ফুঁ দিয়ে এই চেরাগ নিভানো যাবে না!
পর্ব - " ৮ম "
সুদৃঢ় বিশ্বাসপর্ব - " ৮ম "
.
এমন লোকদের উপর যখন আল্লাহর পরীক্ষা বিপদ ও বঞ্চিত হওয়ার আকৃতিতে আসে এবং তার মধ্যে বৃদ্ধি পায় তখন আল্লাহর সাহায্যের উপর তার বিশ্বাস কখনো নড়বড়ে হয়ে যায় না, বরং সুদৃঢ় হয়ে থাকে। সে জানতে পারে আল্লাহ তাড়াতাড়ি সাহায্য পাঠাবেন। কিন্তু যদি তার সাহায্য আসতে দেরী হয়, তখন সে নিজের প্রজ্ঞাবান রবের হেকমতের উপর সন্তুষ্ট থাকে। সে বুঝতে পারে যে, لَا يَقْضِيَ اللّٰهُ لِلْمُؤْمِنِ قضاءً الا كان خيرًا لهُ আল্লাহ তা‘আলা মুমিনদের জন্য যে ফায়সালা করেন তার মধ্যেই মুমিনের কল্যাণ নিহিত। এই বিলম্ব তাঁর ঈমানের জন্য, আহলে ঈমানদের জন্য, সমস্ত উম্মতের জন্য এবং সকল মানুষের জন্য সে কল্যাণকর মনে করে। এবং এই আসায় সামনে বাড়ে যে, এখন নয় তো কাল সাহায্য আসবে। দেরি হচ্ছে তো এই দেরির কারণ সে এটা মনে করে যে, এর মধ্যে আল্লাহর হেকমত রয়েছে। সে আল্লাহর হেকমতের উপর বিশ্বাস রাখে এবং সে হাকিম রবের এই ফায়সালার উপর সন্তুষ্ট থাকে।
.
আল্লাহর মুহাব্বত
.
তাঁর ক্ষত-বিক্ষত দিল ও রক্তাক্ত শরীরের জন্য এটাও বাস্তবিক উপশম হিসাবে সাব্যস্ত হয় যে, সে আল্লাহর মাহবুব বান্দা। এবং এটাও আল্লাহর মুহাব্বত। এই পরীক্ষার জন্য তাঁকে বাছাই করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা যখন কোনো জাতিকে পছন্দ করেন তখন তাদের পরীক্ষার সম্মুখীন করেন। সুতরাং তাদের সকল ‘আহ’ এবং সকল দুঃখ-কষ্ট আল্লাহর রাস্তার সকল বেদনা, সকল ভয়ভীতি, আল্লাহর নৈকট্য, আল্লাহর সাথে আরও বেশি মুহাব্বত এবং আল্লাহর মাগফিরাত লাভের কারণ হয়ে যায়। এবং এটাই আসল লক্ষ-উদ্দেশ্য হওয়া চাই।
.
সাহায্য ও বিজয়ের প্রতি বিশ্বাস
.
ময়দানে সাহায্য ও বিজয়, যে ইসলামাবাদে শরিয়ত বাস্তবায়ন হয়ে যাবে, এই জাতির খিলাফত ব্যবস্থার দেখা মিলবে, আল্লাহর রহমত পাবে, তাদের উপর আল্লাহর রহমত নাযিল হবে, দিল্লিতে তাওহিদের ঝাণ্ডা দৃষ্টিগোচর হবে, হিন্দুস্তানের মুসলমানরা জুলুম থেকে মুক্তি পাবে। এই বিজয় ও সাহায্যের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, এ ক্ষেত্রেও নিরাশ হয়ো না; এর থেকেও তোমরা মাহরুম হবে না ইনশাআল্লাহ!
َأُخرىٰ تُحِبّونَها ۖ نَصرٌ مِنَ اللَّهِ وَفَتحٌ قَريبٌ ۗ
এবং যেটা তোমরাও পছন্দ কর
.
চিন্তা করুন, ‘যেটা তোমরা পছন্দ কর’। আল্লাহ তা‘আলা তো অমুখাপেক্ষী, যেটা তোমরা পছন্দ কর। কে এটা পছন্দ করে না যে, আল্লাহর শরিয়ত বাস্তবায়ন হোক? আমরা সবাই পছন্দ করি যে, আমাদের বিজয় লাভ হোক, সাহায্য পেয়ে যাই। আল্লারহ দ্বীনকে আমরা এই দুনিয়ার মধ্যে বিচারক হিসাবে দেখব। তো আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তোমরা যেটি পছন্দ কর সেটাও নিকটবর্তী; বেশি দূরে নয়।
وَبَشِّرِ المُؤمِنينَ
সুসংবাদ তো মুমিনদের জন্য
.
যে মুমিন বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ আমার মালিক, আমার খালিক, আমার হাকিম, তিনি সম্মান দান করেন, লাঞ্চনা দেন, জীবন দান করেন এবং মৃত্যু দেন। যে দুনিয়ার সকল বিষয়ে এই বিশ্বাস রাখে যে, যখন আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা করেন তখন আমার উপর এই কষ্ট আসবে, আর যদি না চান তাহলে তো এই সবকিছু অর্জন হবে। তখনও এটা আমাকে কোনো প্রকার পীড়া দেয় না। তো আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَبَشِّرِ المُؤمِنينَ
ঐ মুমিনদেরকে সুসংবাদ দাও; বিজয়ের সুসংবাদ, আল্লাহর নুসরতের সুসংবাদ। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের দূর্বলদের মুমিন বানিয়েছেন এবং তিনি আমাদের এই সৌভাগ্যবানদের মধ্যে শামিল করেছেন। আল্লাহ আমাদেরকে এই পরীক্ষায় এবং সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করুন। আমাদের যে ভাই কয়েদখানা’য় রয়েছে, আমাদের যে ভাই পাকিস্তানের এজেন্সির কাছে বন্দি রয়েছে, সকল দ্বীনি জামাআত, জিহাদী দলের মুজাহিদগণ, মুমিনগন ও দায়ীগনকে আল্লাহ তা‘আলা আত্মসমর্পনকারী বানিয়ে দিন। আমীন!
.
চলবে...