ইরান দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধের শিকার। বিশেষ করে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা শক্তিগুলো ইরানের উপর ধারাবাহিকভাবে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে। তবুও এত দীর্ঘ অবরোধের পরেও ইরান ভেঙে পড়েনি।
একই সাথে ইরান বহুমুখী সংঘাত ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের মধ্যেও রয়েছে। তারা সিরিয়ার যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা (!?) রেখেছে, লেবাননে দীর্ঘদিন ধরে তাদের প্রভাব রয়েছে এবং ইয়েমেনের সংঘাতেও তাদের নাম প্রায়ই আলোচনায় আসে। এতকিছুর পাশাপাশি দেশের ভেতরেও মাঝে মাঝে আন্দোলন, প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা যায়, যেগুলোও তাদের মোকাবিলা করতে হয়।
তারপরও আজ আমরা দেখছি—ইরান শুধু টিকে আছে তাই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। সামরিক প্রযুক্তি, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, ড্রোন প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে তাদের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এখন প্রশ্ন হলো—
এত বাধা, অবরোধ, যুদ্ধ এবং অভ্যন্তরীণ সংকটের পরেও ইরান কীভাবে এতটা শক্তিশালী হয়ে উঠলো?
এর একটি বড় কারণ হলো দীর্ঘমেয়াদি ও কেন্দ্রীভূত নেতৃত্ব। ইরানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ক্ষমতা একজন সর্বোচ্চ নেতার হাতে থাকে, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রের কৌশলগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করেন। এর ফলে রাষ্ট্রের নীতিমালা বারবার পরিবর্তিত হয় না এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।
এখন চিন্তা করুন—যদি ইরানে প্রচলিত ধরনের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকত, যেখানে প্রতি পাঁচ বছর পরপর নির্বাচন হয় এবং নেতৃত্ব ঘন ঘন পরিবর্তিত হয়, তাহলে কি একই ধারাবাহিক নীতি বজায় রাখা সম্ভব হতো? সম্ভবত না।
ইরানে যে নির্বাচন হয়, সেটাকে অনেকেই তুলনা করেন ক্লাস ক্যাপ্টেন নির্বাচনের সাথে। যেমন একটি শ্রেণিকক্ষে মূল নিয়ন্ত্রণ থাকে শিক্ষকের হাতে, আর সুবিধার জন্য একজন ক্যাপ্টেন নির্বাচন করা হয়—তেমনি ইরানেও রাষ্ট্রের প্রধান ক্ষমতা থাকে সর্বোচ্চ নেতার হাতে। নির্বাচিত সরকার প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করলেও মূল দিকনির্দেশনা আসে সেই শীর্ষ নেতৃত্ব থেকেই।
এই কারণেই একজন দীর্ঘমেয়াদি ও শক্তিশালী নেতৃত্বের অধীনে ইরান ধারাবাহিকভাবে নিজেদের সামরিক, প্রযুক্তিগত এবং রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করতে পেরেছে।
বিশ্বে আরেকটি উদাহরণ দেখা যায় আফগানিস্তানে। দীর্ঘ দুই দশকের যুদ্ধের পর সেখানে একটি ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে নতুন শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারাও নিজেদের মতো করে রাষ্ট্র পরিচালনার চেষ্টা করছে এবং সেখানে প্রচলিত পশ্চিমা গণতান্ত্রিক কাঠামো নেই।
অন্যদিকে অনেক সুন্নি মুসলিম দেশ একদিকে আমেরিকা ও ইসরায়েলের নীতির তীব্র সমালোচনা করে এবং তাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে; কিন্তু অন্যদিকে সেই পশ্চিমা রাজনৈতিক ব্যবস্থাকেই অনুসরণ করে। ফলে অনেক সময় দেশের ভেতরেই রাজনৈতিক বিভাজন, দলাদলি এবং অন্তর্দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়।
ফলাফল হিসেবে দেখা যায়—বিভিন্ন আন্দোলন, সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় মুসলমানদের প্রাণহানি ঘটে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসে না। একজন শাসক ক্ষমতা থেকে সরে যায়, আরেকজন ক্ষমতায় আসে; কিন্তু বাস্তব অবস্থার খুব বেশি পরিবর্তন হয় না।
এই পরিস্থিতিতে অনেক দেশের ইসলামী দল ও আন্দোলনকে নিজেদের দেশের ভেতরের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সামাল দিতেই অধিকাংশ সময় ব্যয় করতে হয়। অথচ অন্যদিকে কিছু রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়ে বাইরের শক্তির সাথেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চেষ্টা করছে।
অনেকে মনে করেন, পশ্চিমা বিশ্ব এমন একটি রাজনৈতিক মতবাদ বিশ্বে বিস্তার করেছে, যা শুধু একটি শাসনব্যবস্থা নয়—বরং একটি শক্তিশালী আদর্শিক প্রভাব। এই প্রভাব এতটাই গভীর যে কেউ কেউ মনে করেন, এটি পারমাণবিক বোমার চেয়েও বেশি শক্তিশালী একটি মতাদর্শিক অস্ত্র।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে বিভ্রান্তি, ফিতনা এবং অন্যায়ের পথ থেকে রক্ষা করুন।
একই সাথে ইরান বহুমুখী সংঘাত ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের মধ্যেও রয়েছে। তারা সিরিয়ার যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা (!?) রেখেছে, লেবাননে দীর্ঘদিন ধরে তাদের প্রভাব রয়েছে এবং ইয়েমেনের সংঘাতেও তাদের নাম প্রায়ই আলোচনায় আসে। এতকিছুর পাশাপাশি দেশের ভেতরেও মাঝে মাঝে আন্দোলন, প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা যায়, যেগুলোও তাদের মোকাবিলা করতে হয়।
তারপরও আজ আমরা দেখছি—ইরান শুধু টিকে আছে তাই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। সামরিক প্রযুক্তি, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, ড্রোন প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে তাদের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এখন প্রশ্ন হলো—
এত বাধা, অবরোধ, যুদ্ধ এবং অভ্যন্তরীণ সংকটের পরেও ইরান কীভাবে এতটা শক্তিশালী হয়ে উঠলো?
এর একটি বড় কারণ হলো দীর্ঘমেয়াদি ও কেন্দ্রীভূত নেতৃত্ব। ইরানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ক্ষমতা একজন সর্বোচ্চ নেতার হাতে থাকে, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রের কৌশলগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করেন। এর ফলে রাষ্ট্রের নীতিমালা বারবার পরিবর্তিত হয় না এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।
এখন চিন্তা করুন—যদি ইরানে প্রচলিত ধরনের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকত, যেখানে প্রতি পাঁচ বছর পরপর নির্বাচন হয় এবং নেতৃত্ব ঘন ঘন পরিবর্তিত হয়, তাহলে কি একই ধারাবাহিক নীতি বজায় রাখা সম্ভব হতো? সম্ভবত না।
ইরানে যে নির্বাচন হয়, সেটাকে অনেকেই তুলনা করেন ক্লাস ক্যাপ্টেন নির্বাচনের সাথে। যেমন একটি শ্রেণিকক্ষে মূল নিয়ন্ত্রণ থাকে শিক্ষকের হাতে, আর সুবিধার জন্য একজন ক্যাপ্টেন নির্বাচন করা হয়—তেমনি ইরানেও রাষ্ট্রের প্রধান ক্ষমতা থাকে সর্বোচ্চ নেতার হাতে। নির্বাচিত সরকার প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করলেও মূল দিকনির্দেশনা আসে সেই শীর্ষ নেতৃত্ব থেকেই।
এই কারণেই একজন দীর্ঘমেয়াদি ও শক্তিশালী নেতৃত্বের অধীনে ইরান ধারাবাহিকভাবে নিজেদের সামরিক, প্রযুক্তিগত এবং রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করতে পেরেছে।
বিশ্বে আরেকটি উদাহরণ দেখা যায় আফগানিস্তানে। দীর্ঘ দুই দশকের যুদ্ধের পর সেখানে একটি ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে নতুন শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারাও নিজেদের মতো করে রাষ্ট্র পরিচালনার চেষ্টা করছে এবং সেখানে প্রচলিত পশ্চিমা গণতান্ত্রিক কাঠামো নেই।
অন্যদিকে অনেক সুন্নি মুসলিম দেশ একদিকে আমেরিকা ও ইসরায়েলের নীতির তীব্র সমালোচনা করে এবং তাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে; কিন্তু অন্যদিকে সেই পশ্চিমা রাজনৈতিক ব্যবস্থাকেই অনুসরণ করে। ফলে অনেক সময় দেশের ভেতরেই রাজনৈতিক বিভাজন, দলাদলি এবং অন্তর্দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়।
ফলাফল হিসেবে দেখা যায়—বিভিন্ন আন্দোলন, সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় মুসলমানদের প্রাণহানি ঘটে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসে না। একজন শাসক ক্ষমতা থেকে সরে যায়, আরেকজন ক্ষমতায় আসে; কিন্তু বাস্তব অবস্থার খুব বেশি পরিবর্তন হয় না।
এই পরিস্থিতিতে অনেক দেশের ইসলামী দল ও আন্দোলনকে নিজেদের দেশের ভেতরের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সামাল দিতেই অধিকাংশ সময় ব্যয় করতে হয়। অথচ অন্যদিকে কিছু রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়ে বাইরের শক্তির সাথেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চেষ্টা করছে।
অনেকে মনে করেন, পশ্চিমা বিশ্ব এমন একটি রাজনৈতিক মতবাদ বিশ্বে বিস্তার করেছে, যা শুধু একটি শাসনব্যবস্থা নয়—বরং একটি শক্তিশালী আদর্শিক প্রভাব। এই প্রভাব এতটাই গভীর যে কেউ কেউ মনে করেন, এটি পারমাণবিক বোমার চেয়েও বেশি শক্তিশালী একটি মতাদর্শিক অস্ত্র।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে বিভ্রান্তি, ফিতনা এবং অন্যায়ের পথ থেকে রক্ষা করুন।