ত অনুসারে আইনসম্মত একজন শাসকের আনুগত্য করা বাধ্যতামূলক, এক্ষেত্রে ভৌগলিক, উপজাতিক, সাংস্কৃতিক ইত্যাদি সাম্প্রদায়িকতা বিবেচনার বিষয় হবে না।
(৩) সুনানে আবু দাঊদ (৪৬০৭), তিরমিযী (২৬৭৬)