Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৫৩ || গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে উলামায়ে দেওবন্দ ।। সংকলনঃ মাওলানা ইব্রাহিম হুসাইন - প্রথম পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৫৩ || গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে উলামায়ে দেওবন্দ ।। সংকলনঃ মাওলানা ইব্রাহিম হুসাইন - প্রথম পর্ব

    আল ফজর মিডিয়া পরিবেশিত
    গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে উলামায়ে দেওবন্দ
    ।। সংকলনঃ মাওলানা ইব্রাহিম হুসাইন – ।।
    –।।থেকে- প্রথম পর্ব

    السلام عليكم و رحمة الله وبركاته

    আল্লাহ তায়ালার বিশেষ মেহেরবানী এবং করুণায় মহামারী ফিতনা ও বর্তমান সময়ের মূর্তিসমূহের মধ্যে একটি মূর্তি - গণতন্ত্র কে প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপারে উলামায়ে দেওবন্দের ফতওয়া এবং লিখনী একত্রিত করার তৌফিক দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে সকল বিষয়ের তথ্যসূত্র বিশেষভাবে উল্লেখ করার ব্যাপারে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। তবু মানুষ হিসেবে আমরা ভুলত্রুটির উর্ধ্বে নই। তাই ভুলভ্রান্তি পরিলক্ষিত হলে আহলে ইলমরা সংশোধন করে দিবেন।
    আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করি তিনি যেন অসীম দয়ায় আমার মত নগন্য অধমের এ ক্ষুদ্র প্রয়াসকে কবুল করে সকলের জন্যে উপকারী বানিয়ে দেন। আমীন, ইয়া রব্বাল আ’লামীন।
    ইব্রাহিম হুসাইন
    শাওয়াল, ১৪৩৯


    গণতন্ত্র প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপারে ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ আলেম ও মুফতীয়ানে কেরামের ফতওয়া এবং সুচিন্তিত মতামত সমূহ


    ইমাম নুরুল হুদা হযরত মাওলানা উবাইদুল্লাহ আনোয়ার (রহিমাহুল্লাহ)

    বর্তমানে ইসলামী গণতন্ত্র এবং ইসলামী সমাজতন্ত্রের অনেক আলোচনা পর্যালোচনা হয়, সংবাদপত্রে বড় বড় শিরোনামে কলাম ছাপা হয়। প্রকৃতপক্ষে দুটোই ইসলামী রীতিনীতির বিরোধী। যে ব্যক্তি ইসলামের ক্ষেত্রে গনতন্ত্রের পরিভাষা ব্যবহার করতে চায় সে আসলে ইসলামকেই পরিপূর্ণ রুপে বুঝতে পারেনি। আর যে ইসলামকে সমাজতন্ত্রের সাথে মিলাতে চায় সে আসলে সমাজতন্ত্রের অসারতা অনুধাবন করতে পারেনি।

    এ বিষয়টা বুঝানোর জন্য বলি, যদি ইসলামী গণতন্ত্র এবং ইসলামী সমাজতন্ত্রের অনুসরণ চললে জীবনের সকল কার্যপদ্ধতি ইসলাম মোতাবেকই হয়, ইসলামের মতাদর্শের বিরোধী না হয় - তাহলে সে আদর্শকে ইসলামী গণতন্ত্র এবং ইসলামী সমাজতন্ত্র নাম দেওয়ার কী প্রয়োজন?

    তারা ইসলামী গণতন্ত্র এবং ইসলামী সমাজতন্ত্রের নামে রূপান্তরিত করে কী লাভ করতে চায়?

    ইসলামের মত পবিত্র ও ধবধবে সাদা পরিষ্কার কাপড়ে রূপান্তরিত করার দাগ কেন লাগাতে চায়?

    সুতরাং সুস্পষ্ট কথা এটাই যে, ইসলামের ভাবধারা পশ্চিমা কুফরী গণতন্ত্রের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করে না, কমিউনিজমেরও কোন পরোয়া করে না।

    ইসলাম তো কেবল আল্লাহ জাল্লা শানুহুর রাজত্বের প্রবক্তা। তার চির শাশ্বত বাণী হল:

    ان الحکم الا اللہ

    হুকুমত চলবে কেবল আল্লাহ তায়ালার(সূরা ইউসুফ, ৪০)

    ইসলামের মাঝে আসল কাজ হল প্রতিনিধিত্ব এবং খেলাফতের দায়িত্ব পালন করা। ইসলামের নবী -ও আল্লাহ তায়ালার হুকুম আহকামই বাস্তবায়ন করেছেন। নিজের চাহিদা ও খেয়াল খুশির অনুসরণ করেননি। একারণে তাঁর আনীত জীবন ব্যবস্থা এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার উপর ছিল না, বরং তা ছিল আল্লাহর মনোনীত তাওহিদের মানদন্ডের উপর।

    ইসলাম না সমাজতান্ত্রিক মতবাদকে সমর্থন করে, না ইউরোপের পুঁজিবাদের পরোয়া করে। ইসলাম এটাই শিখায় যে, সকলের অধিকার সঠিকভাবে আদায় করবে, কারো হক্ব নষ্ট না করবে না।

    তিনি আরো বলেন,

    আমাদের দেশে কী ইসলামী আইন বাস্তবায়িত হয়েছে?

    আমাদের ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলো সেই চৌষট্টি বছর ধরে এ ব্যর্থ পদ্ধতিতে আন্দোলন করে যাচ্ছে, যার কিছু মাধ্যম হল:

    সাংবাদিক সম্মেলন করে সাক্ষাৎকার দেওয়া, সমাবেশ করা, বিক্ষোভ মিছিল করা, ধর্মঘট পালন করা, দাবী আদায়ের আবদার জানানো, লং মার্চ করা, সামাজিক বয়কট করা, অভ্যর্থনা দেওয়া, অমন্ত্রণ জানানো, ইফতার পার্টি করা, ঈদে মিলাদুন্নী পার্টি, ডিনার, নাইট পার্টি এছাড়াও কাফেরদের আবিষ্কৃত আরো কত হাজারো রকমের পদ্ধতি। এগুলো বাদ দিয়ে অন্য কোন পন্থায় তারা পাকিস্তানে শরিয়ত বাস্তবায়নকে অসম্ভব মনে করে। এ ব্যর্থ পন্থাগুলোর মাধ্যমেই তারা এ রাজ্যে ইসলামী হুকুমত ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়। ।

    ایں خیال است محال است جنون

    আসলে এটা তাদের অসম্ভব দিবাস্বপ্ন আর পাগলের প্রলেপ ছাড়া আর কিছইু না।

    সূত্র- মাকালাত ওয়া ইরশাদাত- ৭১ পৃষ্ঠা, “ইসলামী গণতন্ত্র এবং ইসলামী সমাজতন্ত্র” শিরোনামের আলোচনা।



    মুফতী নিজামুদ্দিন শামজায়ী শহিদ রাহিমাহুল্লাহ

    আমি আপনাদের কাছে যে কথা পেশ করতে চাই তা হল, যখন দুনিয়ায় আল্লাহ তায়ালার দ্বীন বিজয়ী হবে তখনো তা ভোটের মাধ্যমে হবে না। আপনি পশ্চিমাদের বানানো পদ্ধতিতে রাজনৈতিক দল বানিয়ে গনতন্ত্রের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার দ্বীনকে বিজয়ী করতে চান? তাহলে শুনে রাখেন, পশ্চিমাদের বানানো পদ্ধতিতে ভোটের মাধ্যমে দুনিয়ায় আল্লাহ তায়ালার দ্বীন বিজয়ী হবে না। কেননা দুনিয়ায় আল্লাহ তায়ালার দুশমনরাই বেশি। ফাসেক, ফাজেরদেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতাই অধিক। আর গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হল সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের উপর। এতে মাথা গণনা করা হয় মাথার মূল্যকে নয়। অর্থাৎ সকল মানুষকে একই পাল্লায় মাপা হয় তাদের যোগ্যতার বিবেচনা করা হয় না। যেহেতু মানুষের মাথা গণনা করা হয় সে হিসেবে পশ্চিমাদের বানানো গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কখনো ইসলাম কায়েম হবে না। যেমনিভাবে কখনো পেশাবের মাধ্যমে ওযু হবে না। মোটকথা, নাপাকের মাধ্যমে যেমনিভাবে, পবিত্রতা হাসিল হবে না তেমনিভাবে, অনৈসলামিক ও পশ্চিমাদের বানানো কুফরী গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেও কখনো ইসলাম কায়েম হবে না। যখন দুনিয়ায় আল্লাহ তায়ালার দ্বীন বিজয়ী হবে তখন তা সেই একটি পদ্ধতিইে হবে যে পদ্ধতি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গ্রহণ করেছেন। এটাই সেই জিহাদ যার মাধ্যমে এই দুনিয়ায় আল্লাহ তায়ালার দ্বীন বিজয়ী হবে”।

    সূত্র- মাসিক সানাবিল, করাচী, মে ২০১৩, ভলিউম ৮, পৃষ্ঠা ৩৩

    উলামায়ে কেরাম নির্বাচন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ইসলাম কায়েমের জন্য ৪৮ বছর ব্যয় করেছে, আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি এ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ৪৮ হাজার বছর ব্যয় করলেও ইসলাম কায়েম হবে না”।

    সূত্র-খুতবাতে শামজাযী, পৃ.২০৩





Working...
X