বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
ইন্নাল হামদা লিল্লাহি, ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আলেমদেরকে বিশেষভাবে সম্মানিত করেছেন।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন :
يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ (سورة المجادلة 1158
“তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে আর যাদেরকে ইলম দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদেরকে মর্যাদায় উচ্চ করবেন”। (সূরা মুজাদালাহ ৫৮ : ১১)
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
وعن أبي أمامة الباهلي قال : " فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : " فضل العالم على العابد كفضلي على أدناكم. )رواه الترمذي وقال حسن غريب (قال المنذري في الترغيب والترهيب:1/80 -إسناده صحيح أو حسن أو ما قاربهما قال السيوطي في الجامع الصغير:5859 صحيح
“একজন ইবাদতকারীর (সাধারণ মুসলমানের) উপর আলেমের মর্যাদা ঠিক যেমনি তোমাদের একজন সাধারণ মানুষের উপর আমার মর্যাদা”। (সুনান তিরিমিযী - ২৬৮৫)
সুবহানাল্লাহ! আলেমদের সম্মানের ব্যাপারে কি আর কোন কথা থাকতে পারে?
কিন্তু সম্মানের সাথে সাথে আসে গুরুদায়িত্ব। যার যত সম্মান-যোগ্যতা, তার তত বেশী দায়িত্ব। এই দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে, আহলে বাতিলদের সকল প্রকার সন্দেহ-শুবুহাত নিরসন করে উম্মাতকে সঠিক পথের দিশা দেয়া। বাতিলদের ফিতনা থেকে দ্বীনের সহীহ আক্বীদা ও মানহাজকে সংরক্ষণ করা।
একথা সর্বজন বিদিত যে, প্রতি যুগে এই উম্মাতের একদল সত্যপন্থী লোক এসে এর বিকৃতি রোধ করবে। আলহামদুলিল্লাহ, আহলে হক্ব উলামায়ে কিরাম খাস করে মুজাহিদীন উলামাগণ যুগে যুগে জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর ব্যাপারে বাতিলপন্থী-তাগুতদের গোলাম এবং মূর্খ-জাহেলদের তৈরী সন্দেহ-শুবুহাত থেকে জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহকে রক্ষা করেছেন।
হে নবীর ওয়ারিসগণ !
আজ বাংলার জমীনে কতিপয় আলেম নামধারী লোক হয় তাদের মূর্খতার কারণে অথবা জেনে-বুঝে তাদের দ্বীনকে দুনিয়ার জন্য বিক্রি করে দিয়ে জিহাদ-ফি-সাবিলিল্লাহর আক্বীদাকে ক্ষত-বিক্ষত করে চলছে
সাধারণ মুসলমানরা হয়তো আলেম নামধারী এই সকল ব্যক্তিদেরকেই বড় আলেম মনে করছে কারণ তারা টিভিতে নিয়মিত অনুষ্ঠান করে মানুষকে ইসলামের শিক্ষা দেয়। কিন্তু আল্লাহর কসম, এই বই পড়ে সাধারণ শিক্ষিত অসংখ্য যুবক জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর ব্যাপারে মারাত্বক ভুল ধারনায় নিমজ্জিত হচ্ছে। ইনিয়ে-বিনিয়ে, বিভিন্ন কথার ফুল –ঝুরি দিয়ে, মিষ্টি-মিষ্টি কথা বলে সে এমনভাবে তার দলীলবিহীন মতামত লিখেছে, যাতে তার এই অন্তরের রোগের কথা, মারাত্বক জিহাদ বিদ্বেষের কথা প্রকাশ না পায়। এই বই পড়ে এমন এক ধরনের যন্ত্রনায় পড়েছি, মনে হয়েছে আমার হাত-পা বাঁধা কিন্তু কেউ আমার কলিজা ছিড়ে নিয়ে যাচ্ছে। কিছু করার নেই!! আর সকল অভিযোগ শুধুমাত্র আল্লাহর দরবারে।
নাস্তিক ব্লগারদের লিখা কোন বই / রিসালাহ পড়ে এর জবাব দেয়ার সুযোগ আমাদের সাধারন শিক্ষিত ভাইদের আছে। আর ওদের ক্ষতি সীমিত পর্যায়ে থাকে। কিন্তু ইসলামের লিবাস পরে যেখন কেউ জিহাদ-ফি-সাবিলিল্লাহর বিরুদ্ধে কাজ করে যায়, তখন এর প্রভাব হয় খুবই মারাত্বক। আর এটা রোধ করার সামর্থ সাধারন শিক্ষিত ভাইদের নেই। এর সামর্থ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ওলামায়ে কিরামগণকে দিয়েছেন।
হে জিহাদের ঝান্ডার অধিকারী ওলামায়ে-কেরামগণ, আপনারা কি এই ফিতনার সয়লাব রোধ করতে এগিয়ে আসবেন না??
হে আহলে হক্ব আলেমগণ, আপনাদের কলম কি এই বাতিলপন্থীদের মোকাবেলা না করে থেমে থাকবে??
হে নবীর ওয়ারিসগণ, আপনারা কি পারবেন রাতের বেলা ঘুমাতে যখন এই লোকদের তৈরী ফিতনা সাধারণ মুসলমানদেরকে জিহাদ-ফি-সাবিলিল্লাহর ব্যাপারে বিরুপ করে তুলছে??
আল্লাহর কসম, এই শয়তানদের ফিতনা থেকে সাধারণ মুসলমানদেরকে নিরাপদ করার আগ পর্যন্ত আপনাদের বিশ্রাম নেয়া উচিত হবে না।
হে আমাদের মালিক, আমাদের সবাইকে আমাদের উপর অর্পিত সকল দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার তাউফিক দান করুন। আমাদেরকে সাহায্য করুন ও রহমত করুন। আমীন।
আর পরিশেষে সকল প্রশংসা শুধুমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের যিনি আল জব্বারুল কাহ্*হার, আল মুতাকাব্বির। আমরা শুধুমাত্র তাঁর সাহায্য কাময়া করি। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসুল (সাঃ) এবং তাঁর পরিবারবর্গের উপর।
Comment