Announcement

Collapse
No announcement yet.

না জেনে কথা বলা - পীর সাহেব ঢালকা নগরের জিহাদ বিষয়ক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কিছু কথা ০২ (শেষ)

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • না জেনে কথা বলা - পীর সাহেব ঢালকা নগরের জিহাদ বিষয়ক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কিছু কথা ০২ (শেষ)

    না জেনে কথা বলা - পীর সাহেব ঢালকা নগরের জিহাদ বিষয়ক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কিছু কথা ০২

    বয়ানের লিংক:


    হযরতওয়ালা বলেন,
    কাফেরদের সাথে অনাক্রমণ চুক্তি হলে সে চু্ক্তি রক্ষা করা ফরয। মুফতি শফি রহ. লিখেছেন, জাতিসংঘের মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে অনাক্রমণ চু্ক্তি হয়েছে যে, কোনো রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রে হামলা করবে না। এই চুক্তি রক্ষা করা জরুরী। যদি কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হয় তাহলে ঘোষণা দিতে হবে: আমরা চুক্তি বাতিল করলাম, আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো।
    মন্তব্য:
    হযরতের বক্তব্য থেকে মনে হচ্ছে চুক্তি একবার হওয়ার পর আমাদের পক্ষ থেকে ঘোষণা দিয়ে চু্ক্তি বাতিল করা ব্যতীত যুদ্ধ জায়েয হওয়ার আর কোনো পথ নাই। বিষয়টি এমন নয়।
    ক. চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে চুক্তি শেষ হয়ে যাবে এবং যুদ্ধ জায়েয হবে।
    খ. প্রতিপক্ষ চুক্তির শর্ত রক্ষা না করলে চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে এবং যুদ্ধ জায়েয হবে।
    গ. প্রতিপক্ষ ঘোষণায় বা কাজে কোনোভাবে চুক্তি ভঙ্গ করলে চুক্তি বাতিল হবে এবং যুদ্ধ জায়েয হবে।
    কাজের মাধ্যমে চুক্তি ভঙ্গ হওয়ার কিছু সূরত:
    - তারা চু্ক্তির পরোয়া না করে আমাদের উপর হামলা করে দিল।
    - কোনো হামলাকারী রাষ্ট্র বা দলকে সহযোগিতা করলো বা সমর্থন দিল।
    - তাদের রাষ্ট্রের কেউ আমাদের উপর হামলা করলো, তারা তা জানতো কিন্তু হামলাকারীকে আটকালো না।
    এইসবগুলো সূরতে চু্ক্তি ভেঙে যাবে এবং জিহাদ জায়েয হয়ে যাবে।
    প্রশ্ন:
    ১. ভারত তার নিজের দেশের মুসলমানদের উপর নির্যাতন করার দ্বারা চু্ক্তি ভঙ্গ করলো কি’না?
    ২. ভারত কাশ্মিরের ‍মুসলমানদের নির্যাতন করে চু্ক্তি ভঙ্গ করলো কি’না?
    ৩. ভারত পাকিস্তানে হামলা করে চুক্তি ভঙ্গ করলো কি’না?
    ৪. ভারত প্রতিনিয়ত সীমান্তে গুলি করে বাংলাদেশের মুসলিমদের হত্যা করে চুক্তি ভঙ্গ করলো কি’না?
    ৫. ভারত বাংলাদেশ দখল করার হুমকি দিয়ে চুক্তি ভঙ্গ করলো কি’না?
    ৬. রোহিঙ্গাদের হত্যা-নির্যাতন-বিতাড়ন করে মায়ানমার চুক্তি ভঙ্গ করলো কি’না?
    ৭. রাশিয়া আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালিয়ে চুক্তি ভঙ্গ করলো কি’না?
    ৮. আমেরিকা নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের ৪৭টি রাষ্ট্র আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালিয়ে চুক্তি ভঙ্গ করলো কি’না?
    ৯. আমেরিকা ইরাকে আগ্রাসন চালিয়ে চুক্তি ভঙ্গ করলো কি’না?
    ১০. সিরিয়া, ইয়ামান, সোমালিয়া, মালিসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রে ইউরোপ আমেরিকা ও তাদের মিত্ররা আগ্রাসন চালিয়ে চুক্তি ভঙ্গ করলো কি’না?
    এরপরও কি হযরতওয়ালা বলবেন, এসব রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জিহাদ হারাম?
    অধিকন্তু জাতিসংঘের শর্ত মেনে চুক্তিবদ্ধ হওয়া একটা স্বতন্ত্র কুফর, যা দ্বারা ব্যক্তি ইসলাম থেকে বেরিয়ে মুরতাদ হয়ে যায়। আর মুরতাদের চু্ক্তি মুসলমানের উপর বর্তায় না।
    সব কিছু যদি বাদও দেই, জাতিসংঘের চুক্তির সারকথা হলো, শরীয়াহ দমন, কুফর প্রতিপালন, কুফরি রাষ্ট্রগুলোকে নিরাপত্তা প্রদান এবং জিহাদ নিষিদ্ধকরণের অঙ্গিকার। শরীয়তে এই ধরনের চুক্তি সহীহ চুক্তি ধরা হয় না। এই ধরনের চুক্তি করে থাকলে চুক্তিকারীর প্রথম কাজ তাওবা করে ফিরে আসা এবং চুক্তি বাতিল ঘোষণা করা। এ ব্যাপারে শরীয়াহর বিধান স্পষ্ট।
    হযরতওয়ালার হয়তো কিতাবাদি অধ্যয়ন করার সুযোগ হয় না তাই বিষয়গুলো জানেন না। হযরতওয়ালার প্রথম কাজ বিষয়গুলো ভালোভাবে অধ্যয়ন করা।
    হযরতওয়ালার দ্বিতীয় কাজ জাতিসংঘের সাথে চুক্তিবদ্ধ সকল মুসলিম রাষ্ট্রকে এই কুফর ও হারাম চুক্তি থেকে তাওবা করে ইসলামের দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানানো। যারা ফিরে আসবে না তাদেরকে ফাসেক ও পাপিষ্ট আখ্যায়িত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে যবানি জিহাদ চালিয়ে যাওয়া।
    ***

    এরপর হযরতওয়ালা কাফেরদেরকে কয়েক শ্রেণিতে ভাগ করেন:
    এক. যিম্মিঃ
    যিম্মির সংজ্ঞায় হযরত যে শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন তার সারকথা: ‘কোনো মুসলিম রাষ্ট্রে রাষ্ট্রের আইন মেনে ট্যাক্স দিয়ে নাগরিকত্ব নিয়ে বসবাস করে যেসব কাফের’।
    মন্তব্য:
    হযরতওয়ালার শব্দগুলো শুনে মনে হলো, যিম্মি কাকে বলে এবং তাদের বিধান কি এ বিষয়ে তিনি শরীয়তের নুসুস এবং এ সংশ্লিষ্ট কিতাবাদি অধ্যয়ন করেননি। হয়তো অনুমান করে বলেছেন, কিংবা কারও থেকে শুনে বা কারও সরবরাহ করা কোনো নোট বা শীট দেখে কিছু বুঝেছেন আর কিছু আন্দাজ করে বলেছেন। বিশেষত: স্যাকুলার ও মডারেট স্কলারদের বিভ্রান্তিপূর্ণ মতাদর্শ ও প্রচারণা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন।

    সহজ কথায় বললে, শরীয়তে যিম্মি হচ্ছে যেসব কাফের কোনো দারুল ইসলামে ইসলামী আইন কানুন মেনে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে বসবাস করে, যেখানে রাষ্ট্রের মালিক মুসলিমরা; যিম্মিরা জান মালের নিরাপত্তা নিয়ে বসবাস করে, রাষ্ট্রের কোনো বিষয়ে কোনো কর্তৃত্ব তাদের নেই।
    - বর্তমান জাতিসংঘভুক্ত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট রাষ্ট্রগুলো ইসলামী আইন অনুসরণ করে না।
    - সেখানে বসবাসরত কাফেররা ইসলামী আইনের অধীনে চলে না।
    - দেশের মালিক মুসিলমরা নয়, বরং মুসলিম কাফের সকলে বরাবর (বড় বড় পদ এমনকি রাষ্ট্রপ্রধানও কাফের হতে পারে অনেক ক্ষেত্রে)।
    - ট্যাক্স শুধু কাফেররাই আদায় করে না, মুসলিমরাও আদায় করে।
    - ট্যাক্স যা আদায় করে তা ইসলামী শরীয়াহর বিধান হিসেবে নয়, জাতিসংঘ ও পশ্চিমা আইন হিসেবে।
    এতগুলো তফাৎ বিদ্যমান থাকার পর এসব রাষ্ট্রের কাফেরদেরকে যিম্মি বলা যায় কি? যে দিকগুলোর বিবেচনায় কাফেরদেরকে যিম্মি বলা হচ্ছে সেগুলো তো মুসলিমদের মধ্যেও বিদ্যমান, যেমন ট্যাক্স তো মুসলিমরাও আদায় করে- তাহলে তারাও কি যিম্মি?
    ***

    এরপর হযরতওয়ালা বলেন, জাযিরাতুল আরবে শুধু ইয়াহুদি খৃস্টানরা যিম্মি হতে পারে, অন্য ধর্মাবলম্বীরা যিম্মি হতে পারে না। আরব দুনিয়ার বাইরে ইয়াহুদি খৃস্টানসহ সকল ধর্মের কাফের যিম্মি হিসেবে থাকতে পারে।
    মন্তব্য:
    বয়ানের এই অংশটি শুনে সন্দেহটা আরও গাঢ় হয় যে, হযরতওয়ালা যেসব বিষয়ে কথা বলেছেন সেগুলো অধ্যয়ন করেননি, কারও থেকে শুনেছেন বা ছোটখাটো কোনো রিসালা বা শীট পড়েছেন, যা থেকে কিছু কিছু বুঝেছেন আর বাকিটুকু ধারণার ভিত্তিতে বলেছেন যে, এটা তো শরীয়তে এমনই হওয়ার কথা।
    জাযিরাতুল আরবে কোনো কাফের যিম্মি হয়ে থাকতে পারে না। মুশরিকও না, ইয়াহুদি খ্রিস্টানও না। এমনকি অন্য জায়গার কোনো যিম্মি বা কোনো হারবি কাফের আমান নিয়ে জাযিরাতুল আরবে ব্যবসা বা অন্য কোনো দরকারে সাময়িক সময়ের জন্য প্রবেশ করলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে বের করে দিতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থানের অনুমতি দেয়া যাবে না।[1]

    ইয়াহুদ, নাসারা ও মুশরিকদেরকে বের করে দিয়ে ইসলামের মডেলভূমি জাযিরাতুল আরবকে সম্পূর্ণ পবিত্র রাখতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনের অন্তিম মূহুর্তে উম্মতের কাছে অসিয়ত করে গেছেন।

    সহীহ বুখারিতে এসেছে, ইন্তেকালের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসিয়ত করেন,
    «أخرجوا المشركين من جزيرة العرب». -صحيح البخاري (4/ 99): 3168، باب إخراج اليهود من جزيرة العرب
    “তোমরা মুশরিকদেরকে জাযিরাতুল আরব থেকে বের করে দিও।” –সহীহ বুখারি: ৩১৬৮

    সহীহ মুসলিমে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
    «لَأُخْرِجَنَّ الْيَهُودَ، وَالنَّصَارَى مِنْ جَزِيرَةِ الْعَرَبِ حَتَّى لَا أَدَعَ إِلَّا مُسْلِمًا». –صحيح مسلم (3/ 1388): 1767، بَابُ إِخْرَاجِ الْيَهُودِ، وَالنَّصَارَى مِنْ جَزِيرَةِ الْعَرَبِ
    “অবশ্যই অবশ্যই আমি ইয়াহুদ ও নাসারাদেরকে জাযিরাতুল আরব থেকে বের করে দিবো, মুসলিম ছাড়া আর কাউকে রাখবো না।” –সহীহ মুসলিম: ১৭৬৭
    এরপর উমার রাদি. নবীজির অসিয়ত পূর্ণ করেন, সকল কাফেরকে জাযিরাতুল আরব থেকে বের করে দেন।

    বি.দ্র. বর্তমান সৌদি আরব, বাহরাইন, আরব আমিরাত, ওমান, কাতার, কুয়েত, ইয়ামান- সবগুলো রাষ্ট্র জাযিরাতুল আরবের অন্তর্ভুক্ত। দালাল আরব শাসকরা আরব ভূমিকে ইয়াহুদ নাসারার ঘাঁটিতে পরিণত করেছে। হিন্দু মুশরিক ও ইয়াহুদ নাসারার দ্বারা আরব ভূমিকে ভর্তি করে ফেলেছে। এই তো মাত্র কয়েকদিন হলো, মিডিয়ার সংবাদ মতে ইরানের হামলার ফলে ৪৩ (তেতাল্লিশ) হাজার মার্কিনি জাযিরাতুল আরব ত্যাগ করেছে। নাউজুবিল্লাহি মিন যালিক!
    ***

    হযরতওয়ালা এরপর কাফেরদের বাকি ভাগগুলোর কথা বলেন,
    দুই. মুআহিদঃ অনাক্রমণ চুক্তিতে আবদ্ধ কাফের।
    তিন. মুস্তামিনঃ যাদের সাথে যুদ্ধ বৈধ তাদের কেউ কোনো মুসলিম রাষ্ট্র বা কোনো মুসলমানের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছে এবং তাকে নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে।
    এই তিন প্রকার উল্লেখ করার পর হযরতওয়ালা বলেন, “এরপরে আর কোথায় কি আছে সুযোগ?”
    অর্থাৎ জিহাদ করা বৈধ হতে পারে এরকম কাফের বর্তমান বিশ্বে কোথায়?
    মন্তব্য:
    হযরতওয়ালা কাফেরদের মূল ও আসল প্রকারটি এড়িয়ে গেছেন। সেটি হচ্ছে: হারবি।
    কাফেরের আসল হচ্ছে হারবি হওয়া। কোনো চুক্তিতে আসলে তখন যিম্মি, মুআহিদ বা মুস্তামিন হবে, নতুবা সে হারবি। যার সাথে চুক্তি নাই সে হারবি, চুক্তির মেয়াদ শেষ বা চুক্তি ভেঙে গেছে সেও তার আসল হুকুম তথা হারবি’তে ফিরে যাবে।
    হয়তো ‘হারবি’ শব্দটি একটি নৃশংসতামূলক অর্থ বহন করে বিধায় হযরতের তবিয়ত শব্দটি উচ্চারণ করতে আগ্রহ বোধ করেনি।
    কিংবা জাতিসংঘ অধীনস্ত দেশগুলোতে হারবি শব্দটিকে এক রকম নিষিদ্ধ শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয় বিধায় তিনি উচ্চারণ করতে সাহস করেননি।
    কিংবা হতে পারে, হযরতের দৃষ্টিতে বর্তমান দুনিয়াতে হারবি নাই তাই এই প্রকার উল্লেখ করার কোনো ফায়েদা নাই। যেমনটা বোঝা যায় তার এ কথা থেকে: এরপরে আর কোথায় কি আছে সুযোগ?”
    বর্তমান বিশ্বে জিহাদ নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ হিসেবে হযরতওয়ালার বক্তব্যে যা উঠে আসলো তার খোলাসা: বর্তমান বিশ্বের কাফেররা হয় যিম্মি বা মুস্তামিন আর কাফের রাষ্ট্রগুলো মুআহিদ। এর বাইরে এমন কোনো রাষ্ট্র নাই যার সাথে জিহাদ করা যায়।

    আপনারা দেখেছেন, শরীয়তের সংজ্ঞার আলোকে বর্তমান জাতিসংঘভুক্ত মুসলিম রাষ্ট্রের কাফেরদেকে যিম্মি বলা আপত্তিকর।

    আর মুআহাদার ক্ষেত্রে দেখেছেন, জাতিসংঘের চুক্তি কোনো গ্রহণযোগ্য চুক্তি নয় বরং তা হারাম ও কুফর। অধিকন্তু কাফেররা মুসলিমদের উপর আগ্রাসন ও নিপীড়ন চালিয়ে কৃত চুক্তি ভঙ্গ করে হারবিতে পরিণত হয়েছে। ফিলহালও অসংখ্য ভূমিতে আগ্রসন ও নিপীড়ন চলছে। এমতাবস্থায় জিহাদ শুধু জায়েযই নয়, ফরযও বটে। এরপরও হযরতওয়ালা যে ফলাফলে পৌঁছেছেন ‘এরপরে আর কোথায় কি আছে সুযোগ – একে শরীয়ত বিবর্জিত এবং আন্দাজ নির্ভর একটি ‍সুস্পষ্ট বিভ্রান্তি বৈ আর কিছু বলার সুযোগ নাই।

    হযরতওয়ালার কাছে আবেদন থাকবে নিজের বয়ানটি আপনি একাধিকবার বরং বারবার শুনুন। বিষয়গুলো বিস্তারিত অধ্যয়ন করুন। বিভ্রান্তিগুলো অনুধাবন করুন। ভুল ধরা পড়লে ইস্তিগফার করুন। বিভ্রান্তিগুলো থেকে রুজু করুন। উম্মাহর সামনে স্পষ্ট করে বার্তা দিয়ে দায়মুক্ত হোন। নতুবা আপনার এই বয়ান থেকে যত মানুষ বিভ্রান্ত হবে, কেয়ামতের দিন সকলের দায় আপনাকে বহন করতে হবে। দ্বীনের যতটুকু ক্ষতি হবে, উম্মাহর নির্যাতিত ভাইবোনদের উত্তোরণের পথে যতটুকু বাধা হয়ে দাঁড়াবে- এর দায়ভার কেয়মতের দিন আপনাকে বহন করতে হবে।
    আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হক বুঝার তাওফিক দিন। হকের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার তাওফিক দিন। আমীন।

    (সমাপ্ত)


    [1] এ ব্যাপারে অনুবাদ ছাড়া আবু ইয়ালা (৪৫৮ হি.) রহ. এর একটি ইবারত তুলে দিচ্ছি। তিনি বলেন,
    الأحكام السلطانية لأبي يعلى الفراء (ص: 195) : فأما الحجاز ... فما سِوَى الْحَرَمِ مِنْهُ مَخْصُوصٌ مِنْ سَائِرِ الْبِلَادِ بِأَرْبَعَةِ أَحْكَامٍ: أَحَدُهَا: أَنْ لَا يَسْتَوْطِنَهُ مُشْرِكٌ من ذمي ولا معاهد. ... وَقَدْ رَوَى عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بن عتبة بن مسعود عن عائشة رضي الله عنها قَالَتْ " كَانَ آخِرُ مَا عَهِدَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - أَنَّهُ قَالَ: لَا يَجْتَمِعُ فِي جَزِيرَةِ الْعَرَبِ دِينَانِ". وَأَجْلَى عمر أَهْلَ الذِّمَّةِ عَنْ الْحِجَازِ وَضَرَبَ لِمَنْ قَدِمَ منهم: تاجرا، أوصانعا مقام ثلاثة أيام يخرجون بَعْدَ انْقِضَائِهَا. فَجَرَى بِهِ الْعَمَلُ وَاسْتَقَرَّ عَلَيْهِ الحكم. فيمنع أهل الذمة من استيطان الحجاز، ويمكنون مِنْ دُخُولِهِ، وَلَا يُقِيمُ الْوَاحِدُ مِنْهُمْ فِي مَوْضِعٍ مِنْهُ أَكْثَرَ مِنْ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ. ... الحكم الثاني: أن لا يدفن فيه أمواتهم وينقلون - إنْ دُفِنُوا فِيهِ - إلَى غَيْرِهِ، لِأَنَّ دَفْنَهُمْ فيه مستدام فصار كالاستيطان إلا أن تبعد مَسَافَةُ إخْرَاجِهِمْ مِنْهُ، وَيَتَغَيَّرُوا إنْ أُخْرِجُوا، فَيَجُوزُ لأجل الضرورة أن يدفنوا فيه. اهـ


  • #2
    না জেনে কথা বলা - পীর সাহেব ঢালকা নগরের জিহাদ বিষয়ক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কিছু কথা ০১

    https://dawahilallah.com/forum/%E0%A...A7%A6%E0%A7%A7
    “ধৈর্যশীল, সতর্ক ব্যক্তিরাই লড়াইয়ের জন্য উপযুক্ত।”
    -শাইখ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ

    Comment

    Working...
    X