আমাদের আইনমন্ত্রী সংসদে হবস-লক-রুশোঁর প্রসঙ্গ নিয়ে এসেছেন। মজার এবং আতঙ্কের বিষয় হলো, হবস-লক-রুশোঁর সাথে উনি মদীনা সনদও পড়তে বলেছেন।
চলুন দেখি হবস- লক-রুশোঁর আদর্শ ও চিন্তা কি ছিল?
হবস, লক ও রুশোঁর চিন্তার কেন্দ্রে রয়েছে ‘সামাজিক চুক্তি’ ধারণা। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, মানুষ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য নিজের কিছু স্বাধীনতা রাষ্ট্রের কাছে ন্যস্ত করে এবং এর বিনিময়ে রাষ্ট্র নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
১৬৫১ সালে প্রকাশিত Leviathan গ্রন্থে হবস মানুষের প্রকৃতিকে চিত্রিত করেন “নিষ্ঠুর, স্বার্থপর ও হিংস্র” হিসেবে। তার বিখ্যাত উক্তি, “Man is a wolf to man.”
হবস ছিলেন ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লসের শিক্ষক। গৃহযুদ্ধ-জর্জরিত ইংল্যান্ডে রাজতন্ত্রকে শক্ত হাতে টিকিয়ে রাখাই ছিল তার দর্শনের মূল উদ্দেশ্য। ফলে মানুষের প্রকৃতিকে পশুবৎ প্রমাণ করে তিনি স্বৈরতন্ত্রকে নৈতিক বৈধতা দিলেন।
অন্যদিকে Two Treatises of Government প্রকাশ করেন জন লক ১৬৯০ সালে—ঠিক ১৬৮৮ সালের রেভল্যুশনের পর। রাজতন্ত্র তখন আর প্রয়োজন নেই, বরং প্রয়োজন সীমাবদ্ধ শাসন।
তাই লকের দর্শনে হঠাৎ করেই আবির্ভূত হয় জনগণের সম্মতি, ব্যক্তিস্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার। মানে দুইটাই ক্ষমতাশালীদের পদলেহী বাটপার।
সময় বদলেছে, ক্ষমতার কাঠামো বদলেছে, আর সেই অনুযায়ী দর্শনও বদলে গেছে। এখানে দর্শন ক্ষমতার বাস্তবতার অনুসারী কিন্তু সত্যের নয়।
এই ত্রয়ীর মধ্যে তুলনামূলকভাবে ব্যতিক্রম জ্যাঁ জ্যাক রুশো। তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিলেন না; বরং ক্ষমতার বিপরীতে দাঁড়িয়ে The Social Contract রচনা করেন।
তার বিখ্যাত ঘোষণা—
“Man is born free, and everywhere he is in chains.”
ফরাসি বিপ্লবের আগুনে রুশোর দর্শন ছিল বারুদের মতো।
সংবিধান সংস্কার নিয়ে আলোচনায় রাষ্ট্রের ক্ষমতা, নাগরিক অধিকার ও শাসনব্যবস্থার মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসে। এসব প্রশ্নের তাত্ত্বিক ভিত্তি বুঝাতে আইনমন্ত্রী হবস-লক-রুশোঁর চিন্তার দিকে ইঙ্গিত করেন।
মানে উনি বলতে চান, সংবিধান শুধু আইনি দলিল নয়, এটি রাষ্ট্রের মৌলিক দর্শনের প্রতিফলন। তাই এ নিয়ে আলোচনায় রাজনৈতিক দর্শনের প্রেক্ষাপট গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু এখানেও মূল সমস্যা রয়ে যায়, আইনের উৎস হিসেবে মানবসম্মতি। আল্লাহর বিধান নয়, বরং মানুষের ইচ্ছাই হয়ে ওঠে সর্বশেষ কর্তৃত্ব।
সামাজিক চুক্তিতত্ত্ব একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ— চুক্তির আগের মানুষ কীভাবে বেঁচে ছিল?
কেউ বলেন natural law, কেউ বলেন survival of the fittest।
কিন্তু প্রকৃতি আইন দেয় কীভাবে?
জঙ্গল কি নৈতিকতা উৎপাদন করে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না দিয়েই আধুনিক চিন্তা এগিয়ে যায়, কারণ উত্তর দিলে আল্লাহর দরজায় পৌঁছাতে হয়।
স্বাধীনতার পর ডঃ কামালদের বানানো সংবিধান ডজন বারের ওপরে সংশোধনের পরেও রাষ্ট্রের কোন উন্নতি হলো না। জনগণের ওপর বারবার শোষণের কষাঘাত নেমে এসেছে। তবুও আবারও সেই মানবরচিত বিধান দিয়েই আমাদেরকে শোষণ করার তালে আছে সরকার এবং বিরোধীদল তথা বাটপার শাসকগোষ্ঠী মিলেমিশে।
ইসলাম ভিন্ন প্রতিটি আদর্শই প্রতিক্রিয়া থেকে সৃষ্টি। কারণ, মানুষের হায়াত, মৃত্যু, আগে কি ছিল, পরে কি হবে - সবকিছু একমাত্র আল্লাহর জ্ঞানে আছে। তাই মানুষের জন্য বিধান মানুষ তৈরি করতেই পারে না।
মধ্যযুগীয় খ্রীস্টান চার্চ ও রাজাদের মিলিত অত্যাচারের প্রতিক্রিয়ায় মডার্ণ সেকুলার দর্শনের উৎপত্তি, যার তিন গুরু হলো টমাস হবস, জন লক এবং জ্যাঁ জ্যাক রুশোঁ।
বলা হয়ে থাকে বৃটিশদের কেন সেকুলার হতে হবে?
— খ্রিস্টান চার্চের অত্যাচার।
তাহলে মুসলিমদের কেন সেকুলার হতে হবে?
— তাও খ্রিস্টান চার্চের অত্যাচার।
অথচ ইউরোপে যখন মধ্যযুগীয় বর্বরতা চলছে, তখন মুসলিম ভূমিতে ইসলামী খিলাফতের স্বর্ণযুগ চলছে।
এদিকে জুলাই সনদকে মহাপবিত্র বানানো বিরোধীদলও একি মানবরচিত বিধানের সুপিরিয়রিটি প্রমাণে বদ্ধপরিকর। আইনমন্ত্রী যেমন নিজের অবস্থান প্রমাণে হবস, লকের মতো দুই বাটপার দার্শনিকের ত্রিপিটক তত্ত্ব হাজির করেছেন। তেমনি জুলাই সনদিরাও এই সনদ নামক বেদ, উপনিষদ হাজির করেছে।
অথচ, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা এই মানব জাতির জন্য পরিপূর্ণ বিধান "আল-কুরআন" দিয়ে দিয়েছেন। আর রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী খলীফারা এই কুরআনিক ফ্রেমের ভিতরে তৈরি সংবিধান যার নাম "মদীনা সনদ" তা দিয়ে শাসন করে গেছেন। ১৩৫০ বছর দুনিয়ার মানুষ দেখেছে সুশাসন কাকে বলে।
এরা দুই গ্রুপই নিঃশর্ত আনুগত্য, গোলামি করে পশ্চিমা শক্তির। অথচ মদীনা সনদের কথা বলে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে ধোঁকা দেয়। মূলত, এদের দুই গ্রুপকেই উপড়ে ফেলে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মুসলিমরা আবারও সেই সোনালী যুগে ফেরত যাবে যার নাম "খিলাফাহ রাশিদাহ"।
~~~ফেসবুক থেকে সংগৃহীত~~~
চলুন দেখি হবস- লক-রুশোঁর আদর্শ ও চিন্তা কি ছিল?
হবস, লক ও রুশোঁর চিন্তার কেন্দ্রে রয়েছে ‘সামাজিক চুক্তি’ ধারণা। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, মানুষ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য নিজের কিছু স্বাধীনতা রাষ্ট্রের কাছে ন্যস্ত করে এবং এর বিনিময়ে রাষ্ট্র নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
১৬৫১ সালে প্রকাশিত Leviathan গ্রন্থে হবস মানুষের প্রকৃতিকে চিত্রিত করেন “নিষ্ঠুর, স্বার্থপর ও হিংস্র” হিসেবে। তার বিখ্যাত উক্তি, “Man is a wolf to man.”
হবস ছিলেন ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লসের শিক্ষক। গৃহযুদ্ধ-জর্জরিত ইংল্যান্ডে রাজতন্ত্রকে শক্ত হাতে টিকিয়ে রাখাই ছিল তার দর্শনের মূল উদ্দেশ্য। ফলে মানুষের প্রকৃতিকে পশুবৎ প্রমাণ করে তিনি স্বৈরতন্ত্রকে নৈতিক বৈধতা দিলেন।
অন্যদিকে Two Treatises of Government প্রকাশ করেন জন লক ১৬৯০ সালে—ঠিক ১৬৮৮ সালের রেভল্যুশনের পর। রাজতন্ত্র তখন আর প্রয়োজন নেই, বরং প্রয়োজন সীমাবদ্ধ শাসন।
তাই লকের দর্শনে হঠাৎ করেই আবির্ভূত হয় জনগণের সম্মতি, ব্যক্তিস্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার। মানে দুইটাই ক্ষমতাশালীদের পদলেহী বাটপার।
সময় বদলেছে, ক্ষমতার কাঠামো বদলেছে, আর সেই অনুযায়ী দর্শনও বদলে গেছে। এখানে দর্শন ক্ষমতার বাস্তবতার অনুসারী কিন্তু সত্যের নয়।
এই ত্রয়ীর মধ্যে তুলনামূলকভাবে ব্যতিক্রম জ্যাঁ জ্যাক রুশো। তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিলেন না; বরং ক্ষমতার বিপরীতে দাঁড়িয়ে The Social Contract রচনা করেন।
তার বিখ্যাত ঘোষণা—
“Man is born free, and everywhere he is in chains.”
ফরাসি বিপ্লবের আগুনে রুশোর দর্শন ছিল বারুদের মতো।
সংবিধান সংস্কার নিয়ে আলোচনায় রাষ্ট্রের ক্ষমতা, নাগরিক অধিকার ও শাসনব্যবস্থার মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসে। এসব প্রশ্নের তাত্ত্বিক ভিত্তি বুঝাতে আইনমন্ত্রী হবস-লক-রুশোঁর চিন্তার দিকে ইঙ্গিত করেন।
মানে উনি বলতে চান, সংবিধান শুধু আইনি দলিল নয়, এটি রাষ্ট্রের মৌলিক দর্শনের প্রতিফলন। তাই এ নিয়ে আলোচনায় রাজনৈতিক দর্শনের প্রেক্ষাপট গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু এখানেও মূল সমস্যা রয়ে যায়, আইনের উৎস হিসেবে মানবসম্মতি। আল্লাহর বিধান নয়, বরং মানুষের ইচ্ছাই হয়ে ওঠে সর্বশেষ কর্তৃত্ব।
সামাজিক চুক্তিতত্ত্ব একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ— চুক্তির আগের মানুষ কীভাবে বেঁচে ছিল?
কেউ বলেন natural law, কেউ বলেন survival of the fittest।
কিন্তু প্রকৃতি আইন দেয় কীভাবে?
জঙ্গল কি নৈতিকতা উৎপাদন করে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না দিয়েই আধুনিক চিন্তা এগিয়ে যায়, কারণ উত্তর দিলে আল্লাহর দরজায় পৌঁছাতে হয়।
স্বাধীনতার পর ডঃ কামালদের বানানো সংবিধান ডজন বারের ওপরে সংশোধনের পরেও রাষ্ট্রের কোন উন্নতি হলো না। জনগণের ওপর বারবার শোষণের কষাঘাত নেমে এসেছে। তবুও আবারও সেই মানবরচিত বিধান দিয়েই আমাদেরকে শোষণ করার তালে আছে সরকার এবং বিরোধীদল তথা বাটপার শাসকগোষ্ঠী মিলেমিশে।
ইসলাম ভিন্ন প্রতিটি আদর্শই প্রতিক্রিয়া থেকে সৃষ্টি। কারণ, মানুষের হায়াত, মৃত্যু, আগে কি ছিল, পরে কি হবে - সবকিছু একমাত্র আল্লাহর জ্ঞানে আছে। তাই মানুষের জন্য বিধান মানুষ তৈরি করতেই পারে না।
মধ্যযুগীয় খ্রীস্টান চার্চ ও রাজাদের মিলিত অত্যাচারের প্রতিক্রিয়ায় মডার্ণ সেকুলার দর্শনের উৎপত্তি, যার তিন গুরু হলো টমাস হবস, জন লক এবং জ্যাঁ জ্যাক রুশোঁ।
বলা হয়ে থাকে বৃটিশদের কেন সেকুলার হতে হবে?
— খ্রিস্টান চার্চের অত্যাচার।
তাহলে মুসলিমদের কেন সেকুলার হতে হবে?
— তাও খ্রিস্টান চার্চের অত্যাচার।
অথচ ইউরোপে যখন মধ্যযুগীয় বর্বরতা চলছে, তখন মুসলিম ভূমিতে ইসলামী খিলাফতের স্বর্ণযুগ চলছে।
এদিকে জুলাই সনদকে মহাপবিত্র বানানো বিরোধীদলও একি মানবরচিত বিধানের সুপিরিয়রিটি প্রমাণে বদ্ধপরিকর। আইনমন্ত্রী যেমন নিজের অবস্থান প্রমাণে হবস, লকের মতো দুই বাটপার দার্শনিকের ত্রিপিটক তত্ত্ব হাজির করেছেন। তেমনি জুলাই সনদিরাও এই সনদ নামক বেদ, উপনিষদ হাজির করেছে।
অথচ, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা এই মানব জাতির জন্য পরিপূর্ণ বিধান "আল-কুরআন" দিয়ে দিয়েছেন। আর রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী খলীফারা এই কুরআনিক ফ্রেমের ভিতরে তৈরি সংবিধান যার নাম "মদীনা সনদ" তা দিয়ে শাসন করে গেছেন। ১৩৫০ বছর দুনিয়ার মানুষ দেখেছে সুশাসন কাকে বলে।
- নবুয়তের শাসন এবং পরবর্তী খিলাফত শাসনব্যবস্থার শুরু হয়েছিল যে সংবিধান দিয়ে তাই হলো মদীনা সনদ।
- মদীনা সনদে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ছিল প্রধান শর্ত।
- এই সনদের অধীনে কোন শাসক আইন তৈরির অধিকার পেতেন না।
- এই সংবিধানের অধীনে কুফর কোন শক্তির আনুগত্য করা যেত না।
- জনগণ সবাই যদি উল্টে যায় তবুও আল্লাহর বিধানের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ এই সংবিধানের অধীনে ছিল না।
এরা দুই গ্রুপই নিঃশর্ত আনুগত্য, গোলামি করে পশ্চিমা শক্তির। অথচ মদীনা সনদের কথা বলে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে ধোঁকা দেয়। মূলত, এদের দুই গ্রুপকেই উপড়ে ফেলে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মুসলিমরা আবারও সেই সোনালী যুগে ফেরত যাবে যার নাম "খিলাফাহ রাশিদাহ"।
~~~ফেসবুক থেকে সংগৃহীত~~~
Comment