Al-Qaeda’s Third Phase
মডার্ন ওয়ার ইনস্টিটিউট (Modern War Institute) এ ০৩ মার্চ, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত সারা হারমুশ-এর লেখা "আল-কায়েদা'র তৃতীয় পর্যায়" (Al-Qaeda's Third Phase) নিবন্ধটির পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ নিচে দেয়া হল:
আল-কায়েদার তৃতীয় পর্যায়
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ন্যাশনাল কাউন্টার-টেররিজম সেন্টার সতর্ক করেছিল যে, আল-কায়েদা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে হামলার নতুন আহ্বান জানিয়েছে। তবে আজকের আল-কায়েদা আর সেই সংগঠন নেই যা নিউইয়র্ক এবং ওয়াশিংটনে ৯/১১ হামলা চালিয়েছিল। এর নেতৃত্ব, কৌশল এবং যুদ্ধের ধরণ বিবর্তিত হয়েছে। ওসামা বিন লাদেন (রহিমাহুল্লাহ) একটি 'ক্যারিশম্যাটিক ভ্যানগার্ড' বা অগ্রবাহিনী তৈরি করেছিলেন যার লক্ষ্য ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে স্তম্ভিত করে পিছু হটতে বাধ্য করা; আয়মান আল-জাওয়াহিরি সেই বাহিনীকে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কে রূপান্তরিত করেছিলেন যা চাপের মুখে টিকে থাকার দিকে মনোনিবেশ করেছিল। এখন, সাইফ আল-আদেল হাফিযাহুল্লাহ'র কার্যত নেতৃত্বে আল-কায়েদা সাংগঠনিক পুনর্গঠন কেন্দ্রিক একটি তৃতীয় পর্যায়ে প্রবেশ করেছে: এটি এখন একজন অর্থদাতা বা ধর্মপ্রচারকের পরিবর্তে একজন পেশাদার সৈনিকের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি সুশৃঙ্খল, ব্যবস্থা-ভিত্তিক সেনাবাহিনী। ব্যক্তিগত কারিশমা থেকে আদর্শ এবং এখন সংগঠনে এই রূপান্তর একটি শান্ত কিন্তু আরও সুসংগত আন্দোলন তৈরি করেছে—যা কম নাটকীয় কিন্তু সম্ভাব্যভাবে অনেক বেশি বিপজ্জনক। এটি ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের দৃশ্যমানতা কমিয়ে রাখলেও কৌশলগতভাবে সঠিক সময়ে সহিংসতা প্রদর্শনের সক্ষমতা ধরে রেখেছে।
বিন লাদেনের যুগ: কারিশমা এবং প্রদর্শনী
বিন লাদেনের আল-কায়েদা পরিচালিত হতো নৈতিক নিরঙ্কুশতা, ব্যক্তিগত কারিশমা এবং দুঃসাহসিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা দ্বারা। একজন ধনী সৌদি ব্যবসায়ী থেকে বিপ্লবী হয়ে ওঠা বিন লাদেন ধর্মতাত্ত্বিক অভিযোগের সাথে ব্যক্তিগত আকর্ষণকে মিশিয়ে আরব যোদ্ধাদের বিশ্বব্যাপী জিহাদে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। কর্তৃত্ব আসত তার ব্যক্তিগত উচ্চতা, অর্থদাতার ভূমিকা এবং অবাধ্যতার মূর্ত প্রতীক হওয়ার ক্ষমতা থেকে। সংগঠনটি একটি কেন্দ্রীয় কোর এবং বিশ্বাস ও গোপনীয়তায় আবদ্ধ একটি ছোট, অনুগত অভ্যন্তরীণ বৃত্তকে ঘিরে আবর্তিত হতো। তার অধীনে আল-কায়েদা ছিল একচেটিয়া: প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল, ভিন্নমত ছিল সীমিত এবং অপারেশনগুলোর জন্য বিন লাদেনের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল। একই সাথে তিনি কিছু ভিত্তিগত প্রক্রিয়াও স্থাপন করেছিলেন—যেমন শাখা গঠনের নিয়ম, কমান্ডারদের মধ্যে যোগাযোগ মাধ্যম এবং উত্তরসূরি পরিকল্পনার প্রাথমিক রূপ—যা নেটওয়ার্কটিকে আফগান ঘাঁটির বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করেছিল।
বিন লাদেনের কৌশলগত যুক্তি ছিল সহজ: "দূরবর্তী শত্রু" (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং অন্যান্য শক্তি যারা স্থানীয় 'মুরতাদ' শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন দেয়) আক্রমণ করলে বাহ্যিক সমর্থন বিচ্ছিন্ন হবে এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমেরিকানদের প্রত্যাহার করতে বাধ্য করে আঞ্চলিক ব্যবস্থার পতন ঘটবে। তিনি বিশ্বাস করতেন কেবল ভয়াবহ সহিংসতার মাধ্যমেই এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব—যা ১৯৯৮ সালে পূর্ব আফ্রিকায় দূতাবাস বোমা হামলা, ২০০০ সালে ইউএসএস কোল আক্রমণ এবং শেষ পর্যন্ত ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় প্রতিফলিত হয়েছে। বেশ কয়েকজন সিনিয়র আল-কায়েদা সহযোগী সতর্ক করেছিলেন যে, মার্কিন মূল ভূখণ্ডে আক্রমণ করলে চরম প্রতিশোধ আসবে এবং তালেবান অভয়ারণ্য ধ্বংস হবে, কিন্তু বিন লাদেন তাদের কথা উপেক্ষা করেন।
জাওয়াহিরির যুগ: মতাদর্শ এবং টিকে থাকা
২০১১ সালে যখন জাওয়াহিরি বিন লাদেনের স্থলাভিষিক্ত হন, তখন তিনি তীব্র চাপের মুখে থাকা কিন্তু ইতিমধ্যে একটি আন্তঃজাতিক নেটওয়ার্কে রূপান্তরিত হওয়া একটি সংগঠনের দায়িত্ব পান। একজন মিশরীয় চিকিৎসক এবং তাত্ত্বিক হিসেবে জাওয়াহিরির বিন লাদেনের মতো কারিশমা বা প্রতীকী কর্তৃত্ব ছিল না; পরিবর্তে তিনি ডকট্রিন বা মতবাদের মাধ্যমে শাসন করতেন। যেখানে বিন লাদেন ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আদেশ দিতেন, জাওয়াহিরি সেখানে উদ্দেশ্যগুলোকে বিধিবদ্ধ করতে এবং টিকে থাকা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। তার নেতৃত্ব প্রদর্শনীর চেয়ে সংযমের ওপর জোর দিয়েছিল। ২০১৩ সালে তিনি "জিহাদের সাধারণ নির্দেশিকা" প্রকাশ করেন, যেখানে শাখাগুলোকে গণ-হতাহতের হামলা এড়াতে, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা কমাতে, বেসামরিকদের রক্ষা করতে এবং স্থানীয় সমর্থনকে অগ্রাধিকার দিতে আহ্বান জানান। আল-কায়েদার সংগ্রামকে একটি দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধ (war of attrition) হিসেবে পুনর্সংজ্ঞায়িত করা হয়, যেখানে সহনশীলতা এবং গ্রহণযোগ্যতাকে মূল্য দেওয়া হয়।
[নোটঃ এই নির্দেশনা শাইখ উসামা রহিমাহুল্লাহ'র অভিজ্ঞতানির্ভর দিকনির্দেশনারই প্রতিফলন ছিল। যা তিনি জীবদ্দশায় তীব্র গোয়েন্দা নজরদারির কারণে তৃণমূল পর্যন্ত পৌছাতে পারেন নাই।]
কৌশলগত বাস্তবতা এই পরিবর্তনকে আরও জোরদার করেছিল। ক্রমাগত মার্কিন সন্ত্রাসবিরোধী চাপ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে গভীর আত্মগোপনে পাঠিয়ে দেয়, আর অপারেশনের উদ্যোগগুলো বিশ্বব্যাপী শাখাগুলোর হাতে চলে যায়। জাওয়াহিরি এই শাখাগুলোকে স্থানীয়ভাবে মিশে যেতে, উপজাতীয় ও সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে এবং পশ্চিমা লক্ষ্যবস্তুতে হামলার চেয়ে বিদ্রোহী শাসনব্যবস্থায় মনোযোগ দিতে উৎসাহিত করেন। নেটওয়ার্কটি টিকে ছিল এবং বেশ কয়েকটি অঞ্চলে প্রসারিত হয়েছিল। তবে এর মূল্য ছিল গতি হারানো। জাওয়াহিরির অধীনে আল-কায়েদা আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে অনেকটা গুটিয়ে যায়; কর্তৃত্ব অপারেশনাল থেকে নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দিকে চলে যায়। ২০২২ সালে তার মৃত্যুর সময় সংগঠনটি অক্ষত ছিল কিন্তু অনেকটা নিস্ক্রিয়: বিকেন্দ্রীভূত, সতর্ক এবং আঞ্চলিকভাবে মনোযোগী।
[নোটঃ শাইখ আইমান আয-যাওয়াহিরী শাহাদাতবরণ করেছেন কিনা, তা আল-কায়েদা কেন্দ্রিয় নেতৃত্ব থেকে অফিসিয়ালি জানানো হয় নাই। এবং পশ্চিমারা যে তাঁর বিপরীতে সাইফ আল আদল হাহিযাহুল্লাহ কে আমীর ধরে নিয়ে প্রচার চালাচ্ছে, তারও কোন অফিসিয়াল বিবৃতি বা ঘোষণা আসেনি।]
সাইফ আল-আদেল এবং আল-কায়েদা ৩.০: সংগঠনের যুগ:
সাইফ আল-আদেলের উত্থান একটি চূড়ান্ত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। মিশরে জন্ম নেওয়া মুহাম্মদ সালাহ আল-দিন জাইদান ওরফে আল-আদেল একজন প্রাক্তন মিশরীয় সেনা কর্মকর্তা, যার বিশ্ববীক্ষা ধর্মতত্ত্ব বা প্রতীকী চিহ্নের চেয়ে সামরিক সংগঠন, গোয়েন্দা কৌশল এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার দ্বারা বেশি প্রভাবিত। ৯০-এর দশকে তিনি আল-কায়েদার অন্যতম প্রধান সামরিক প্রশিক্ষক হিসেবে আবির্ভূত হন, বোমা তৈরির পাঠ্যক্রম ডিজাইন করেন এবং বিন লাদেনের নিরাপত্তা দলের দায়িত্ব পালন করেন। তাকে ১৯৯৮ সালের মার্কিন দূতাবাস বোমা হামলা এবং ২০০৩ সালের রিয়াদ হামলার সাথে জড়িত মনে করা হয়।
তিনটি নেতৃত্বের যুগে আল-কায়েদার বিবর্তন মূলত তাদের নেতাদের অগ্রাধিকারকেই প্রতিফলিত করে। বিন লাদেন প্রদর্শনীর মাধ্যমে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন কিন্তু তা রক্ষা করতে পারেননি; জাওয়াহিরি মতবাদের মাধ্যমে এটি রক্ষা করেছিলেন কিন্তু পুনরুজ্জীবিত করতে পারেননি। আল-আদেল দুটিই করতে চান। আল-আদেল সচেতনভাবে একটি পেশাদার সামরিক সংগঠন তৈরি করছেন, যা টিকে থাকতে, সক্ষমতা পুনরুৎপাদন করতে এবং বেছে বেছে আঘাত করতে সক্ষম।
তার চিন্তাভাবনার একটি বিরল আভাস পাওয়া যায় রবার্ট গ্রিনের "৩৩ স্ট্র্যাটেজিস অফ ওয়ার" বইটির ওপর তার নিজস্ব ব্যাখ্যায় (Free Study in the Book 33 Strategies of War)। সেখানে তিনি জিহাদকে একটি "দীর্ঘমেয়াদী প্রোগ্রাম" হিসেবে বর্ণনা করেছেন যা শক্তি এবং দুর্বলতা অনুযায়ী বিভিন্ন ধাপে বিভক্ত। আল-আদেল সাফল্যের জন্য পাঁচটি পূর্বশর্ত চিহ্নিত করেছেন—"নেতৃত্ব, অর্থনীতি, সংগঠন, কৌশল এবং নিয়ন্ত্রণ"। তার মডেলে সংগঠন কোনো সহযোগী বৈশিষ্ট্য নয়, এটিই ভিত্তি। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন: "একটি সামরিক ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য দুটি মৌলিক উপাদান প্রয়োজন: প্রথমত, একটি সঠিক এবং উপযুক্ত সাংগঠনিক কাঠামো স্থাপন করা; দ্বিতীয়ত, সেই কাঠামোটি দক্ষ ব্যক্তিদের দিয়ে পূর্ণ করা।"
প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব ও সুশৃঙ্খল প্রস্তুতি
আল-আদেলের কাছে নেতৃত্ব ব্যক্তিগত নয় বরং প্রাতিষ্ঠানিক। তার মতে, কার্যকর নেতৃত্বকে এমন হতে হবে যা ব্যক্তির অনুপস্থিতিতেও টিকে থাকে। তিনি স্পষ্টভাবে সামরিক পরিভাষা ব্যবহার করেন: প্রযুক্তিগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা, আনুগত্য এবং উদাহরণ তৈরির মাধ্যমে নেতৃত্ব প্রদান। তিনি জোর দেন যে কেবল আনুগত্যই যথেষ্ট নয়—"আপনাকে দক্ষ এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের বেছে নিতে হবে, কেবল অনুগতদের নয়।"
এই মডেলে প্রস্তুতির ওপর ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া হয়। শান্ত সময়কে তিনি নিস্ক্রিয়তা নয় বরং "কৌশলগত ইনকিউবেশন" বা প্রস্তুতিকাল হিসেবে দেখেন। বিন লাদেনের কেন্দ্রীয় অনুমোদনের বিপরীতে আল-আদেল "নিয়ন্ত্রণ" বা কন্ট্রোলকে ব্যবস্থার স্বচ্ছতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন। তিনি সতর্ক করেন যে যদি চেইন অফ কমান্ড এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, তবে কোনো কৌশলই পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। প্রতিটি অপারেশনের পর তিনি কঠোর মূল্যায়নের (after-action reviews) পক্ষে কথা বলেন যাতে ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া যায়। তিনি বলেন, "বিজয় যেন আমাদের প্রতারিত না করে।"
কাঠামোবদ্ধ বিকেন্দ্রীকরণ এবং প্রতারণা
আল-আদেল জোর দিয়ে বলেন যে সংগঠনকে অবশ্যই খাপ খাইয়ে নিতে হবে। "সংগঠন ছাড়া কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়; স্বতঃস্ফূর্ত কাজ বিশৃঙ্খলা তৈরি করে যা ফলপ্রসূ হয় না।" তিনি সেনাবাহিনীকে স্বাধীন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ ইউনিটে বিভক্ত করার পক্ষপাতী যা কেন্দ্রীয় কমান্ডের অধীনে প্রয়োজনে আবার একত্রিত হতে পারে। তার মডেল অনুযায়ী ছোট, মোবাইল এবং আলাদা আলাদা ইউনিট থাকবে যা পরিস্থিতি অনুযায়ী দৃশ্যমান বা অদৃশ্য হতে পারে। সংগঠনটি টিকে থাকার জন্য ছড়িয়ে পড়বে কিন্তু আঘাত করার জন্য একত্রিত হবে।
প্রতারণাকে (Deception) তিনি একটি কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে দেখেন। তার মতে, এটি হলো "গোপনে তথ্য পরিবর্তন করা এবং ভুল বাস্তবতা তৈরি করা।" এটি আল-কায়েদার বর্তমান দ্বিমুখী অবস্থানকে ব্যাখ্যা করে: একটি দৃশ্যমান স্তর যা স্থানীয় শাসন এবং গ্রহণযোগ্যতার ওপর মনোনিবেশ করে মনোযোগ সরিয়ে রাখে, আর একটি গোপন স্তর যা বহিরাগত অপারেশনের সক্ষমতা ধরে রাখে। দৃশ্যমানতা মনোযোগ আকর্ষণ করে; গোপনীয়তা প্রভাব বিস্তার করে।
প্রযুক্তি ও আধুনিকীকরণ
- আল-আদেল জঙ্গিদের সময় ও প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে সামরিক জ্ঞান আপডেট করার আহ্বান জানান।
- তিনি ড্রোন, রিমোট-কন্ট্রোল সিস্টেম এবং সাইবার সক্ষমতাকে শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
- তিনি ব্যয়বহুল অপারেশনের বিকল্প হিসেবে ড্রোন ব্যবহারের পরামর্শ দেন এবং পরিবহন ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে "ইলেকট্রনিক হ্যাক" করার কথা বলেন।
- এমনকি সামুদ্রিক যুদ্ধেও তিনি চালকবিহীন সাবমেরিন ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন।
- তিনি গণবিধ্বংসী অস্ত্রকেও (WMD) বড় শক্তিগুলোকে ঠেকানোর একমাত্র নির্ভরযোগ্য উপায় হিসেবে দেখেন।
ভবিষ্যৎ ঝুঁকি:
আল-আদেলের অধীনে আল-কায়েদা এখন আর আগের মতো উচ্চকণ্ঠ নয়, কিন্তু এটি আরও টেকসই এবং বিপজ্জনক। বর্তমান নীরবতা পতন নয়, বরং একটি পরিকল্পনা: সংগঠনটি বাজি ধরেছে যে কৌশলগত ধৈর্য এবং সঠিক সময় নির্ধারণের মাধ্যমে তারা সন্ত্রাসবিরোধী চাপকে ছাড়িয়ে যাবে।
বিপদটি দ্বিমুখী:
১. বড় মাপের হামলাগুলো পরিত্যক্ত হয়নি, বরং স্থগিত রাখা হয়েছে। আল-আদেলের অধীনে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ অনুকূল সময়ের জন্য তুলে রাখা হয়েছে। হামলা যখন হবে, তখন তা সম্ভবত আরও পরিশীলিত, মারাত্মক এবং উদীয়মান প্রযুক্তির সমন্বয়ে হবে।
২. জিহাদি শাসনব্যবস্থা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে কারণ শাখাগুলো নিজেদের নিরাপত্তা প্রদানকারী এবং প্রশাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।
বিন লাদেন যা নাটকীয়তার মাধ্যমে চেয়েছিলেন, আল-আদেল হয়তো তা নিভৃতে সংহতির মাধ্যমে অর্জন করবেন। আল-কায়েদা ৩.০ ফুরিয়ে যায়নি; এটি পুনর্গঠিত হচ্ছে এবং অপেক্ষায় আছে।
লেখিকা: সারা হারমুশ H9 Defense-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও। আমেরিকান ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডিধারী এবং র্যান্ড কর্পোরেশনের সাথে মিলে কাজ করা এই লেখিকার বৃত্তান্ত - https://www.american.edu/profiles/students/sh5958a.cfm ; লেখিকার মূল নিবন্ধের লিঙ্ক - https://mwi.westpoint.edu/al-qaedas-third-phase/