একটা গবেষণাধর্মী রিসালায় ‘দার’ নিয়ে কিছু আলোচনা হয়েছে। আলোচনাটি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কিছুদিন ধরে দেখছি সেটি নিয়ে লেখালেখি হচ্ছে।
রিসালায় দার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে,
“কিছু সুরত এমন যেগুলোর বিধান একেবারেই স্পষ্ট।”
সামনে বলা হয়েছে,
“পক্ষান্তরে কিছু সুরত এমন থাকে, যেগুলোর বিধান কি হবে তা অস্পষ্ট ও দ্বিধাযুক্ত। এ ধরনের সুরতের বিধান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ফকিহগণের মাঝে মতভেদ হয়।”
অর্থাৎ -
কিছু সুরতে পরিষ্কার দারুল ইসলাম।
কিছু সুরতে পরিষ্কার দারুল হারব।
কিছু সুরতে দারুল ইসলাম নাকি দারুল হারব পরিষ্কার না, কোনো কোনো বিবেচনায় দারুল ইসলাম, কোনো কোনো বিবেচনায় দারুল হারব। কেউ কেউ দারুল ইসলাম বলেন, কেউ কেউ দারুল হারব বলেন।
যেসব সুরতে পরিষ্কার দারুল ইসলাম সেগুলোর একটা উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে,
“যেসব মুসলিম ভূখণ্ডের বাদশারা কেবল নামের মুসলমান, সেগুলোও স্পষ্টভাবে দারুল ইসলাম। ... ফুকাহায়ে কেরামের সর্বসম্মতিক্রমে দারুল ইসলাম। এ বিষয়ে আহলে হক উলামা ও ফুকাহার মাঝে কোনো ইখতিলাফ পাওয়া যায় না।”
যারা এসব ভূমি দারুল ইসলাম হওয়ার ব্যাপারে দ্বিমত করবে তাদের ব্যাপারে হুকুম আরোপ করে বলা হয়েছে,
“এ বিষয়ে কারো ইখতিলাফ থাকলে সেটা গুলূ ও শুযূযের ইখতিলাফ, যার ভিত্তি হয়তো সাতহিয়্যাত (ইলম ও ফাহমের অগভীরতা), নয়তো জাহালাত, নতুবা যালালাত (গোমরাহী)।”
মন্তব্য
নামের মুসলমান দ্বারা কি উদ্দেশ্য?
ক. যদি উদ্দেশ্য হয় উমাইয়া, আব্বাসী, সেলজুকি, খোয়ারেজমি, গজনী, জিংকি, বনি বুইয়া, উসমানী, মোগল বা এরকম কোনো সময়কার চরম জালেম বাদশা; তাহলে সেগুলো জালেম শাসনাধীন হলেও রাষ্ট্রীয় আইন ছিল শরীয়াহ। রাষ্ট্রীয় শিক্ষা হিসেবে শরীয়াহ শিক্ষা দেয়া হতো, শরীয়াহই বিচার ব্যবস্থার একমাত্র উৎস ছিল। শরীয়াহ পরিবর্তন করে তদস্থলে কুফরি কোনো সংবিধান প্রতিস্থাপন করে উম্মাহর ঘাড়ে অস্ত্রের বলে তা চাপিয়ে দেয়া হয়নি।
এ ধরনের রাষ্ট্র দারুল হারব হওয়ার কোনো কারণ নাই।
খ. যদি উদ্দেশ্য হয় ফাতেমী নামধারী উবাইদি বাতিনি মুলহিদরা; তাহলে তাদের শাসনাধীন দার সর্বসম্মতিক্রমে দারুল ইসলাম হওয়ার কোনো প্রসঙ্গ নাই। সেগুলো দারুল হারব ছিল বলে পরিষ্কার মতামত আছে।
অধিকন্তু এসব নামধারী মুসলমান শাসকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে সেসব ভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। অতএব, এরকম কোনো ফলাফলেও উপনীত হওয়ার সুযোগ নেই যে, নামধারী মুসলিম হলে তাদের বিরুদ্ধে কিতাল হারাম।
গ. আর যদি উদ্দেশ্য হয় বর্তমান সময়কার মুসলিম নামধারী ‘সেকুলার’ শাসকগোষ্ঠী; তাহলে তাদের শাসনাধীন মুসলিম ভূমিগুলো সর্বসম্মতিক্রমে দারুল ইসলাম হওয়ার কোনো কারণ নাই। কারণ,
১. যদি বলা হয় বর্তমান আহলে হক আলেমদের এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নাই, তাহলে এটি মিথ্যা। এ ব্যাপারে আহলে হক উলামায়ে কেরামের মাঝে যথেষ্ট দ্বিমত আছে। দারুল হারব মনে করেন যারা, তাদের সংখ্যা এতো অধিক যে, বিষয়টা অন্তত মুখতালাফ ফিহি হওয়ার জন্য যথেষ্ট।
২. আর যদি বলা হয়, বর্তমান সময়কার আলেমদের মতামতের ভিত্তিতে নয়, পূর্বসুরি উলামাদের মতামতের ভিত্তিতে সর্বসম্মতিতে দারুল ইসলাম বলা হচ্ছে; তাহলে প্রশ্ন হলো,
সেই সময়টা কোনটা ছিল?
সেই শাসকরা কারা ছিল?
তাদের শাসনের বুনিয়াদ শরীয়াহ ছিল, নাকি কুফরি সংবিধান ছিল?
সর্বসম্মতিতে দারুল ইসলাম বলেছেন সেই সকল উলামা কারা ছিলেন?
রিসালাওয়ালাদের দাবিকৃত ইজমা সেটি কোনটি? কি সেটির হাকিকত? কোন মানদণ্ডে সেটি নির্ণীত?
যদি বলা হয়, না, বিষয়টা এমন না, সরাসরি পূর্বসুরি উলামাদের ইজমা নাই, তবে তাদের মতামত ও তাদের রেখে যাওয়া উসূলের দাবি হচ্ছে এসব রাষ্ট্র সর্বসম্মতিক্রমে দারুল ইসলাম;
তাহলে তো বলতে হবে:
এটি একটি কিয়াসি মাসআলা, শরীয়াহর সরাসরি কোনো নস বা উলামাদের সরাসরি কোনো ইজমা নাই, বরং একটি কিয়াস মাত্র। আর কিয়াসি মাসআলার ব্যাপারে দ্বিমত পোষণকারীকে ‘সাতহি-অগভীর জ্ঞানের অধিকারী’, ‘জাহেল-মূর্খ’, ‘শায-বিচ্ছিন্ন চিন্তা লালনকারী’, ‘ضالّ-গোমরাহ’ ইত্যাদি আখ্যা দেয়া কোনো আহলে ইলমের কাজ হতে পারে না।
এটা তো তাদের কাজ যারা নিজেদের রায়কে বা নিজেদের সমর্থক ও সমমনাদের রায়কে ইজমা মনে করে, ফলে অন্যদের রায়কে ‘খারেকে ইজমা ও গোমরাহি’ মনে করে।
তদানিন্তত যুগের ‘আহলে মদীনার ঐকমত্য’কে ইজমা মনে করতেন ইমাম মালেক রহ., উম্মাহর জুমহুর সেটাকেও গ্রহণ করেনি, আর নিজেদের সমমনা ও সমর্থকদের রায়কে ইজমা জ্ঞান করা তো উম্মাহর ইজমা থেকে বিচ্যুতি বৈ কিছু নয়।
মনে রাখা উচিত, ইজমা কোনো ছেলে খেলা নয়। ইজমা অকাট্য দলীল। ইজমা উম্মাহর গ্রহণযোগ্য সকল আলেমের সর্বসম্মত মতের নাম। নিজ ঘরানার কিছু লোকের গোঁজামিল চাপাচাপির নাম ইজমা নয়।
এও মনে রাখা উচিত, ইজমা এক ক্যাটাগরির নয়। ইজমার একাধিক ধরন ও রকম আছে। যে ইজমার বাইরে গেলে শায, গালি বা গোমরাহ হয়- আল্লাহ মালুম; রিসালাওয়ালারা জানে কিনা সেই ইজমা কোনটি, সেটি কিভাবে সংগঠিত হয়?
কিছু ইজমা আছে যা আহনাফের নিকট দলীল, ইমাম শাফিয়ি সেটি দলীল মানেন না। রিসালাওয়ালারা কি এরকম কোনো ইজমার খেলাফকে গোমরাহি মনে করছেন? তাহলে ইমাম শাফিয়ি তাদের দৃষ্টিতে কি?
আরও আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, কোনো কোনো ইজমা আছে যা সর্বসাকুল্যে খবরে ওয়াহিদ বা খবরে মাশহুরের শক্তি রাখে। এরকম ইজমার খেলাফকে গোমরাহি আখ্যায়িত করছেন রিসালাওয়ালারা?
এসবই হচ্ছে সে ইজমা, উসূলে ফিকহের আলোকে যেটি ইজমার কাতারে পড়ে। আর রিসালাওয়ালারা যে ইজমার দাবি করছেন, আল্লাহ মালুম সেটি কোন ফিকহের ইজমা, কোন মানদণ্ডেই বা নির্ণয় করা হয়েছে সেটি!
(সামনের পর্বে সমাপ্ত ইনশাআল্লাহ …)
রিসালায় দার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে,
“কিছু সুরত এমন যেগুলোর বিধান একেবারেই স্পষ্ট।”
সামনে বলা হয়েছে,
“পক্ষান্তরে কিছু সুরত এমন থাকে, যেগুলোর বিধান কি হবে তা অস্পষ্ট ও দ্বিধাযুক্ত। এ ধরনের সুরতের বিধান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ফকিহগণের মাঝে মতভেদ হয়।”
অর্থাৎ -
কিছু সুরতে পরিষ্কার দারুল ইসলাম।
কিছু সুরতে পরিষ্কার দারুল হারব।
কিছু সুরতে দারুল ইসলাম নাকি দারুল হারব পরিষ্কার না, কোনো কোনো বিবেচনায় দারুল ইসলাম, কোনো কোনো বিবেচনায় দারুল হারব। কেউ কেউ দারুল ইসলাম বলেন, কেউ কেউ দারুল হারব বলেন।
যেসব সুরতে পরিষ্কার দারুল ইসলাম সেগুলোর একটা উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে,
“যেসব মুসলিম ভূখণ্ডের বাদশারা কেবল নামের মুসলমান, সেগুলোও স্পষ্টভাবে দারুল ইসলাম। ... ফুকাহায়ে কেরামের সর্বসম্মতিক্রমে দারুল ইসলাম। এ বিষয়ে আহলে হক উলামা ও ফুকাহার মাঝে কোনো ইখতিলাফ পাওয়া যায় না।”
যারা এসব ভূমি দারুল ইসলাম হওয়ার ব্যাপারে দ্বিমত করবে তাদের ব্যাপারে হুকুম আরোপ করে বলা হয়েছে,
“এ বিষয়ে কারো ইখতিলাফ থাকলে সেটা গুলূ ও শুযূযের ইখতিলাফ, যার ভিত্তি হয়তো সাতহিয়্যাত (ইলম ও ফাহমের অগভীরতা), নয়তো জাহালাত, নতুবা যালালাত (গোমরাহী)।”
মন্তব্য
নামের মুসলমান দ্বারা কি উদ্দেশ্য?
ক. যদি উদ্দেশ্য হয় উমাইয়া, আব্বাসী, সেলজুকি, খোয়ারেজমি, গজনী, জিংকি, বনি বুইয়া, উসমানী, মোগল বা এরকম কোনো সময়কার চরম জালেম বাদশা; তাহলে সেগুলো জালেম শাসনাধীন হলেও রাষ্ট্রীয় আইন ছিল শরীয়াহ। রাষ্ট্রীয় শিক্ষা হিসেবে শরীয়াহ শিক্ষা দেয়া হতো, শরীয়াহই বিচার ব্যবস্থার একমাত্র উৎস ছিল। শরীয়াহ পরিবর্তন করে তদস্থলে কুফরি কোনো সংবিধান প্রতিস্থাপন করে উম্মাহর ঘাড়ে অস্ত্রের বলে তা চাপিয়ে দেয়া হয়নি।
এ ধরনের রাষ্ট্র দারুল হারব হওয়ার কোনো কারণ নাই।
খ. যদি উদ্দেশ্য হয় ফাতেমী নামধারী উবাইদি বাতিনি মুলহিদরা; তাহলে তাদের শাসনাধীন দার সর্বসম্মতিক্রমে দারুল ইসলাম হওয়ার কোনো প্রসঙ্গ নাই। সেগুলো দারুল হারব ছিল বলে পরিষ্কার মতামত আছে।
অধিকন্তু এসব নামধারী মুসলমান শাসকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে সেসব ভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। অতএব, এরকম কোনো ফলাফলেও উপনীত হওয়ার সুযোগ নেই যে, নামধারী মুসলিম হলে তাদের বিরুদ্ধে কিতাল হারাম।
গ. আর যদি উদ্দেশ্য হয় বর্তমান সময়কার মুসলিম নামধারী ‘সেকুলার’ শাসকগোষ্ঠী; তাহলে তাদের শাসনাধীন মুসলিম ভূমিগুলো সর্বসম্মতিক্রমে দারুল ইসলাম হওয়ার কোনো কারণ নাই। কারণ,
১. যদি বলা হয় বর্তমান আহলে হক আলেমদের এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নাই, তাহলে এটি মিথ্যা। এ ব্যাপারে আহলে হক উলামায়ে কেরামের মাঝে যথেষ্ট দ্বিমত আছে। দারুল হারব মনে করেন যারা, তাদের সংখ্যা এতো অধিক যে, বিষয়টা অন্তত মুখতালাফ ফিহি হওয়ার জন্য যথেষ্ট।
২. আর যদি বলা হয়, বর্তমান সময়কার আলেমদের মতামতের ভিত্তিতে নয়, পূর্বসুরি উলামাদের মতামতের ভিত্তিতে সর্বসম্মতিতে দারুল ইসলাম বলা হচ্ছে; তাহলে প্রশ্ন হলো,
সেই সময়টা কোনটা ছিল?
সেই শাসকরা কারা ছিল?
তাদের শাসনের বুনিয়াদ শরীয়াহ ছিল, নাকি কুফরি সংবিধান ছিল?
সর্বসম্মতিতে দারুল ইসলাম বলেছেন সেই সকল উলামা কারা ছিলেন?
রিসালাওয়ালাদের দাবিকৃত ইজমা সেটি কোনটি? কি সেটির হাকিকত? কোন মানদণ্ডে সেটি নির্ণীত?
যদি বলা হয়, না, বিষয়টা এমন না, সরাসরি পূর্বসুরি উলামাদের ইজমা নাই, তবে তাদের মতামত ও তাদের রেখে যাওয়া উসূলের দাবি হচ্ছে এসব রাষ্ট্র সর্বসম্মতিক্রমে দারুল ইসলাম;
তাহলে তো বলতে হবে:
এটি একটি কিয়াসি মাসআলা, শরীয়াহর সরাসরি কোনো নস বা উলামাদের সরাসরি কোনো ইজমা নাই, বরং একটি কিয়াস মাত্র। আর কিয়াসি মাসআলার ব্যাপারে দ্বিমত পোষণকারীকে ‘সাতহি-অগভীর জ্ঞানের অধিকারী’, ‘জাহেল-মূর্খ’, ‘শায-বিচ্ছিন্ন চিন্তা লালনকারী’, ‘ضالّ-গোমরাহ’ ইত্যাদি আখ্যা দেয়া কোনো আহলে ইলমের কাজ হতে পারে না।
এটা তো তাদের কাজ যারা নিজেদের রায়কে বা নিজেদের সমর্থক ও সমমনাদের রায়কে ইজমা মনে করে, ফলে অন্যদের রায়কে ‘খারেকে ইজমা ও গোমরাহি’ মনে করে।
তদানিন্তত যুগের ‘আহলে মদীনার ঐকমত্য’কে ইজমা মনে করতেন ইমাম মালেক রহ., উম্মাহর জুমহুর সেটাকেও গ্রহণ করেনি, আর নিজেদের সমমনা ও সমর্থকদের রায়কে ইজমা জ্ঞান করা তো উম্মাহর ইজমা থেকে বিচ্যুতি বৈ কিছু নয়।
মনে রাখা উচিত, ইজমা কোনো ছেলে খেলা নয়। ইজমা অকাট্য দলীল। ইজমা উম্মাহর গ্রহণযোগ্য সকল আলেমের সর্বসম্মত মতের নাম। নিজ ঘরানার কিছু লোকের গোঁজামিল চাপাচাপির নাম ইজমা নয়।
এও মনে রাখা উচিত, ইজমা এক ক্যাটাগরির নয়। ইজমার একাধিক ধরন ও রকম আছে। যে ইজমার বাইরে গেলে শায, গালি বা গোমরাহ হয়- আল্লাহ মালুম; রিসালাওয়ালারা জানে কিনা সেই ইজমা কোনটি, সেটি কিভাবে সংগঠিত হয়?
কিছু ইজমা আছে যা আহনাফের নিকট দলীল, ইমাম শাফিয়ি সেটি দলীল মানেন না। রিসালাওয়ালারা কি এরকম কোনো ইজমার খেলাফকে গোমরাহি মনে করছেন? তাহলে ইমাম শাফিয়ি তাদের দৃষ্টিতে কি?
আরও আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, কোনো কোনো ইজমা আছে যা সর্বসাকুল্যে খবরে ওয়াহিদ বা খবরে মাশহুরের শক্তি রাখে। এরকম ইজমার খেলাফকে গোমরাহি আখ্যায়িত করছেন রিসালাওয়ালারা?
এসবই হচ্ছে সে ইজমা, উসূলে ফিকহের আলোকে যেটি ইজমার কাতারে পড়ে। আর রিসালাওয়ালারা যে ইজমার দাবি করছেন, আল্লাহ মালুম সেটি কোন ফিকহের ইজমা, কোন মানদণ্ডেই বা নির্ণয় করা হয়েছে সেটি!
(সামনের পর্বে সমাপ্ত ইনশাআল্লাহ …)
Comment