মানব প্রবণতার একটি বিশেষ দিক ও
সচেতনতার আহ্বান
সচেতনতার আহ্বান
এখানে খালিদ (رضي الله عنه) এর ইসলাম গ্রহণের ঘটনাটি উল্লেখ করা পছন্দ করছি, যাতে আমাদের অন্তর শুধু শুধু অন্ধ অনুসরণ করা থেকে মুক্ত থাকে। তার ইসলাম গ্রহণের পর তাঁকে বলা হয়েছিল যে, ‘‘ওহে, খালিদ! কোথায় ছিল আপনার অন্তর মানস যে আপনি নবুওয়্যাতের আলোকধারা দেখতে পান নি, যদিওবা এটি ছিল আপনার মাঝে ২০ টি বছর ধরে..?!’’ উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের সামনে ছিল এমন কিছু ব্যক্তি যাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে আমরা পাহাড় সমতুল্য পেতাম! (অর্থাৎ কুরাঈশদের মধ্যকার প্রভাবশালীদের দ্বারা আমরা মোহিত ছিলাম।)’’ একজন ব্যক্তির জন্য ব্যক্তি অনুকরণ থেকে মুক্ত থাকার প্রয়োজনীয়তা কেমন এটি তা-ই ব্যক্ত করে! আমাদের বর্তমান সময়ে এমন বাঁধা ও বিপত্তি হিসেবে সবার আগে যারা আসে তারা হলঃ শাসকেরা এবং সে সকল সাক্ষ্য দাতারা যারা মন্দ আলিম, মন্ত্রী, বেতনভোগী লেখক ও এরূপ সমপন্থীদের পক্ষে দাঁড়ায়।
শাসকদের ব্যাপার হল যে, লোকেরা তাদের দূর্বলতার ও প্রতারণার ব্যাপারে সর্বসম্মত। অতঃপর আমরা বলি, এটি কি আদৌ সম্ভব যে এক মুসলিম অপর মুসলিমকে বলবেঃ ‘তোমার সহযোগীতার হাতটি কারযাঈয়ের হাতের উপর রাখ যাতে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা যায়, জুলুম দূর করা যায় এবং আমেরিকাকে তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অনুমতি দেয়া না হয়?!’ এটি তো অসম্ভব! এমনটা চিন্তাও করা যায় না! কেননা কারযাঈ হল একজন দালাল যাকে আমেরিকা হাজির করেছে এবং তার মুসলিমদের বিরুদ্ধে আমেরিকাকে সমর্থন করা হল দশ ঈমান বিধ্বংসী বিষয়ের মধ্য থেকে একটি যা সম্পাদনকারীকে ধর্ম থেকে বের করে দেয়!
তো তারা কারা- যারা রিয়াদের কারযাঈকে নিয়োগ দিয়েছিল ও এক শতাব্দী পূর্বে যাকে হাজির করা হয়েছিল কুয়েতে উদ্বাস্তু থাকার পর দিয়ে, যাতে সে তাদের পক্ষ হয়ে অটোমান রাষ্ট্র এবং এর শাসনকর্তা ইবনে আল রাশেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে? তারা হল ক্রসেডাররা। এবং তারা আজ পর্যন্তও এসকল দালালদের সুরক্ষা দিয়ে আসছে। অতএব, রিয়াদের কারযাঈ এবং কাবুলের কারযাঈয়ের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই!
فَاعۡتَبِرُوۡا یٰۤاُولِی الۡاَبۡصَارِ
﴾অতএব শিক্ষা গ্রহণ কর, হে দৃষ্টিশক্তিসম্পন্নরা!﴿
সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেছেন,
اَکُفَّارُکُمۡ خَیۡرٌ مِّنۡ اُولٰٓئِکُمۡ اَمۡ لَکُمۡ بَرَآءَۃٌ فِی الزُّبُرِ ﴿
অর্থাৎ:
তোমাদের মধ্যকার (বর্তমান কুরাঈশ) কাফিররা কি ওদের (অর্থাৎ অতীতের আদ, সামূদ, ফিরআউন ইত্যাদি ধ্বংসপ্রাপ্ত সম্প্রদায়) অপেক্ষা ভাল? না কি তোমাদের ছাড় পাবার কোন দলীল রয়েছে (পূর্ববর্তী কোন) কিতাবে? - আল-কামার, ৪৩﴿
বস্তুত সেসব শাসকরা যারা আমাদের ব্যাপারগুলো সমাধান করতে চায়(!) এবং এর মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফিলিস্তিনী সমস্যার সমাধান তারা জাতিসংঘের মাধ্যমে অথবা যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনা মুতাবেক করতে চায়- তারা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে (صلى الله عليه وسلم) ধোঁকা দিয়েছে (প্রকৃতপক্ষে এর মাধ্যমে তারা নিজেদেরকে ভিন্ন আর কাউকে ধোঁকা দেয় না!), তারা দ্বীন ত্যাগ করেছে এবং উম্মাহ’র সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
আর অসৎ আলিম, মন্ত্রী, ভাড়াটে লেখক ও এরূপ সমপন্থীদের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বচন প্রযোজ্য, ‘‘প্রতিটি কালের জন্যই- একটি অবস্থা ও কিছু লোকেরা থাকে’’। এভাবেই তারা হল সে অবস্থার লোক যারা কি’না সত্যকে অসৎভাবে উপস্থাপন করে এবং পবিত্র ভূমিতে [মক্কা-মদীনাতে] থেকেও মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়- এমনকি কা’বার সীমাবেষ্টনীর ভিতর থেকে ও পবিত্র মাসেও, ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ (আর আল্লাহ ব্যতীত কোন ক্ষমতা নেই এবং নেই কোন শক্তি)। তারা আরও দাবী করে যে এসকল বিশ্বাসঘাতক শাসক হল আমাদের নেতা যারা কি’না আমাদের অভিভাবকত্ব করবে, ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ (আর আল্লাহ ব্যতীত কোন ক্ষমতা নেই এবং নেই কোন শক্তি)। তারা এসব বলে স্থিতাবস্থা’র (Status Quo) মৌলিক উপাদান সংহতকরণ ও সুস্থিতকরণের স্বার্থে! তারা তো ইতিমধ্যে সরল পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছেই অতএব এটা জরুরি যে তাদের থেকে পৃথকত্ব ঘোষণা করা, তাদের থেকে দূরে থাকা এবং তাদের ব্যাপারে অন্যদেরকে সতর্ক করা।
অতঃপর, দ্বীনি ব্যাপার সমর্থন করা শুধুমাত্র বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই দ্বীন আমাদের সময় ও সম্পদের কিছু মূহুর্ত ও কিছু অংশের উপর দাঁড়িয়ে নেই, বরং এটি হল আল্লাহর ধার্যকৃত অনেক মূল্যবান পণ্য। (প্রতিযোগীরা এ বিষয়ে প্রতিযোগীতা করুক।) কতই না পার্থক্য বসা, আলোচনা চালানো এবং আত্না ও মাথাকে আল্লাহর আদেশে উৎসর্গ করার মাঝে!
[বই: তাওযীহাত আল মানহাজিয়্যাহ,
শাইখ উসামা ইবনু লাদিন (رحمه الله)
@ইন্সপায়ার ম্যাগাজিন- ইস্যু: ৮, থেকে অনূদিত।]
Comment