Announcement

Collapse
No announcement yet.

পবিত্র কোরআনে ফিতনা শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পবিত্র কোরআনে ফিতনা শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?

    কোরআনে ফিতনা শব্দের অর্থ ও মর্ম



    ফিতনা শব্দটি আরবি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে। বাংলা ভাষায় এটি বিশৃঙ্খলার অর্থে ব্যবহৃত হয়।

    প্রশ্ন হলো, আরবি ভাষাতেও কি তা একই অর্থে ব্যবহৃত হয়? আর পবিত্র কোরআনে ফিতনা শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?

    উত্তর হলো, বাংলা ভাষায় ফিতনা শব্দটি অনিষ্ট, ক্ষতি, গণ্ডগোল ও বিশৃঙ্খলার অর্থে ব্যবহৃত হয়। (ব্যাবহারিক বাংলা অভিধান, পৃষ্ঠা ৮১৩)

    অন্যদিকে আরবি ভাষায় ফিতনা শব্দটি পরীক্ষা ও যাচাই-বাছাইয়ের অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেন এর মাধ্যমে ভালো-মন্দের পার্থক্য করা যায়। আল্লামা ইবনে ফারেস ও ইবনে আসির (রহ.) এমনটিই বলেছেন। (তাহজিবুল লুগাহ : ১৪/২৯৬)


    কোরআনে ফিতনা শব্দের অর্থ

    পবিত্র কোরআনে ফিতনা শব্দটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষাই এর মূল অর্থ।
    আল্লামা ইবনুল কাইয়িম জাওজি (রহ.) বলেন, ‘ফিতনার একটি অর্থ পরীক্ষা করা ও যাচাই করা। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ভালো ও মন্দ, দান ও বিপদের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন। (জাদুল মাআদ : ৩/১৭০)

    কোরআনে ব্যবহৃত ফিতনা শব্দের অর্থগুলো তুলে ধরা হলো।



    ১. পরীক্ষা করা : মহান আল্লাহ বলেন,
    أَحَسِبَ النَّاسُ أَن يُتْرَكُوا أَن يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ
    ‘মানুষ কি মনে করে যে আমরা ঈমান এনেছি এ কথা বললেই তাদের পরীক্ষা না করে অব্যাহতি দেওয়া হবে?’ (সুরা আনকাবুত, আয়াত : ২)




    ২. বিচ্যুত করা, বিরত রাখা : ইরশাদ হয়েছে,
    وَأَنِ احْكُم بَيْنَهُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ أَن يَفْتِنُوكَ عَن بَعْضِ مَا أَنزَلَ اللَّهُ إِلَيْكَ
    ‘কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যাতে তুমি আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুযায়ী তাদের বিচার নিষ্পত্তি করো, তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ না করো এবং তাদের ব্যাপারে সতর্ক হও, যাতে আল্লাহ যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছেন তারা তার কিছু থেকে তোমাকে বিচ্যুত না করে।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত : ৪৯)




    ৩. শাস্তি বা নির্যাতন : মহান আল্লাহ বলেন,
    ثُمَّ إِنَّ رَبَّكَ لِلَّذِينَ هَاجَرُوا مِن بَعْدِ مَا فُتِنُوا ثُمَّ جَاهَدُوا وَصَبَرُوا إِنَّ رَبَّكَ مِن بَعْدِهَا لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ
    ‘যারা নির্যাতিত হওয়ার পর হিজরত করে, পরে জিহাদ করে এবং ধৈর্য ধারণ করে, তোমার প্রতিপালক এসবের পর তাদের প্রতি অবশ্যই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা নাহল, আয়াত : ১১০)




    ৪. কুফর বা শিরক : পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে,
    وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ لِلَّهِ
    ‘তোমরা তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে থাকো যতক্ষণ না ফিতনা দূরীভূত হয়।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৯৩)


    আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, আয়াতে ফিতনা দ্বারা শিরক উদ্দেশ্য।



    ৫. কপটতা ও পাপে লিপ্ত হওয়া : মুনাফিকদের ব্যাপারে ইরশাদ হয়েছে,
    يُنَادُونَهُمْ أَلَمْ نَكُن مَّعَكُمْ ۖ قَالُوا بَلَىٰ وَلَـٰكِنَّكُمْ فَتَنتُمْ أَنفُسَكُمْ
    ‘মুনাফিকরা মুমিনদের ডেকে জিজ্ঞাসা করবে, আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না? তারা বলবে, হ্যাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদের বিপদগ্রস্ত করেছ।’ (সুরা হাদিদ, আয়াত : ১৪)


    ইমাম বাগাভি (রহ.) আয়াতের অর্থ এভাবে তুলে ধরেছেন, কিন্তু তোমরা নিফাকিতে লিপ্ত ছিলে এবং পাপ কাজ ও প্রবৃত্তি পূজার মাধ্যমে নিজেদের ধ্বংস করেছিলে।



    ৬. বিশৃঙ্খলা : আল্লাহ বলেন,
    وَالَّذِينَ كَفَرُوا بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ۚ إِلَّا تَفْعَلُوهُ تَكُن فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ وَفَسَادٌ كَبِيرٌ
    ‘যারা কুফরি করেছে তারা পরস্পরের বন্ধু, যদি তোমরা তা (মুমিনদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ) না করো তবে দেশে বিশৃঙ্খলা ও মহাবিপর্যয় দেখা দেবে।’ (সুরা আনফাল, আয়াত : ৭৩)




    ৭. পথভ্রষ্ট করা : ইরশাদ হয়েছে,
    وَمَن يُرِدِ اللَّهُ فِتْنَتَهُ فَلَن تَمْلِكَ لَهُ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا
    ‘এবং আল্লাহ যার পথচ্যুতি চান তার জন্য আল্লাহর কাছে তোমার কিছু করার নেই।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত : ৪১)




    ৮. হত্যা ও বন্দিত্ব : ইরশাদ হয়েছে,
    وَإِذَا ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ إِنْ خِفْتُمْ أَن يَفْتِنَكُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا
    ‘তোমরা যখন দেশ-বিদেশে সফর করবে, তখন যদি তোমাদের আশঙ্কা হয় যে অবিশ্বাসীরা তোমাদের জন্য ফিতনা সৃষ্টি করবে, তবে নামাজ সংক্ষিপ্ত করলে তোমাদের কোনো দোষ নেই।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১০১)


    ইমাম তাবারি (রহ.) বলেন, আয়াতে ফিতনা দ্বারা মুসলমানদের ওপর অমুসলিমদের হামলা, হত্যাকাণ্ড ও তাদের বন্দি করা উদ্দেশ্য।



    ৯. অন্তরের বিক্ষিপ্ততা : আল্লাহ বলেন,
    لَوْ خَرَجُوا فِيكُم مَّا زَادُوكُمْ إِلَّا خَبَالًا وَلَأَوْضَعُوا خِلَالَكُمْ يَبْغُونَكُمُ الْفِتْنَةَ
    ‘তারা তোমাদের সঙ্গে বের হলে তোমাদের বিভ্রান্তিই বৃদ্ধি করত এবং তোমাদের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তোমাদের মধ্যে ছোটাছুটি করত।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ৪৭)


    তাফসিরে কাশশাফে আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, তারা তোমাদের ভেতর মতবিরোধ সৃষ্টির জন্য ছোটাছুটি করত।



    ১০. বিপদে ফেলা : আল্লাহ বলেন,
    إِنَّ ٱلَّذِينَ فَتَنُوا۟ ٱلْمُؤْمِنِينَ وَٱلْمُؤْمِنَٰتِ ثُمَّ لَمْ يَتُوبُوا۟ فَلَهُمْ عَذَابُ جَهَنَّمَ وَلَهُمْ عَذَابُ ٱلْحَرِيقِ
    ‘যারা বিশ্বাসী নর-নারীকে বিপদাপণ্ন করেছে এবং পরে তাওবা করেনি তাদের জন্য আছে জাহান্নামের শাস্তি, আছে দহন যন্ত্রণা।’ (সুরা বুরুজ, আয়াত : ১০)



    আল্লাহ তাআলা সবাইকে ফিতনা থেকে রক্ষা করুন। আমিন​

  • #2
    হে আল্লাহ! উক্ত ভাইকে উত্তম বিনিময় দান কর।
    আল্লাহ তাআলা কোরআনকে সহজ করে দিয়েছেন

    আল ক্বামার, আয়াতঃ ১৭

    وَلَقَدۡ یَسَّرۡنَا الۡقُرۡاٰنَ لِلذِّکۡرِ فَہَلۡ مِنۡ مُّدَّکِرٍ

    অর্থঃ
    অর্থঃ আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি?

    ---------------------
    আমাদের জন্য উচিত কোরআনকে বেশি বেশি ফিকির করা।
    আল কোরআনের অর্থ বুঝে আমলের নিয়তে পড়া।
    এই কুরআন আপনাকে জান্নাতের দিকে পথ প্রদর্শন করবে ইনশাআল্লাহ
    Last edited by Rakibul Hassan; 16 hours ago.

    Comment

    Working...
    X