Announcement

Collapse
No announcement yet.

ইরান প্রসঙ্গ: ‘নাওয়ায়ে আফগান জিহাদ’ ম্যাগাজিনের জানুয়ারী-২০২০ সংখায় প্রকাশিত প্রবন্ধ

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • ইরান প্রসঙ্গ: ‘নাওয়ায়ে আফগান জিহাদ’ ম্যাগাজিনের জানুয়ারী-২০২০ সংখায় প্রকাশিত প্রবন্ধ

    [‘নাওয়ায়ে আফগান জিহাদ’ ম্যাগাজিনের জানুয়ারী-২০২০ সংখায় প্রকাশিত প্রবন্ধ; তারবিয়াহ ম্যাগাজিন, ইস্যু ৮-এ প্রকাশিত অনুবাদ]
    এই প্রবন্ধটি ইরান যুদ্ধ-২০২৬, সিরিয়া বিজয়-২০২৪, গাজা যুদ্ধ-২০২৩ এবং ইউক্রেন যুদ্ধ-২০২২ এর পূর্বে লিখিত; বর্তমান সময়ের সাথে মিলানোর জন্য করছে, হচ্ছে জাতীয় কিছু শব্দ পরিমার্জন করা হয়েছে।



    ইরানের জেনারেল কাসেম সোলাইমানি, সাধারণ কোন জেনারেল ছিল না। বহির্বিশ্বে ইরানের সকল যুদ্ধ ও গোয়েন্দা তৎপরতা সোলাইমানির কমান্ডে ছিল। শাম (সিরিয়া), ইরাক, ইয়েমেন ও লেবানন এই চার দেশে শিয়া মিলিশিয়াদের তত্ত্বাবধান ও কন্ট্রোল, গত বেশ কয়েক বছর যাবত তার হাতেই ছিল। তার পৃষ্ঠপোষকতা ও তত্ত্বাবধানে গত সেপ্টেম্বরে (২০১৯) হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের তেলের ডিপোতে আক্রমণ করেছে। ৩রা জানুয়ারি ২০২০ ইং সোলাইমানি বাগদাদ এয়ারপোর্টে নিহত হয়েছেন। তাও আবার আমেরিকান ড্রোন হামলায়। এই খবর শোনার সাথে সাথেই নিজের অজান্তে আলহামদুলিল্লাহ বললাম এবং এই দু‘আ পড়লাম,
    اللهم أهلك الظالمين بالظالمين، وأخرج المسلمين من بينهم سالمين.
    ‘হে আল্লাহ! জালেমের হাতেই জালেমকে ধ্বংস করুণ এবং তাদের মাঝ থেকে মুসলমানদেরকে নিরাপদে বের করে আনুন’। আমীন।

    জি হাঁ, এটা আল্লাহ তা‘আলার বিরাট বড় অনুগ্রহ যে, ইরানের সেই জেনারেল নিহত হয়েছে যে শাম (সিরিয়া), ইরাক এবং ইয়েমেনে মুসলিম জনসাধারণ ও মুজাহিদীনে ইসলামের গণহত্যার জিম্মাদার ছিল। আমেরিকা জালেম, ইরানও জালেম, তারা একে অপরকে অনেক গালমন্দ করে। কিন্তু উভয়ে মিলে আহলুস সুন্নাহকে অধিনস্ত করা, সুন্নী জনসাধারণকে হত্যা করা এবং জিহাদী আন্দোলনকে খতম করার ক্ষেত্রে আজ পর্যন্ত পরস্পর অনেক বড় সহযোগী হিসাবে কাজ করছে।

    যখন আমেরিকার আক্রমণের মুখে আফগানিস্তানে ইমারাতে ইসলামিয়ার পতন হলো, তখন ইরান পরিপূর্ণভাবে আমেরিকার সাথে ছিল। এরপর যখন আমেরিকা ইরাকে মুসলমানদের উপর বোমা বর্ষণ শুরু করল, তখন ইরান শুরু থেকে অর্থাৎ ২০০৩ ঈ. থেকে সোলাইমানির মৃত্যু (২০১৯ ঈ.) পর্যন্ত আমেরিকার প্রধান মিত্র হিসাবে সেখানে ছিল। ইরাকী সেনাবাহিনীকে ট্রেনিং দিয়ে এবং শিয়া মিলিশিয়াদেরকে সহযোগিতা ও অস্ত্রে সজ্জিত করে, তাদেরকে আহলুস সুন্নাহ'র মুজাহিদদের বিরুদ্ধে লড়াই করানো এবং সুন্নী জনসাধারণের উপর তাদের কর্তৃক জুলুম নির্যাতনের মত সকল বিষয়ে, ইরানী সেনাবাহিনী এবং বিপ্লবী গার্ড সর্বদা নেতৃত্বে ছিল। আমেরিকার অন্য মিত্রদের চেয়ে ইরানের পক্ষে স্থানীয় শিয়াদের সমর্থনের কারণে, সব জায়গায় তারা অগ্রগামী এবং অসাধারণ গুরুত্ব পেয়ে আসছে। আজ ইরানের পক্ষ থেকে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে যে, ইরাকে তাদের সহযোগিতা শুধু দায়েশের (আইএস) বিরুদ্ধে ছিল। মনে হয় যেন দায়েশ বাদে মুজাহিদীনে উম্মাহ ও আহলুস সুন্নাহ'র উপর তারা আমেরিকার সাথে মিলে ফুল (!) বর্ষণ করেছে! তাদের দাবী কিছুতেই সত্য হতে পারে না।

    প্রথমত: এই কারণে যে, আমেরিকা ও ইরানের পরস্পরে আপোষ ও সহযোগিতা, খারেজী বাগদাদীর আত্মপ্রকাশ থেকে শুরু হয়নি। এই সহযোগিতার সম্পর্ক ঐ সময় থেকে যখন আমেরিকা ২০০৩ ঈ. সনে ইরাক আক্রমণ করে। এই দীর্ঘ সময়ে আহলুস সুন্নাহ জনসাধারণ এবং মুজাহিদীনের উপর আমেরিকা যত জুলুম নির্যাতন করেছে, ইরানী মদদপুষ্ট সেনাবাহিনী ও মিলিশিয়া'রাও তার সমপরিমাণ করেছে। ইরান ও আমেরিকার বিরুদ্ধে এই দীর্ঘকাল লড়াইরত, আহলুস সুন্নাহ'র সকল মহাবীরদের উপর ইরান “সন্ত্রাসী ও তাকফিরী” অপবাদ দিয়ে আসছে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমেরিকার পূর্ণ অংশীদার হিসাবে আছে।

    দ্বিতীয়ত: দায়েশ (আইএস) যখন আত্মপ্রকাশ করেছে তখন কী আমেরিকা-ইরান মিত্রশক্তি শুধু দায়েশের বিরুদ্ধে অভিযানে সীমাবদ্ধ ছিল? না…, এমন কখনোই নয়। ইরান শুধু ইরাকে নয়, বরং শাম (সিরিয়া) থেকে ইয়েমেন পর্যন্ত আহলুস সুন্নাহ'র ঐ সকল মুজাহিদীনের বিরুদ্ধে আমেরিকার সঙ্গ দিয়েছে, যারা স্বয়ং দায়েশেরও টার্গেটে ছিলেন।

    বাস্তবতা এই যে, ইরাক, শাম ও ইয়েমেনে ইরান তার যেই নীতিতে কাজ করতে পেরেছে তা একমাত্র আমেরিকার জোরে পেরেছে। ইরাক ও সিরিয়ায় আমেরিকান সৈন্যেরও এতো বড় সংখ্যা ছিল না, যে পরিমাণ ইরানী সৈন্য এবং ইরানী মদদপুষ্ট শিয়া মিলিশিয়া ছিল। আর তারা সবাই অবস্থান করেছে আমেরিকান জেনারেলদের দৃষ্টি সীমায় এবং তাদের ড্রোন বিমানগুলোর ছায়াতে। মজার কথা হলো ইরাক, শাম ও ইয়েমেনে কাসেম সোলাইমানি'র ঘটনার পূর্ব পর্যন্ত, আমেরিকা কোন একজনও ইরানী অফিসার বা সৈন্যকে টার্গেট বানায় নাই। সকল ইরানী সৈন্য এবং শিয়া মিলিশিয়া আমেরিকানদের সাথে পূর্ণ আপোষের সঙ্গে মুজাহিদদের উপর হামলা করে আসছিল।

    ইয়েমেনে ইরানী ইশারায় চলা হুথি বিদ্রোহীরা, মুজাহিদীনের বিরুদ্ধে আমেরিকাকে সাপোর্ট করত। কেমন যেন সেখানে মুজাহিদীনের বিরুদ্ধে লড়াইরত দুশমন তিনজন; ইরানী মদদপুষ্ট হুথি, আমেরিকা ও সৌদি মিত্রজোট। সৌদি মিত্রজোট এবং হুথিদের মাঝে বর্তমানে যুদ্ধ চলছে। কিন্তু যে জায়গায় মুজাহিদীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হয় সেখানে ইরানী মদদপুষ্ট হুথিরাও আমেরিকার মিত্র হয়ে যায়। কয়েকবার এমন হয়েছে যে, ইয়েমেনে আনসারুশ শারইয়্যাহর (ইয়েমেন আল কায়দা) মুজাহিদীনের উপর হামলার জন্য আমেরিকা এসেছে, তখন তাদের ব্ল্যাক হক ও চিনুক হেলিকপ্টারগুলো ইরানী মদদপুষ্ট হুথিদের এলাকায় নেমেছে; অতঃপর সেখান থেকে আমেরিকানরা হুথিদের সহায়তায় মুজাহিদীনের উপর আক্রমণ করেছে।

    আরো আকর্ষণীয় বিষয় হলো, সৌদি মিত্রজোটে অন্তর্ভুক্ত আরব শাসকরা সবাই আমেরিকার গোলাম, সৌদির প্রতিরক্ষাও পরিপূর্ণভাবে আমেরিকার হাতে ন্যস্ত। এরপরও এখানে সৌদি মিত্রজোট এবং হুথিদের মাঝে চলমান প্রচণ্ড যুদ্ধে কাসেম সোলাইমানি'র ঘটনার পূর্ব পর্যন্ত আমেরিকানরা, একজনও হুথি বিদ্রোহীকে হত্যা করেনি। আমেরিকান ড্রোন ও অন্যান্য বিমানগুলো আকাশে উড়তে থাকে, তারা হুথি এবং সৌদিদের মাঝে চলমান যুদ্ধকে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে, কিন্তু সৌদিদের সাহায্যে আমেরিকানরা তখন পর্যন্ত ইরানী মদদপুষ্ট হুথিদের উপর বোমা বর্ষণ করেনি। আমেরিকা যদি কখনো কোথাও বোমা বর্ষণ করে তা একমাত্র আনসারুশ শারইয়্যার মুজাহিদীন এবং সুন্নী জনসাধারণের উপর এবং এ ক্ষেত্রে হুথিরা আমেরিকাকে পরিপূর্ণ সহযোগিতা করত।

    অনুরূপ শামে (সিরিয়া) আহলুস সুন্নাহ'র সাথে ইরানের যে পরিমাণ জুলুম, হিংস্রতা ও দাম্ভিকতা চলছে তার কোন উদাহরণ পৃথিবীতে নেই। এখানে ইরান বাহ্যিকভাবে সিরিয়া সরকার ও রাশিয়া'র মিত্র। কিন্তু আসল সত্য হলো, মুজাহিদীন ও সুন্নী জনসাধারণকে গণহত্যার ক্ষেত্রে ইরান, আমেরিকা, রাশিয়া ও সিরিয়া সরকার সবাই একে অপরের সাথে সহযোগিতা ও আপোষের সাথে চলেছে এবং প্রত্যেকেই নিজেদের সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। এক দিকে ইরানী মিলিশিয়া ও সিরিয়ান সৈন্যদের জোট; তারা সবাই একত্রে এক জায়গায় মুসলমানদের উপর হামলা করত, তো অপরদিকে আমেরিকা সেই ধ্বংসের তামাশা দেখত। ব্যারেল বোমা থেকে শুরু করে রাসায়নিক অস্ত্রসহ এমন কোন অস্ত্র বাকি ছিল না, যা এই জালেমরা ব্যবহার করেনি। সব ধরণের অস্ত্র তারা সেখানে ইচ্ছেমত পরীক্ষা করেছে। এরপর অন্য কোন জায়গায় আমেরিকা বোমা বর্ষণ করত আর বাকীরা তামাশা দেখত। ইরাক, সিরিয়ার পুরা যুদ্ধে কখনো আমেরিকা ও ইরান পরস্পরে মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের পরিস্থিতি হয়নি।

    তাদের দৃশ্যপট যখন এমনই তখন আমেরিকা কাসেম সোলাইমানিকে কেন হত্যা করল?

    এটা হলো আল্লাহ তা‘আলার বিরাট অনুগ্রহ; আল্লাহ তা‘আলা এক জালেমের মাধ্যমে আরেক জালেমকে হত্যা করেছেন। অতীতেও যখন আহলুস সুন্নাহ'র মুজাহিদীন এবং আমেরিকার সাথে যুদ্ধ হয়েছে তখন ইরান এ থেকে ফায়দা লুটেছে। সেই যুদ্ধকে সে খালেস বস্তুপূজা, আত্মপূজা ও আহলুস সুন্নাহ'র বিরুদ্ধে শত্রুতার দৃষ্টিতে দেখত। এমনকি আহলুস সুন্নাহ'র উপর প্রভাব অর্জনের বিরল সুযোগ হিসাবে সেটাকে মনে করত এবং তা খুব ভালভাবে কাজে লাগাত।

    আফগানিস্তান, ইরাক, ইয়েমেন ও শাম সব জায়গায় সে এমনই করেছে। আলহামদুলিল্লাহ দীর্ঘ কাল পর দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়েছে এবং খোরাসান থেকে শাম ও ইয়েমেন পর্যন্ত যত মুজাহিদ ইরানের বাস্তব কর্মকৌশলের ব্যাপারে অবগত, তারা আজ অনেক খুশী। সবাই আল্লাহ তা‘আলার শুকরিয়া আদায় করছেন এবং এই আশা করছেন যে, হয়তবা এই কারণে তাদের দুজনের মাঝে আজ পর্যন্ত চলে আসা আহলুস সুন্নাহ'র বিরুদ্ধে মিত্রতা, আজ খতম হবে এবং বিইজনিল্লাহ তাদের মাঝে যুদ্ধ হলে অথবা অন্তত অসন্তোষ বাড়লে, সেটা মুজাহিদীনে উম্মতকে দুশমনদের বিরুদ্ধে সামনে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ করে দিবে।

    বর্তমান (২০২০ সাল) পরিস্থিতিকে সামনে রেখে এই লেখার উদ্দেশ্য এটাই যে, আমাদেরকে আমাদের সকল দুশমনদেরকে ভালভাবে চিনতে হবে এবং তাদের সাথে আচরণের নিয়মনীতি কখনোই যেন আমাদের দৃষ্টি থেকে আড়াল না হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা আমাদের কল্যাণকামী ও অকল্যাণকামীদের না চিনব এবং তাদের সাথে তাদের উপযোগী আচরণ না করব, ততক্ষণ আমরা নিজেদের ক্ষতি সাধন করতে থাকব এবং ইসলামের বিজয় ও মুসলমানের সাহায্যে কদম বাড়াতে পারব না।

    বড় আফসোস হলো, উম্মতে মুসলিমার এক শ্রেণী এমন আছেন যারা, বন্ধুত্ব ও শত্রুতা, কে বীরপুরুষ বা হিরো? কে জালেম? কে দুশমন? – এই বিষয়গুলো অনেক হালকা ভাবে নেন। তাই কখনো গাদ্দাফীকে বড় মুজাহিদ বলা হয়েছে! আবার কখনো সাদ্দাম হোসাইন তাদের হিরো হয়েছে! আবার কখনো লেবাননের হিজবুল্লাহর সবচে বড় অপরাধী হাসান নসরুল্লার বিভিন্ন প্রশংসা করা হয়েছে! কেন এমন হয়েছে??

    এটা এজন্যই যে, গাদ্দাফী, সাদ্দাম বা হাসান নসরুল্লাহ তারা আমেরিকার বিরুদ্ধে কথা বলত। কখনো আমেরিকা ও তাদের মাঝে অসন্তুষ্টি প্রায় যুদ্ধ পর্যন্ত পৌঁছে যেত। আর আমাদের ধারণা হলো, যেই নেতা আমেরিকার বিরোধিতা করতে পারবে সে-ই উম্মাহর নেতা, সে আমাদের হিরো এবং আইডল। তখন আমাদের বাকী উম্মতকেও তার চিন্তা-চেতনা ও দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণীয় হিসাবে দেখানো হয়েছে। এখানে এই বিষয়টি কখনোই উম্মাহর সামনে স্পষ্ট করা হয় নাই যে, আমেরিকার এই বিরোধীতাকারীরা নিজ চিন্তা-চেতনা ও আমল-আখলাকে কতটা হকের উপর আছে? এবং সে নিজে উম্মাহর কতটা হিতাকাঙ্ক্ষী?

    আমেরিকার বিরুদ্ধে লড়াইকারী যদি নিজেই মুসলমানদের হত্যাকারী; উম্মতকে গোমরাহ করনেওয়ালা এবং জিহাদী আন্দোলনের বিরুদ্ধে কাফেরদের সাহায্য সহযোগিতাকারী হয়, তাহলে এমন পর্যায়ে তার মাঝে এবং আমেরিকার মাঝে যুদ্ধে আমরা খুশী হবো এবং ঐ যুদ্ধে আমেরিকার বিরুদ্ধে তাদের কঠোরতার প্রতি আমাদের আগ্রহ থাকবে ঠিক কিন্তু সেই ব্যক্তি কখনোই আমাদের আশা ভরসার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারবে না এবং তাকে কখনোই উম্মাহর পথ প্রদর্শক ও হিতাকাঙ্ক্ষী বলব না এবং তাকে তার মেহনত ও চিন্তা চেতনায় তাকে অনুসরণীয় মনে করা হবে না।

    এটা স্পষ্ট কথা যে, যুদ্ধ শুধুমাত্র হক ও বাতিলের মাঝেই হয় না। স্বয়ং বাতিলদের মাঝেও অনেক যুদ্ধ হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং তার পরে রাশিয়া ও আমেরিকার দ্বন্দ্ব, এরূপ আরও অগণিত উদাহরণ আছে, যার মধ্যে কোন পক্ষই আহলে হক ছিল না। ইরানের বিষয়টিও এমনই। ইরান খোদ বাতিল, তার ধর্মও বাতিল। তারা আহলুস সুন্নাহ'র অত্যন্ত নিকৃষ্ট দুশমন। যখনই তাদের সুযোগ হয়েছে তারা আহলুস সুন্নাহকে নিজেদের গোলাম বানিয়ে রাখার জন্য জঘন্যতম অত্যাচার চালিয়েছে। উম্মাহর প্রতিরক্ষার জন্য যতো জিহাদী আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার অনেকগুলোর পেটে ইরান খঞ্জর চালিয়েছে এবং অধিকাংশের বিরুদ্ধে কাফেরদের সাহায্য সহযোগিতা করতে সরাসরি ময়দানে নেমেছে। এরই সাথে ইরানের আরেকটি বিরাট বড় অপরাধ হলো, বড়ত্ব অর্জনের জন্য শিয়া মতবাদের মত শিরকী ও বিদআতি মিশন, উম্মাহর উপর চাপিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব তারা নিয়েছে এবং সারা দুনিয়ায় এর বিস্তৃতিতে তারা পৃষ্ঠপোষকতা করছে।

    তাই মূল আপত্তি হলো, ইরানের মত আঁচলে পালিত সাপকে মহব্বত করা, তার উপর ভরসা করা এবং নিজেদের দাওয়াতি আন্দোলনে তাকে অনুসরণীয় মনে করার উপর। বাকী আমেরিকার বিরুদ্ধে ইরানের অবস্থান এবং যুদ্ধ হওয়ার যে বিষয়গুলো আছে সেগুলোতো খুশিরই বিষয়। আমরা এটাই দু‘আ করি, যেন উম্মতে মুসলিমার উপর জুলুম নির্যাতন চালায় আমাদের এমন সব দুশমন পরস্পরে লড়াই করুক। তারা যখন পরস্পরে লড়বে তখন এ থেকে ফায়দা হবে জিহাদ, মুজাহিদীন এবং পুরা উম্মাহর। যেমন, আমরা খবর পেয়েছি যে, রাশিয়া'র প্রেসিডেন্ট ইরানের পক্ষে থাকার মতামত ব্যক্ত করেছে। যদি এমন হয়, তাহলে এটি হবে আরেকটি খুশি ও শুকরিয়ার বিষয়। এখানে এটা স্পষ্ট যে, এমন অবস্থায়ও রাশিয়াকে আমরা আমাদের উপর অনুগ্রহকারী মনে করব না। সে দুশমন তাই দুশমন হিসাবেই থাকবে।

    শিয়া ইরান আহলুস সুন্নাহ'র দুশমন, সে কিছুতেই জিহাদী আন্দোলনগুলোর হিতাকাঙ্ক্ষী নয়; তারপরও ইরান ও আমেরিকার মাঝে বৈরিতা এবং যুদ্ধ কেন হবে? কেন তারা “আমেরিকার মৃত্যু হোক” এই স্লোগান দিচ্ছে? ইরান কেন ফিলিস্তিনে ইহুদী দখলদারিত্ব বিরোধী? কেন তারা ইসরাইলকে বিভিন্ন ধমকি দিচ্ছে? এই প্রশ্নগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এর জবাবের মাধ্যমে ইরানের আসল চেহারা উন্মোচিত হয়ে যাবে।

    কারো কারো খেয়াল ছিল, সম্ভবত এখনো আছে যে, ইরান ও আমেরিকা পরস্পরের মাঝে ভিতরে ভিতরে মিল রয়েছে, ইরান হলো মূলত ইহুদীদের এজেন্ট। আর এই পুরা খেলাটা একটা ড্রামার মত। আবার কিছু লোক ইরানকে হিরো মনে করে। তাদের ধারণা হলো, ইরান আমেরিকা ও ইসরাইলের দুশমন হওয়ার সাথে সাথে মুসলমানদেরও মুহাফেজ। বাস্তবতার নিরিখে এই দুটি অবস্থান পুরাই গলদ। আলহামদুলিল্লাহ যারা জিহাদের নেতৃত্ব দেন, তাদের কাছে ইরানের অবস্থান ও মর্যাদা সবসময়ই স্পষ্ট এবং তারা ইরানের ব্যাপারে এক মুহূর্তের জন্যও কখনো কোন গলদ ধারনায় আক্রান্ত হননি।

    আমার এ মুহূর্তে জিহাদের একজন নেতার কথা মনে পড়ছে, কয়েক বছর আগে যখন আমি তাকে প্রশ্ন করেছিলাম, “শাইখ! ইরান কি ফিলিস্তিনকে স্বাধীন করতে চাচ্ছে?
    তখন তিনি খুব দৃঢ়তার সাথে জবাব দিলেন, ‘হাঁ…, তারা ফিলিস্তিনকেও স্বাধীন করতে চাচ্ছে! এবং মক্কা-মদিনাকেও। তারা চাচ্ছে সব আহলুস সুন্নাহকে তাদের গোলাম বানাতে, তাদের উপর শিয়া মতবাদ চাপিয়ে দিতে। তাই তাদেরকে যত বড় কাফেরই সাহায্য করুক না কেন ইরানের জন্য এটি কোন বিষয়ই নয়’।

    বর্তমান যুগে ইরান শিয়াদের সর্দার এবং আন্তর্জাতিকভাবে তাদের পরিচালক ও অনুসরণীয়। এজন্য জরুরী হলো, শিয়াদের মৌলিক কিছু বৈশিষ্ট্য আমাদের জেনে রাখা। ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ বলেন,
    ‘অধিকাংশ শিয়া'র অন্তর উম্মাহর দুশমনদের সাথে যুক্ত। উম্মাহর মুহাফেজ মুজাহিদীনে আহলুস সুন্নাহ'র পরাজয় এবং সুন্নী জনসাধারণের কষ্টে তারা খুশী হয়’।

    আরেক জায়গায় শাইখ রহিমাহুল্লাহ বলেন,
    ‘শিয়া'রা মুসলমানদের উপর বিজয়ী হওয়ার জন্য কাফেরদের সাহায্য সহযোগিতা নেয়। সবাই এ বিষয়টি দেখে থাকবে যে, যখনই মুসলমানদের উপর কাফেরদের হামলার মাধ্যমে কোন পরীক্ষা এসেছে, তখনই শিয়া'রা সাথে সাথে মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফেরদের সঙ্গ দিয়েছে। মুসলমানদের বিরুদ্ধে চেঙ্গিস খানকে তারা সাহায্য করেছিল, এরপর চেঙ্গিসের ছেলে হালাকু খান যখন হামলা করেছে তখন খোরাসান, ইরাক ও শামে মুসলমানদের বিরুদ্ধে বড় বড় সাহায্যকারীদের মধ্যে তারা ছিল। তাদের এই সাহায্য সহযোগিতা এতটা স্পষ্ট ও প্রসিদ্ধ যে, তা অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই।

    এ সময় বাগদাদে খলীফার উজির ইবনে আলকামী ছিল রাফেজী। সে সর্বদা মুসলমান এবং খলীফার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লেগে থাকত। মুসলিম সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা এবং তাদের রশদ সরবরাহের পথ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করত এবং জনসাধারণকে মুসলিম সেনাবাহিনীর সাথে থেকে লড়তে নিষেধ করত। অতঃপর যখন তাতারীরা বাগদাদে প্রবেশ করে, তখন তারা মুসলমানদেরকে সবচেয়ে বেশি গণহত্যা করে, লাখ লাখ মুসলমানের রক্ত প্রবাহিত করে, অগণিত বনু আব্বাস ও বনু হাশেম নিহত হয় এবং তাদের নারীদেরকেও তাতারীরা বান্দি বানিয়ে নেয়’।

    শিয়া'রা আহলে বাইতকে মহব্বতের কথা বলে মুখে ফেনা উঠায়। তাহলে এটাই কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আহলে বাইতের মহব্বত! যে, তাদের উপর এবং অন্যান্য মুসলমানদের উপর কাফেরদেরকে বিজয়ী করতে হবে!? এবং তাদেরকে হত্যা করে তাদের নারীদেরকে বান্দি বানানোর জন্য কাফেরদেরকে সাহায্য করতে হবে!!?

    অনুরূপ শামে বসবাসরত তৎকালীন শিয়া'রাও মুসলমানদের বিরুদ্ধে মুশরিক ও খৃস্টানদেরকে সাহায্য করেছে। এখানেও কুফফাররা শিয়াদের সহযোগিতায় মুসলমানদের জান-মালের অনেক ক্ষতি করেছে এবং তাদের নারীদেরকে বান্দি বানিয়েছে।

    শাইখ আতিয়্যাতুল্লাহ শহীদ রহিমাহুল্লাহ ইরানের একদিকে আমেরিকাকে শত্রু ঘোষণা করা এবং অপরদিকে আহলুস সুন্নাহ'র বিরুদ্ধে আমেরিকাকে সাহায্য সহযোগিতা করার কারণ বর্ণনা করে লিখেছেন,
    ‘আমেরিকার সাথে ইরানীদের সহযোগিতা ও মিত্রতার কারণ হলো, শিয়া মতবাদের মূলনীতি। এটা এমন মূলনীতি, যাকে তারা মিথ্যা ও তাকিয়্যার (ইচ্ছাকৃত মিথ্যাকে সওয়াব মনে করা) দ্বারা যতই ঢাকার চেষ্টা করুক; কার্যক্ষেত্রে কখনোই তারা এই মূলনীতি থেকে হটতে পারে না। আসল সত্য হলো, তাদের পুরা ইতিহাস ও অস্তিত্বে এই মূলনীতির উপর আমল অত্যন্ত স্পষ্ট। মূলনীতিটি এই, তাদের নিকট তাদের সবচে বড় ও প্রধান দুশমন হলো আহলুস সুন্নাহ। ইহুদী, খৃস্টানরাও শত্রু তবে যেহেতু তারা আহলে কিতাব, এজন্য আহলুস সুন্নাহ'র চেয়ে তাদের সাথে দুশমনি কিছুটা হালকা। সুতরাং ইহুদী, খৃস্টানদের সাথে কোন না কোনভাবে চলাফেরা করা যায় কিন্তু আহলুস সুন্নাহ'র সাথে কোন ভাবেই নয়’।

    একদিকে শিয়াদের ইরানে আকিদা ও কাজকর্ম এমন, অপরদিকে তার অশেষ চেষ্টা হলো, উম্মতে মুসলিমার একক নেতা হিসাবে নিজেকে দেখানো। এজন্য তারা আহত উম্মাহ তথা ফিলিস্তিনসহ অন্যান্যদের পক্ষ নিয়ে রাজনীতি করে এবং তাদেরকে শিয়া মতবাদ বিস্তার ও বিজয়ী করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করে। তাহলে বুঝা গেল, তাদের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্যবস্তু হলো, আহলুস সুন্নাহকে কাবুতে আনা, তাদেরকে নিজেদের গোলাম বানানো এবং একই সাথে নিজে নিজেকে পুরা মুসলিম উম্মাহর একক পরিচালক ও পৃষ্ঠপোষক প্রমাণিত করা, অতঃপর তাদের উপর শিয়া মতবাদকে শক্তিশালী করা।

    তাদের দ্বিতীয় লক্ষ্য হলো, এরচেয়ে সামনে বেড়ে পুরা দুনিয়ায় নিজেদের রাজত্ব কায়েম করা। এতে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, আহলুস সুন্নাহ'র পরে ইসরাইলের সাথে তাদের বিবাদ হবেই। তারা নিজেদের এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আপন কার্যক্রমে খুব স্বাধীন দৃষ্টিভঙ্গিতে কাজ করে। তারা জানে, তাদের এই অভিসন্ধির প্রথম স্তর তখনই হাসিল হবে যখন আহলুস সুন্নাহ'র জনসাধারণ ইরানের উপর ভরসা করবে এবং তাকে নিজেদের লিডার মনে করবে। আর এই বিশ্বাস ও ভরসা অর্জন শুধু ঐ সময়ই সম্ভব যখন উম্মতে মুসলিমার বুনিয়াদী এবং সবচেয়ে বড় সমস্যার ব্যাপারে ইরান উঁচু আওয়াজে কথা বলবে।

    মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ ও বড় সমস্যার একটি, মসজিদে আকসার সমস্যা। ফিলিস্তিন হলো উম্মাহর পুরনো জখম। যদি কেউ উম্মতে মুসলিমার নেতৃত্ব চায়, উম্মাহর উপর নিজ আকিদা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে শক্তিশালী করতে চায়, অথচ সে ফিলিস্তিনের ব্যাপারে চুপ থাকে, তাহলে উম্মত কখনোই তার উপর ভরসা করবে না। এই কারণেই ইরান ফিলিস্তিন বিষয়ে ইসরাইলের বিরোধিতা করে। ইসরাইলের বিরুদ্ধে তাদের এ যুদ্ধ বেশির ভাগ মুখে মুখেই, তবে কাজেকর্মেও সামান্য কিছু হয় যা অস্বীকার করার মত নয়। “হিজবুল্লাহ” এর ইতিহাস দেখলে এই সূক্ষ্ম বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে যাবে।

    “হিজবুল্লাহ” লেবাননে সামরিক ও রাজনৈতিক একটি শিয়া গ্রুপ। তারা মূলত ইরানের আন্ডারে চলে এবং তারা ইরানের পররাষ্ট্রনীতির এক বাস্তব রূপ। এই গ্রুপের ভিত্তি ১৯৮২ ঈ. সনে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনের সময়। গ্রুপটি প্রথম দিন থেকেই নিজেদের লক্ষ্য ঘোষণা করেছে, দখলদার ইসরাইলকে খতম করা। বাস্তবেও এটা তাদের উদ্দেশ্য, তবে এর মানে কি ফিলিস্তিনসহ সারা বিশ্বের ইহুদীদের থেকে স্বাধীনতা অর্জন তাদের উদ্দেশ্য? এবং তারা কি বিশেষত এই উদ্দেশ্যেই লড়াই করছে?

    না…। বরং এটা তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের আখেরি পর্যায়ে থাকলে থাকতে পারে। কিন্তু তাদের প্রথম লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হলো, লেবানন থেকে ইসরাইলকে বের করা, এখানে নিজেদের শিয়া শাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং সমস্ত আহলুস সুন্নাহকে করায়ত্ত করতে এই ক্ষমতাকে ব্যবহার করা। এই কারণেই ইসরাইলের সাথে তাদের সব বিবাদের প্রথম দিন থেকেই তাদের উদ্দেশ্য হলো, ইসরাইল থেকে লেবাননের ভূমি উদ্ধার করা; ফিলিস্তিনকে স্বাধীন করা নয়।

    ১৯৯৩ ঈ. সনে যখন তাদের মাঝে যুদ্ধ হয় তখন ইসরাইল লেবানন ছেড়ে চলে যাওয়ার অভিমত পেশ করলে যুদ্ধ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ইসরাইল-লেবানন সীমান্তে পূর্ণ শান্তির অঙ্গীকার করা হয় এবং তারা লেবাননের পার্লামেন্ট রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০০০ ঈ. সন পর্যন্ত ইসরাইল লেবাননের সীমানার বাইরে থাকে, তবে লেবাননের দাবীকৃত “মাযারে শাবআ” নামক এলাকার উপর নিজের দখল বাকী রাখে। একারণে ২০০৬ ঈ. সনে আবার যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধ বন্ধ হয় জাতিসংঘের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে। হিজবুল্লাহ সিদ্ধান্তটি মেনে নেয়। তার মধ্যে বলা ছিল যে, ইসরাইল লেবাননের ভূমি ছেড়ে দিবে, আর হিজবুল্লাহ ইসরাইলের বিরুদ্ধে সব ধরণের কর্মসূচী বন্ধ করবে এবং হাতিয়ারও ছেড়ে দিবে।

    হিজবুল্লাহ হাতিয়ার ছাড়েনি, কিন্তু এর পর থেকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ঐরকম কর্মসূচী অবশ্যই বন্ধ করে দিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে হাসান নসরুল্লাহ এক ভিডিওতে নিজের অবস্থান দেখিয়ে জানায় যে, ‘ইসরাইল যদি লেবাননের ভূমিতে আগ্রাসন না চালায় তাহলে আমরাও ইসরাইলের বিরুদ্ধে কোন কর্মসূচী নিবো না। তবে রাজনৈতিকভাবে আমাদের এই দাবী বাকী থাকবে যে, ফিলিস্তিনের উপর ইহুদীদের দখলদারিত্ব অবৈধ।’ অর্থাৎ ফিলিস্তিনের আযাদির জন্য আমাদের থেকে মুখে মুখে কিছু জমা খরচ হবে, বাকী যুদ্ধ হবে না। যুদ্ধ শুধু লেবাননের ভূমি রক্ষার জন্য হবে; যে ভূমিতে হিজবুল্লাহ নিজের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করবে, যে ভূমিকে আরব বিশ্বে শিয়া ইরানের উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হবে।

    কিছুকাল যাবত (২০২০ সালের আগে) লেবাননের সীমান্ত এলাকায় হিজবুল্লাহ’র পূর্ণ ক্ষমতা চলেছে। যদি কোন জিহাদী গ্রুপ বা কোন মুজাহিদ ইসরাইলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করত, তাহলে খোদ হিজবুল্লাহ তাকে গ্রেফতার করে লেবাননের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বা সিরিয়ান (আসাদ) সেনাবাহিনীর কাছে সোপর্দ করে দিত। আবার অনেক মুজাহিদকে হিজবুল্লাহ নিজ আগ্রহে গ্রেফতার করিয়েছে। তাছাড়া ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য তো লেবাননের ভূমিতে ইসরাইলি হামলার শর্ত করা হয়েছে, কিন্তু আহলুস সুন্নাহ ও মুজাহিদীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য লেবাননের এমন কোন শর্ত নেই। আহলুস সুন্নাহ যদি লেবাননের উপর হামলা নাও করে, হিজবুল্লাহ’র বিরুদ্ধেও যদি না লড়ে, বরং শুধু সিরিয়ার তাগুত বাশার আল আসাদের জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ায়; তবুও হিজবুল্লাহ মনে করে যে, তাদের আন্দোলনকে প্রতিহত করা এবং তাদের জনসাধারণের উপর অত্যাচার চালানো, এটা তার যিম্মাদারি। এমনকি এই যিম্মাদারি পালনের জন্য সে লেবানন থেকে সিরিয়ায় পৌঁছে যেতে পারে।

    অথচ হিজবুল্লাহ সিরিয়ায় যেসকল মুজাহিদীনে আহলুস সুন্নাহ'র বিরুদ্ধে লড়ছে, তারা সবাই ইসরাইল ও আমেরিকার দুশমন। (এটিও স্পষ্ট জেনে রাখা উচিৎ যে, বাশার আল আসাদ একজন “নুসাইরী শিয়া” আর ইরানী শিয়া'রা অর্থাৎ “ইসনা আশারিয়ারা” নুসাইরী শিয়াদেরকে কাফের বলে থাকে। কিন্তু যেখানে আহলুস সুন্নাহ'র বিরুদ্ধে যুদ্ধের সুযোগ হয়েছে, সেখানে ইরান নিজে যাকে কাফের বলছে তার কাতারে দাড়িয়ে গেছে)।

    এসবের দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, লেবাননে হিজবুল্লাহ এর দ্বারা ইরানের টার্গেট হলো লেবাননে শিয়াদের ক্ষমতাকে মজবুত করা এবং বাকী আরব বিশ্বে আহলুস সুন্নাহ'র উপর বিজয় অর্জন করা। অবশ্যই তারা মৌখিকভাবে এবং মিডিয়ার মধ্যে ইসরাইলের বিরুদ্ধে কথা বলে এবং কিছু ফিলিস্তিনী মুজাহিদকে অনেক সাহায্যও করে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তাদের মূল সাহায্য সহযোগিতা হলো, আহলুস সুন্নাহ'র বিরুদ্ধে শিয়া মিলিশিয়াদের সাথে। আর এটা ফিলিস্তিনের কতক মুজাহিদকে করা সাহায্যের চেয়ে হাজার হাজার গুণ বেশি। তাছাড়া ফিলিস্তিনী মুজাহিদীনকে সহযোগিতায় তারা বাধ্য। কারণ, তারা এর মাধ্যমেই নিজেদেরকে উম্মাহর নেতা হিসাবে পেশ করতে পারবে।

    ইরানীদের নিকট তাদের দুশমনদের সূচীতে আহলুস সুন্নাহ এবং এর মুজাহিদগণ এক নাম্বারে আছেন। ইরানীদের এমন কোন সুযোগ পাওয়া যাবে না, যেখানে তারা আহলুস সুন্নাহ'র ক্ষতি সাধনের সুযোগ পেয়েও কোন ক্ষতি করেনি। অতএব ফিলিস্তিনকে স্বাধীন করার বিষয়টি তাদের অগ্রগণ্য বিষয়ের একেবারে শেষে থাকলে থাকতে পারে, অন্যথায় তাদের প্রথম অগ্রগণ্য বিষয় হলো, আহলুস সুন্নাহ'র এলাকাগুলো দখল করা। তবে এরই সাথে এমন কোন সুযোগও তারা হাতছাড়া করবে না যেখানে তারা উম্মতে মুসলিমার নেতা হিসাবে নিজেদেরকে দেখাতে পারে।


    ১১ই সেপ্টেম্বরের মোবারক হামলার পূর্বে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের উপর আমেরিকার পক্ষ থেকে চাপ ছিল। আমেরিকা শাইখ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ এর মারকাজগুলোর উপর আক্রমণ করল। এটা এমন এক সময় ছিল, যে সময়টাতে উম্মাহর দু‘আ শাইখ উসামার সাথে ছিল এবং তিনিই ফিলিস্তিনের আযাদির জন্য উম্মতে মুসলিমাকে জাগানো ও ঐক্যের ডাক দিচ্ছিলেন। কিন্তু ইরান কিভাবে এটা বরদাস্ত করতে পারে?


    তাই তারা এক ভদ্র লোকের মাধ্যমে শাইখ উসামাকে ইরান এসে বসবাসের আলোচনা করল। শাইখ বিষয়টি বুঝে ফেললেন এবং নেহায়েত কঠিনভাবে তা রদ করে দিলেন। যার কারণে সাথিদের কাছে নির্দেশ আসল, সাথিরা যেন তার সাথে সাক্ষাৎও না করে। অতঃপর যখন ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা হলো এবং ইমারাতে ইসলামিয়ার পতনের কারণে মুজাহিদরা ইরান ও পাকিস্তানের দিকে ছুটলেন, তখন ইরান একদিকে এসকল মুজাহিদকে ধরে ধরে জেলে পাঠাল, তাদেরকে আজীবন কারাদণ্ডের শাস্তি দিলো। অথচ তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোন কিছুই করেননি।

    অপরদিকে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার সাথে সাথে ইরান নিজেদের টিভি চ্যানেলগুলোতে এবং অন্যান্য গণমাধ্যমগুলোতে প্রোপাগান্ডা শুরু করে দিলো যে, এই হামলা খোদ আমেরিকানরা করেছে, এর মধ্যে ইহুদীদের হাত রয়েছে ইত্যাদি। এর আসল উদ্দেশ্য ছিল, আহলুস সুন্নাহ'র মুসলমানগণ যেন নিজেদের আসল মুহাফেজ তথা মুজাহিদীনকে চিনতে না পারে; বরং তারা যেন শুধু ইরানকেই নিজেদের দিক নির্দেশক হিসাবে দেখে।


    ইরান আমেরিকা পরস্পরে দোস্ত না দুশমন?

    বাস্তবতা এটাই যে, ইরান আমেরিকা পরস্পরে কখনোই দোস্ত ছিল না। আবার তারা সব জায়গায় সব কাজে দুশমনও ছিল না। কখনো তারা দুশমন আবার কখনো পরস্পরে সহযোগী ও একমতের হয়ে কাজ করেছে। বিভিন্ন স্বার্থ তাদের পরস্পরকে কাছাকাছি করে আবার এই স্বার্থের বিবাদই তাদের পরস্পরকে বিরুদ্ধে দাড় করিয়ে দেয়। নিজের বড়ত্ব অর্জন; তাদের সমস্ত বিবাদের মূল।

    ইরানের চিন্তা চেতনা পূর্বের পারস্য সালতানাতের চিন্তা চেতনার মতই। যারা পুরা দুনিয়াকে করায়ত্ত করতে চাইতো। আমেরিকা যেখানে যেখানে মুজাহিদীনের বিরুদ্ধে লড়ছে সেখানে ইরান ও আমেরিকার মাঝে পূর্ণ সহযোগিতা আছে। যেমন, পূর্বে বলেছিলাম ইরাক, ইয়েমেন ও শামে আহলুস সুন্নাহ'র বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরান ও আমেরিকা পরিপূর্ণ এক হৃদয়ের দুই দেহ। এখানে একটি প্রশ্ন থেকে যায় যে, তবুও তাদের মাঝে বিবাদ হয় কেন?

    আসলে তাদের মাঝে বিবাদ এজন্য হয় যে, আমেরিকা ও ইরান উভয়েই আরব বিশ্বের উপর নিজের ক্ষমতা কায়েম করতে চায়। সৌদি আরব, আরব আমিরাতসহ পুরা আরব বিশ্বের উপর আমেরিকার (অঘোষিতভাবে) কবজা আছে, আর ইরানও এই পুরা এলাকা নিজের আয়ত্তে আনতে চাচ্ছে; এটাই তাদের দ্বন্দ্বের কারণ, এজন্যই তারা একে অপরের বিরুদ্ধে দাড়ায়। এখানে আরেকটি সূক্ষ্ম বিষয় হলো, আমেরিকার জন্য পূর্ব মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের এমন আচরণ অনেক উপকারী, যতক্ষণ তা সীমার মধ্যে থাকবে। যদি ইরানে এ আচরণ খতম হয়ে যায় এবং আরব দেশগুলো ইরানী ঝুঁকি থেকে নিরাপদ হয়ে যায়, তাহলে আমেরিকা এবং আরব দেশগুলোর মাঝে “বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক” যে কোন সময় ঝুঁকিতে পড়বে। তাই ইরানের সাম্রাজ্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষার কারণে আরব শাসকদের ঝুঁকি থাকায় এর মোকাবেলার অজুহাতে আমেরিকা নিজের “সমর্থন ও সহযোগিতার” ঝুলি নিয়ে এখানে উপস্থিত থাকতে পারছে।

    সৌদি তেলের ডিপোতে ইরানী মদদপুষ্ট হুথিদের হামলার পর আমেরিকা সৌদিতে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে, যেমনিভাবে তারা কুয়েত ও সৌদির উপর কবজা প্রতিষ্ঠার জন্য সাদ্দামের নাম ব্যবহার করেছিল। সাদ্দাম যখন কুয়েতের উপর হামলা করতে যাবে তখন হামলা শুরু হওয়া পর্যন্ত আমেরিকা সাদ্দামকে আশ্বস্ত করেছিল যে, সে কোন রকম নাক গলাবে না। কিন্তু হামলা হওয়ার সাথে সাথে, তাকে হটানোর বাহানায় সে এসে পুরা জাযিরাতুল আরবকে কবজা করে নিলো এবং আজ পর্যন্ত সেখানকার সম্পদ লুট করে চলছে।

    আজ আরব শাসকদের ইরান ভীতিকে, আমেরিকা নিজের স্বার্থে ব্যবহার করছে। যদিও আরব বিশ্বের উপর আমেরিকার কবজার মূল কারণ, আরব শাসকদের ইসলামের প্রতি দুশমনি এবং তাদের বিলাসিতা। এজন্যই তারা মুজাহিদীন ও কল্যাণকামী জনগণেরও দুশমন। এদেরকে চাপে রাখার ক্ষেত্রেও এই শাসকরা আমেরিকান সাহায্য সহযোগিতাকে জরুরী মনে করে। আর দ্বিতীয় কারণ হলো, ইরান। আরব দেশগুলোকে আমেরিকার কলোনি বানানোর ক্ষেত্রে ইরান আমেরিকার একজন (গোপন) সহযোগী। ইরানী চাপ শুধু নামেই নয়, বাস্তবেও আরবদের বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক অগ্রসরতা জারী আছে।

    আবারও বলছি, এ পর্যন্ত ইরানের অগ্রসরতায় আমেরিকা ইরানকে হয়তো পুরা সহযোগিতা করছে অথবা নিজের উল্লেখিত স্বার্থে চোখ এড়িয়ে চলছে। ইরানের অগ্রসরতার অনুমান এভাবে করতে পারেন যে, ইরান ইরাককে মজবুতভাবে কবজা করে ফেলেছে। রাজনৈতিকভাবে ইরাকে ইরানেরই রাজত্ব চলছে। তাইতো ইরাকের জনসাধারণের মাঝে ইরানের অবস্থান ও হস্তক্ষেপ বিরোধী এখন (২০২০ সাল) যেই আন্দোলন চলছে, এর আন্দোলনকারীদেরকে ধমকিয়ে ইরানের আয়াতুল্লাহ খামেনি তেহরানে সেনাবাহিনীর এক প্যারেড অনুষ্ঠানের ভাষণে বলে, ‘নিয়ম কানুনের সীমার মধ্যে থেকো অন্যথায় কঠিন হস্তে তোমাদেরকে দমন করব’। ইরানী খামেনি! ইরাকী জনগণকে ধমকানো!! এ দুইয়ের মাঝে কী সম্পর্ক?

    এটা এজন্যই সম্ভব হয়েছে যে, ইরাক পুরোটাই ইরানী রাজনৈতিক কবজায় আবদ্ধ। কাসেম সোলাইমানি ইরাকে এমনভাবে আসা যাওয়া করত, এমন ভাবে ঘুরত, মনে হয় যেন ইরাক ইরানের কোন একটি প্রদেশ। সিরিয়াও পরিপূর্ণভাবে ইরানের আন্ডারে ছিল। লেবাননের হুকুমতও ইরানের সন্তুষ্টি ছাড়া গঠন হতে পারত না। আর ইয়েমেনের হুথিরা প্র্রকাশ্যভাবেই ইরানী মিলিশিয়া, যারা ইয়েমেনের পর সৌদির দিকে আগানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে। তাই আরব বিশ্ব ইরানী কর্তৃত্বের নিশ্চিত শঙ্কায় আছে।

    ইরানের বিস্তৃতিলাভকারী সমর্থন, ক্ষমতা এবং কর্তৃত্ব সৌদিকে সংকীর্ণ করে চলছে। সে ইরানকে যতটুকু ভয় পাচ্ছে, পালাতে চেষ্টা করছে এবং নিজেকে হেফাজত করতে চাচ্ছে, আমেরিকা তাকে ঠিক ততটুকু কোলে উঠিয়ে নিচ্ছে, তার উপর নিজের কর্তৃত্বকে মজবুত করছে, তার সম্পদ লুটছে এবং ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে নিজের দাবা খেলার সুন্দর সুযোগ পাচ্ছে। ইরানের অস্তিত্ব এবং তার ক্ষমতা বিস্তারের আকাঙ্ক্ষামূলক সিদ্ধান্তগুলো ফলাফলের ভিত্তিতে আমেরিকার জন্য সর্বদিক থেকে উপকারী। এই সব অবস্থার উপকার ইসরাইলও ভালভাবে ভোগ করছে।

    ইসরাইলের সাথে আরব দেশগুলোর বাহ্যিক সম্পর্কের দূরত্ব ছিল, কিন্তু যেহেতু তারা ইরানী দানবকে ভয় পায়, তাই ইরানের মোকাবেলায় তাদেরকে আমেরিকার সাপোর্ট ও আশ্রয় পেতে হলে শর্ত হলো, তাদের সাথে ও ইসরাইলের সাথে বন্ধুত্ব ও নৈকট্য থাকতে হবে। তাই সৌদির ইরানভীতির কারণে ইসরাইলের বিরাট ফায়দা হয়েছে। আজকে সৌদী এবং আরব আমিরাত ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়ে গেছে। বর্তমানে ইসরাইল ও আমেরিকা কুদসের ভূমিতে এখানকার মুসলমানদের বিরুদ্ধে যত নির্যাতনমূলক অভিযান চালাতে পারছে তার কারণ, এখন ফিলিস্তিনী মুসলমানরা আরব জনগণের সব ধরণের সমর্থন থেকে বঞ্চিত হয়ে গেছে। সকল আরব শাসক এখন পুরোপুরি ইসরাইলের মিত্র। এখন যে কোন জনসাধারণ বা জিহাদী ব্যক্তি ফিলিস্তিনী মুসলমানদের উপকারে সামনে বাড়ছে, আরব শাসকরা অনেক কঠিন হস্তে তাকে দমন করছে।

    সৌদিতে মুজাহিদীনকে এবং সরকার বিরোধীকে ধরার জন্য মোবাইলের মধ্যে অনেক উঁচু পর্যায়ের একটি নজরদারী এ্যাপ (Pegasus) ব্যবহৃত হচ্ছে। এই নজরদারী এ্যাপটি সৌদিকে ব্যবস্থা করে দিয়েছে ইসরাইল।

    অনুরূপ আরব আমিরাতে নিয়মিত ইসরাইলি ড্রোন তৈরি হচ্ছে। টাকা দিচ্ছে আরব আমিরাত, ইঞ্জিনিয়ার দিচ্ছে ইসরাইল, ড্রোনে উভয়ে অংশীদার। স্বাভাবিকভাবে এ ড্রোনগুলো মুজাহিদীনের বিরুদ্ধেই ব্যবহার হবে।

    মিশর এই ড্রোনগুলোই মুজাহিদদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে। সিনাই মরুভূমিতে মুজাহিদীনের বিরুদ্ধে মিশর যেই অপারেশন চালিয়েছিল সেখানে এই আমিরাত-ইসরাইলের তৈরি ড্রোনগুলো ব্যবহৃত হয়েছে।

    প্রথমে বলেছিলাম, ইরান ও আমেরিকার মাঝে কিছু দুশমনি আছে। তবু খোদ আমেরিকাই ইরানকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে যে, আজ তারা সকল আরব দেশের জন্য ঝুঁকি হয়ে আছে। কিন্তু যখন ইরান নিজের জন্য আমেরিকার পক্ষ থেকে নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে যায় এবং উম্মতে মুসলিমার ঐ সকল সম্পদের দিকে সামনে বাড়ার চেষ্টা করে, যার উপর আমেরিকা এবং তার গোলাম আরব শাসকদের কর্তৃত্ব আছে, তখন আমেরিকার তাকে সীমা পর্যন্ত আটকে রাখার জন্য সিগনাল দেয়। যেমন, হুথিরা যখন থেকে সৌদির উপর মিসাইল হামলা শুরু করল এবং আরব উপসাগরে সৌদি জাহাজগুলোর উপর হুথিদের হামলা হলো তখন আমেরিকা ইরানকে কঠোর হুমকি দিয়েছিল।

    সৌদি তেলের ডিপোতে হামলা ছিল ইরানের অনাকাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ এবং অনেক সীমাতিরিক্ত পদক্ষেপ, তাই এর জবাবে ইরানী জেনারেলকে হত্যা করা হলো, আবার সে হলো কাসেম সোলাইমানির মত ব্যক্তি। এটা আমেরিকারও অনাকাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ। এটা আমেরিকার পক্ষ থেকে ইরানের জন্য পয়গাম, তারা যেন ঐ সীমার মধ্যে থাকে যা তাদেরকে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এরচেয়ে আগে বাড়াটা অগ্রহণযোগ্য।

    কাসেম সোলাইমানির মৃত্যুর পর যখন রেডিও তেহরানে আহাজারী চলছিল, তখন এক ইরানী বললো, ‘কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করে আবারও এটা প্রমাণিত হলো যে, আমেরিকা সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। প্রথমবার প্রমাণিত হয়েছে ১৯৮৮ ঈ.-তে যখন পারস্য সাগরে আমেরিকা ইরানী জাহাজকে নিজ সমুদ্র সীমা থেকে ক্রুজ মিসাইল হামলা করে ধ্বংস করেছিল। সেই ঘটনায় ২৯০ জন ইরানী নিহত হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৬৬ জন ছিল শিশু।’

    ইরানের আহাজারীর ধোঁকাবাজি ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ নেই! বাস্তবেই তখন আমেরিকা ইরানী জাহাজ ধ্বংস করেছিল এবং এই পরিমাণ ইরানীও মৃত্যু মুখে পতিত হয়েছিল। কিন্তু প্রশ্ন হলো: আমেরিকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কি এ দুটিই মাত্র ঘটনা? ইরানী জাহাজ, আর কাসেম সোলাইমানির হত্যা!? এই দুই ঘটনার মধ্যবর্তী সময়ে আফগানিস্তান, ইরাক, ইয়েমেন, শাম, মালি, সোমালিয়া বরং পুরা দুনিয়ায় আমেরিকার হাতে যেই মুসলমানরা গণহত্যার শিকার হয়েছে সেগুলো কি তেহরানের মতে কোন রকম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নয়??

    জি হাঁ, সেগুলো তেহরানের মতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নয়। কারণ, সেখানের প্রবাহিত খুন আহলুস সুন্নাহ'র; কোন শিয়া'র নয়। এই কারণেই আজ পর্যন্ত এই সকল জুলুম অত্যাচারের বিরুদ্ধে ইরান কখনো কথা বলেনি এবং কোন শিয়া আলেমের পক্ষ থেকে এসব জুলুমের কারণে জিহাদ ফরজ হওয়ার ফাতাওয়া বা আবেদনও আসেনি।

    দ্বিতীয়ত: যেহেতু এই খুন প্রবাহিত করার ক্ষেত্রে খোদ ইরানও শরিক আছে, এজন্য তেহরান রেডিও এর আলোচনা কখনোই করবে না।

    তৃতীয়ত: ১৯৮৮ ঈ. -তে আমেরিকা আপনাদের জাহাজ ধ্বংস করেছিল, তো এরপর আপনারা কী করলেন! আপনারাতো এরপরই আহলুস সুন্নাহ'র বিরুদ্ধে তাদের সহযোগিতা ও সাহায্যকারী হয়ে গেলেন!

    (আপনাদের দাবী অনুযায়ী) আপনাদের জাহাজ ধ্বংস করে আমেরিকা সন্ত্রাসী হয়ে গেছে। তাহলে এরপরও কেন আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া এবং ইয়েমেনে আপনি তার মিত্র হয়ে গেলেন? এই সন্ত্রাসী, জালেম, কাফের ও শয়তান আমেরিকার মিত্র!! এটা শুধু এজন্যই করেছেন যে, এখানে মূল উদ্দেশ্য হলো আহলুস সুন্নাহ'র খুন প্রবাহিত করা। তাহলে আহলুস সুন্নাহ'র উপর তোমাদের বিজয় অর্জনের জন্য তোমরা ঐ ব্যক্তিরও সাহায্যকারী ও মিত্র হয়ে যেতে পারো যাকে তোমাদের খামেনি “সবচে বড় শয়তান” বলেছে এবং সে খোদ তোমাদেরও দুশমন ও হত্যাকারী! অতএব, এমন পরিস্থিতিতে আজ যা ঘটল সেটাকে আমরা তোমাদের কৃতকর্মের ফল বলব না কেন?!

    শাইখ আইমান আয যাওয়াহিরী হাফিযাহুল্লাহ অনেক আগেই বলেছিলেন, ‘ইরান যেই ফসল বুনছে সেই ফসল শীঘ্রই নিজে কাটবে বা একটু দেরীতে কাটবে। যখন সে নিজের ফসল কাটবে তখন অন্য কাউকে নয় বরং নিজে নিজেকেই যেন তিরস্কার করে!’

    এখনো এটা বুঝা যাচ্ছে না যে, ইরান ও আমেরিকার মাঝে এই সংকট বর্তমানের তীব্রতা থেকে বাড়বে কি না? তবে এটাই বাস্তব যে, সময়ের সাথে এই তীব্রতা কমে যাবে। তার কারণ, “আমেরিকার মৃত্যু হোক” এই স্লোগান ইরানতো অনেক দিয়েছে; কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা আমেরিকার সকল জুলুম, নির্যাতন ও অন্যায়ের মোকাবেলায় পূর্ণমাত্রায় “ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা এবং মাফ ও ক্ষমার” পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। এজন্য ভবিষ্যতেও এমন আশা যে, প্রতিশোধমূলক কিছু কাজ ইরান করবে; যাতে করে তার ইজ্জতও ঠিক থাকে আবার আমেরিকাও বেশি বিগড়ে না যায়।

    আহলুস সুন্নাহ'র বিরুদ্ধে ইরানের বিজয় চলতে থাকবে আবার আমেরিকার সাথেও তারা বাস্তবিক শত্রুতা রাখবে এটাতো অসম্ভব বিষয়। কোন এক পর্যায়ে তাদেরকে আলোচনায় বসতে হবে, (তখন সব সহজেই সমাধান হয়ে যাবে)। এজন্য এটাই মনে হচ্ছে যে, আমেরিকার বিরুদ্ধে তার মৌখিক অনেক বাক্য ব্যয় হতে থাকবে, কিন্তু কার্যক্ষেত্রে আমেরিকাকে মাফ করে দেওয়ার মধ্যেই সে নিজের উপকার মনে করবে। (২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েল আগ বেড়ে ইরান হামলা না করলে, লিখকের কথাই বাস্তবতা ছিল।)

    আরেকটি সূক্ষ্ম বিষয় বাকী আছে সেটা হলো, ইসরাইল ও আমেরিকা এবং সৌদি সরকার সবাই মিত্র। আর এই মিত্রতায় শুধু মুসলমানরাই ধ্বংস হচ্ছে; যার উপকারিতা ভোগ করছে ইরানসহ তারা তিন জনে। জালেম সৌদি শুধু নিজের বিলাসিতার জন্য, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জাজিরায়ে আরবকে কুফুরির আড্ডাখানা বানিয়েছে। উপসাগরীয় যুদ্ধের আগে শাইখ উসামা রহিমাহুল্লাহ সৌদি শাসকদের সাথে নিয়ম মাফিক আলোচনা করেছেন এবং এই আবেদন করেছেন যে, ‘সৌদির নিরাপত্তার জন্য কোন কাফেরকে সৌদির ভূমিতে আনবেন না। এখানকার নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব মুজাহিদীনকে দিয়ে দিন। ইরানী শিয়া অথবা সাদ্দাম হোসাইন হোক, সবধরণের ঝুঁকির জন্য ইনশাআল্লাহ মুজাহিদীনরাই যথেষ্ট হবেন। ’

    যদি সৌদি তখন এটা মেনে নিতো তাহলে আজ পুরা বিশ্বের নকশা ভিন্ন রকম হতো এবং সবদিকে ইসলামের বসন্ত দেখা যেতো। কিন্তু সৌদি শাসকদের অনুমান ছিল, যদি মুজাহিদীনকে সৌদির নিরাপত্তার জিম্মাদারি দেওয়া হয় তাহলে তাদের মুনাফেকি, বিলাসিতা এবং ইসলাম বিরোধী সিদ্ধান্ত আর চলবে না। এই কারণেই তারা শাইখ উসামার আবেদনকে শুধু রদ করেনি বরং শাইখকে ফেরারি আসামি ঘোষণা দিয়েছে!!

    এখন অবস্থা হলো, আমেরিকা নিজ সহযোগিতার জন্য সৌদি হুকুমতকে শুধু জিহাদী আন্দোলনের বিরোধিতার শর্ত করেনি বরং এর সাথে সাথে সৌদিতে ইসলাম, লজ্জা ও সতীত্বের জানাযা পড়ানোর জিম্মাদারি দিয়েছে। আল্লাহর আদেশে কখনো হারামাইন শারিফাইনের ভূমি থেকে ইসলাম বিদায় নিবে না। কিন্তু মুহাম্মদ বিন সালমান উলঙ্গপনা ও অশ্লীলতা ব্যাপক করার জন্য বিরাট বড় টার্গেটে এবং সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে, যার উপর অনেক দ্রুততার সাথে কাজ চলছে। এ সবকিছু উম্মাহর দরদী ব্যক্তিদের জন্য সীমাহীন কষ্ট ও দুঃখের কারণ। তাই এখন যেসকল কাজে উম্মতে মুসলিমার ফায়দা নিহিত, যার দ্বারা উম্মাহর সকল দুশমন দুর্বল হতে থাকবে, সেগুলো করতে থাকুন। আল্লাহর যে সকল বান্দা আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী দেখতে চান, তারা শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ হোন।

    যদি আমেরিকা এবং ইরানের মাঝে বৈরিতা বাড়তে থাকে তাহলে সরাসরি সৌদি শাসকগোষ্ঠী ও সৌদি সরকারের উপর এর প্রতিক্রিয়া পড়বে। এবং এ সবের দ্বারা ইনশাআল্লাহ আমাদের কল্যাণ হবে এবং ইনশাআল্লাহ ইয়েমেনের জিহাদী কাফেলা ও শামের মুজাহিদগণ এবং খোরাসানের শাহ সোওয়ারগণ (নিপুণ যোদ্ধা) সবার জন্য এর দ্বারা আসানী পয়দা হবে। (২০২০ সালে লিখিত, আজ তা বাস্তবতা)

    যে পরিমাণ দ্রুত গতিতে অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে এতে মনে হচ্ছে, বিশ্ব জুলুমী শাসনের হায়াত এখন আর বেশি দিন বাকী নেই। আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহ, যে সকল অপরাধীরা এক হয়ে মুসলমানদের রক্ত ঝরাতো আজ তাদের ঐক্যে ফাটল দেখা যাচ্ছে। আল্লাহ তা‘আলা এই ফাটলকে আরো বাড়িয়ে দিন এবং এর থেকে উম্মাহর মুজাহিদীনের জন্য কল্যাণ বয়ে আনুন। আমীন ছুম্মা আমীন।

    আলহামদুলিল্লাহ মুজাহিদদের নিজ প্রভুর উপর দৃঢ় বিশ্বাস আছে যে, তিনি সামনের হালতকে উম্মতে মুসলিমার জন্য কল্যাণের কারণ বানাবেন। ইনশাআল্লাহ নিকট ভবিষ্যতে আফগানিস্তানে ইমারাতে ইসলামিয়া পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবে। (আলহামদুলিল্লাহ্‌ এটা আল্লাহ্‌র অনুগ্রহে হয়েছে)। ইয়েমেন ও শামে মুজাহিদীনের কার্যক্রম আমরা প্রত্যক্ষ করছি। (শামেও বিজয় হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ্‌)। এরসাথে আবার ইনশাআল্লাহ গাযওয়ায়ে হিন্দের সময় ঘনিয়ে আসা মনে হচ্ছে, যার জন্য কুফফার এবং আহলে ঈমান উভয়ের মাঝে প্রস্তুতি চলমান দেখা যাচ্ছে। যাই হোক বর্তমান পরিস্থিতিতে মুসলিম জনসাধারণকে মুনাফেক ও ঈমানের তাবুগুলো চেনা আবশ্যক এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    এই উম্মাহ আলহামদুলিল্লাহ নেতা শূন্য নয় এবং মুহাফেজ শূন্য নয়। তাদের হাকীকী মুহাফেজ এবং পাহারাদার হলো মুজাহিদীনে আহলুস সুন্নাহ। যে মুজাহিদীন উম্মাহর তৃতীয় ওমর, আমীরুল মুমিনীন মোল্লা মুহাম্মাদ ওমর মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ এর অদ্বিতীয় মহান কাফেলার সৈনিক। এই মুজাহিদীন যাদেরকেই উম্মাহর বড় দুশমন এবং জালেম হিসাবে পেয়েছে, তাদেরকে তাদের ঘরে গিয়ে আঘাত করেছে। তারা খোরাসান থেকে ইয়েমেন ও সোমালিয়া পর্যন্ত গত ত্রিশ বছর যাবত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ময়দানে জমে আছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা এই মহান সৈন্যবাহিনীকে তাদের জনবল ও আসবাব না থাকা সত্ত্বেও তাদের উঁচু হিম্মতওয়ালা নেতাদের মাধ্যমে, আমেরিকা এবং তার সাথে এ যুগের আহযাবকে (সমস্ত কুফফার বাহিনী) আফগানিস্তানের ভূমিতে সন্দেহাতীতভাবে পরাজিত করেছেন।

    গাযওয়ায়ে আহযাবের সময় কাফেরদের ব্যর্থ ও উদ্দেশ্যহীন ফিরে যাওয়ার পর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেই মোবারক বাক্যটি বলেছেন, আজও মুজাহিদগণ তার পূর্ণ বাস্তবতা প্রত্যক্ষ করছেন। তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন,
    (الآن نغزوهم، ولايغزونا)
    ‘এখন আমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব তারা আর আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারবে না!’

    জি হাঁ, এখন শুধু আমাদেরই সুযোগ। আলহামদুলিল্লাহ ইমারাতে ইসলামিয়ার বাইআতপ্রাপ্ত মুজাহিদীন খোরাসান ও ভারত উপমহাদেশ থেকে ইয়েমেন, মালি ও সোমালিয়া পর্যন্ত বাইতুল মাকদিসের দিকে নিজেদের সফর জারী রেখেছেন। উম্মাহর এই হীরা ও মণিমুক্তারা ইসলামের বিজয় ও কুফরের ধ্বংস এবং উম্মাহর সম্মান ও মর্যাদাকে আজ প্রমাণিত করেছেন। যদি আপনি চান তাহলে আসুন; জিহাদী আন্দোলনের এই মহান কাফেলায় শামিল হয়ে যান। আজকে এই কাফেলার সাথে যেই নিজেকে জুড়েছে, সে ঈমানের তাবু চিনে গেছে। তাকে কোন শিয়া'র “আমেরিকা নিপাত যাক” স্লোগান, সালমান বা মুহাম্মদ বিন সালমানের “খাদেমূল হারামাইন” উপাধি, এবং এরদোগানের মত লোকদের “নেতৃত্ব” আর ধোঁকায় ফেলতে পারবে না।

    তাদের সামনে হক এবং আহলে হকের সেই পরিচয়ই থাকবে যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা তাঁর কিতাবে বয়ান করেছেন। সে প্রথমে দেখবে যে, কোনো নেতা তার দাওয়াত ও আন্দোলনের ক্ষেত্রে এই ছাঁচের উপর পূর্ণ ফিট হচ্ছেন কি না? আল্লাহ রব্বুল ইজ্জত বলেন,

    {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَنْ يَرْتَدَّ مِنْكُمْ عَنْ دِينِه فَسَوْفَ يَأْتِي االلهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَه أَذِلَّةٍ عَلى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلى الْكَافِرِينَ يُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا يَخَافُونَ لَوْمَةَ لَائِمٍ ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ . إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ . وَمَنْ يَتَوَلَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا فَإِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْغَالِبُونَ . يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الَّذِينَ اتَّخَذُوا دِينَكُمْ هُزُوًا وَلَعِبًا مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَالْكُفَّارَ أَوْلِيَاءَ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ .} [المائدة 57]

    ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের থেকে যে তার দ্বীন থেকে ফিরে যাবে, আল্লাহ তা‘আলা অচিরেই (তাদের হটিয়ে) এমন এক কওমকে আনবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন এবং তারা তাঁকে ভালবাসবে। তারা ঈমানদারদের প্রতি বিনয়-নম্র হবে, আর কাফেরদের প্রতি অনেক কঠোর হবে। তারা আল্লাহর রাহে জিহাদ করবে এবং কোন তিরস্কারকারীর তিরস্কারকে পরোয়া করবে না। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে দান করেন এবং আল্লাহ তা‘আলা প্রাচুর্য দানকারী, মহাজ্ঞানী।
    তোমাদের বন্ধুতো আল্লাহ তা‘আলা ও তার রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং ঈমানদারগণ, যারা নামায কায়েম করে এবং নত হয়ে যাকাত আদায় করে, আর যারা আল্লাহ তা‘আলা, তার রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং মুমিনদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে। (সুতরাং শুনে রাখো, তারাই আল্লাহ দল) আর নিশ্চয়ই শুধু আল্লাহর দলই বিজয়ী।
    হে ঈমানদারগণ! আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে যারা তোমাদের দ্বীনকে উপহাস ও খেল-তামাশার বস্তু বানায় তাদেরকে এবং অন্যান্য কাফেরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। আর তাকওয়া অবলম্বন করো যদি তোমরা মুমিন হও’। [সূরা মায়েদা: ৫৪-৫৭]

    এই আয়াতে কারীমায় আহলে হককে চিনার সকল আলামত বর্ণিত হয়েছে এবং আহলে হক হওয়ার মাপকাঠিও বলে দেওয়া হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ।

    আল্লাহ তা‘আলা উম্মতে মুসলিমাকে হক-কে, হক হিসাবে চিনিয়ে দিন এবং তাদেরকে হক-কে সাহায্য ও শক্তিশালী করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে বাতিল-কে, বাতিল হিসাবে চিনিয়ে দিন এবং বাতিল থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আল্লাহর কাছে দুআ করি তিনি যেন কুফফার ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে সকল ইমানদার ও মুজাহিদগণকে সাহায্য করেন এবং আল্লাহ তা‘আলা আমাদের আগামীকে উম্মাহর হেদায়াত, নুসরত ও ইজ্জতের যুগ বানিয়ে দেন। আমীন ইয়া রব্বাল আ’লামীন।

    وصلى الله تعالى على النبي الكريم وعلى اله واصحابه اجمعين. برحمتك يا ارحم الراحيمن.
    (‘নাওয়ায়ে আফগান জিহাদ’ ম্যাগাজিনের জানুয়ারী-২০২০ সংখার ৫৯ পৃষ্ঠা থেকে সংগৃহীত ও অনূদিত)​


  • #2
    শিয়াদের গুরুত্বপূর্ণ কিছু আকিদা দলিল সহ আমাদের সকলের জানা থাকা দরকার, তাহলে শত্রু মিত্র (চেনা) সহজ হবে ইনশাআল্লাহ
    Last edited by Rakibul Hassan; 16 hours ago.

    Comment

    Working...
    X