Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৫১ || ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১- বিজয়ের সোপান ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ – ষোড়শ পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৫১ || ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১- বিজয়ের সোপান ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ – ষোড়শ পর্ব

    আল হিকমাহ মিডিয়া পরিবেশিত
    ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১
    বিজয়ের সোপান
    ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি ।।
    [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ– ।।
    –।।থেকে- ষোড়শ পর্ব



    ডক্টর সাহেব! আপনি কাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাচ্ছেন! যারা রাসূলুল্লাহ -এর আরব উপত্যকায় মুসলিমদের সম্ভ্রম রক্ষার্থে জিহাদরত, তাঁদের বিরুদ্ধে? যারা ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে এবং হিংসুটে রাফেজী ইবনে আল-কামীর উত্তরসূরীদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নিয়োজিত তাঁদের বিরুদ্ধে? আপনার কি জানা নেই, ক্রুসেডারদের আগ্রাসন ইরাকবাসীর বুক ছিন্নভিন্ন করে দেবার পর আপনাদের ক্ষতি করার জন্য ধেয়ে আসত? কিন্তু তা হয় নি, বরং আল্লাহ তা’আলা নিজ দয়া-অনুগ্রহে আপনাদেরকে সেই অবস্থা থেকে রক্ষা করেছেন। তাই তো তিনি ইরাক আগ্রাসনের মুখে আবু মুসআব জারকাবি রহিমাহুল্লাহ’র মত ব্যক্তিত্বদেরকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। তাঁরা এ আগ্রাসনকে প্রতিরোধ করেছেন। আপনাদের ভূখণ্ডের[1] দিকে ক্রুসেডারদের অগ্রযাত্রাকে তাঁরা রুখে দিয়েছেন।

    অন্য এক বক্তব্যে তিনি মুজাহিদদেরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন। এবং ৯/১১ এর বরকতময় জিহাদের বীর সেনানীদেরকে উত্তম চরিত্র বঞ্চিত এবং নৈতিকতা বিবর্জিতআখ্যা দেন। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই অল্প কিছু মানুষ যাদের উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো সক্ষমতা নেই, তারা তখনই কারো ক্ষতি করতে অগ্রসর হতে পারে, যখন তাদের মাঝে মৌলিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা বলে কিছুই থাকে না।

    আরো আশ্চর্যের বিষয় হল, মিশরে সাহওয়া সালাফী ধারার মুরুব্বী জামাল সুলতানের বক্তব্য। তিনি মুজাহিদদেরকে নির্মূল করার জন্য তাগুত সরকারকে অনুপ্রাণিত করেছেন এ কাজের সবচেয়ে উত্তম পন্থা তাদেরকে বাতলে দিয়েছেন। ইসলাহী এই নেতা বলেন, নিশ্চয়ই কট্টরপন্থী ইসলামী দলগুলো একটি বিশেষ পন্থায় সহিংসতাকে নিজেদের মানহাজ হিসেবে গ্রহণ করেছে তাদের এই পন্থা একটি স্বতন্ত্র মৌলভিত্তির অধীনে রচিতএ সমস্ত দলের মোকাবেলার জন্য প্রয়োজন হলো, হেকমত এবং কঠোরতা, মানবিক ও সামাজিক জ্ঞান,নিরাপত্তা ও গুপ্তচরবৃত্তির পারদর্শিতা, চিন্তা পরিশুদ্ধি কার্যক্রম ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনাসেইসাথে শক্তি প্রয়োগ ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বিধানের জন্য কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণউপরোক্ত প্রতিটি বিপরীতমুখী বিষয়ের সমন্বিত প্রয়োগ।

    সাহওয়া সালাফী ধারার উস্তাদ জায়েদ ইব্রাহীম মুহাম্মাদ[2] সংশোধনমূলক শান্তিপূর্ণ দাওয়াতি চিন্তাধারার ওপর জিহাদী ধ্যান ধারণার প্রাধান্য বিস্তারে ভীত হয়ে এই বক্তব্য প্রদান করেন, আমাদের এই প্রতিষ্ঠান একটি সাংস্কৃতিক ও দাওয়াতি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের মূল কথা -শান্তিপূর্ণ প্রকাশ্য দাওয়াতি মিশন ইসলামের জন্য কাজ করার ক্ষেত্রে এবং দাওয়াত প্রচারে আমরা কারো সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াই না। দুঃখজনক বিষয় হলো, এ বিষয়টা নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনেকের কাছেই স্পষ্ট নয়। আমরা কখনোই কামনা করি না, অনুচিত এই চাপ প্রয়োগের কারণে আমাদের প্রতিষ্ঠানের সদস্যবৃন্দ যারা মধ্যমপন্থী ও মাঝামাঝি অবস্থান গ্রহণকারী হিসেবে সুপরিচিত, - আল্লাহ না করুন- তারা কট্টরপন্থী চিন্তা ধারায় প্রভাবিত হোক এবং বিচ্ছিন্নতার আশ্রয় গ্রহণ করুক’!

    সাহওয়া সালাফী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ও কর্ণধারদেরকে আমরা সাইয়্যেদ কুতুব রহিমাহুল্লাহ'র সেই বক্তব্য স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, যা তিনি তাঁর অনবদ্য তাফসীরগ্রন্থ ‘যিলালিল কুরআনে’ লিপিবদ্ধ করেছেন। আমরা আশা করব, তাদের মাঝে কেউ উৎকর্ণ হয়ে এ বিষয়টি শ্রবণ করবেন এবং সে অনুযায়ী আমল করবেন। সাইয়্যেদ কুতুব লিখেন, মুসলিম উম্মাহর জাতীয় জীবনে জিহাদ যদি আকস্মিকভাবে সংঘটিত কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতো, তবে এতটা গুরুত্ববহ আঙ্গিকে আল্লাহর কিতাবের এত বিরাট অংশ তা দখল করে থাকত না।

    হাদীসের এতগুলো অধ্যায়ে এতটা তাৎপর্যমণ্ডিত রূপে তার উপস্থিতি থাকত না। জিহাদ যদি মুসলিমদের জাতীয় জীবনের আকস্মিকভাবে সংঘটিত কোনো অনুষঙ্গ হত, তবে রাসূলুল্লাহ প্রতিটি মুসলিমকে শামিল করে কেয়ামত পর্যন্ত সময়কালের জন্য এমন উক্তি করতেন না— ‘যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মারা যাবে যে, কখনো সে যুদ্ধ করেনি অথবা যুদ্ধের ব্যাপারে মনে মনে সংকল্প করেনি, সে মুনাফেকির একটি অঙ্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করল।

    নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা জানেন, রাজা বাদশারা এবং শাসকবর্গ জিহাদকে অপছন্দ করবে। তিনি এটিও জানেন যে, শাসন ক্ষমতার অধিকারীরা জিহাদের বিরোধিতা করবেই। কারণ এটি তাদের স্বার্থের বিরোধী। তাদের মানহাজের খেলাপ। শুধু অতীতেই নয়, বর্তমানে এবং ভবিষ্যতেও এমন বিরোধিতা আসবেইপ্রতিটি ভূখণ্ডে প্রতিটি প্রজন্মে। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা জানেন, অকল্যাণের সদম্ভ পথ চলা অব্যাহত থাকবেই। অকল্যাণ কারো জন্য দয়া দেখাবে না। কল্যাণ যতই নমনীয়তার সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে পথ চলুক না কেন তার অগ্রগতির পথে অকল্যাণ বাধা সৃষ্টি করবে নাএটি কখনোই হবার নয়। মিথ্যা নিজেকে রক্ষার জন্য অনিবার্যভাবেই শক্তি প্রয়োগ করে, সত্যের কণ্ঠরোধ করে, তাকে হত্যা করতে চাইবে। বিশ্ব প্রকৃতির এটি একটি অমোঘ বাস্তবতা। এটি সাময়িক কোনো ঘটনা নয়। এটি স্বাভাবিক জাগতিক নিয়ম, আকস্মিকভাবে সংঘটিত কোনো ব্যাপার নয়। আর এ কারণেই জিহাদ। যেকোনো অবস্থাতেই একে প্রয়োজন।

    আবশ্যিকভাবে প্রথমে মনোজগতে জিহাদের অবতারণা হয়অতঃপর সেটি বাস্তবতায় রূপ নেয়। তখন অনিবার্যভাবেই ‘সশস্ত্র অকল্যাণ’ আর ‘সশস্ত্র কল্যাণ’ মুখোমুখি হয়। সংখ্যার বলে গর্বিত বাতিল শক্তি যখন হকের পথ রোধ করে দাঁড়ায়, তখন হকও থাকে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন। এর অন্যথা হলে এবং হক সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন না করলে ব্যাপারটা হয়ে যায় আত্মঘাতীতা এমন এক প্রহসন হয়ে দাঁড়ায়, যা মু’মিনদের জন্য সমীচীন নয়। তাই জান ও মাল ব্যয় করার কোনো বিকল্প নেইযেমনটি আল্লাহ তা’আলা মু’মিন বান্দাদের কাছ থেকে তলব করেছেন এবং জান্নাতের বিনিময়ে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন। এখন সম্পূর্ণ তাঁর ইচ্ছানুসারে তাঁদের ভাগ্যে বিজয় থাকতে পারে, আবার তার বদলে শাহাদাত থাকতে পারে। তাকদীর ও ভাগ্যের এই লিখন সম্পূর্ণ তার ইচ্ছাধীন, যার সর্বত্র রয়েছে তাঁর হিকমত ও প্রজ্ঞার প্রলেপ। মু’মিন বান্দাদের জন্য তাঁদের রবের কাছে দুই কল্যাণের কোনো এক কল্যাণ অবশ্যই নির্ধারিত রয়েছে। আর সাধারণভাবে সকল মানুষ নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হলে মৃত্যুবরণ করবে। কেবল শহীদরাই এমন সৌভাগ্যবান যারা শাহাদাতের মর্যাদায় ভূষিত হনযেন তারা চির অমর।

    আমরা এখানেই সাহওয়া সালাফী আন্দোলন সম্পর্কে আলোচনার ইতি টানতে যাচ্ছি। আমাদের এই অধ্যায় ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য সে সমস্ত ইসলামী দলের বিবরণ নিয়ে রচিত, যেগুলো আল্লাহর শরীয়ত প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে বিপ্লব কায়েমে নির্দিষ্ট কিছু পন্থার উদ্ভব ঘটিয়েছে। আল্লাহর তৌফিক ও অনুগ্রহে আমরা সেসব মানহাজের বক্রতা, সত্য-বিরুদ্ধতা এবং ইসলামী সমাজ বিনির্মাণ ও খিলাফতে রাশেদা প্রতিষ্ঠায় নববী আদর্শের সঙ্গে এ সমস্ত মানহাজের সুস্পষ্ট সাংঘর্ষিকতা বর্ণনা করতে সক্ষম হয়েছি আলহামদু লিল্লাহ!

    ইসলামী আন্দোলনগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ সংবলিত এই অধ্যায়টি ইমাম ইবনুল কাইয়্যিমের একটি উক্তি দিয়ে শেষ করতে চাই, যা ‘মাদারিজুস সালেকীন’ গ্রন্থে রয়েছে। আশা করছি, এর দ্বারা কল্যাণ প্রত্যাশী ব্যক্তিকে আল্লাহ তা’আলা কল্যাণ দান করবেন! সত্য সঠিক পথে চলতে আগ্রহী ব্যক্তিকে তিনি সঠিক পথের দিশা দান করবেন! একমাত্র আল্লাহই সরল সঠিক পথের দিশা দানকারী।

    সাহাবায়ে কেরামের গুণাবলী বর্ণনা করতে গিয়ে ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার দ্বীন ইসলাম তাঁদের অন্তরে এমনভাবে বদ্ধমূল হয়েছিল এবং তাঁদের বুকের এতটা গভীরে প্রবিষ্ট হয়েছিল যে, তাঁরা এর ওপর অন্য কোনো প্রকার রায়, যুক্তি, অন্য কারো অনুসরণ অথবা কোনো প্রকার মানবিক বিচার বুদ্ধিকে প্রাধান্য দিতে রাজি ছিলেন না। ফলে, পুরো পৃথিবীজুড়ে তাদের প্রশংসা ছড়িয়ে পড়েছিল। আর পরবর্তীদের মাঝে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাঁদের স্তুতির চর্চা অব্যাহত রেখেছিলেন। তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে পথ চলেছিল তাঁদের অনুসারীদের প্রথম প্রজন্ম।

    তাঁদের এ সমস্ত তৌফিকপ্রাপ্ত অনুসারীবৃন্দ তাঁদের পথ ও পন্থা অনুসরণে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁরা ছিলেন দলপ্রীতি ও ব্যক্তিপূজা থেকে যোজন যোজন দূরে। তাঁরা ছিলেন সদাসর্বদা দলীল ও হুজ্জতের পক্ষে। ছিলেন সত্যের ধারক বাহক –সে সত্য তাঁদেরকে যেখানেই নিয়ে যাক না কেন। তাঁরা ছিলেন সত্য পথের নির্ভীক পথচারী যেখানেই সত্যের তাঁবু স্থাপিত হোক না কেন। যখন দলীল-প্রমাণ তাঁদের সামনে স্পষ্ট হতো, তখন তাঁরা সবান্ধবে নির্বান্ধবে সেদিকে ছুটে আসতেন। যখন রাসূল তাঁদেরকে কোনো দিকে আহ্বান করতেন, তখন তাঁরা তৎক্ষণাৎ সক্রিয় হয়ে উঠতেন রাসূলুল্লাহ তাঁদেরকে কোনো কিছু করার আদেশ কেন দিলেন, হুকুমের পেছনের হিকমাহ ইত্যাদি খুঁজতে যেতেন না। প্রিয় নবীজির বাক্যমালা তাঁদের অন্তরের গভীরে এবং হৃদয়ের গহীনে বদ্ধমূল ছিল অন্য কোনো মানুষের কথাকে তার ওপর প্রাধান্য দিতে তাঁরা মোটেই প্রস্তুত ছিলেন না। কোনো যুক্তি দিয়ে রাসূলুল্লাহ’র বক্তব্যকে বিচার করতে তাঁরা মোটেই রাজি ছিলেন না।

    অতঃপর ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম সতর্ক করে দিয়ে বলেন, অতঃপর তাঁরা (তাবেয়ীরা) গত হয়ে গেলে নতুন প্রজন্ম এল। তারা নিজেদের দ্বীনকে টুকরো টুকরো করে ফেলল। নিজেরাও শতধা বিভক্ত হয়ে প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান নিয়ে তুষ্ট থাকলতারা নিজেদের দ্বীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলল। অথচ প্রত্যেকেই তাদের রবের দিকে প্রত্যাবর্তনশীল। তারা দলপ্রীতিকে নিজেদের আদর্শে পরিণত করলদলান্ধতাকেই তারা তাদের ব্যবসার পুঁজি বানাল তাদের মধ্যে আরেকদল কেবল অন্ধ অনুসরণ করেই আত্মতুষ্টিতে ভুগতে লাগল তারা বলতে লাগল, “নিশ্চয়ই আমরা যে আদর্শের ওপর আমাদের বাপ-দাদাদেরকে পেয়েছি, তাই আমরা অনুসরণ করে যাব” উভয় দলই অনুসরণযোগ্য, সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাদের ব্যাপারে ইরশাদ করেন-

    لَّيْسَ بِأَمَانِيِّكُمْ وَلَا أَمَانِيِّ أَهْلِ الْكِتَابِ ﴿النساء: ١٢٣﴾

    না তোমাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হবে আর না আহলে কিতাবদের আকাঙ্ক্ষা।[3]

    ইমাম শাফেয়ী রহিমাহুল্লাহ বলেন, যার কাছে রাসূলুল্লাহ -এর সুন্নাত স্পষ্ট হবে, তার জন্য অন্য কোনো মানুষের বক্তব্য গ্রহণ করে নবীজির সেই সুন্নাহ পরিত্যাগ করা জায়েজ নয়। এ ব্যাপারে সকল মুসলিমরা একমত’


    ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণে প্রত্যাশী হে ভাই!পূর্বের সকল আলোচনা শেষ করে এখন আমরা আল্লাহর জমীনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার কার্যকরী পন্থা নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি। এই আলোচনায় আমরা পুরোপুরি নির্ভর করব নববী আদর্শের ওপর এবং আল্লাহর অনুমোদিত বিশ্ব প্রকৃতির অলঙ্ঘনীয় নিয়মের ওপরবস্তুত, আল্লাহই তাওফীক দাতা এবং তিনিই একমাত্র সরল সঠিক পথের দিশা দানকারী।

    আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে অবহিত এমন যে কারো কাছে এটা স্বীকৃত যে, আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা, খিলাফতে রাশেদা পুনরুদ্ধার এবং মুসলিমদের জন্য ইমাম নিযুক্তি এবিষয়গুলো অত্যাবশ্যকীয়। শরীয়তের পরিভাষায় এগুলো হলো ফরজ। সক্ষমতা থাকলে কোনো মুসলিম সদস্যের জন্য এই ফরজ দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের উলামায়ে কেরামের সিদ্ধান্ত এমনই।

    ইমাম মাওয়ারদী রহিমাহুল্লাহ বলেন, ইমামতের উদ্দেশ্য হচ্ছে, দ্বীনের রক্ষণাবেক্ষণ ও রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নবুওয়্যাতের প্রতিনিধিত্ব করা। উম্মাহর মাঝে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য সর্বসম্মতিক্রমে এ কাজ করা ওয়াজিব।

    ইমাম লাইস রহিমাহুল্লাহ আস সাওয়া'ইক আল মুহরিক্বাগ্রন্থে বলেন,সাহাবা রাদিয়াল্লাহু আনহুমার ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, নবুওয়্যাত যুগের সমাপ্তির পর ইমাম নিযুক্ত করা ওয়াজিব। তারা সকলে এটিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব বলে ধরে নিয়েছিলেন। ফলে, রাসূলুল্লাহ -এর দাফন কার্যেরও পূর্বে তা সম্পন্ন করেছিলেন।

    শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ বলেন, জানা আবশ্যক যে, সর্ববিষয়ে মানব সম্প্রদায়ের নেতৃত্বদান ও দায়িত্বগ্রহণ দ্বীন ইসলামের সর্ববৃহৎ ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিবসমূহের একটি। বরং এভাবে বলা যায় যে, নেতৃত্ব ছাড়া দ্বীন-দুনিয়া কোনটাই প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারে না । কারণ, সমাজবদ্ধ না হলে বনী আদম পূর্ণাঙ্গ কল্যাণ লাভ করতে পারে না। স্বভাবতই মানুষ একে অপরের প্রতি নির্ভরশীল। আর একটি সমাজের জন্য একজন নেতা আবশ্যক। বিষয়টি এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, নবীজি ইরশাদ করেছেন-

    « إذا خرج ثلاثة فى سفر فليؤمروا أحدهم ».

    তিনজন যদি কোনো সফরে বের হয়, তবে তারা যেন তাদের একজনকে আমীর বানিয়ে নেয়[4]

    তিনি আরও ইরশাদ করেন-

    وَلَا يَحِلُّ لِثَلَاثَةِ نَفَرٍ يَكُونُونَ بِأَرْضِ فَلَاةٍ إِلَّا أَمَّرُوا عَلَيْهِمْ أَحَدَهُمْ

    এমন তিন ব্যক্তি যারা কোনো মরুভূমিতে রয়েছে, তাদের কোনো একজনকে আমীর বানানো ব্যতীত তাদের এই অবস্থান হালাল (বৈধ) নয়।[5]

    আমরা দেখতে পেলাম, রাসূলুল্লাহ সফরের মত সাময়িক সহ-অবস্থানের ক্ষেত্রে আমীর নির্ধারণকে ওয়াজিব সাব্যস্ত করেছেন। আর তার কারণ হলো- আমাদেরকে এ বিষয়ে সতর্ক করা যে, সব ধরনের মানব সম্মেলনেই এ কাজ আবশ্যক। সমাজবদ্ধতার আবশ্যকতা প্রমাণিত হয় আরও একটি কারণে; আর তা হলো- আল্লাহ তা’আলা আমর বিল মারুফ এবং নাহি আনিল মুনকার ওয়াজিব করেছেন। কিন্তু শক্তি প্রয়োগ ও নেতৃত্ব ছাড়া এই কাজ সম্পন্ন করা যায় না। এমনিভাবে জিহাদ পরিচালনা, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, হজের ব্যবস্থাপনা, জুমআ ও ঈদের নামাযের অনুষ্ঠান, মজলুমের সহায়তা, হদ বা ইসলামিক দণ্ডবিধি বাস্তবায়ন ইত্যাদি বিষয়সমূহ শক্তি প্রয়োগ ও নেতৃত্ব ছাড়া কখনোই সম্ভব নয়।

    শাইখুল ইসলামের বক্তব্যের শেষ দিকে রয়েছে— “অতএব, ওয়াজিব হলো দ্বীন ও আল্লাহর নৈকট্য প্রাপ্তির মাধ্যম মনে করে নেতৃত্ব নির্ধারণ করা। কারণ, এই নেতৃত্ব মূলত: আল্লাহর আনুগত্য এবং তাঁর রাসূল -এর আনুগত্যেরই নামান্তর। ফলে তা আল্লাহর সর্বোত্তম ইবাদাতগুলোর অন্যতম এবং আল্লাহর নৈকট্য প্রাপ্তির একটি বড় মাধ্যম। তবে, এ ক্ষেত্রে কামনাবৃত্তি ও সম্পদ সঞ্চয়ের কারণে অধিকাংশ মানুষই বিভ্রান্ত হয়ে থাকে।

    অতএব, এই দ্বীনের জন্য কাজ করা, আল্লাহর শরীয়ত প্রতিষ্ঠা করার জন্য কার্যকরী পন্থায় চেষ্টা করা এবং মুসলিমদের জন্য একজন ইমাম নিযুক্ত করা, এগুলো প্রত্যেকটি ওয়াজিব বিষয়, যা প্রতিটি মুসলিমের ওপর ফরজে আইন।

    আমাদের ইমামগণ এমনটাই বলেছেন রাহিমাহুমুল্লাহ। আল্লাহ যাদেরকে অপারগ বলেছেন, তারা ছাড়া অন্য কারো পক্ষে এই গুরুদায়িত্ব পালনে ওজর গ্রহণযোগ্য নয়।


    হেদায়েতের পথিক হে ভাই আমার!আসুন! মু’মিনদের বিজয় ও তার মধ্য দিয়ে আল্লাহর ইচ্ছায় খিলাফতে রাশেদা প্রতিষ্ঠার[6] সুদীর্ঘ, সুপ্রশস্ত রাজপথে আমরা প্রথম কদম ফেলিবস্তুত: আল্লাহই তৌফিক দাতা এবং একমাত্র তিনিই সরল সঠিক পথের দিশা দানকারী।







    [1] এখানে বিলাদুল হারামাইনের কথা বলা হচ্ছে। -সম্পাদক
    [2] জর্ডানের কুরআন সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের পরিচালক
    [3] সূরা আন-নিসা; ০৪: ১২৩
    [4] সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২৬১০
    [5] মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৬৬৪৭

    [6] যা গৌরবান্বিত এই উম্মাহর একনিষ্ঠ সদস্যদের কাঁধে অর্পিত এক গুরুদায়িত্ব।





    ​আরও পড়ুন
Working...
X