আবেগের আড়ালে হারিয়ে যাওয়া সত্য
(সাম্প্রতিক পাক-আফগান সীমান্ত সংঘাত প্রসঙ্গে মুফতি তাকি উসমানি (হাফিযাহুল্লাহ)-এর প্রদত্ত বক্তব্যের বস্তুনিষ্ঠ পর্যালোচনা)
-মুনশি আব্দুর রহমান
(সাম্প্রতিক পাক-আফগান সীমান্ত সংঘাত প্রসঙ্গে মুফতি তাকি উসমানি (হাফিযাহুল্লাহ)-এর প্রদত্ত বক্তব্যের বস্তুনিষ্ঠ পর্যালোচনা)
-মুনশি আব্দুর রহমান
শ্রদ্ধেয় মুফতি তাকি উসমানি হাফিযাহুল্লাহ মুসলিম উম্মাহর একজন অগ্রগণ্য আলেম। পবিত্র রমজান মাসে পাকিস্তান ও ইমারাতে ইসলামিয়ার মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিয়ে তিনি যে গভীর উদ্বেগ ও বেদনা প্রকাশ করেছেন, তা উম্মাহর প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ। তাঁর এই ঐকান্তিক বেদনার সাথে দ্বিমত পোষণের কোনো অবকাশ নেই।
তবে, আবেগের মেঘমালায় যখন ঐতিহাসিক সত্য এবং ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার সূর্য ঢাকা পড়ে যায়, তখন ন্যায়বিচারের স্বার্থেই প্রকৃত ঘটনা উন্মোচন করা অপরিহার্য হয়ে ওঠে। একটি সংঘাতের বিচার কেবল আবেগ দিয়ে হয় না; এর পেছনে থাকা কার্যকারণ, দালিলিক প্রমাণ এবং বস্তুনিষ্ঠ সত্যকে সামনে আনতে হয়। বক্ষ্যমাণ নিবন্ধে ইমারাতে ইসলামিয়ার আনুষ্ঠানিক বিবৃতি, দায়িত্বশীলদের সাক্ষাৎকার এবং বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তি দিয়ে মুফতি সাহেবের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর একটি পর্যালোচনা তুলে ধরা হলো।
১. টিটিপি কি ইমারাতে ইসলামিয়ার রপ্তানি নাকি পাকিস্তানের নিজস্ব ভ্রান্ত নীতির ফসল?
মুফতি সাহেবের অভিযোগ: মুফতি সাহেব দাবি করেছেন যে, দীর্ঘকাল ধরে পাকিস্তানের ওপর টিটিপি (তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান)-কে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ইমারাতে ইসলামিয়ার তালেবান তাদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। তিনি একে একটি 'নকল তালেবান' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। উনার ভাষায়—
"দীর্ঘকাল ধরে পাকিস্তানের ওপর একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে লাগাতার সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে মসজিদ রেহাই পায়নি, রেহাই পায়নি নিষ্পাপ শিশু ও নারীরা... তাদের সেই প্রশ্রয়ের কারণেই আজ টিটিপি আফগান তালিবান নেতৃত্বকে নিজেদের 'আমিরুল মুমিনিন' বা নেতা হিসেবে দাবি করছে। তারা তাদের নাম ভাঙিয়ে চলছে। আর আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে আমাদের ওপর এসে হামলা করছে।" [১]
বিনম্র জবাব: এই দাবির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, এটি সম্পূর্ণ ইতিহাস-বিচ্ছিন্ন। টিটিপি-র জন্ম আফগানিস্তানে হয়নি, আর ইমারাতে ইসলামিয়া ক্ষমতায় আসার পরও এদের সৃষ্টি হয়নি। শায়খ জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ তাঁর সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এর ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরে বলেছেন:
"তেহরিকে তালেবান পাকিস্তানের উত্থান ঘটেছিল মূলত ২০০২ সালে, যখন পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব ভুল নীতি গ্রহণ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছিল এবং পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তান ও সীমান্তবর্তী কাবায়েলী অঞ্চলে মার্কিন ড্রোন হামলা চালানোর অনুমতি দিয়েছিল।" [২]
অর্থাৎ, টিটিপি-র জন্ম হয়েছে খোদ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ভুল নীতি এবং মার্কিন আগ্রাসনের দোসর হওয়ার কারণে। এরপর পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিজেদের নাগরিকদের ওপর লাগাতার সামরিক অভিযান চালিয়েছে। শায়খ জাবিহুল্লাহ মুজাহিদের দেওয়া তথ্যমতে—২০০২ সালে ‘আল-মিজান’, ২০০৭ সালে ‘রাহে রাস্ত’, এবং ২০১৪ সালে ‘জরবে আজাব’-এর মতো ভয়াবহ সামরিক অভিযানের ফলে পাকিস্তানের লাখ লাখ কাবায়েলী পশতুন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে আফগানিস্তানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এই ঘটনাগুলো ঘটেছিল তৎকালীন আফগান সরকারের আমলেই, ইমারাতে ইসলামিয়ার বিজয়ের বহু আগে।
মুফতি সাহেব হুজুরের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই- যে পাকিস্তান সেনাবাহিনী গত দুই দশক ধরে আমেরিকার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র ব্যবহার করেও নিজেদের দেশের ভেতরে টিটিপি-কে দমন করতে পারেনি (এমনকি ইমারাতে ইসলামিয়া ক্ষমতায় আসার আগেই পাকিস্তানের ৮০ থেকে ৯০ হাজার সামরিক-বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে), তারা কীভাবে আশা করে যে যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি নতুন ইমারাতে ইসলামিয়া সরকার রাতারাতি তাদের এই দীর্ঘস্থায়ী অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধান করে দেবে? নিজেদের তৈরি করা আগুনের দায়ভার প্রতিবেশীর ঘাড়ে চাপানো কোনোভাবেই ইনসাফপূর্ণ নয়।
২. ইমারাতে ইসলামিয়া কি কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি?
মুফতি সাহেবের অভিযোগ: মুফতি সাহেবের আক্ষেপ, ইমারাতে ইসলামিয়ার তালেবানদের বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা টিটিপি-কে দমন করেনি, কেবল ফতোয়া দিয়েই দায় সেরেছে এবং সম্পর্কচ্ছেদের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। তিনি বলেন—
"তখন আমরা তাদের কাছে বিনীতভাবে জানতে চেয়েছিলাম, 'এই নকল তালিবান অর্থাৎ টিটিপির সাথে কি আপনাদের কোনো সম্পর্ক আছে?' তারা উত্তরে বলেছিল, 'না, এদের সাথে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।' তখন আমরা তাদের বলেছিলাম... অন্তত আপনারা প্রকাশ্যে তাদের থেকে 'বারাআত' বা সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দিন। কিন্তু আমাদের বারবার অনুরোধ এবং তাদের নিজস্ব স্বীকারোক্তি থাকা সত্ত্বেও, তারা সেসময় সম্পর্কচ্ছেদের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।" [৩]
বিনম্র জবাব: এই দাবিটিও বাস্তবতার সাথে সাংঘর্ষিক। ইমারাতে ইসলামিয়া কখনোই টিটিপি-র দায়ভার নেয়নি। আল-আরাবিয়া চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইমারাতে ইসলামিয়া সরকারের মুখপাত্র শায়খ জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন:
"আমাদের সাথে তাদের (টিটিপি-র) কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ‘তেহরিকে তালেবান পাকিস্তান' সম্পূর্ণভাবে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তারা আফগানিস্তানে অবস্থান করছে না, আর আমরা আমাদের মাটি ব্যবহার করে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে কোনো তৎপরতা চালানোর অনুমতি কাউকে দিই না; পাকিস্তানকেও নয়।" [৪]
শুধু মুখের কথা নয়, ইমারাতে ইসলামিয়া ক্ষমতা গ্রহণের পর অত্যন্ত কার্যকর কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যা শায়খ জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ তাঁর সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন:
ডুরান্ড লাইনের কাছে বসবাসরত কাবায়েলী উপজাতিদের (যাদের নিয়ে পাকিস্তান আশঙ্কা করত) সীমান্ত থেকে সরিয়ে ইমারাতে ইসলামিয়ার কেন্দ্রীয় এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
এই কাবায়েলী শরণার্থীদের জন্য অস্ত্র বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আমীরের অনুমতি ছাড়া 'জিহাদ'-এর নামে ইমারাতে ইসলামিয়ার ত্যাগ করার বিরুদ্ধে স্পষ্ট আইনি ফতোয়া জারি করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় কথা, ইমারাতে ইসলামিয়া পাকিস্তান সরকার ও টিটিপি-র মধ্যে শান্তি আলোচনার সফল মধ্যস্থতা করেছিল, যার ফলে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতিও কার্যকর হয়। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভেতরের কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠী নিজেদের কায়েমি স্বার্থে সেই শান্তি প্রক্রিয়া নস্যাৎ করে দেয়। যারা নিজেরাই শান্তি চায় না, তাদের অশান্তির দায়ভার ইমারাতে ইসলামিয়ার ওপর চাপানো চরম অযৌক্তিক।
৩. পবিত্র রমজানে যুদ্ধ: শুরুতে আগ্রাসন কে চালিয়েছে?
মুফতি সাহেবের অভিযোগ: মুফতি সাহেব অত্যন্ত বেদনার সাথে বলেছেন, "কে আগে আক্রমণ করেছে বা কে জবাব দিয়েছে—সেই বিতর্কে আমি যাচ্ছি না। কিন্তু রমজান মাসে এই রক্তপাত কতটা যৌক্তিক?" এরপর তিনি রোজাদারের সাথে কেউ গায়ে পড়ে বিবাদ করতে এলে সংযত থাকার হাদিস স্মরণ করিয়ে দেন। উনার আক্ষেপ—
"বর্তমান মাসটি হলো ‘মুওয়াসাত’ বা সহমর্মিতার মাস... কিন্তু অত্যন্ত আক্ষেপের বিষয় হলো, ঠিক এই রমজান মাসেই আমাদের পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ বেধে গেছে।" [৫]
বিনম্র জবাব: একজন ন্যায়নিষ্ঠ আলেমের মুখে "কে আগে আক্রমণ করেছে, সেই বিতর্কে যাব না"—এমন কথা বেমানান। কারণ, ইসলামি শরিয়তে জালিম (আগ্রাসী) এবং মাজলুম (আক্রান্ত)-কে কখনোই এক পাল্লায় মাপা যায় না। পবিত্র রমজান মাসে ইমারাতে ইসলামিয়া গায়ে পড়ে কোনো যুদ্ধে জড়ায়নি। আল্লাহ তাআলা মজলুমকে আত্মরক্ষার সুস্পষ্ট অধিকার দিয়েছেন:
أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا ۚ وَإِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ
"যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হলো তাদেরকে, যারা আক্রান্ত হয়েছে; কারণ তাদের প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাহায্য করতে পূর্ণ ক্ষমতাবান।" (সূরা আল-হাজ্জ: ৩৯)
৯ রমজান (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) তারিখে প্রকাশিত ইমারাতে ইসলামিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি থেকে প্রকৃত সত্যটি বেরিয়ে আসে:
"যেহেতু পাকিস্তানের কয়েকটি সামরিক চক্র কয়েকদিন আগে আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে সুস্পষ্ট আগ্রাসন চালিয়েছে, রাষ্ট্রের পবিত্রতা লঙ্ঘন করেছে এবং বেশ কয়েকজন নারী ও শিশুকে শহীদ করেছে, তাই এর জবাবে গত রাতে (৯ রমজান) রাত ৮টায় ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ঘাঁটিগুলোতে কার্যকর আক্রমণ চালানো হয়েছে।" [৬]
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই প্রতিশোধমূলক অপারেশনে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয় এবং আফগান বাহিনী দুটি সামরিক ক্যাম্প ও ১৯টি চৌকি ধ্বংস করে। রাত ১২টায় আফগান সেনাপ্রধানের নির্দেশে এই অভিযান সমাপ্ত হয়।
আমি বলতে চাই যে- মুফতি সাহেবের উদ্ধৃত হাদিসটি ব্যক্তিগত বিবাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু যখন একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক সীমানা লঙ্ঘন করে আপনার দেশের নিরীহ নারী ও শিশুদের ওপর বোমাবর্ষণ করে, তখন "আমি রোজাদার" বলে হাত গুটিয়ে বসে থাকা ইসলামের শিক্ষা নয়। আত্মরক্ষা এবং দেশের নাগরিকদের জান-মালের হেফাজত করা একটি রাষ্ট্রের পবিত্র ফরজ দায়িত্ব। যিনি প্রথম আগ্রাসন চালিয়ে রমজান মাসের পবিত্রতা নষ্ট করলেন, নারী ও শিশুর রক্ত ঝরালেন, তার দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে কেবল আত্মরক্ষাকারী ইমারাতে ইসলামিয়ার দিকে আঙুল তোলা সুস্পষ্ট অবিচার।
৪. ভারত-ইসরায়েল চুক্তি এবং অমূলক 'প্রক্সি' তত্ত্ব:
মুফতি সাহেবের অভিযোগ: মুফতি সাহেব নরেন্দ্র মোদি ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে ইঙ্গিত করেছেন যে, ভারত ও ইসরায়েল মিলে ইমারাতে ইসলামিয়াকে ফান্ডিং করছে, যাতে তারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। উনার ভাষায়—
"একবার ভেবে দেখুন, আফগানিস্তানকে আজ কারা সাহায্য করছে? ইসরায়েল এবং ভারত!... আর কূটনীতির সেই পুরোনো সূত্র—'শত্রুর শত্রু আমাদের বন্ধু'—আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।" [৭]
বিনম্র জবাব: এটি সম্পূর্ণ একটি রাজনৈতিক বিভ্রম। যে ইমারাতে ইসলামিয়া গত বিশ বছর ধরে বিশ্বের সর্ববৃহৎ পরাশক্তি আমেরিকা ও ন্যাটো জোটের বিরুদ্ধে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে লড়াই করে নিজেদের স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে, তারা ভারত বা ইসরায়েলের মতো রাষ্ট্রের 'প্রক্সি' হয়ে কাজ করবে—এমন ধারণা কেবল অবাস্তবই নয়, বরং ইমারাতে ইসলামিয়ার শহীদদের রক্তের প্রতি এক চরম অবমাননা।
শায়খ জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ আল-আরাবিয়ার সাক্ষাৎকারে ইমারাতে ইসলামিয়ার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির কথা সুস্পষ্ট করেছেন:
"আমাদের পররাষ্ট্রনীতি সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং জাতীয় স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে প্রণীত। আমরা চাই না আফগানিস্তান কোনো দেশের প্রতিযোগিতার ময়দান বা রণাঙ্গনে পরিণত হোক।" [৮]
এখানে আমি বলতে চাই যে- 'শত্রুর শত্রু আমাদের বন্ধু'—এই কূটনীতির কথা যদি তুলতেই হয়, তবে ইতিহাস বড়ই নির্মম। পাকিস্তানকেই আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখতে হবে। মাত্র দুই দশক আগে, এই পাকিস্তানই আমেরিকার কাছে নিজেদের বিমানঘাঁটি ও আকাশসীমা বিক্রি করে দিয়েছিল ইমারাতে ইসলামিয়ার নিরীহ মুসলমানদের ওপর কার্পেট বম্বিং করার জন্য। ইমারাতে ইসলামিয়া কখনোই সেই বিশ্বাসঘাতকতার পথে হাঁটেনি এবং হাঁটবেও না।
শ্রদ্ধেয় মুফতি সাহেবের কষ্ট আমরা বুঝতেছি। কিন্তু প্রকৃত শান্তি, ঐক্য ও মুওয়াসাত (সহমর্মিতা) কখনোই সত্যকে পাশ কাটিয়ে বা একতরফা অভিযোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় না। শান্তি তখনই আসবে, যখন পাকিস্তান তাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যর্থতার দায়ভার ইমারাতে ইসলামিয়ার ঘাড়ে চাপানোর নীতি পরিহার করবে। ইমারাতে ইসলামিয়া তার মাটি কাউকে ব্যবহার করতে দেবে না—এই প্রতিশ্রুতির প্রতি তাদের সম্মান জানাতে হবে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে সত্য অনুধাবন করার, নিজেদের ভুল-ত্রুটি শুধরে নেওয়ার এবং ভ্রাতৃত্বের মজবুত বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন
*****
সংশ্লিষ্ট রেফারেন্স ও লিংক-
[১] পাক-আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানী হাফিযাহুল্লাহ’র গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য! - https://archive.ph/Djgc1
[২] পাক-আফগান যুদ্ধ ও তেহরিকে তালেবান পাকিস্তান প্রসঙ্গে আফগান সরকারের অবস্থান - শায়খ জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হাফিযাহুল্লাহ -https://archive.ph/Aik3k
[৩] পাক-আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানী হাফিযাহুল্লাহ’র গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য! - https://archive.ph/Djgc1
[৪] শায়খ জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হাফিযাহুল্লাহ কর্তৃক আল-আরাবিয়া চ্যানেলে প্রদত্ত সাক্ষাৎকার- https://archive.ph/Xnm6d
[৫] পাক-আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানী হাফিযাহুল্লাহ’র গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য! - https://archive.ph/Djgc1
[৬] আফগানিস্তানের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের (৯ রমজান (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) তারিখে প্রকাশিত) আনুষ্ঠানিক বিবৃতি- https://archive.ph/8nFSL
[৭] পাক-আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানী হাফিযাহুল্লাহ’র গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য! - https://archive.ph/Djgc1
[৮] শায়খ জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হাফিযাহুল্লাহ কর্তৃক আল-আরাবিয়া চ্যানেলে প্রদত্ত সাক্ষাৎকার- https://archive.ph/Xnm6d
Comment