Announcement

Collapse
No announcement yet.

গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসলে কি দ্বীন কায়েম করা সম্ভব?

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসলে কি দ্বীন কায়েম করা সম্ভব?

    গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসলে কি দ্বীন কায়েম করা সম্ভব?

    বর্তমানে উম্মাহর দূর্দশার মূল সমস্যা হলো খিলাফাহ না থাকা। খিলাফাহ পতনের পর মুসলিমদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয় গণতন্ত্র নামক এক কুফুরি ধর্ম। এ ব্যবস্থার মাধ্যমেই ক্ষমতার পালাবদল হচ্ছে।
    মুসলিম উম্মাহর একাংশ বুঝতে পেরেছে যে, উম্মাহর দূর্দশার একমাত্র কারণ আল্লাহর জমিনে কুরআন সুন্নাহর বিধান না থাকা। তাই তারা দ্বীন কায়েমের জন্য চেষ্টা করছে। কিন্তু দ্বীন কায়েম কোন পন্থায় হবে এ নিয়ে কেউ কেউ ভুল পন্থায় পা দিয়েছে। তারা নববি পন্থা বাদ দিয়ে গণতান্ত্রিক পন্থা গ্রহণ করেছে। তাদের দাবি, বর্তমানে ক্ষমতার যাওয়ার একমাত্র পথ হলো-গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা। নির্বাচন সুষ্ঠ হলে, সবাই নিজ থেকে নিরাপদে ভোট দিতে পারলে একসময় তারা ক্ষমতায় আসবে। এরপর একে একে ইসলামের বিধান বাস্তবায়ন করবে। গণতান্ত্রিক পন্থায় দ্বীন কায়েমের এ হলো তাদের নঁকশা।

    কিন্তু আসলেই কি গণতান্ত্রিক পন্থায় ইসলামের লেবেল লাগিয়ে ক্ষমতায় আসা সম্ভব? ক্ষমতায় আসলে কি দ্বীন কায়েম করা সম্ভব?


    এ প্রশ্নের উত্তর সরাসরি দেওয়ার আগে আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সিরাতে চোখ বুলাবো। তাহলেই আমরা উত্তর পেয়ে যাব। ইনশাআল্লাহ

    রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়াত পাওয়ার পর প্রথমে গোপনে ও পরে প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াহ করতে থাকেন। প্রথমে অল্পকিছু সাহাবি রাদিয়াল্লাহু আনহুম ইসলাম গ্রহণ করলেও বেশির ভাগ বিরোধিতা করেছেন। কটু বাক্য, ঠাট্টা, জুলুম, মারধর এরকম বিভিন্ন অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। এরপরও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দাওয়াহর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। কাফিরদের পক্ষ থেকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অফার করা হলো যে, আপনাকে মক্কার শাসন ক্ষমতা দেওয়া হবে (নেতা বানানো হবে), সুন্দরী রমণীর সাথে বিবাহ দেওয়া হবে, ধন-সম্পদ দেওয়া হবে ইত্যাদি। কিন্তু রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাফিরদের এসকল অফার গ্রহণ করেননি। বরং আপন গতিতে ইসলামের বাণী প্রচার করতে থাকেন।

    ভালো করে লক্ষ্য করুন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কিন্তু ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলেছিল মক্কার কাফিররা। এরপরও কেন তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করেননি? কারণ কি?
    অথচ গণতান্ত্রিক ইসলামি দলগুলোর ভাষ্য হলো, ক্ষমতায় গিয়ে দ্বীন কায়েম করবে। বিষয়টি সম্পূর্ণ উল্টে না! রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ক্ষমতা দেওয়া সত্ত্বেও তিনি গ্রহণ করেননি। আর গণতান্ত্রিক ইসলামি দলগুলো ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মেহনত করে যাচ্ছে এবং ক্ষমতায় গিয়ে দ্বীন কায়েম করবে। তাহলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি কম বুঝেছিলেন! নাউযুবিল্লাহ
    নাকি গণতান্ত্রিক ইসলামি দলগুলো বুঝের ক্ষেত্রে পথভ্রষ্ট হয়েছে!


    আসুন, এ বিষয়ে আলোচনা করি।

    কেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ক্ষমতা গ্রহণ করেননি?
    রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভালো করে জানতেন যে, যদি আমি প্রস্তাবে রাজি হয়ে ক্ষমতায় আসি; তাহলে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়ণ করা কঠিন হয়ে যাবে।
    কীভাবে কঠিন হবে?
    মনে করুন, আল্লাহর পক্ষ থেকে বার্তা আসলো আজ থেকে মদ পুরোপুরি হারাম। বাস্তবেও যখন চতুর্থ ধাপে মদকে হারাম করার বিধান নাযিল হলো তখন এ বিধান শোনামাত্র সকল সাহাবি রাদিয়াল্লাহু আনহুম বিনা বাক্যে মেনে নিয়েছেন। মদের বোতল ভেঙ্গে ফেলেছেন। এমনকি যারা তখন মদ খেয়েছিলেন তারা মুখের ভিতর হাত প্রবেশ করে বমিও করেছেন, যাতে মদ হজম না হয়ে যায়।
    রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি তখন ক্ষমতায় থাকতেন তাহলে তিনি মুমিন-কাফির সবারই নেতা থাকতেন। যেহেতু তখন তিনি মক্কার বাদশাহ। যদি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু জাহিল, আবু সুফিয়ান, উতবা, শাইবা সবার সামনে ঘোষণা করতেন যে, আজ থেকে মদ হারাম। আল্লাহ মদ হারাম করে আয়াত নাযিল করেছেন। তাই আজ থেক মদ হারাম করা হলো।

    আপনার কি মন হয়?
    আবু জাহিল, আবু লাহাব কি মেনে নিতেন?
    কখনোই না! বরং তারা বিরোধিতা করে বলতেন, তোমার আল্লাহর এ বিধান আমরা পালন করতে পারবো না। এরমভাবে অন্য সকল বিধানের ক্ষেত্রেও তারা এমনই বলতো, যে বিধান তাদের পছন্দসই না হতো।

    তাহলে বিষয়টি কেমন হতো!
    বিষয়টি এমন হতো যে, আল্লাহ কোন বিধান নাযিল করার পর, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সেই বিধান বাস্তবায়নের জন্য আবু জাহিল, আবু লাহাবের সাথে পরামর্শ করতে হতো। তাদরে পছন্দসই হলে মানতো আর না হলেও মানতো না। অথচ বিধানটি স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু তাআলার। কোন ব্যক্তি বা দলে কিংবা গোটা পৃথিবীবাসীর কথায় আল্লাহর বিধান পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংষ্কার হতে পারে না।

    এজন্যই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ক্ষমতার অফার পেয়েও গ্রহণ করেননি।

    আর যদি ক্ষমতা গ্রহণ করতেন, তাহলে কি হতো?
    ক্ষমতা গ্রহণ করলে ইসলামের বিধান বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কাফিরদের সাথে মতপার্থক্য হতো। কাফিররা কখনোই আল্লাহর বিধান বাস্তবায়ন করতে দিতেন না ও ইসলামি খিলাফাহর ছায়াতলে থাকতে চাইতেন না। তো ক্ষমতায় আসলেও কাফিরদের সাথে সংঘর্ষ লেগেই থাকতো।

    তো যারা গণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতায় এসে দ্বীন কায়েমের স্বপ্ন দেখে, তাদের জন্য রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবনিতেই শিক্ষা নিহিত রয়েছে। এ পন্থা সম্পূর্ণ নববি তরিকার বিপরীত। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, গণতান্ত্রিক পন্থায় তো ক্ষমতায় আসতেই পারছেন না তারা।
    সুতরাং মেধা, শ্রম, সময়, ধন-সম্পদ গণতান্ত্রিক পন্থায় ব্যয় না করে নববি মানহাযে ফিরে আসাই উত্তম।

    গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসলেও দ্বীন কায়েম করা কি সম্ভব?
    কোন ইসলামি দল নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর তাদের প্রথম কাজ কি হবে?

    প্রথম কাজ হবে, আল্লাহর বিধান বাস্তবায়ন করা। ক্ষমতার আসার পর যখন রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামের বিধান বাস্তবায়ন করা হবে এবং কুফুরি বিধান বাদ দেওয়া হবে, তখন বিশ্বের কুফুরি শক্তি কি তা মেনে নিবেন? প্রশ্নই আসে না। পৃথিবীর কুফুরি শক্তি কোনদিন মেনে নিবে না। কেননা, এই কুফুরি শক্তিই এক তাগুতকে হটিয়ে আরেক তাগুতকে ক্ষমতায় বসায়। তাই মুজাহিদদের মানহায হলো, আঞ্চলিক তাগুতকে হটিয়ে তেমন লাভ নেই। কেননা, এক তাগুতকে হটালে আরেক তাগুতকে ক্ষমতায় বসানো হয়। তাই আঞ্চলিক তাগুতকে না হটিয়ে, যারা আঞ্চলিক তাগুতকে ক্ষমতায় বসায় (যারা কুফুরি শক্তির মূল) তাদেরকে প্রতিহত করতে পারলেই আঞ্চলিক তাগুতকে হটানো তেমন কঠিন কিছু না।

    সুতরাং ক্ষমতায় আসার পর যখন ইসলামের বিধান রাষ্ট্রীয়ভাব বাস্তবায়ন করা হবে তখন কুফুরি শক্তির ঘুম হারাম হয়ে যাবে। তারা হুমকি ধমকি দিবে যাতে ইসলামের বিধান বাস্তবায়ন করা না হয় ও কুফুরি শক্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য তাগিদ দিবে। তাদের হুমকি ধমকির পরও যদি কথা শোনা না হয়, তারা বসে থাকবে না; ক্ষমতায় থেকে বিচ্যুত করিয়ে ছাড়বে, আর এর জন্য যা যা করতে হয় তা তা করবে ।

    বিশ্বের বড় একটি গণতান্ত্রিক সংগঠন ইখওয়ানুল মুসলিম। যারা ক্ষমতায় এসেছিল এবং প্রায় এক বছর ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু পুরো এক বছরে আল্লাহর একটি বিধানও বাস্তবায়ন করতে পারেনি। বরং এক সময় তাদের নেতাকে ক্ষমতা হারাতে হয় এবং তাকে হত্যা করা হয়।

    অতএব এই গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচন করে আসলে ক্ষমতায় আসা সম্ভব নয়। আর ক্ষমতায় আসলেও টিকে থাকা সম্ভব নয়, আল্লাহর বিধান বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। বরং প্রশ্ন থেকেই যায়,
    ১. ক্ষমতার আসর পর যদি কুফুরি বিধানেই দেশ চালাত হয়, তাহলে শাসক ও শাসকের মূল মূল অধীনস্থদের হুকুম কি হবে?
    ২. গণতান্ত্রিক ইসলামি দলগুলোর অনেকে বলে, ক্ষমতায় আসর পর যদি ইসলামের বিধান পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে গেলে সমস্যা দেখা দেয়; তবে একবারে বাস্তবায়ন না করে ধীরে ধীরে একটি একটি করে বাস্তবায়ন করা হবে। তাহলে প্রশ্ন হলো, এমন করাটা কীসের উপর ভিক্তি করে হবে? এটা কি ইসলামের উসূলে আছে নাকি নিজেদের মনগড়া? সংক্ষেপে উত্তর হলো, ইসলামের সাথে এ বিষয়টি পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। অন্য কোন পোস্টে এ বিষয়ে আলাদা করে আলোচনা করা হবে। ইনশাআল্লাহ

    গোপনে আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকার মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত সফলতা ৷

  • #2
    জাযাকাল্লাহ খাইরান ভাই, সুন্দরভাবে তুলে ধরার জন্য।
    আশাকরি এমনভাবে সহজসাধ্য করে বুঝিয়ে লিখা পোস্ট সামনে আরও পাবো আপনার থেকে ইনশাআল্লাহ

    Comment


    • #3
      মাশাআল্লাহ
      সুন্দর যুক্তি উপস্থাপন এর মাধ্যমে গণতন্ত্রের-ভোটের-নির্বাচনের অসারতা তুলে ধরেছেন মুহতারাম
      আল্লাহ্‌ তাআলা আপনার লিখনিকে আরও শানিত করুন, আমীন

      Comment

      Working...
      X