মার্কিন দূতাবাসের ইশারায় ইসলামপন্থী জোটে ভাঙন: গণতন্ত্রের অসারতা নিয়ে কিছু কথা-৩
—মুনশি আব্দুর রহমান
—মুনশি আব্দুর রহমান
সম্মানিত ইসলামি রাজনীতিবিদদের প্রতি কিছু লা-জওয়াব প্রশ্ন:
যারা এখনও মনে করেন যে, পশ্চিমা বিশ্বব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে বা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমঝোতা করে ইসলাম কায়েম করা সম্ভব, এখনো যারা ফরজে আইন জিহাদের বিরোধিতা করেন, দাওয়াত-তাজদীদ ও সামাজিক শক্তি অর্জনের মানহাজে বিরোধিতা করেন, তাদের বিবেকের আদালতে নিচের প্রশ্নগুলো রাখা হলো:
১. সার্বভৌমত্ব কার? আল্লাহর নাকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের?
আপনাদেরও আকীদা হল "সার্বভৌমত্ব আল্লাহর", আপনারা এই স্লোগান এবং দাওয়াত দিয়েই কর্মীদের রিক্রুট করেছেন। অথচ এখন ক্ষমতার মসনদে বসার আগেই মার্কিন দূতাবাসের চাপে ‘প্রচলিত আইন’ মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার করছেন!
যদি মার্কিন দূতাবাসের চাপে আল্লাহর আইন স্থগিত করা বৈধ হয়, তবে আপনাদের রাজনীতির সাথে সেক্যুলারদের রাজনীতির মৌলিক পার্থক্য কোথায়?
২. ‘মডারেট’ হওয়ার মানদণ্ড কে ঠিক করে দিচ্ছে?
আমেরিকান এম্বেসি যখন আপনাদের ‘বন্ধু’ বা ‘চরমোনাই’কে ‘মৌলবাদী’ ট্যাগ দেয়, তখন আপনারা সেই ট্যাগ ঝেড়ে ফেলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আপনারা কি আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হতে চান, নাকি মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের কাছে ‘সুবোধ বালক’ সাজতে চান? যেই আমেরিকা বিশ্বজুড়ে মুসলিম নিধনের মূল হোতা, তাদের সার্টিফিকেটের ওপর ভিত্তি করে নিজ দেশের অপর ইসলামি ভাইকে দূরে ঠেলে দেওয়া কি ইমানি দেউলিয়াপনা নয়?
৩. ইতিহাসের শিক্ষা কি আপনারা অস্বীকার করবেন?
আলজেরিয়া থেকে মিসর, এবং এখন বাংলাদেশ—ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে যে, ব্যালট বক্সে ইসলামপন্থীরা বিজয়ী হলেও পশ্চিমারা ‘ভেটো’ দিয়ে বা সামরিক ক্যু ঘটিয়ে তা নস্যাৎ করে দেয়। আল-কায়েদা এই সত্যটিই বারবার বলে আসছে। এতবার ধোঁকা খাওয়ার পরেও একই গর্তে বারবার পা দেওয়াকে আপনারা ‘কৌশল’ বলেন নাকি 'ভুল পদক্ষেপ’?
গণতন্ত্রের যে জাদুকাঠির স্বপ্ন আপনারা দেখছেন, তা কি আসলে পশ্চিমাদের পেতে রাখা কোনো ফাঁদ নয়?
৪. ফিলিস্তিন ও উম্মাহর রক্ত কি আপনাদের কাছে গৌণ?
আল-কায়েদা আমেরিকার বিরুদ্ধে লড়ছে কারণ তারা ফিলিস্তিনসহ সারা বিশ্বে মুসলিম নিধনের পৃষ্ঠপোষক।
সেই আমেরিকার সাথেই ‘সুসম্পর্ক’ রেখে বা তাদের এম্বেসিতে গিয়ে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চাওয়া কতটুকু নৈতিক? যাদের হাতে লাখো মুসলিমের রক্ত, তাদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী নীতি পরিবর্তন করে কীভাবে উম্মাহর নেতৃত্ব দেওয়ার দাবি করা যায়? গাজায় যারা বোমা মারে, আর ঢাকায় যারা আপনাদের ‘গণতন্ত্র’ শেখায়—তারা কি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ নয়?
উপসংহার: মরীচিকার পেছনে ছোটা নাকি বাস্তবতাকে আলিঙ্গন?
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও মার্কিন দূতাবাসের নগ্ন হস্তক্ষেপের ঘটনাপ্রবাহ কেবল একটি জোট ভাঙার গল্প নয়, বরং এটি তথাকথিত ‘গণতান্ত্রিক ইসলামি রাজনীতি’র কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়ার শামিল। আশা করছি এই ঘটনাপ্রবাহ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, পশ্চিমাদের তৈরি করা রাজনৈতিক ব্যবস্থা, ইকোনমিক গার্ডরেইল, এবং তাদের এঁকে দেওয়া সীমারেখায় আটকে থেকে কখনোই পূর্ণাঙ্গ শরিয়াহ বা খিলাফাহর স্বপ্ন দেখা সম্ভব নয়।
যেখানে অর্থনীতির দোহাই দিয়ে আল্লাহর আইনকে ‘মুলতবি’ রাখা হয় এবং দূতাবাসের সন্তুষ্টির জন্য ‘প্রচলিত আইনে’র কাছে মাথা নত করতে হয়, সেখানে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কেবল একটি ফাঁকা বুলি মাত্র।
আল-কায়েদা দীর্ঘকাল ধরে যে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে আসছিল—"পশ্চিমারা কখনোই ব্যালটের মাধ্যমে ইসলামকে বিজয়ী হতে দেবে না"—তা আজ ঢাকার রাজপথের রাজনীতিতে দিবালোকের মতো সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
সুতরাং, সময় এসেছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার। আমরা কি পশ্চিমাদের ঠিক করে দেওয়া গণ্ডিতেই ঘুরপাক খাব, নাকি কুরআন-সুন্নাহ নির্দেশিত ‘ইজ্জতের পথ’—যা কোনো পরাশক্তির রক্তচক্ষুর পরোয়া করে না—সেই বাস্তবমুখী মানহাজকে মুক্তির একমাত্র পথ হিসেবে গ্রহণ করব? ইতিহাস সাক্ষী, আপস করে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট পাওয়া যায়, কিন্তু আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
*****
সমাপ্ত...আলহামদুলিল্লাহ

Comment