ফুঁ দিয়ে এই চেরাগ নিভানো যাবে না!
পর্ব - ৯ম
দৃঢ়তা প্রদর্শনকারী মুজাহিদীনের ভূমিকা
.
পরীক্ষার দুনিয়াবী ফলাফল
.
ঈমান ও দ্বীনের বড়ত্ব অন্তরে গেঁথে যাওয়া। মুমিনরা যখন বিপদাপদে দৃঢ়তা দেখায়, কষ্টের সময় ধৈর্যধারণ করে তখন তাঁরা বুঝতে পারে যে, এই পরীক্ষার দ্বারা তাদেরকে এক মহান উদ্দেশ্যে এক বিশাল কষ্টের নিসাবে অতিবাহিত হচ্ছে। তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অতঃপর হকের জন্য যখন সে নিরাপদ ও স্থীরতার কুরবানি দেয়, অন্তরের কামনা-বাসনাকে যখন সে মেরে ফেলে, সবচেয়ে প্রিয় সাথীদের শাহাদাতের ফলে তার অন্তর যখমে জর্জরিত হয়, সবচেয়ে নিকটাত্মীয়দের থেকে সে দূরে সরে যায়, নিজের দেশের কুরবানি করে, হিজরতের মাধ্যমে উন্মাদের মতো জীবন বেছে নেয়, জিহাদ ও কিতালের ময়দানে, দাওয়াতের ময়দানে সর্বপ্রকার ভয়ভীতি ও আশঙ্কার সম্মুখীন হলে অটল থাকে, তখন এই সকল কুরবানির বদৌলতে ঈমান ও উচ্চাকাঙ্খার মাহাত্ম তার হৃদয়ের গভীরে গেঁথে যায়। অতঃপর সে কোনো মূল্যেই এই লক্ষ্য বিক্রি করে না। এই অভিশপ্ত দুনিয়ার কয়েকটি নিশ্বাসের জন্য আখেরাতকে বিক্রি করে দেয় না।
.
লোভ ও উপঢৌকনের মোকাবেলায় মুমিনের জবাব
.
যদি কখনো দুনিয়ার উপঢৌকন এমন মানুষের জন্য হয় যে শত বাধা সত্ত্বেও জিহাদ পরিত্যাগ করেনি, তখন বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে তাদের উপঢৌকন দেওয়া হয়। কিন্তু যখন মুমিনরা এই উপঢৌকনকে লাথি মেরে ফেলে দেয় তখন এই শয়তান, জালেম ও হত্যাকারীরা মুমিনদেরকে নিরাপত্তার জীবন দেখিয়ে বলে যে, দেখ কেমন ভালো জীবন! আর তোমরা কোথায় আছ? পাহাড়ে উন্মাদের জীবন যাপন করছ! এর জবাবে মুমিনরা বলে,
وَيٰقَومِ ما لى أَدعوكُم إِلَى النَّجوٰةِ وَتَدعونَنى إِلَى النّارِ
হে লোকসকল! আমি তোমাদেরকে নাজাতের দিকে আহ্বান করি, আর তোমরা আমাকে আগুনের দিকে আহ্বান কর?
.
আমি তোমাদেরকে আল্লাহর দ্বীনের দিকে, তাঁর শরিয়তের দিকে, দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতার দিকে এবং উঁচ্চতার দিকে আহবান করি, আর তোমরা লাঞ্চনা, জিল্লতি, নীচতা ও এই পঁচা দুনিয়ার দিকে আহবান করছ? তোমারা আমাকে আগুনের দিকে ডাকছ?
تَدعونَنى لِأَكفُرَ بِاللَّهِ
তোমরা আমাকে আহ্বান করছ, যেন আমি আল্লাহর না-শুকরিয়া করি?
وَأُشرِكَ بِهِ ما لَيسَ لى بِهِ عِلمٌ
তাঁর সাথে শিরক করি, যার ব্যাপারে আমার ইলম নেই?
এই কুফরি নেযামের সামনে মাথা নত করি? এই জুলুমবাজির নিয়মের সামনে আত্মসমর্পন করি? আমি আল্লাহকে বাদ দিয়ে আমেরিকাকে প্রভু হিসেবে গ্রহণ করব? আমেরিকার গোলামদের সামনে ঝুকে যাব? আল্লাহর দ্বীনের আদালতের নীতি আমাকে কী বলে? তাঁর দ্বীন আমার থেকে কী চায়? তাঁর চাওয়া ও কামনা ছেড়ে তোমাদের ও তোমাদের প্রভুদের চাওয়ার উপর, তোমাদের ইলাহ আমেরিকার চাওয়ার উপর এসে যাই? তোমাদের মুলহিদ ও মুশরিক প্রভুদের চাওয়া পাওয়া মেনে নেব? কেননা তোমরা তো এই পাকিস্তানকে মুলহিদদের (দ্বীন ত্যাগীদের) আড্ডাখানা বানাতে চাও। পাকিস্তানকে মুশরিকদের বিচরণগাহ বানাতে চাও। আর আমি
وَأَنا۠ أَدعوكُم إِلَى العَزيزِ الغَفّٰرِ
আমি তোমাদেরকে সম্মানিত ক্ষমাশীল রবের দিকে আহবান করি।
لا جَرَمَ أَنَّما تَدعونَنى إِلَيهِ
তোমরা যার দিকে আমাকে আহবান করো
لَيسَ لَهُ دَعوَةٌ فِى الدُّنيا وَلا فِى الءاخِرَةِ
দুনিয়া ও আখেরাতে তার কোনো গুরুত্ব বা স্থান নেই।
وَأَنَّ مَرَدَّنا إِلَى اللَّهِ
আমাদের ও তোমাদের প্রত্যাবর্তনস্থান তো আল্লাহর দিকেই।
وَأَنَّ المُسرِفينَ
যারা বাড়াবাড়ি করে, আল্লাহর বন্ধুদের সাথে, আল্লাহর রাস্তার সাথে, জিহাদের সাথে শত্রুতা রাখে, আল্লাহর রাস্তার মুসাফিরদের সাথে, দ্বীনের উলামাদের সাথে, মাদারেসের উপর জুলুম করে, আলেমদের অসম্মান করে
هُم أَصحٰبُ النّارِ
তারা সকলেই জাহান্নামের অধিবাসী হবে। আর তারাই বলবে
فَسَتَذكُرونَ ما أَقولُ لَكُم ۚ
আমরা যা কিছু বললাম সবই তোমরা স্বরণ করবে।
وَأُفَوِّضُ أَمْرِي إِلَى اللَّهِ ۚ
আমার বিষয় আমি আল্লাহর কাছে সোপর্দ করলাম।
إِنَّ اللَّهَ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ
নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা বান্দাদের সবকিছু দেখেন।
.
চলবে...