Announcement

Collapse
No announcement yet.

পহেলা বৈশাখ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ : চেতনার শিরোনামে শিরকের অবাধ চর্চা || ১ম পর্ব || শায়খ ফজলুর রহমান কাসেমি হাফিজাহুল্লাহ

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পহেলা বৈশাখ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ : চেতনার শিরোনামে শিরকের অবাধ চর্চা || ১ম পর্ব || শায়খ ফজলুর রহমান কাসেমি হাফিজাহুল্লাহ

    পহেলা বৈশাখ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ : চেতনার শিরোনামে শিরকের অবাধ চর্চা

    শায়খ ফজলুর রহমান কাসেমি হাফিজাহুল্লাহ
    [ ১ম পর্ব]


    জাতীয়তাবাদ ও ইসলাম:

    জাতীয়তাবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা মৌলিকভাবে অভিন্ন আদর্শবাহী দুটি শব্দ। জাতি-গোষ্ঠী-সম্প্রদায়-গোত্র ভিত্তিক বিভক্তিকে বলা হয় জাতীয়তাবাদ। আর কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতি পক্ষপাতযুক্ত মনোভাবকে বলা হয় সাম্প্রদায়িকতা। ইসলাম এ জাতীয়তাবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাকে পদদলিত করে এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও তাঁর বিধানের আনুগত্যের ভিত্তিতে মানব জাতিকে একীভূত করার বিশ্বাসকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

    আরব-অনারব, সাদা-কালো, ধনী-গরিব, বাঙালি-অবাঙালি, ভুঞা-পাটওয়ারী, কিষাণ-ঝোলা, চাষা-জেলে—এ ব্যবধানগুলোকে মুছে দিয়ে, ইসলাম একটি মাত্র পরিচয়ে মানুষকে পরিচিত করেছে এবং শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি নির্ধারণ করেছে। আর তা হচ্ছে, এক আল্লাহর স্বীকৃতি ও তাঁর আনুগত্য।

    ইসলামের এ মৌলিক দাবির বিপরীতে একটি পক্ষ গোষ্ঠী-সম্প্রদায়-ভূখণ্ড-ভাষা-গোত্র ইত্যাদির ভিত্তিতে বিভক্তি জাগিয়ে তোলার পেছনে সর্বোচ্চ অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসলাম বলছে, জাতি ও সম্প্রদায়ভিত্তিক বিভক্তির রেখা মুছে দিয়ে এক আল্লাহর স্বীকৃতি ও তাঁর হুকুমের আনুগত্যের ভিত্তিতে বিভক্তিকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আর এ পক্ষটি বলছে, এক আল্লাহর স্বীকৃতি ও তাঁর হুকুমের আনুগত্যের ভিত্তিতে বিভক্তিকে মুছে ফেলতে হবে এবং জাতি ও সম্প্রদায়ভিত্তিক বিভক্তিকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

    জাতীয়তাবাদ-সাম্প্রদায়িকতা ও ইসলামের মাঝে ব্যবধান এখানেই। দু’টির বৈপরীত্য এখানেই। যে বৈপরীত্যের কোন মিলন মোহনা নেই।



    বাংলাদেশি ও বাঙালি

    বাংলাদেশ শব্দটি ভূখণ্ডভিত্তিক বিভক্তি নির্দেশক এবং বাঙ্গালী শব্দটি জাতি-সম্প্রদায়ভিত্তিক বিভক্তি নির্দেশক। ইতিহাসও তাই বলে। এ বিভক্তিকে যারা প্রতিষ্ঠিত করেছে, তাদের দাবিও এটাই। বাংলাদেশ শিরোনামে যারা এ ভূখণ্ডটিকে পাকিস্তান থেকে আলাদা করেছে তারা ধর্মের বিভক্তিকে মুছে দিয়ে ভূখণ্ডভিত্তিক বিভক্তিকে প্রতিষ্ঠা করেছে এবং তাদের সংবিধানের কথাগুলোকে সেভাবেই সাজিয়েছে। ভূখণ্ডটির পরিচালকরা সেভাবেই দেশটি পরিচালনা করে চলেছে।

    আর বাঙ্গালী শিরোনামে যারা নিজেদেরকে অবাঙ্গালী থেকে আলাদা করেছে তারাও ধর্মের সকল বিভক্তি মুছে দিয়ে শুধু একটি জাতি ও সম্প্রদায়ের পরিচয়ে নিজেদেরকে আলাদা করে নিয়েছে। এ জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক পরিচয়কে প্রতিষ্ঠিত রাখার জন্য সম্ভাব্য যা যা করার দরকার তা তারা করেছে এবং করে চলেছে।



    মঙ্গল শোভাযাত্রা : হাজার বছরের বাঙ্গালী ঐতিহ্য

    মানুষের কোন কাজ, কথা বা আচরণ যদি ইসলামের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তখন তার সর্ব নিম্নস্তর হচ্ছে কবিরা গুনাহ, দ্বিতীয় স্তর হচ্ছে কুফর, শেষ স্তর হচ্ছে আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শন।

    মঙ্গল শোভাযাত্রা, বর্ষবরণ, নববর্ষ, বৈশাখী উৎসব যে শিরোনামেই উল্লেখ করা হোক, তা যত বছরের ঐতিহ্যই হোক এবং যাদের ঐতিহ্য হিসাবেই উল্লেখ করা হোক, তা ইসলামের বিধানের বিপরীত হলে তা কমপক্ষে কবিরা গুনাহ। আর ইসলামের বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে তা কুফর।

    এ শোভাযাত্রা ও বাঙ্গালী ঐতিহ্য হাজার বছরের? না কি দশ/বিশ বছরের তা নিয়ে অনেক মতভেদ আছে। এমনিভাবে এর প্রেক্ষাপট কী? এবং এর উদযাপন পদ্ধতি কী? তার মাঝেও বিস্তর ব্যবধান রয়েছে। কিন্তু প্রেক্ষাপট ও উদযাপন পদ্ধতির যা এ পর্যন্ত আমাদের হাতে এসেছে, তার প্রত্যেকটিই যে ইসলামের বিধান ও বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক তা নিয়ে মতভেদ করার কোন সুযোগ নেই।

    পহেলা বৈশাখ, মঙ্গল শোভাযাত্রা, বর্ষবরণ, নববর্ষ ইত্যাদির ধ্বজাধারীদের কিছু উদ্ধৃতি, সংক্ষিপ্ত শরয়ী মূল্যায়নসহ নিম্নে পেশ করছি,

    ১. ১৯৮০ র দশকে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ঐক্য এবং একই সঙ্গে শান্তির বিজয় ও অপশক্তির অবসান কামনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের উদ্যোগে ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে সর্বপ্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রবর্তন হয়। -বাংলা উইকিপিডিয়া

    শরয়ী মূল্যায়ন: কিছু মূর্তিকে মাথায় নিয়ে, তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে তাদের মাধ্যমে শান্তি কামনা ও অপশক্তির অবসান কামনার মাধ্যমে শিরকের অনুশীলনকে প্রকাশ্যভাবে সর্বজনীন করা হয়েছে। এ শিরকের মাঝে কোন প্রকার রাখঢাক রাখা হয়নি এবং কোন প্রকার ব্যাখ্যার সুযোগ রাখা হয়নি।

    ২. শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ, বিশালকায় চারুকর্ম পুতুল, হাতি, কুমির, লক্ষীপেঁচা, ঘোড়াসহ বিচিত্র মুখোশ এবং সাজসজ্জা, বাদ্যযন্ত্র ও নৃত্য। -বাংলা উইকিপিডিয়া

    শরয়ী মূল্যায়ন: যে শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ মুশরিকদের পূজিত পুতুল, হাতি, কুমির ও লক্ষীপেঁচা, যে শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ বদ্যযন্ত্র ও নৃত্য, সে শোভাযাত্রা থেকে মুসলিমরা শিরক ও কবিরা গুনাহ ছাড়া আর কী নেয়ার জন্য শরিক হতে পারে? পেঁচা যাদের লক্ষী ও দেবী, পেঁচা যাদের মঙ্গলের প্রতীক, পেঁচা আর কুমির যাদের ভাগ্যবিধাতা তারা মুসলিম হওয়ার কোন সুযোগ নেই। যাদের বিশ্বাস লক্ষীপেঁচা তাদের জন্য শান্তি বয়ে আনবে, অপশক্তির অবসান ঘটাবে, তারা মুসলিম নয়, তাওহীদবাদী নয়। তারা বাঙালি হতে পারে, মুসলিম হতে পারে না।

    ৩. এরই ধারাবাহিকতায় সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় সর্বপ্রথম ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কোর প্যারিসে অবস্থিত সদর দপ্তরে আবেদন করেছে যে, পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হোক। “মঙ্গল শোভাযাত্রা” অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শান্তি, গণতন্ত্র ও বাঙ্গালী জাতিসত্বার প্রতীক হিসেবে পরিগণিত। ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে বছরের প্রথম দিনে “মঙ্গল শোভাযাত্রার”মাধ্যমে অপশক্তির অবসান এবং বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণময় ভবিষ্যতের আশা ব্যক্ত করে চলেছে। -বাংলা উইকিপিডিয়া

    শরয়ী মূল্যায়ন: মুশরিকদের শিরকের প্রতীকগুলোকে সামনে রেখে তার মাধ্যমে শান্তির কামনা এবং অশুভ শক্তির অবসান কামনার বিষয়টিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। শিরককে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এর চেয়ে সুস্পষ্ট আর কোন পদ্ধতি হতে পারে না। অতএব এ শিরকের প্রতিষ্ঠাতা, সমর্থক, অংশগ্রহণকারী, এ উপলক্ষে শুভেচ্ছা আদান-প্রদানকারী এবং উপহার আদান-প্রদানকারী সবাই নিঃসন্দেহে মুশরিক।

    ৪. আধুনিক নববর্ষ উদযাপনের খবর প্রথম পাওয়া যায় ১৯১৭ সালে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশদের বিজয় কামনা করে সে বছর পহেলা বৈশাখে হোম কীর্তন ও পূজার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর ১৯৩৮ সালেও অনুরূপ কর্মকাণ্ডের উল্লেখ পাওয়া যায়। -বাংলা উইকিপিডিয়া

    শরয়ী মূল্যায়ন: ব্রিটিশ তথা খ্রিস্টান যারা আল্লাহর প্রকাশ্য দুশমন এবং যারা মুসলমানদের খেলাফত ছিনিয়ে নিয়ে খ্রিস্ট ধর্মের আধিপত্য বিস্তার করে চলেছে, তাদের বিজয়ের জন্য হোম কীর্তন ও পূজা করার জন্য যে দিবসটির সূচনা, তা উদযাপন করা যে ইসলামের বিধান ও বিশ্বাসের সাথে স্পষ্ট সাংঘর্ষিক তা বলাই বাহুল্য। এ উদযাপন আল্লাহর দুশমনদের জন্য, আল্লাহর বন্ধুদের জন্য নয়।

    ৫. মেলা: জয়রামপুর গ্রামের মানুষের ধারণা প্রায় একশ বছর ধরে পহেলা বৈশাখে শুরু হওয়া এই মেলা পাঁচ দিন ব্যাপী চলে। প্রাচীন একটি বটবৃক্ষের নিচে এই মেলা বসে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সিদ্ধেশ্বরী দেবীর পূজার জন্য এখানে সমবেত হয়। বিশেষ করে কুমারী, নববধূ এমনকি জননীরা পর্যন্ত তাদের মনষ্কামনা পূরণের আশায় এই মেলায় এসে পূজা আর্চনা করে। সন্দেশ-মিষ্টি-ধান দূর্বার সঙ্গে মৌসুমি ফলমুল নিবেদন করে ভক্তরা। পাঁঠাবলির রেওয়াজও পুরনো। বদলে যাচ্ছে পুরনো আর্চনার পালা। এখন কপোত-কপোতি উড়িয়ে শান্তির বার্তা পেতে চায় ভক্তরা দেবীর কাছ থেকে। -বাংলা উইকিপিডিয়া

    শরয়ী মূল্যায়ন: সিদ্ধেশ্বরী দেবীর পূজার জন্য যে দিবসের জন্ম, সে দিবস উদযাপনের পর ঈমান সংরক্ষিত থাকা কীভাবে সম্ভব? যে দিবসটি গায়রুল্লাহর পূজা-আর্চনার জন্য, কোন মুসলিম সে দিবস উদযাপন করলে তার ঈমান থাকবে কী করে? যে দিবসটি পাঁঠা বলির জন্য, সে দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময়, উপহার আদান প্রদান করলে ঈমান থাকবে কীভাবে? দেবীর নামে কপোত-কপোতি উড়িয়ে যারা শান্তি পেতে চায় তারা নিঃসন্দেহে মুশরিক। কোন মুসলমান তাতে অংশগ্রহণ করলে কোনোভাবেই তার ঈমান থাকবে না।

    ৬. লোকমুখে প্রচলিত, যামিনী সাধক নামের এক ব্যক্তি ঘোড়ায় চড়ে এসে নববর্ষের এই দিনে সবাইকে প্রসাদ দিতেন এবং তিনি মারা যাওয়ার পর ঐ স্থানেই তার স্মৃতিস্তম্ভ বনানো হয়। প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে স্মৃতিস্তম্ভে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি করে মাটির ঘোড়া রাখে এবং এখানে মেলার আয়োজন করে। -বাংলা উইকিপিডিয়া

    শরয়ী মূল্যায়ন: যামিনী সাধক সন্ন্যাসীর প্রসাদ যারা খেতে যেত তারা মুসলমান নয়। হিন্দু ধর্মের লোকেরা তার ঘোড়ার মূর্তি বানিয়ে তার পূজা করে। কোন মুসলমান এ শিরকে অংশ গ্রহণ করলে তার ঈমান থাকার কোন সুযোগ নেই।

    ৭. যদিও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কারণে এ মেলার আয়োজন করা হয়, তথাপি সব ধর্মের লোকজনেরই প্রাধান্য থাকে এ মেলায়। …. মেলায় নাগরদোলা, পুতুলনাচ ও সার্কাসের আয়োজন করা হয়। নানা রকমের আনন্দ-উৎসব করে পশ্চিমের আকাশে যখন রক্তিম আলোয় সজ্জিত উৎসবে লোকজন অনেকটাই ক্লান্ত, তখনই এ মেলার ক্লান্তি দূর করার জন্য নতুন মাত্রায় যোগ হয় কীর্তন। এ কীর্তন হয় মধ্যরাত পর্যন্ত। এভাবেই শেষ হয় বৈশাখের এই ঐতিহ্যবাহী মেলা। -বাংলা উইকিপিডিয়া

    শরয়ী মূল্যায়ন: মুশরিকদের কোন ধর্মীয় আয়োজনে কোন মুসলমান তখনই অংশগ্রহণ করতে পারে, যখন সে তার ঈমানকে শিরক থেকে পবিত্র রাখবে না। যখন তার দৃষ্টিতে শিরক ও তাওহীদের মাঝে কোন ব্যবধান থাকবে না। নাগরদোলা, পুতুল নাচ ও সার্কাস এগুলো যুগ যুগ থেকেইে অমুসলিমদের সংস্কৃতি। আর কীর্তন হচ্ছে মুশরিকদের ধর্মীয় আয়োজন। তাদের পহেলা বৈশাখের অবিচ্ছেদ্য অংশ এগুলো।

    ৮. পশ্চিমবঙ্গে মহাসমারোহে সাড়াম্বরে উদযাপিত হয় বাংলা নববর্ষারম্ভ পয়লা বৈশাখ। বঙ্গাব্দের প্রথম দিনটিতে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়ে থাকে সমগ্র পশ্চিম বাংলায়। বাংলার গ্রামীণ এবং নাগরিক জীবনের মেলবন্ধন সাধিত হয়ে সকলে একসূত্রে বাঁধা পড়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর আনন্দে। সারা চৈত্র মাস জুড়েই চলেতে থাকে বর্ষবরণের প্রস্তুতি। চৈত্র মাসের শেষ দিন অর্থাৎ চৈত্রসংক্রান্তি বা মহাবিষ্ণু সংক্রান্তির দিন পালিত হয় গাজন উৎসব উপলক্ষ্যে চড়ক পূজা। অর্থাৎ শিবের উপাসনা। এই দিনেই সূর্য মীন রাশি ত্যাগ করে মেষ রাশিতে প্রবেশ করে। -বাংলা উইকিপিডিয়া

    শরয়ী মূল্যায়ন: গাজন উৎসবের জন্য চড়ক পূজা অর্থাৎ শিবের উপাসনা। মুশরিকদের এই উৎসব, এই উপাসনা বাঙালির হতে পারে, কারণ বাঙালি হয়ে মুশরিক হতে বাঙালির কোন আপত্তি নেই। মুশরিক হোক আর নাস্তিক হোক, তাকে বাঙালি হতেই হবে। কিন্তু শিবের উপসনার উৎসবে মেতে উঠে কোন মুসলিমের জন্য মুসলিম থাকা সম্ভব নয়।

    ৯. এ দিন গ্রামবাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে আয়োজিত হয় চড়ক মেলা। এই মেলায় অংশগ্রহণকারী সন্ন্যাসী বা ভক্তগণ বিভিন্ন শারীরিক কসরৎ প্রদর্শন করে আরাধ্য দেবতার সন্তোষ প্রদানের চেষ্টা করে থাকে। -বাংলা উইকিপিডিয়া

    শরয়ী মূল্যায়ন: সন্ন্যাসীরা তাদের দেবতাদেরকে সন্তুষ্ট করার জন্য যে দিনটিকে বেছে নিয়েছে সে দিনের সাথে কি কোন মুসলমানের সম্পর্ক থাকতে পারে? হাঁ, সে যদি তার তাওহীদের বিশ্বাসকে জবাই করে দিয়ে থাকে, তাহলে সে কোন মুশরিকের শিরককে উৎসবের আমেজে উপভোগ করতে পারে।

    ১০. ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই এ দিন থেকে তাদের ব্যবসায়িক হিসাবের নতুন খাতার উদ্বোধন করে, যার পোশাকি নাম হালখাতা। এই উপলক্ষে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতে মঙ্গলদাত্রী লক্ষী ও সিদ্ধিদাতা গণেশের আরাধনা করা হয়। নতুন খাতায় মঙ্গলচিত্র স্বস্তিকা আঁকা হয়ে থাকে। -বাংলা উইকিপিডিয়া

    শরয়ী মূল্যায়ন: মঙ্গলদাত্রী লক্ষী ও সিদ্ধিদাতা গণেষের আরাধনার সাথে একজন তাওহীদবাদী মুসলিম কিভাবে একাত্বতা ঘোষণা করতে পারে? এবং এমন সুস্পষ্ট শিরকে জড়ানো দিবসটিকে কিভাবে নিজেদের উদযাপন দিবস হিসাবে গ্রহণ করতে পারে? যদি তার কাছে শিরক ও তাওহীদের মাঝে কোন বৈপরীত্য না থাকে। সে যদি শিরককে অপছন্দ না করে তাহলে সে এমন কাজ করতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে তাকে আর মুসলিম বলা যাবে না।


    চলবে ইনশাআল্লাহ...

    ✍️
    Collected‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬‬​

    ‘যার গুনাহ অনেক বেশি তার সর্বোত্তম চিকিৎসা হল জিহাদ’-শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ.
Working...
X