Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৫১ || ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১- বিজয়ের সোপান ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ – ।দ্বাদশ পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৫১ || ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১- বিজয়ের সোপান ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ – ।দ্বাদশ পর্ব


    আল হিকমাহ মিডিয়া পরিবেশিত
    ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১
    বিজয়ের সোপান
    ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি ।।
    [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ– ।।
    –।।থেকে- দ্বাদশ পর্ব


    হে হিজবুত তাহরীরের ভাইয়েরা! মানুষকে যদি আপনারা ইসলাম শিক্ষা না-ই দেন, মানুষের কাছে যদি আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াত না-ই পৌঁছান, আমর বিল মারুফ তথা সৎকাজের আদেশ যদি না-ই করেন, নাহি আনিল মুনকার' তথা অসৎ কাজ থেকে বারণ যদি না-ই করেন, আপনাদের দলের সদস্যদের এবং সাধারণভাবে সকল মুসলিমের আত্মশুদ্ধির চিন্তা যদি আপনাদের মাঝে আসলেই না থাকে, চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধনে, মানুষকে তার অনুশীলন ও প্রশিক্ষণ প্রদানে যদি আপনারা নিয়োজিত না হন, তবে তো আপনাদের ব্যাপারে এমনটাই বলা শোভা পায় যে, আপনারা একটি ধর্মহীন সংগঠনের সদস্য…! আল্লাহর দ্বীনের জন্য কাজ করা যদি আপনাদের কর্মসূচিতে না থাকে, আপনাদের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত না হয়, ইসলাম যদি আপনাদের পরিচয় না হয়, তবে আপনাদের সঙ্গে ইসলামের সম্পর্ক কী আর ইসলামের সঙ্গেই বা আপনাদের সম্পর্ক কী...!

    মুহাম্মাদ ﷺ ইরশাদ করেন,

    « مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ ».

    “তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো অন্যায় দেখে তবে সে যেন হাত দিয়ে তা প্রতিহত করে। যদি তার সামর্থ্য না থাকে তবে মুখ দিয়ে তা প্রতিহত করে। তাও যদি না পারে তবে অন্তর দিয়ে যেন তা প্রতিহত করে। আর এটি ঈমানের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থা।”[1]

    ইমাম জাসসাস বলেন, “কুরআন এবং নবী ﷺ থেকে বর্ণিত হাদীসের আলোকে আমরা পূর্বে যা উল্লেখ করেছি, তাতে আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার ফরজ হওয়ার বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে। আমাদের আলোচনা থেকে এটিও প্রতীয়মান হলো যে, এটি ফরজে কেফায়া। অর্থাৎ কিছু লোক আদায় করলে সকলের পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যায় এবং অন্যরা দায়িত্ব মুক্ত হয়ে যায়। আর এ কারণেই এটি ফরজ হওয়ার ক্ষেত্রে পাপী ও পূণ্যবান লোকের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। কারণ, কোনো ব্যক্তি যদি একটি ফরজ ছেড়ে দেয়, এতে অন্যান্য ফরজ দায়িত্ব থেকে সে মুক্ত হতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি নামায ছেড়ে দেয়, এতে রোযার ফরজ দায়িত্ব এবং অন্যান্য ইবাদাত পালনের আবশ্যকতা থেকে সে মুক্ত হতে পারে না। একইভাবে কেউ যদি কোনো ভাল কাজই না করে এবং কোনো প্রকার খারাপ কাজ থেকে নিজে বিরত না থাকে, তবুও আমর বিল মারুফ এবং নাহি আনিল মুনকার তথা অন্যকে ভালো কাজের আদেশ দেয়া ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখার ফরজ দায়িত্ব থেকে সে অব্যাহতি লাভ করতে পারে না।”

    হিযবুত তাহরীর আরও বলছে- “হিযবুত তাহরীর তাদের চলার পথে চ্যালেঞ্জের নীতি আঁকড়ে ধরেছে। তাদের বৈপ্লবিক পথ চলায় তারা খোলামেলা ও দ্ব্যর্থহীন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই নিজেদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রেখেছে। বৈষয়িক ও বস্তুতান্ত্রিক কোনো সক্রিয়তার পথে তারা পা বাড়ায়নি, চাই তা শাসক মহলের বিরুদ্ধে হোক অথবা তাদের দাওয়াতের পথে অন্তরায় সৃষ্টিকারী অন্য কোনো শ্রেণীর বিরুদ্ধে হোক কিংবা তারা শাস্তির সম্মুখীন হচ্ছে এমন যে কারো বিপক্ষে হোক। আর এমনটি তারা করে থাকে মক্কায় দাওয়াতের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর আদর্শিক কর্মপন্থার অনুসরণে। কারণ, তিনি মদীনায় হিজরতের পূর্ব পর্যন্ত কোনো প্রকার বৈষয়িক সক্রিয়তার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েননি।”

    অন্যত্র তারা বলছে- মুসলিমদের ওপর অপরিহার্য কর্তব্য হলো, তারা নিজেদের কাজকর্ম ও চলাফেরায় ইসলামের প্রতিফলন ঘটাবে। উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার ক্ষেত্রে ইসলামের বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। তেমনি একটি নির্দেশনা হলো, খিলাফত রাষ্ট্র পুনরুদ্ধারের মধ্য দিয়ে ইসলামী জীবন ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজ পুনর্গঠনের দাওয়াহ্ পেশ করা। বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই ও রাজনৈতিক সংগ্রামের এই কর্মপন্থা আঁকড়ে ধরে থাকা। আর বস্তুতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকা। ইসলাম নির্দেশিত শরীয়তসম্মত পন্থা এটাই। সন্ত্রাসী আখ্যা পাবার ভয়ে ভীত হয়ে পালিয়ে বেড়ানো শরীয়তসম্মত পন্থা নয়।”

    তারা আরও বলে, “ হিযবুত তাহরীর বাস্তব পরিমণ্ডলে দাওয়াহ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। দাওয়াহ্ ছাড়া অন্য কোনো কিছুতে তারা জড়ায় না। এমনকি দাওয়াহ ভিন্ন অন্য কোনো কাজ করাকে দাওয়াতের পথে অন্তরায় ও প্রতিবন্ধক বলে মনে করে থাকে। তাদের জন্য সাধারণভাবে এমন কোনো কিছুর সঙ্গে জড়িয়ে পড়া একেবারেই জায়েজ নয়।”

    আরও বলা হচ্ছে- “এ কারণেই এমন সংগঠন যাদের কাজ হচ্ছে দাওয়াত চালিয়ে যাওয়া, তাদের জন্য অন্যান্য সংগঠনের মতো দাওয়াহ ভিন্ন অন্য কোনো কাজে জড়িয়ে পড়া জায়েজ নয়। বরং চিন্তার প্রসার ও দাওয়াতের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।”

    হিযবুত তাহরীরের কর্মসূচিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, বৈষয়িক সক্রিয়তা হিসাবে তারা জিহাদকে সঙ্গত মনে করে না। জিহাদের কথা বলে না এবং তা সমর্থনও করে না। জিহাদ তাদের কর্মসূচির ভেতরেই নেই। বরং এটি একটি রাজনৈতিক সংগঠন যারা শুধু রাজনীতির কথাই বলে এবং রাজনীতির জিহাদ করে। তাদের কাজ হচ্ছে রাজনৈতিক সংগ্রাম ও বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই। শুধু তাই নয়, তারা জিহাদকে সুউচ্চ সেই অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের পথে অন্তরায় ও প্রতিবন্ধক মনে করে, যার মাধ্যমে তারা সমাজ পরিবর্তন করবে ও খিলাফত প্রতিষ্ঠা করবে। তাদের সেই সুউচ্চ লক্ষ্য হচ্ছে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। এটুকুতেই তারা ক্ষান্ত নয়, নিজেদের উদ্ভাবিত এই পন্থাকে তারা শরীয়তসম্মত পন্থা মনে করে। দাবী করে ইসলাম এটাকেই অনুসরণের আদেশ দিয়েছে। তাই, তাদের মতে, কোনো অবস্থাতেই এই পন্থাকে উপেক্ষা করা জায়েজ নয়। সারকথা হলো, জিহাদ তাদের মতে সমাজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি নব-উদ্ভাবিত পন্থা এবং এই পন্থা অনুসরণ করা নববী মানহাজের বিরোধী(!)

    আল্লাহর কসম! তারা যা বলছে, দ্বীন ও মিল্লাতের শত্রুরা মুসলিমদের কাছ থেকে তো সেটাই আশা করে। আর তা হল, মুসলিমরা তাদের অভিধান থেকে ফরজ জিহাদকে তুলে দেবে। এই সুযোগে শত্রুরা পশুর মতো পাইকারি হারে তাদেরকে কসাইখানায় নিয়ে যাবে।

    ইবনে দাকিক আল'ঈদ বলেন,“ক্বিয়াস তথা স্বাভাবিক যুক্তির দাবি হল, উসিলা তথা উপলক্ষ্যমূলক আমলসমূহের মধ্যে জিহাদ সর্বশ্রেষ্ঠ হওয়া। কারণ, এই জিনিস আল্লাহর দ্বীনের প্রচার ও বিস্তার এবং কুফরীর প্রতিরোধ ও প্রতিকারের মাধ্যম। আর এইসব বিষয়ের যেমন ফযিলত ও প্রাধান্য রয়েছে, তেমনি জিহাদেরও অনুরূপ ফজিলত ও শ্রেষ্ঠত্ব থাকাটা সাধারণ যুক্তির দাবি। আল্লাহই সর্বজ্ঞ”।

    আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা ইরশাদ করেন –

    وَقَٰتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ ٱلدِّينُ كُلُّهُۥ لِلَّهِ فَإِنِ ٱنتَهَوْا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ بَصِيرٌ﴿الأنفال: ٣٩﴾


    ‘তোমরা কাফেরদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে থাকো, যতক্ষণ না ফিতনা বাকী থাকবে এবং দ্বীন সম্পূর্ণভাবে আল্লাহ তা’আলার জন্যেই (নির্দিষ্ট) হয়ে যায়, অতঃপর, যদি তারা নিবৃত্ত হয়, তবে আল্লাহ তা’আলাই হবেন তাদের কার্যকলাপের পর্যবেক্ষণকারী। [2]

    উক্ত আয়াতের ব্যাপারে ইমাম তাবারী রহিমাহুল্লাহ তাঁর তাফসীরে বলেন, “অতঃপর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকো যতক্ষণ না শিরক নির্মূল হয়। এবং অংশীদারবিহীন একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত করা হয়। যার ফলে ভূপৃষ্ঠে আল্লাহর বান্দাদের থেকে বিপদ দূরীভূত হয়ে যাবে —আর সে বিপদ হচ্ছে ফিৎনা'। এবং আল্লাহর সমস্ত হুকুম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। আর তখন আনুগত্য ও ইবাদাত একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যাবে। তিনি ব্যতীত অন্য সবকিছুর পূজা-অর্চনা, গোলামি পরিত্যাজ্য হয়ে যাবে।”

    আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন,

    إِلَّا تَنفِرُوا يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَيَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ ﴿التوبة: ٣٩﴾

    ‘যদি তোমরা বের না হও তবে তিনি তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন এবং তোমাদেরকে অন্য জাতি দ্বারা প্রতিস্থাপন করবেন’। [3]

    শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ বলেন,“এই আযাব কখনো আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, আবার কখনও তাঁর বান্দাদের হাতে হয়। মানুষ যখন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ ছেড়ে দেয়, তখন তিনি তাদেরকে এভাবে বিপদের মুখোমুখি করেন যে, পরস্পরের মাঝে শত্রুতা সৃষ্টি হয়। আর এতে করেই তাদের মাঝে ফিতনার প্রাদুর্ভাব হয়। বাস্তবতা এমনই। কারণ মানুষ যখন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে আত্মনিয়োগ করে, তখন আল্লাহ তা’আলা তাঁদের অন্তরকে একীভূত করে দেন। তাদের মাঝে সদ্ভাব সম্প্রীতি সৃষ্টি করে দেন। এবং তাঁদের সকলকে তাঁর নিজের শত্রু ও তাঁদের শত্রুদের ওপর বিজয় দান করেন। আর যদি মানুষ আল্লাহর রাস্তায় বের না হয়, তবে আল্লাহ তা’আলা তাদের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করে দেন। একে অন্যকে আক্রমনের স্বাদ আস্বাদন করার মাধ্যমে শাস্তি দিয়ে থাকেন। এমনিভাবে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন-

    وَلَنُذِيقَنَّهُم مِّنَ الْعَذَابِ الْأَدْنَىٰ دُونَ الْعَذَابِ الْأَكْبَرِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ ﴿السجدة: ٢١﴾

    ‘গুরু শাস্তির পূর্বে আমি অবশ্যই তাদেরকে লঘু শাস্তি আস্বাদন করাব, যাতে তারা প্রত্যাবর্তন করে’। [4]

    মানুষের হাতে যে শাস্তি দেয়া হয়, তা লঘু শাস্তির অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা’আলা মুশরিকদেরকে আযাবের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বদরের ঘটনা দ্বারা তা পূরণ করা হয়েছে।”

    শাইখুল ইসলাম রহিমাহুল্লাহ আরো বলেন, “এটিও প্রত্যেক প্রজন্মের প্রতি আল্লাহর সম্বোধন। এতে তিনি জানাচ্ছেন যে, যারা (আল্লাহ কর্তৃক) নির্দেশিত জিহাদ থেকে বিরত থাকবে, আল্লাহ তা’আলা তাদের স্থলে এমন সম্প্রদায়কে নিযুক্ত করে দেবেন, যারা জিহাদকে প্রতিষ্ঠা করবে। আর এটাই বাস্তবতা। নিঃসন্দেহে আল্লাহর দ্বীনের স্তম্ভ সুদৃঢ় থাকে পথপ্রদর্শক কিতাব এবং সাহায্যকারী লৌহের মাধ্যমে। আল্লাহ তা’আলাই এমনটি উল্লেখ করেছেন। তাই প্রত্যেকের কর্তব্য হলো, আল্লাহ তা’আলার দিকে তাকিয়ে তাঁর সাহায্য লাভের আশায় তাঁরই সহায়তা নিয়ে ঐশী গ্রন্থ ও লৌহের মাঝে সমন্বয় সাধনে প্রয়াসী হওয়া।”

    ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা ইরশাদ করেছেন-

    لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ ﴿الحديد: ٢٥﴾

    ‘নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদেরকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি সহকারে প্রেরণ করেছি এবং তাদের সঙ্গে কিতাব ও মীযান অবতীর্ণ করেছি, যেন মানুষ ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে পারে’। [5]

    এখানে যেই ন্যায়ের কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে পথপ্রদর্শন। এরপর আল্লাহ ইরশাদ করেন-

    وَأَنزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ ﴿الحديد: ٢٥﴾

    “এবং আমি লোহা অবতীর্ণ করেছি যার মধ্যে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তি”। [6]

    এখানে যে শক্তির কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে—সাহায্য। এভাবেই তিনি পথপ্রদর্শক কিতাব ও সাহায্যকারী লৌহের কথা নিজ কিতাবে উল্লেখ করলেন।”

    হিযবুত তাহরীরের কি এখনো সময় হয়নি হেদায়েতের পথে ফিরে আসার? তাদের কি সময় হয়নি নিজেদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য সরল-সঠিক পথ অবলম্বনের; তারা যদি সত্যিই তা চেয়ে থাকে?

    তাদের এক শীর্ষ দাঈ বলেন, “আমি শাইখ তাকিউদ্দিন নাবহানীর[7] কাছে উপস্থিত হয়ে তাঁর কাছে এই প্রস্তাব রাখি, হিযবুত তাহরীরের পাঠচক্রগুলোর সিলেবাসে যেন কুরআনুল কারীম রাখা হয়! তখন তিনি বলেন, ‘শোনো, তুমি হিযবুত তাহরীরে আমার যুবকগুলোকে নষ্ট করতে বলো না। আমি দরবেশদেরকে রাখতে চাই না…”

    আল্লাহর কিতাবের হাফেজকে যদি অবুঝ দরবেশ মনে করা হয়, রবের কিতাবের শিক্ষা লাভকারীকে যদি নির্বোধ মনে করা হয়, তবে প্রকৃত অর্থে আপনাদের দৃষ্টিতে আলেম কে? আপনাদের কথিত রাষ্ট্রের দায়িত্বভার কাদের কাঁধে অর্পণ করতে চান? আপনাদের কি জানা নেই, সকল প্রকার 'ইলম ও জ্ঞান এই কিতাবুল কারীমের ভেতর নিহিত রয়েছে? সামনে পেছনে কোনো দিক থেকেই যাকে কোনো বাতিল স্পর্শ করতে পারে না? যা পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ? আপনাদের কর্ণকুহরে কি আল্লাহ তা’আলার এই বাণী পৌঁছায়নি?

    مَّا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِن شَيْءٍ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّهِمْ يُحْشَرُونَ ﴿الأنعام: ٣٨﴾

    ‘আমি এই কিতাবে কোন প্রকার আলোচনা ছেড়ে দিইনি। অতঃপর, তাদের রবের কাছেই তারা সমবেত হবে’। [8]

    এই উদ্ভ্রান্ত পথচলার অভিযোগ আমরা আল্লাহর কাছেই দায়ের করি।

    উস্তাদ মওদুদীকে আল্লাহ রহম করুন! তিনি তাদের ব্যাপারে বলেছিলেন, ‘তোমরা তাদের সঙ্গে তর্কে যেও না। তাদেরকে এমন দিনের জন্য ছেড়ে দাও, যেদিন তারা থাকবে না।’

    এই সংগঠনের ব্যাপারে আলোচনা কী দিয়ে শেষ করব আমরা বুঝতে পারছি না। ওস্তাদ শহীদ সাইয়্যেদ কুতুব রাহিমাহুল্লাহ্'র সেই উক্তিটি পুনরাবৃত্তি করতে চাই, যা তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা নাবহানীর সাথে সাক্ষাতের পর বলেছিলেন, তাদেরকে ছেড়ে দাও। যেহেতু ইখওয়ানের সূচনা ঘটেছে, তাই অচিরেই তারা আর থাকবে না।’




    [1] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৮৬
    [2] সূরা আল-আনফাল; ০৮: ৩৯
    [3] সূরা আত-তাওবা; ০৯: ৩৯
    [4] সূরা আস-সাজদা; ৩২: ২১
    [5] সূরা আল- হাদীদ; ৫৭: ২৫
    [6] সূরা আল- হাদীদ; ৫৭: ২৫
    [7] হিযবুত তাহরীরের প্রতিষ্ঠাতা তিনি ১৯৭৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন
    [8] সূরা আল- আনআম, ০৬: ৩৮






    আরও পড়ুন
Working...
X