Announcement

Collapse
No announcement yet.

সিরিয়ায় ফরাসি মুহাজিরদের ওপর কী চলছে? || পর্ব-২ || মূল : হামিদ আল-কৌসি || অনুবাদ : মুনশি আব্দুর রহমান

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • সিরিয়ায় ফরাসি মুহাজিরদের ওপর কী চলছে? || পর্ব-২ || মূল : হামিদ আল-কৌসি || অনুবাদ : মুনশি আব্দুর রহমান



    [প্রথম পর্বের পর]


    ভিডিওটিতে বলা হয়, ফরাসি যোদ্ধারা কেবল তাদের মাতৃভূমিই ত্যাগ করেনি; বরং পরিবার পরিজনকে বিদায় জানিয়ে এক আরামদায়ক ও নিরাপদ জীবনকেও বিসর্জন দিয়েছে। তারা ফ্রান্স বা সেখানকার আধুনিকতার চাকচিক্য থেকে পালিয়ে আসেনি; বরং সিরিয়ার মজলুম মানুষের সাহায্যার্থে যে ডাককে তারা সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল, ঠিক সেই ডাকে সাড়া দিতেই তারা ছুটে এসেছে। মূলত সিরীয়দের অবর্ণনীয় দুর্দশার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চরম উদাসীনতাকে প্রত্যাখ্যান করেই তাদের এই আগমন।

    এতে স্পষ্ট করা হয় যে, ফরাসি যোদ্ধারা কোনো জাগতিক লালসা বা ক্ষণস্থায়ী খেয়ালের বশবর্তী হয়ে সিরিয়ার মাটিতে পা রাখেনি। বরং তারা এমন এক সুমহান ইমানি আহ্বানে সাড়া দিয়ে এসেছে, যা দুনিয়ার তাবৎ ভোগ-বিলাস ও চাকচিক্যকে হার মানায়। অসহায় মজলুমের সাহায্যে এগিয়ে আসাকে তারা নিজেদের কাঁধে অর্পিত এক পবিত্র অঙ্গীকার হিসেবে গ্রহণ করেছে; যে অঙ্গীকার তাদের ক্ষুদ্র ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে ঢের বেশি বিস্তৃত এবং ব্যক্তিগত স্বপ্নের চেয়েও অনেক বেশি মহৎ।

    ভিডিওটির ভাষ্যমতে, যুদ্ধ ও চরম দুর্দশার এক ভয়াবহ আবহে, বুলেটের বৃষ্টি আর ধুলোমাখা ধ্বংসস্তূপের মাঝেই সিরিয়ায় এই ফরাসি যোদ্ধাদের পথচলা রচিত হয়েছিল। তারা বইয়ের শুষ্ক পাতা বা ফাঁকা স্লোগান থেকে নয়; বরং দৈনন্দিন জীবনের রূঢ় বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই ধৈর্য, ভ্রাতৃত্ব ও আত্মত্যাগের প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করেছে। তারা বিনিদ্র রজনী, মৃত্যুভয় এবং প্রিয়জন হারানোর তীব্র বেদনাকে খুব কাছ থেকে অনুভব করেছে। রাতের পর রাত কীভাবে কাঁধে করে লাশ বয়ে নিয়ে যেতে হয় এবং কীভাবে আকুল প্রার্থনার সাথে তপ্ত অশ্রু একাকার হয়ে যায়, তা তারা স্বচক্ষে দেখেছে।

    সিরিয়ায় আসা এই ফরাসি যোদ্ধাদের প্রত্যেকের পটভূমি ও জীবন-অভিজ্ঞতা ছিল একেবারেই ভিন্ন। কিন্তু এই বৈচিত্র্যের মাঝেই তারা নিজেদের প্রকৃত শক্তির উৎস খুঁজে পেয়েছিল বলে ভিডিওটিতে দাবি করা হয়। এতে বলা হয়, সিরিয়ায় পৌঁছানোর পর থেকেই তারা ওমর ওমসেনের ছত্রছায়ায় সমবেত হয়। তাকে এমন একজন দাঈ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মানুষের বিশ্বাসকে কলুষমুক্ত করতে, জুলুমের পথ বর্জন করতে এবং পরম করুণাময়ের নৈকট্য লাভের আহ্বানে নিজেকে সম্পূর্ণ নিয়োজিত রেখেছেন।

    ওমর ওমসেনের সাথে এই সাক্ষাৎ গোষ্ঠীটির সদস্যদের জীবনে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসে। তাদের দাবি, এটি কোনোভাবেই তথাকথিত মগজধোলাই বা অনুসারীদের দাসে পরিণত করার কোনো ঘৃণ্য প্রক্রিয়া ছিল না। বরং এটি ছিল মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে একনিষ্ঠতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ধর্মীয় অনুশাসনের শাশ্বত মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করার এক অতুলনীয় মাধ্যম।

    ওমর ওমসেন জানান, গোষ্ঠীটির সদস্যরা এমন একটি কাঙ্ক্ষিত সমাজ খুঁজে পাওয়ার আগে মূলত “অপরিচিতদের মাঝেও অপরিচিত” (غرباء بين الغرباء) ছিল; যে সমাজটি পরম মমতায় তাদের বুকে টেনে নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিবারের অনুভূতি দিয়েছে। এমন এক পরিবার, যারা নিজেদের সামান্য সম্বলটুকুও হাসি মুখে ভাগ করে নেয়, অসুস্থদের পরম মমতায় সেবা করে, মৃতদের যথাযথ সম্মান জানায় এবং জীবনের প্রতিটি ধাপে সন্তানদের পাশে বটবৃক্ষের ছায়ার মতো অবিচল দাঁড়িয়ে থাকে।

    তিনি আরও স্পষ্ট করেন, সিরীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেটিকে ‘নিয়ন্ত্রণ’ বলে আখ্যায়িত করছে, তা মূলত গোষ্ঠীটির সদস্যদের মধ্যকার ইস্পাতকঠিন ঐক্য ও সংহতি ছাড়া আর কিছুই নয়। তারা যেটিকে ‘বিপদ’ বলে প্রচার করছে, তা কেবলই এক সুগভীর বিশ্বাস, যা এর অনুসারীরা মনেপ্রাণে ধারণ করে। আর তারা যেটিকে ‘প্রতারণা’ বলে মনে করছে, তা নিছকই ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার এক অকৃত্রিম ও অবিচ্ছেদ্য বন্ধন। গোষ্ঠীটিকে চরমপন্থী বা বিপথগামী আখ্যা দেওয়ার যাবতীয় অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখানকার সদস্যরা নিজেদেরকে কেবলই মুমিন হিসেবে বিবেচনা করে; যারা পারস্পরিক ভালোবাসা, সম্মান ও অবিচল আনুগত্যের সুতোয় এক সুতোয় গাঁথা।

    ওমর ওমসেনের ভাষায়, গোষ্ঠীটির সদস্যরা কোনো অর্থেই পাগল বা চরমপন্থী নয়, বরং তারা খাঁটি মুমিন। ন্যায়বিচারের প্রতি অবিচল বিশ্বাস রাখা, মজলুমের পক্ষে সোচ্চার হওয়া এবং নিজের নীতির ওপর অটল থাকাকে কোনোভাবেই অপরাধ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয় বলে তিনি মত দেন। তার মতে, মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে সস্তা প্রশংসা কুড়ানোর চেয়ে, নিজের বিশ্বাসকে চরম সত্য জেনে তা আঁকড়ে ধরে অপবাদ সহ্য করাও অনেক বেশি শ্রেয় ও মর্যাদাপূর্ণ।

    গোষ্ঠীটিকে লক্ষ্য করে চালানো অব্যাহত অপপ্রচারের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ভিডিওটিতে অভিযোগ করা হয়, এসব ষড়যন্ত্রের পেছনে এমন কিছু কুচক্রী মহল রয়েছে, যারা পর্দার আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ছে। ফরাসি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যার কারখানা’ সচল রাখতে এবং অপপ্রচারের পরিধি প্রতিনিয়ত বাড়াতে তারা সদা সচেষ্ট, আর এই অপতৎপরতার একেবারে সামনের সারিতে রয়েছে স্বয়ং ফরাসি সরকার।

    ফরাসি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলে গোষ্ঠীটি জানায়, তারা এই যোদ্ধাদের একটি পূর্বনির্ধারিত ছকে বন্দি করে গায়ে নেতিবাচক তকমা সেঁটে দেওয়ার কূটকৌশল অবলম্বন করছে। ফরাসি সরকার এই সাজানো আখ্যানটি অন্যান্য পক্ষ ও সংস্থার ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে; যেন আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর অন্যায্য কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

    ভিডিওটিতে আইএসের সাথে গোষ্ঠীটির কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা থাকার কথা আবারও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় অস্বীকার করা হয়। তাদের দাবি, গোষ্ঠীটির সদস্যদের নির্বিচারে লক্ষ্যবস্তু বানানোর একটি আইনি বৈধতা তৈরি করতেই এই ভিত্তিহীন অভিযোগটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাজানো হয়েছে। এমনকি ইসলামি ধারার সাথে যুক্ত কিছু পক্ষও এই মিথ্যা আখ্যান পুনরুৎপাদন ও প্রচারে সহায়তা করছে বলে তারা অভিযোগ তোলে।

    এসব অমূলক অভিযোগের সাথে ইদলিবের গ্রামীণ এলাকা হারেমে অবস্থিত ফরাসি গুরাবা যোদ্ধাদের ক্যাম্পের ওপর চালানো বর্বরোচিত হামলার একটি সুস্পষ্ট যোগসূত্র টানা হয় ভিডিওটিতে। সিরীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনুগত বাহিনী ভারী অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে ওই ন্যক্কারজনক হামলা চালিয়েছিল।

    এতে স্পষ্ট করে বলা হয়, ওই সামরিক অভিযানটিকে জনসমক্ষে ১১ বছর বয়সী এক বালিকাকে উদ্ধারের মিশন হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল। দাবি করা হয়েছিল, গোষ্ঠীটি নাকি ওই বালিকাকে ক্যাম্পের ভেতরে জোরপূর্বক আটকে রেখেছে। তবে ভিডিওটিতে এই আখ্যানটিকে ভয়াবহ সামরিক অভিযানের বৈধতা আদায়ের একটি সস্তা অজুহাত হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তারা বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলে, মাত্র একজন বালিকাকে উদ্ধারের নামে ভারী অস্ত্র ব্যবহারের যৌক্তিকতা কোথায়? যেখানে এর ফলে গোটা ক্যাম্পের সমস্ত শিশুর জীবন চরমভাবে বিপন্ন বা মৃত্যুর মুখে পতিত হতে পারত!

    পরবর্তীতে বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে সরকারি আখ্যানটি অক্ষরে অক্ষরে খণ্ডন করা হয়েছে বলে ভিডিওটিতে জানানো হয়। তারা গভীর বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশ্ন রাখে, যে সিরীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রকাশ্যে ইসলামের স্লোগান ধারণ করে, তারা কীভাবে এত বড় এবং বিপজ্জনক একটি সামরিক অভিযানের অনুমতি দিতে পারে? যার পরিণতি হতে পারত কল্পনাতীত ভয়াবহ!

    এসব জঘন্য ঘটনার জন্য মূলত ফরাসি সরকারকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। বলা হয়েছে, যে প্যারিস বিশ্বমঞ্চে মানবাধিকার রক্ষার বড়াই করে, তারাই আবার এই গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে ক্রমাগত অমানবিক চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে।

    এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ফ্রান্স এর আগে তুরস্ককেও গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে ঠিক একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্ররোচিত করার চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু আঙ্কারা তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে। এই ব্যর্থতার পরই প্যারিস এই ইস্যুটি মোকাবিলার জন্য মরিয়া হয়ে অন্য পথ খুঁজতে বাধ্য হয়; যার ফলশ্রুতিতে তারা সিরীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর নির্ভর করার কৌশল বেছে নেয়।

    এই প্রেক্ষাপটেই ভিডিওটিতে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট “আহমদ আল-শারা”-এর প্যারিস সফরের সময় দেওয়া কিছু তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরা হয়। সেখানে তিনি সিরিয়ায় অবস্থানরত ফরাসি বিদেশি যোদ্ধাদের ইস্যু এবং এ সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছিলেন। পাশাপাশি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর বক্তব্যও প্রচার করা হয়; যেখানে তিনি আইএস এবং প্যারিসের কালো তালিকায় থাকা অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মোকাবিলায় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন।

    ফরাসি চ্যানেল “LCI”-তে ফরাসি সাংবাদিক “দারিউস রোশিবিন” কর্তৃক গৃহীত একটি সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষও ভিডিওটিতে তুলে ধরা হয়। ওই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকারে উপস্থিত ছিলেন ফরাসি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থার (DGSI) মহাপরিচালক “সেলিন বার্থন” এবং সংস্থাটির সাবেক মহাপরিচালক “প্যাট্রিক কালভার”।

    সাক্ষাৎকারে রোশিবিন মন্তব্য করেন, ওমর ওমসেন এখনও বহাল তবিয়তে বেঁচে আছেন এবং তার সাথে যুক্ত বেশ কয়েকজন ব্যক্তি এখনও ব্যাপক প্রভাব বিস্তার ও ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখেন। এরপর অতিথিরা সিরিয়ার অভ্যন্তরে ওমসেনের ফাইল এবং তার গোষ্ঠীর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। মূলত ফরাসি নিরাপত্তা মহলে এই স্পর্শকাতর ইস্যুটি কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে চলমান বিতর্কের অংশ হিসেবেই এই আলোচনাটি সম্প্রচারিত হয়।

    সাক্ষাৎকারের পরবর্তী অংশে দেখানো হয়, প্যাট্রিক কালভার স্পষ্ট করে বলছেন, ওমর ওমসেন এমন একটি ব্যতিক্রমী গোষ্ঠী গড়ে তুলেছিলেন, যা তৎকালীন সিরিয়া ও ইরাকের ভূখণ্ডে সক্রিয় বিভিন্ন কাঠামো ও সংগঠনের মূল স্রোতের বাইরে সম্পূর্ণ প্রান্তিক পর্যায়ে অবস্থান করছিল।

    সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে রোশিবিন ফরাসি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান, তারা ওমর ওমসেনের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে অবগত আছেন কি না। তারা উভয়েই বিষয়টি জানার কথা অকপটে স্বীকার করেন। এরপর তিনি পুনরায় প্রশ্ন করেন, ওমসেনকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর মতো প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা ফ্রান্সের আছে কি না। এ প্রসঙ্গে তিনি সাবেক ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের স্মৃতিকথার উদ্ধৃতি টেনে আনেন; যেখানে উসামা বিন লাদেনের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানের মতোই প্যারিসের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানোর কথা বলা হয়েছিল।

    এর জবাবে প্যাট্রিক কালভার বলেন, বিষয়টি প্রথমেই সিরীয় সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। তিনি আরও যোগ করেন, ওমর ওমসেন সম্প্রতি সিরীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাথে তীব্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন। তবে রোশিবিন যখন তাকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর ব্যাপারে ফ্রান্সের সক্ষমতার বিষয়ে পুনরায় প্রশ্ন করেন, তখন সেলিন বার্থন কেবল এটুকু বলেই বিষয়টি সযত্নে এড়িয়ে যান যে, এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে তিনি কোনো মতামত দিতে পারবেন না।

    এরপর ভিডিওটিতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর একটি দৃশ্য দেখানো হয়। সেখানে তিনি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারাকে উদ্দেশ্য করে দুই পক্ষের সহযোগিতার প্রসঙ্গে বলছেন: “আমি আপনাদের ওপর নির্ভর করছি।”

    এছাড়া ইদলিবের গ্রামীণ এলাকা হারেমে “ফরাসি গুরাবা যোদ্ধাদের” ক্যাম্পের দিকে অগ্রসর হওয়া সিরীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি সামরিক বহরের দৃশ্যও প্রদর্শন করা হয়। ক্যাম্পের ভেতরে নারী ও শিশুদের উপস্থিতির কথা জানা সত্ত্বেও সেখানে ভারী অস্ত্র দিয়ে বর্বরোচিত হামলা চালানোর দৃশ্য এবং এর ফলে সাধারণ বাসিন্দাদের মাঝে ছড়িয়ে পড়া চরম আতঙ্কের চিত্রও ভিডিওটিতে অত্যন্ত মর্মস্পর্শীভাবে উঠে আসে।

    ভিডিওটিতে ফরাসি চ্যানেল TV5MONDE-এর “Le 64” অনুষ্ঠানে ফরাসি সাংবাদিক ও বিশ্লেষক “হুগো বারবিউ”-এর আলোচনার কিছু অংশও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেখানে তিনি গত ২২ অক্টোবর ক্যাম্পটিতে চালানো নারকীয় হামলার বিষয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, আক্রমণকারী বাহিনী রাতের আঁধারে ক্যাম্পটি চারপাশ থেকে অবরোধ করেছিল। তাদের তীব্র আক্রমণের ভয়াবহতা ক্যাম্পের ভেঙে পড়া প্রাচীর ও স্থাপনাগুলোর ধ্বংসস্তূপ দেখলেই সহজে অনুমান করা যায়। তিনি আরও জানান, ফরাসি বিচার বিভাগের জারি করা একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে ওমর ওমসেন বর্তমানে একজন ফেরারি আসামি।

    সামরিক অভিযানের সময় ভারী ও হালকা অস্ত্র ব্যবহারের ফলে ক্যাম্পটিতে যে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ সাধিত হয়েছে, ভিডিওটিতে তার প্রামাণ্য দৃশ্যও তুলে ধরা হয়।

    ওমর ওমসেন মনে করেন, ধরপাকড় ও নিপীড়নের এক নতুন ও অন্ধকার অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। তার মতে, যারা ধর্মীয় আনুগত্যকেই নিজেদের জীবনের একমাত্র মানদণ্ড বানিয়েছে এবং কুরআন ও সুন্নাহর প্রতি অবিচল থাকার কথা সগর্বে ঘোষণা করেছে, সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা দমনের নামে আজ তারাই নিপীড়ন, নির্বিচার গ্রেপ্তার বা নির্মম হত্যার প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

    এই দাবিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতেই ভিডিওটিতে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারার সিরীয় সাংবিধানিক ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের দৃশ্য দেখানো হয়। এর পাশাপাশি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কেভিন ল্যাম্বার্টসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ মার্কিন সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তার সাথে তার বৈঠকের দৃশ্যও তুলে ধরা হয়। এছাড়া নিউইয়র্কে একটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (CIA) সাবেক পরিচালক জেনারেল ডেভিড পেট্রাউসের সাথে তার সাক্ষাতের দৃশ্যও এতে স্থান পেয়েছে।

    ওমর ওমসেন আক্ষেপ করে বলেন, সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা দমনের এই গালভরা স্লোগানটি এখন মূলত মানুষের মুখ বন্ধ করার এক মোক্ষম হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এমন ব্যক্তিদেরই এখন বেছে বেছে লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে, যাদের একমাত্র অপরাধ হলো নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি আমৃত্যু অবিচল থাকা।

    আন্তর্জাতিক জোটের মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় জিহাদি নেতার ছবিও ভিডিওটিতে প্রদর্শন করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন আবু ইমরান আশ-শামি, আবু আব্দুর রহমান আল-লিবি, জাফর আল-তুর্কি, আবু আব্দুর রহমান আল-মাক্কি, আবু হাসান আল-নুয়াইমি এবং সামি আল-উরাইদি।

    *****
    চলবে ইনশা আল্লাহ...

    সতর্কবার্তা: এই লেখাটি মূলত আপনাদের তথ্যগত অবগতির উদ্দেশ্যে অনুবাদ করা হলো। সুতরাং, এখানে প্রদত্ত বিষয়গুলোকে চূড়ান্ত বা অকাট্য প্রমাণ হিসেবে ধরে না নেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। উল্লেখ্য, রচনায় উপস্থাপিত যাবতীয় চিন্তাধারা ও বক্তব্যের দায়ভার একান্তই মূল লেখকের নিজস্ব। তাঁর সকল মতাদর্শ বা বিশ্লেষণের সাথে আমাদের পুরোপুরি মতৈক্য থাকতে হবে—এমনটি কোনোভাবেই অপরিহার্য নয়। তাদের চিন্তাধারা আমাদের জানা দরকার, আর মূলত এ কারণেই আমাদের এই আর্টিকেল অনুবাদ করা হয়েছে। -অনুবাদক
    “ধৈর্যশীল, সতর্ক ব্যক্তিরাই লড়াইয়ের জন্য উপযুক্ত।”
    -শাইখ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ

  • #2
    সিরিয়ায় ফরাসি মুহাজিরদের ওপর কী চলছে? || পর্ব-১ || মূল : হামিদ আল-কৌসি || অনুবাদ : মুনশি আব্দুর রহমান
    https://dawahilallah.com/forum/%E0%A...A6%BE%E0%A6%A8

    “ধৈর্যশীল, সতর্ক ব্যক্তিরাই লড়াইয়ের জন্য উপযুক্ত।”
    -শাইখ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ

    Comment

    Working...
    X