আল ফজর মিডিয়া পরিবেশিত
গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে উলামায়ে দেওবন্দ
।। সংকলনঃ মাওলানা ইব্রাহিম হুসাইন – ।।
–।।থেকে- পঞ্চম পর্ব
গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে উলামায়ে দেওবন্দ
।। সংকলনঃ মাওলানা ইব্রাহিম হুসাইন – ।।
–।।থেকে- পঞ্চম পর্ব
মুফতী মুহাম্মদ শফী রহিমাহুল্লাহ
“বর্তমানে গনতন্ত্রের যে পদ্ধতিতে নেতা হয় সেটাই জুলুম অত্যাচারের পন্থা। সুতরাং তারা ক্ষমতায় এসে কিভাবে ইসলামী আইন কায়েম করবে? তারা এতটাই বদমেজাজী ও বিকৃত মানসিকতার হয় যার ফলে আসমান ও জমিনের সৃষ্টিকর্তা, সকল মানুয়ের রব, এবং আল্লাহ তায়ালার প্রকৃত হুকুমত ও রাজত্বের কথা মনেই করে না। বরং তারা মনে করে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নেতা হওয়াকেও আল্লাহ তায়ালার দান মনে করে”।
সূত্র- মুফতী মুহাম্মদ শফী রহিমাহুল্লাহ কৃত তাফসিরে মাআরিফুল কুরআন
মুফতী আবু লুবাবা শাহ মানসুর দামাত বারাকাতুহুম
“প্রকৃতপক্ষে গণতান্ত্রিক পন্থায় হুকুমত এটা না জ্ঞানের ক্ষেত্রে যৌক্তিক বিষয়, আর না আমলের ক্ষেত্রে উপকারী সাব্যস্ত হয়েছে। আর না স্বভাবগত বিষয়ের অনুযায়ী প্রমাণিত হয়েছে। বরং তা ইয়াহুদীদের বানানো একটা ষড়যন্ত্রের জাল।
সমাজতন্ত্রের বিলুপ্তির পর তার অনুরূপ আরেকটা মতাদর্শের সবক শিখাতে লাগল যেন ভবিষতে আবার ফায়দা হাসিল করতে পারে।
যেহেতেু সকলে একসাথে থাকলে অনেক শক্তিশালী থাকবে, যা তাদের উদ্দেশ্য হাসিলে মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। তাই তারা দুনিয়ায় নতুন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শাসন ব্যবস্থা চালু করেছে। যা ভাইয়ে ভাইয়ে ঝগড়া সৃষ্টি করবে ঐক্যের শক্তিকে নানা দলে উপদলে বিভক্ত করে যুদ্ধের ময়দানে অবর্তীণ করবে। তাই এখন সমাজতন্ত্রের যুগ গিয়ে গনতন্ত্রের যুগের শুরু হয়েছে। এটিতে শুধু নেতার পরিবর্তন হবে কিন্তু নীতির কোর পরিবর্তন হবে না”।
সূত্র- আলেমী ইয়াহুদী তানযিমী- ১৯৭ পৃষ্ঠা, “জমহুরিয়্যাত ইয়াহুদী ইজাত”নামক আলোচনা,
দাজ্জাল... আলমি দাজ্জালি রিয়াসাত, ইবতেদা সে ইনতেহা তক- ২৩
হযরত আল্লামা সাইয়্যেদ সোলাইমান নদভী রাহিমাহুল্লাহ
গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক মতাদর্শের সাথে ইসলামের কী সম্পর্ক? কিংবা ইসলামের খেলাফতের সাথেই কী সম্পর্ক? তথাকথিত বর্তমান প্রচলিত গণতন্ত্র ১৭শ শতাব্দীর পর নব আবিষ্কিত হয়েছে।
আমরাতো ইসলামে কখনো পশ্চিমা গণতান্ত্রিক মতাদর্শের কোন দৃষ্টান্ত খুজে পাইনি, এমনিভাবে ইসলামী গনতন্ত্রের নাম নিশানাও পাইনি। আল্লামা ইকবাল রাহিমাহুল্লাহ ইসলামী জীবন ব্যবস্থাপনায় গণতান্ত্রিক মতাদর্শকে কোন দৃষ্টিতে দেখতেন? তিনি এটাকে কুফরী মতাদর্শই মনে করতেন। আসলে গণতন্ত্রটা এক বিশেষ ইতিহাস এবং তাহজিবের ফসল। যা ইসলামী ইতিহাসের সঙ্গে পুরাপুরি সাংঘর্ষিক”।
সূত্র- মাহনামাহ সাহেল করাচী, ২০০২ জুন মাস, আল্লামা সোলাইমান নদভী রাহিমাহুল্লাহ তত্ত্বাবধানে মাওলানা গোলাম মুহাম্মাদ রাহিমাহুল্লাহ. কর্তৃক প্রকাশিত।
মাওলানা আবদুল হক হক্কানী রাহিমাহুল্লাহ
“ইসলাম এমন এক জীবনব্যবস্থা যা নিজের স্বতন্ত্র বৈশিষ্টের কারণে অন্যকিছু অমুখাপেক্ষী। সুতরাং ইসলামী জীবনব্যবস্থাকে গণতন্ত্র কিংবা সমাজতন্ত্রের সাথে মিলানো ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতারই দলিল। একথাতো সকলেই জানে যে, পশ্চিমা গনতন্ত্রে সকল ক্ষমতার উৎস মানা হয় জনগনকে। জনসাধারণ যেরকম চাবে সেরকমই আইন করা হবে। দেশের কোন প্রচলিত আইনও শুধু সংখ্যধিক্যতার মতামতের ধরুন পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। আবার তারা চাইলেই দ্বীন ধর্মের মানবতা বিবর্জিত আইন পাশ করাতে পারে।
সুতরাং এটা এমন ব্যবস্থাপনা যার সকল ক্ষমতার উৎস জনগনকে, মন্ত্রী এমপিরা শুধু জনগনের প্রতিনিধি করে।
গণতান্ত্রিক জীবনব্যবস্থায় শুধু ব্যক্তি গণনা করা হয় তার যোগ্যতা দেখা হয় না, তাই সকলের ভোট সমমূল্যের। চাই সে সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তি হোক কিংবা নিম্মমানের হোক। সুতরাং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কায়েম হওয়া জীবনব্যবস্থা বাহ্যিক দৃষ্টিতে জনগনের মুখপাত্র বানানো দেখা গেলেও বাস্তবতায় জনগনেরই সবচেয়ে বেশি অধিকার ক্ষুণ্য করা হয়।
যেহেতু পাকিস্তানের দৃষ্টান্ত সকলের সামনেই আছে সুতরাং এটা কোন লুকোচুরির কথা নয়। গণতান্ত্রিক জীবন ব্যবস্থার ফলে জাতি ধ্বংস ও বরবাদীর কোন স্থরের মুখামুখি হয় নাই?
পক্ষান্তরে ইসলামে সকল ক্ষমতার উৎস সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালা। খলিফা শুধু আহকামে ইলাহিকে বাস্তবায়ন করবে।
এছাড়াও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার নির্বাচন পদ্ধতি ইসলামের নির্বাচন সম্পূর্ণ ভিন্ন। কেননা শুরা সদস্যদের এই অধিকার নেই তারা আল্লাহ তায়ালার নির্ধারিত করে দেওয়া কোন বিধানকে উপেক্ষা করে ফায়সালা করবে। শুরার সবকিছুই শরীয়ত মোতাবেক হতে হবে। একারণেই যখন কোন খলিফা আল্লাহ তায়ালার নির্ধারিত আইন অনুযায়ী ফায়ছালা করে, তখন তার বিরোধিতা করা নাজায়েজ, বিদ্রোহ ঘোষণার শামিল।
সুতরাং ভাল করে স্মরণ রাখতে হবে, ইসলাম সর্বকালের জন্য পরিপূর্ণ এক পবিত্র জীবন বিধানের নাম। যার সাথে পশ্চিমা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার কোন তুলনাই হতে পারে না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার বিবেক বুদ্ধিহীন ভোট পদ্ধতির মোকাবেলায় ইসলামে সুন্দরতম যৌক্তিক শুরার মাধ্যমে খলিফা নির্বাচনের ব্যবস্থা রয়েছে। তাই অপূর্ণাঙ্গ অযৌক্তিক সুস্থ রুচি বিবর্জিত গনতন্ত্রের ভোটাভোটির আশ্রয় নেওয়ার কোন মানে হয় না”।
সূত্র- মাওলানা আবদুল হক হক্কানী রাহিমাহুল্লাহ কৃত ফাতওয়া হাক্কানিয়াহ
শায়খুল হাদিস মাওলানা সাইয়্যেদ হুসাইন আহমেদ মাদানী রহিমাহুল্লাহ
“পাকিস্তানের মুসলমান যারা আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের অনুসারী তাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক ভায়ের মতই এমনিভাবে সারা দুনিয়ার আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের মুসলমানদের সাথে একইরকম সম্পর্ক। কিন্তু ইউরোপিয়ানদের আবিস্কৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনায় মুসলিম অমুসলিম সকলকে একসমানই ধরা হয়। এবিষয়টার ব্যাপারে মাস্টার জিন্নাহ ও বারে বারে সুস্পষ্টরূপে আলোচনা করেছেন। এমনকি বিধানসভার সূচনালগ্নে এবিষয়ে আলোচনা করেছেন। সুতরাং পশ্চিমাদের এ ধরণের কুফরী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা ইসলাম সমর্থন করে না”।
সূত্র- মাকতুবাতে শাইখুল ইসলাম এবং মাআরিফ ওয়া হাকায়িক
মাওলানা আশেকে এলাহী বুলন্দশহরী রাহিমাহুল্লাহ
“প্রচলিত গণতন্ত্র ও তার পরিচয়।
পূর্বের যমানায় রাজতন্ত্র চালু ছিল। যমানার ওলী এর নীতি মোতাবেক রাজতন্ত্র পাওয়া যায়। আরব ও অনারবে রাজাও ছিল। তাদের মধ্যে জালেমও ছিল আবার দয়ালু, ইনসাফগারও ছিল। কিন্তু রাজতন্ত্রের ইতিহাসে অধিকাংশ ইতিহাস যুলুমেরই পাওয়া যায়। ইউরোপ এ যুলুম থেকে বের হয়ে গণতন্ত্র চালু করে আর এর নাম দেয় জনগণের ক্ষমতা । সাধারণত এর কার্যাবলী সম্পর্কে সকলেরই ধারণা আছে। এ গণতন্ত্রের মূল কথা হল, সাধারণ জনগণকে ধোঁকা দেয়া এবং কোন এক দলের কিছু লোককে ক্ষমতাসীন করা ব্যতীত আর কিছুই না। শিরোনাম থাকে যে অধিকাংশের মতকে নির্বাচনে গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনের জন্য বালেগ হওয়া শর্ত। কিন্তু এতে প্রার্থী আলেম হওয়া, দীনদার হওয়া এমনকি মুসলমান হওয়াও শর্ত না। মূর্খ, অশিক্ষিত পুরুষ, মহিলা সকলেই এতে প্রার্থী হতে পারে। কেউ কেউ কোন দল নির্বাচিত হয় আবার কেউ স্বতন্ত্র একা নির্বাচন করে। তাদের কেউ কেউ আবার এমনও থাকে যারা ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলে, ইসলামের আইন হদ ও কিসাসকে জুলুম বলে- যার কারণে তারা কাফেরও হয়ে যায়। আর নির্বাচনে দল, নেতা এবং টাকার জোরে ভোটাররাও সাধারণত এমন হয়ে যায় যারা দীনে ইসলামের উদ্দেশ্য বুঝে না যার কারণে মূর্খ, ইসলাম বিদ্বেষী, যিন্দিকও নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসন পেয়ে যায়। যে ব্যক্তির পক্ষে ভোট বেশি আসবে সেই নির্বাচিত হবে। যদি কোন আসনে এগারজন প্রার্থী থাকে এবং তাদের দশজন ১৫টি ভোট পায় আর একজন ১৬টি ভোট পায় তাহলে তাকে জয়ী মনে করা হয়। এবং বলে থাকে যে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের উপর সে নির্বাচিত হয়েছে। অথচ তার বিপক্ষে ১৫০ জন ভোট ছিল তাকে ভোট দেয়নি। ১৬ ব্যক্তির ভোটের গণনা করে ১৫০ লোকের মতকে গ্রাহ্য করা হল না। ১৫০ লোকের মতকে জলে ভাসিয়ে ১৬ জনের মতকে গ্রহণ করা হল আর এর নাম হল গণতন্ত্র। অতঃপর সংসদের যেই দলের সদস্য বেশি হয় তাদেরই ক্ষমতা হয়। আর তারাই সংসদে আসে। আর এভাবেই পুরো রাষ্ট্রের ক্ষমতা কিছু লোকের হাতে চলে যায়। কিছু লোক সকলের পক্ষ থেকে সংবিধানে পুরোপুরি অধিকার নিয়ে নেয় এবং সাদা-কালো সবকিছুর মালিক হয়ে যায়। এমনকি দলের যে সকল লোক কোন একটি বিষয়ে একমত না হয় তাদেরকেও সংসদে মুয়াফেক বলতে হয়। নিজের ব্যক্তিগত মতকেও তারা কুরবানী দিয়ে দেয়। এটা হল গণতন্ত্র ও সংখ্যাগরিষ্ঠের হাকীকত।
বলা হয়, ইসলামে গণতন্ত্র আছে। যদি এর দ্বারা উদ্দেশ্য এটা হয় যে, ইসলামের পরামর্শের একটি অবস্থান আছে তাহলে এ কথা ঠিক। তবে তার অবস্থান সে রকমই যে রকম উপরে বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু সারা দেশে নির্বাচনে প্রাপ্তবয়স্ক সকলে ভোটে অংশগ্রহণ করতে পারবে এর উপর ভিত্তি করে সকল জ্ঞানী, মূর্খ ভোটার হবে এবং অধিকাংশ ভোটের উপর ফায়সালা হবে- ইসলামে এমন গণতন্ত্রের কোন অবস্থান নেই।
কিছু জ্ঞানী আছে আবার কিছু মূর্খ আছে যারা ভুলের স্বীকার হয়ে ইসলামের কথা মানতে নারাজ। তারা বলে, আমরা অনেক মেহনত করে গণতন্ত্র এনেছি এখন এর বিরুদ্ধে কিভাবে বলব? তাদের আমদানীকৃত গণতন্ত্র একেবারে মূর্খের গণতন্ত্র, ইসলামের সাথে যার দূরতম সম্পর্ক নেই। নির্বাচনে যেই কোনভাবে পাশ করবে গণতন্ত্র মূর্খের মত তাকে মানতে বাধ্য হয়ে যায়। আর বলে যে, এখন আর কী করার! যেহেতু সে নির্বাচিত হয়েই গেছে, জনগণের মতকে আর কিভাবে বাদ দেয়া যাবে। আইনের অনুগত কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন কিছু বলা বা চলার চেষ্টা করারও অনুমতি নেই।
খোলাফায়ে রাশিদ্বীনের নির্বাচন করার পদ্ধতি কখনোই সারা দেশে ইলেকশনের মাধ্যমে হয় নি।
এমনকি সকল সাহাবায়ে কেরামও (রাদিয়াল্লাহু আনহু) শরিক ছিলেন না। এমনিভাবে, পুরা মদিনাবাসীও অংশগ্রহণ করেন নি। বরং কিছু শুরা সদস্যরা নির্বাচন করার পর সকলে বিনাবাক্যে মেনে নিয়েছেন। বর্তমানে কিছু নামধারী জাহিল মুসলিম বিট্রিশদের গণতান্ত্রিক জাহিলী জীবন ব্যবস্থার অযৌক্তিক নির্বাচনকেই শাসক নিয়োগের সঠিক ও যথার্থ পন্থা মনে করছে। পক্ষান্তরে সাহাবায়ে কেরামের শরিয়ী নীতিমালা অনুযায়ী শাসক নির্বাচনকে ভুল ও ভ্রান্ত্র সাবস্ত করছে। (নাউযুবিল্লাহ) এবিষয়টি এতই গ্রহণীয় ও সুস্পষ্ট যার ফলে এসমস্ত নাদান, মূর্খদের মতামতকে খন্ডন করার কোন প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি না। কিন্তু আমরা তাদেরকে এ বিষয়টাও জানিয়ে দিতে চাই, যে তাদের এই সমালোচনাটা আল্লাহ তায়ালার উপর বর্তায়। কেননা আল্লাহ তায়ালা সুরা তওবার একশত নাম্বার আয়াতে মুহাজিরীন এবং আনসার ও যারা আল্লাহ ভীতির সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, তাদের পরিচয় দিয়ে তাদের উপর রাজি খুশি হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। رضی اللّٰہ عنھم و رضواعنہ
অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা তাদের উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন তারাও আল্লাহ তায়ালার উপর সন্তুষ্ট হয়েছে।
এখন যদি আপনাদের কথা মেনে নেই যে, সাহাবায়ে কেরাম ইসলামকে বুঝতে পারেন নাই যার কারণে আমেরিকানদের নির্বাচন পদ্ধতিতে হয় নাই। সুতরাং তাদের পরে এমন কারা আছে যারা ইসলামকে এবং ইসলামের চাহিদাকে অধিক বুঝতে পারবে??
এমনিভাবে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
علیکم بسنتی و سنۃ الخلفاءالراشدین المھدیین (رواہ ابو داؤد الترمذی
অনুবাদ: তোমাদের জন্য আবশ্যক হল আদর্শ এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশিদ্বীনের আদর্শকে আঁকড়ে ধরা।
এখন যদি ঐসমস্ত হযরতদের নির্বাচন ঠিক না হয়ে থাকে তাহলে-তো খোলাফায়ে রাশিদ্বীনই সাবস্ত হবে না। এখন যদি এসমস্ত জাহেলদের কথা মেনে নেই, তাহলে এর অর্থ দাঁড়ায় হযরত সাহাবায়ে কেরাম দুশমনদের পদ্ধতি গ্রহণ না করায় কোন খোলাফায়ে রাশিদ্বীন হয় নি। (নাউযুবিল্লাহ)
সুতরাং এধরনের বিকৃতি পরিবর্তন সরাসরি ইমানের চাহিদার বিরোধী।
কাফের ফাসেকরা যে বিশেষ ধরন আকৃতির পোশাক পরিধান করা, তাদের ধর্মীয় রীতিনীতির সামাজিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা, রাজনীতির ক্ষেত্রে জাহিলী গণতন্ত্রকে আঁকড়ে ধরা, কাফেরদের বানানো আইন কানুন মেনে নেওয়া এবং তাদের রচিত সংবিধান দিয়ে বিচার ফায়সালা করা এ সব কিছু আল্লাহ তায়ালার নাফরমানী”।
সূত্র- তাফসীরে আনওয়ারুল বয়ান: ১ম খণ্ড