Announcement

Collapse
No announcement yet.

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দেড় বছর : আল কায়েদা কী সত্য বলেছিল? (১) || মুনশি আব্দুর রহমান

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দেড় বছর : আল কায়েদা কী সত্য বলেছিল? (১) || মুনশি আব্দুর রহমান

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দেড় বছর : আল কায়েদা কী সত্য বলেছিল? (১)

    -মুনশি আব্দুর রহমান


    আমরা কি ভুল গন্তব্যে হেঁটেছি?

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেড়টি বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। আজ রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত জাতীয়তাবাদী শক্তি, অথচ গণঅভ্যুত্থানের যারা ছিল মূল চালিকাশক্তি—সেই ধর্মপ্রাণ ছাত্র-জনতা আজ উপেক্ষিত। গণঅভ্যুত্থানের প্রতীক ও চেতনাগুলো আজ নতুন সরকারের কাছে যেন ‘অস্বীকৃত’। বর্তমান এই পরিস্থিতি দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণ করে, আমরা আবেগের বশবর্তী হয়ে রাজপথ প্রকম্পিত করলেও গণঅভ্যুত্থানের ‘মৌলিক দর্শন’ অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছি। গণঅভ্যুত্থানের অব্যবহিত পরেই উস্তাদ উসামা মাহমুদ হাফিযাহুল্লাহ তাঁর 'বাংলাদেশ: ইসলামের বিজয়ের আশা জাগানিয়া ভূখণ্ড' শীর্ষক বার্তায় যে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছিলেন, আজকের এই পরিস্থিতি যেন তারই চাক্ষুষ প্রতিফলন।


    চেহারার পরিবর্তনই কি মুক্তি?

    গণঅভ্যুত্থানের পর পরই যখন মানুষ বিজয়োল্লাসে মত্ত ছিল, তখনই স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, এই উল্লাস যেন আমাদের মূল লক্ষ্য ভুলিয়ে না দেয়। কারণ, স্বৈরাচারের পতনের পর কেবল ক্ষমতার পালাবদল হলেই জুলুমতন্ত্রের অবসান ঘটে না। উস্তাদ উসামা মাহমুদ হাফিযাহুল্লাহ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছিলেন: “শুধু কিছু ব্যক্তি ও চেহারার পরিবর্তন এবং দুটি চারটি সংশোধনীর দ্বারা এই জুলুম ও অনাচার পূর্ণ ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটতে পারে না। কারণ এই ব্যবস্থার ভিত্তি অনেক গভীরে এবং সেগুলো অনেক পুরানো।”

    আজকের বাস্তবতা সাক্ষী, আমরা কেবল চেহারার পরিবর্তন ঘটিয়েছি, কিন্তু সেই জরাজীর্ণ পুরনো ব্যবস্থা বহাল রেখেছি। ফলে নতুন শাসকরা সেই একই কাঠামোর ওপর পথ চলছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।


    ভুল গন্তব্য ও আরব বসন্তের শিক্ষা

    আমরা যদি ইতিহাসের দিকে দৃষ্টিপাত করতাম, তবে দেখতাম মিশর বা পাকিস্তানে কী ঘটেছে। সেখানেও শাসকের পতন হয়েছিল, নির্বাচন হয়েছিল, কিন্তু ফলাফল ছিল শূন্য। আমরা সেই একই গর্তে পা দিয়েছি। উক্ত প্রবন্ধে উস্তাদ উসামা মাহমুদ হাফিযাহুল্লাহ সতর্ক করে বলেছিলেন: “মিশরে তো ৩০ বছর যাবৎ চেপে বসা সামরিক স্বৈরাচারী শাসক জেলে চলে গিয়েছে। শুধু তাই নয় বরং তারপর ইলেকশন হয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা সরকার গঠন করেছে। কিন্তু তারপর কি হয়েছে? কিছুদিন পর ওই জনপ্রতিনিধিদেরকে হয় জেলে পাঠানো হয়েছে অথবা শহীদ করে দেয়া হয়েছে।”

    আমাদের গন্তব্য হওয়ার কথা ছিল তাগুতী ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, কিন্তু আমরা ‘ইলেকশন’ আর ‘সরকার গঠন’-কেই চূড়ান্ত গন্তব্য মনে করে ভুল পথে হেঁটেছি। তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন: “আরব বিশ্বের কোনো একটি দেশেও গণঅভ্যুত্থান তার গন্তব্য পর্যন্ত পৌঁছুতে পারেনি। জনসাধারণ আগের মতোই বঞ্চিত, নিপীড়িত এবং পরাজিত রয়ে গেছে।”


    তৃপ্তির ঢেকুর এবং মহাবিপদ

    হাসিনা সরকারের পতনের পর আমরা ভেবেছিলাম যুদ্ধ শেষ। কিন্তু সেই বার্তায় তখনই বলা হয়েছিল যে, এই সাময়িক বিজয়ে অতি-উৎসাহী হওয়াটা হবে বোকামি। আজকের এই লাঞ্ছনা সেই অদূরদর্শিতারই ফসল। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে: “আজ যদি আমরা কিছু বাহ্যিক সাফল্য পেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলি, এতোটুকুতেই আশ্বস্ত হয়ে পড়ি... তাহলে সেটা আমাদের অনেক বড় দুর্ভাগ্যের কারণ হবে।”

    আমরা বাহ্যিক সাফল্যকেই চূড়ান্ত বিজয় মনে করেছিলাম। অথচ উস্তাদ উসামা মাহমুদ হাফিযাহুল্লাহ সতর্ক করেছিলেন: “গণঅভ্যুত্থানের সাফল্য …… গন্তব্য এখনো অনেক দূরে! যদি আমরা সজাগ ভাবে সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ না করি, তাহলে আশঙ্কা রয়েছে যে, এই বিজয় ও আনন্দ আমাদেরকে নিজেদের আসল গন্তব্য থেকে অনেক দূরে ঠেলে দিবে।”


    ব্যবস্থার সঙ্গে আপসকামিতা

    আজকের সরকার কেন ছাত্র-জনতার বিপক্ষে? কারণ এই সরকার সেই সেকুলার ও তাগুতী কাঠামোরই অংশ। 'বাংলাদেশ: ইসলামের বিজয়ের আশা জাগানিয়া ভূখণ্ড'-এ আগেই সতর্ক করা হয়েছিল যে, প্রচলিত ব্যবস্থার অধীনে সরকার গঠন করলে বা তাদের অংশীদার হলে ইসলামপন্থীদের নীতি বিসর্জন দিতে হয়। “তাগুতি শাসন ব্যবস্থায় যখনই দীনদারদেরকে সরকারে শামিল করা হয় তখন এর দ্বারা ওই শাসন ব্যবস্থা মোটেও ইসলামী হয়ে ওঠে না; বরং এ কাজের দ্বারা দীনদারদেরকে অকাট্য সুসংহত ইসলামী নীতিমালার ব্যাপারে আপোষ করতে হয়।”



    আজকের এই ১৮ মাস পরের বাস্তবতা অঙ্গুলি নির্দেশ করে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, আমরা ‘ব্যবস্থার পরিবর্তন’ না করে কেবল ‘চেহারার পরিবর্তন’-এর পেছনে ছুটেছি। আমরা যদি সেই নির্দেশিকা মেনে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে স্থির করতাম, তবে আজ হয়তো এই হতাশার মুখোমুখি হতে হতো না। আমাদের মনে রাখা উচিত ছিল উস্তাদ উসামা মাহমুদ হাফিযাহুল্লাহ’র সেই অমোঘ বাণী: “ফিতনা ফাসাদ, জুলুম-অত্যাচার... থেকে শুধু তখনই আমরা মুক্তি লাভ করব, যখন আমরা... শাসনকার্যে ওই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করব, যার মাঝে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার হাকিমিয়া (পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা ও আইন) নিশ্চিত হবে।”

    এখনও সময় আছে, ভুল গন্তব্য থেকে ফিরে এসে সঠিক লক্ষ্যের দিকে যাত্রা শুরু করার।

    *****
    চলবে... ইনশা আল্লাহ



    উস্তাদ উসামা মাহমুদ হাফিযাহুল্লাহ’র সেই ঐতিহাসিক বার্তাটি পড়তে ক্লিক করুন- https://archive.ph/dMVxk
    “ধৈর্যশীল, সতর্ক ব্যক্তিরাই লড়াইয়ের জন্য উপযুক্ত।”
    -শাইখ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ

  • #2
    আল্লাহ তাআলা এ দেশের মানুষদের সঠিক বুঝ দান করুন আমীন !

    Comment

    Working...
    X