আল ফজর মিডিয়া পরিবেশিত
গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে উলামায়ে দেওবন্দ
।। সংকলনঃ মাওলানা ইব্রাহিম হুসাইন – ।।
–।।থেকে- ষষ্ঠ পর্ব
গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে উলামায়ে দেওবন্দ
।। সংকলনঃ মাওলানা ইব্রাহিম হুসাইন – ।।
–।।থেকে- ষষ্ঠ পর্ব
মাওলানা আসেম উমর সাহেব হাফিজাহুল্লাহ
গণতন্ত্রের ফেতনা আল্লাহ তায়ালার মোকাবেলায় ঐ নেযামকে মাবুদ বানিয়ে দিয়েছে। আইন কানুন করার অধিকার আল্লাহ তায়ালা থেকে ঐ নেযামকে দিয়ে দিয়েছে। আল্লাহ তায়ালার বিধান মঞ্জুর করতে গণতন্ত্রের মুখাপেক্ষী বানিয়ে দিয়েছে। মুসলমানদের আল্লাহ তায়ালার ইবাদত থেকে বের করে গায়রুল্লাহর পূজারী বানিয়ে দিয়েছে। এটা এমন ভয়ানক অন্ধকারাছন্ন ফেতনা যাতে নিজের হাতকেও নিজের মনে হয় না। কোন ধরনের দলিল প্রমাণ বুঝে আসে না। যার কুফর বর্তমানে সীমাহীন ক্ষতিকর ও ইসলামের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা বলাও ভুল হবে না যে গণতন্ত্র শুধু একটা ফেতনাই নয় বরং সকল ফেতনার জন্মদাতা, মহামারী।
এই ইবলিশী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা মুসলমানদের ফাঁদের ফেলার সাধারণ মাথার কোন কারসাজি নয় বরং এমন জেহেনের বিছানো জাল যাদের দেমাগে শয়তান আস্তানা গেড়েছে।
সুতরাং তারা ইসলামের পরিভাষাসমূহ, ইসলামি আকিদা বিশ্বাস, এবং মুসলমানদের মেজাজ নিয়ে গবেষণা করে গণতন্ত্রের পরিভাষা নির্ধারণ করেছে। যার ফলে বাহ্যিকভাবে ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক মনে হয় না। এই চক্রান্তমূলক মিশনে তারা পুরাপুরি সফলতা অর্জন করেছে। ফলে সাধারণ মুসলমানদের সাথে সাথে অনেক উলামায়ে কেরামও ধোঁকার জালে আটকা পড়েছেন। ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তাদের দ্বীন ধর্ম সবকিছু হরণ করে নিয়েছে। কেননা গণতন্ত্রে যা কিছু ইসলামের সাথে মিলে তা ঠিক রাখা হয়েছে। আর যা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক সেগুলোতে কৌশলে ইসলামের পরিভাষাসমূহ ডুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে বাহ্যিকভাবে ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক মনে হয় না”।
সূত্র- “আদইয়ান কি জঙ্গ” বাংলায় “ইসলাম এবং গণতন্ত্র” নামে অনূদিত
মাওলানা সাইয়িদ আতাউল মুহসিন শাহ বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি
“কোনো কবরকে সমস্যার সমাধানকারী মানা ও বিশ্বাস করা যদি শিরক হয়, তাহলে অন্য কোন রাষ্ট্র ব্যবস্থা যেমন, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, সাম্যবাদ, পুঁজিবাদ, রাজতন্ত্র, কমিউনিজম, ক্যাপিটালিজম ইত্যাদি জীবন ব্যবস্থার কাছে সমস্যার সমাধান চাওয়া ইসলাম হতে পারে?
কবরে সেজদাকারী মুশরিক, পাথর, কাঠ এবং গাছকে সমস্যার সমাধানকারী ও প্রয়োজনপূরণকারী মানা শিরক। তাহলে গায়রুল্লাহর নেযামকে মানা কি ইসলাম ও তাওহিদ হতে পারে? ইসলামের কোথায় গণতন্ত্র আর কোথায় ভোট? কিংবা কোথায় সব মতবাদের সার্বজনীনতা? ইসলাম এধরনের মনমানসিকতাকে প্রশ্রয় দেয় না, এর উপস্থিতিকেও মেনে নেয় না। ইসলাম শুধু আপনার কাছে পূর্ণ আনুগত্য কামনা করে, আপনার খেয়ালখুশির মতামতকে নয়। যেমন আল্লাহ বলেছেন..
من یطع الرسول فقد أطاع اللہ..
..যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহ তায়ালাই আনুগত্য করল। (সূরা নিসা, ৮০)
সূত্র- তাওহিদ ও সুন্নাত কনফারেন্সে প্রদত্ত ভাষণ, ২৬শে সেপ্টেম্বর ১৯৮৭ বিট্রেন, সৌজন্য: সানাবিল করাচি।
বেফাকুল মাদারিস পাকিস্তানের চেয়্যারম্যান মাওলানা সালিমুল্লাহখান দামাত বারাকাতুহুম
শাইখুল হাদিস হযরত মাওলানা সালিমুল্লাহখান দামাত বারাকতুহুমকে জিজ্ঞাসা করা হল, নির্বাচনী রাজনৈতিক ব্যবস্থা কিংবা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ইসলামি শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা সম্ভব কী না?
উত্তরে তিনি সুস্পষ্ট ভাষায় বললেন না এটা সম্ভব নয়। নির্বাচনের মাধ্যমেও ইসলাম কায়েম সম্ভব নয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেও ইসলামি শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা সম্ভব নয়। গণতন্ত্রে সংখ্যাধিক্যতা ধর্তব্য হয়। সংখ্যাধিক্যতা কেবল মূর্খদেরই হয়ে থাকে, যারা দীনের গুরুত্বের ব্যাপারে উদাসীন।
ফলে তাদের দ্বারা কোন ভাল কাজ হওয়ার আশা করা যায় না”।
সূত্র- মাসিক পত্রিকা, সানাবিল করাচি, মে ২০১৩, সংখ্যা :১১
মুফতী জারওয়ালী খান
“গণতন্ত্রের চিরাচরিত নিয়ম হল যদি ২০জন বলে তারা ইসলাম চায়না, পক্ষান্তরে ৫জন বলে ইসলাম চায় তাহলে ২০জনের মত বেশি হওয়ায় সে অনুযায়ী ফায়সালা করা হবে। আরেকটি লজ্জাজনক বিষয় হল এখন মৌলবীরাও নিজেদের মজলিসে কোন বিষয়ে মতামত চেয়ে যেদিকে বেশি মত হয় সেদিকেই ফায়সালা করে দেয়। আমি বলি এটাতো বুশ এবং ব্রেয়ারদের অভ্যাস। আপনারা এটাকে কীভাবে দলিল হিসেবে পেশ করতে পারেন!!
جمہوریت "জমহুরিয়্যাত" শব্দ جمہرا"জমহুরা" থেকে নির্গত, যার অর্থ হল, আলোকিত বালুকণা। "জমহুর" দ্বারা অধিকাংশ মানুষ উদ্দেশ্য নয়। জ্ঞানের সর্বস্বীকৃত নিদর্শন আলেমগণ এ বিষয়ে কিছু বলেন নি ।
এমনিভাবে, আলকুরআনে এসেছে,
أَفَغَيْرَ اللَّهِ أَبْتَغِى حَكَمًا وَهُوَ الَّذِىٓ أَنزَلَ إِلَيْكُمُ الْكِتٰبَ مُفَصَّلًا ۚ وَالَّذِينَ ءَاتَيْنٰهُمُ الْكِتٰبَ يَعْلَمُونَ أَنَّهُۥ مُنَزَّلٌ مِّن رَّبِّكَ بِالْحَقِّ ۖ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِينَ
তবে কি আমি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন বিচারক অনুসন্ধান করব, অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি বিস্তারিত গ্রন্থ অবতীর্ন করেছেন? আমি যাদেরকে গ্রন্থ প্রদান করেছি, তারা নিশ্চিত জানে যে, এটি আপনার প্রতি পালকের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবর্তীর্ন হয়েছে। অতএব, আপনি সংশয়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না”। (সূরা আল-আনআম, ১১৪)
মুজাহিদুল ইসলাম লাল মসজিদের খতিব মাওলানা শহিদ আব্দুল আজিজ গাজি রহিমাহুল্লাহ
আমরা কুরআন সুন্নাহকে গুরুত্ব দেই না ইংরেজদের আইন কানুনকেই বেশি গুরুত্ব দেই। এ প্রতারণা করা হয় যে কোরআন সুন্নাহর অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের রায় দেওয়া হয়। ইসলামের মাঝে শুরা ব্যবস্থা আছে কিন্তু বর্তমানে প্রচলিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ইসলাম ও শরিয়তবিরোধী। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা আল্লাহ তায়ালার হাকিমিয়্যাতকে অস্বীকার করে, এর ক্ষমতা জনগনকে প্রদান করে।
এই জন্য গণতান্ত্রিক নীতির পূজারি রাজনীতিবিদরা সারাদিন আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল (সাল্লাআল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বাদ দিয়ে জনগণ জনগণ জপতে থাকে যে জনগণ যেটা চাইবে তাই হবে। বাস্তবে এটাও একটা ধোঁকা ও প্রতারণা। কেননা তারা শুধু জনগণের ঐ দাবি মানবে যা মানলে দাজ্জালী ব্যবস্থাপনার প্রভুরা খুশি হয়। গণতন্ত্র তাগুতী ও দাজ্জালী নীতি।
কোন কোন উলামা হযরত এ দাবি করতে চায় যে পাকিস্তানে ইসলামি জীবন ব্যবস্থা অনুযায়ী পরিচালনা করা হয়। এটা চরম মিথ্যা কথা বরং বলা যায় কিছু বিষয়ের উপর ইসলামের লেভেল লাগানো হয়েছে ঠিকই কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা বিট্রিশদের বানানো নিয়ম কানুনই”।