Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৫১ || ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১- বিজয়ের সোপান ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ –বিংশ পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৫১ || ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১- বিজয়ের সোপান ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ –বিংশ পর্ব

    আল হিকমাহ মিডিয়া পরিবেশিত
    ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১
    বিজয়ের সোপান
    ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি ।।
    [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ– ।।
    –।।থেকে- বিংশ পর্ব

    ষষ্ঠ বৈশিষ্ট্য:

    তায়িফা আল মানসূরার ষষ্ঠ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তার অনুসারী ও ধারক-বাহকরা বিপদ-আপদ, বালা-মুসিবত, দুর্যোগ-দুর্বিপাকের সম্মুখীন হয়ে থাকেন। আর রাসূলগণ এবং তাদের অনুসারী ও উত্তরসূরীদের অবস্থা এমনই। কুরআনের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই

    أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا۟ ٱلْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ ٱلَّذِينَ خَلَوْا۟ مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ ٱلْبَأْسَآءُ وَٱلضَّرَّآءُ وَزُلْزِلُوا۟ حَتَّىٰ يَقُولَ ٱلرَّسُولُ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مَعَهُۥ مَتَىٰ نَصْرُ ٱللَّهِ أَلَآ إِنَّ نَصْرَ ٱللَّهِ قَرِيبٌ ﴿البقرة: ٢١٤﴾

    ‘তোমরা কি মনে করে নিয়েছো যে, তোমরা (এমনি এমনিই) জান্নাতে চলে যাবে, (অথচ) পূর্ববর্তী নবীদের অনুসারীদের (বিপদের ) মত কিছুই তোমাদের ওপর এখনো নাযিল হয়নি। তাদের ওপর (বহু) বিপর্যয় ও সংকট এসেছে, কঠোর নির্যাতনে তারা নির্যাতিত হয়েছে, (কঠিন) নিপীড়নে তারা শিহরিত হয়ে ওঠেছে, এমন কি স্বয়ং আল্লাহর নবী ও তার সঙ্গী সাথীরা (অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এক পর্যায়ে) এই বলে (আর্তনাদ করে) উঠেছে, আল্লাহ তা’আলার সাহায্য কবে আসবে? তোমরা শুনে নাও, আল্লাহর সাহায্য একান্তই নিকটবর্তী। [1]

    কোনো জামাত যদি দাওয়াতের পথে দাওয়াত অনুপাতে পরীক্ষার সম্মুখীন না হয়, যথেষ্ট পরিমাণে বিপদ-আপদের মুখোমুখি না হয়, তাহলে বুঝতে হবে সেই জামাত পুরোপুরি সঠিক পথের ওপর নেই। বরং নবী-রাসূলদের পথ থেকে তারা সরে গেছে। রাসূলগণের পন্থা থেকে তারা বিচ্যুত হয়ে গেছে। রাসূলুল্লাহ বলেছেন, আল্লাহর পথে আমাকে যতটা কষ্ট দেয়া হয়েছে ততটা আর কাউকে দেয়া হয়নি।

    সাইয়্যেদ কুতুব রহিমাহুল্লাহ তাঁর তাফসীর গ্রন্থে বিপদ-আপদ নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, নিশ্চয়ই ঈমান পৃথিবীতে আল্লাহর আমানত। কেবল তাঁরাই এ আমানত বহন করে থাকেন, যাদের মাঝে যোগ্যতা, আমানত বহনের সক্ষমতা এবং অন্তর জুড়ে নির্ভেজাল ইখলাস ও একনিষ্ঠতা রয়েছে। তাঁরা তো ঐ সমস্ত লোক, যারা আরাম-আয়েশ, শান্তি-শৃঙ্খলা, পার্থিব ভোগ-বিলাসের ওপর এই আমানতকে প্রাধান্য দানে বদ্ধপরিকর। ভূপৃষ্ঠে খিলাফত প্রতিষ্ঠা, মানবজাতিকে আল্লাহর পথে পরিচালনা, বাস্তব জীবনে আল্লাহর হুকুমত কায়েমএগুলোই হচ্ছে ওজনদার সেই মহান আমানত। মানুষের ওপর অর্পিত এই আমানত আল্লাহর পক্ষ থেকে। এ কারণেই বিপদের সময় ধৈর্য ধারণের বিশেষ পন্থার প্রয়োজন।

    তিনি আরো বলেন, ততক্ষণ পর্যন্ত কারো অন্তরে ঈমানের মূল বিষয় পূর্ণতা লাভ করে না, যতক্ষণ ঈমানের জন্য মানুষ ত্যাগ স্বীকার না করে। কারণ, বাস্তব ময়দানে জিহাদকালেও ব্যক্তিকে প্রথমে নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে হয়। তখন তার জন্য ঈমানের এমন কিছু দিগন্ত উন্মোচিত হয়, আরাম-আয়েশ আর নিরাপত্তার মাঝে বসে থেকে যা কখনোই তার জন্য উন্মোচিত হতো না। মানুষ ও জীবন সম্পর্কিত এমন কিছু বাস্তবতা তার সামনে ফুটে ওঠে, যা এই পন্থা অবলম্বন ছাড়া কখনই সম্ভব হতো না। তখন তার ব্যক্তিত্ব, অনুভব, অনুভূতি, মূল্যবোধ, কল্পনা, অভ্যাস, স্বভাব, আবেগ, আকর্ষণ ও প্রতিক্রিয়াসবকিছুই এমন এক উচ্চ স্তরে উন্নীত হয়, জ্বালাময় তিক্ত এই অভিজ্ঞতা ছাড়া যা কখনোই হওয়ার ছিল না।

    ঈমানের সারবস্তু পূর্ণরূপে বিকশিত হতে হলে জামাতকে ত্যাগ-তিতিক্ষা, বিপদ-আপদ ও পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয় জামাতের প্রতিটি সদস্যকে ঈমানের হাকীকত বা সারবস্তু সম্পর্কে পূর্ণ উপলব্ধি অর্জন করতে হয় সদস্যকে নিজের লক্ষ্যবস্তুর মর্মকথা পূর্ণরূপে অনুধাবন করতে সক্ষম হতে হয় এবং জামাতকে নিজ কাঠামোর প্রতিটি ইট সম্পর্কে, তাঁদের ধারণ ক্ষমতা ও সংঘর্ষের সময় তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও দৃঢ়তা সম্পর্কে জানতে হয়।


    সপ্তম বৈশিষ্ট্যঃ

    তায়িফা আল মানসূরার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, যে আদর্শকে তাঁরা ধারণ করেছেন, যে আদর্শের প্রতি তাঁরা ঈমান এনেছেন, সত্য সঠিক সেই মতাদর্শের জন্য তাঁরা সব রকম বিপদ-আপদ সহ্য করেন। বিরোধীদের টিটকারি ও অধিকাংশের বিরোধিতা সত্ত্বেও তাঁরা আদর্শের ওপর টিকে থাকেন। এই পথে তাঁরা সব রকম ত্যাগ স্বীকার করেন। এর জন্য তাঁরা সর্বস্ব বিলিয়ে দেন, এমনকি জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দেন। আর তাঁর কারণ হলো, উক্ত আদর্শকে তাঁরা এমন কোনো পণ্য হিসেবে গ্রহণ করেননি, চাইলেই যা বেচাকেনা করা যায়। বরং এ তো হলো এমন পোক্ত ঈমান, সিরাতুল মুস্তাকীমের ওপর চলতে যা তাঁদেরকে নির্ভুল নির্দেশনা দান করে।

    আমাদের নেতা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ -এর আহ্বানে ঈমানের পয়গাম গ্রহণকারীদের সম্পর্কে আবু সুফিয়ানকে সম্রাট হেরাক্লিয়াস বিভিন্ন প্রশ্ন করছিল তার একটি প্রশ্ন ছিল- ‘ইসলাম গ্রহণের পর এর প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে কেউ কি কখনো তা ত্যাগ করেছে’? আবু সুফিয়ান উত্তর দিয়েছিলেন,না আসলে এমনটাই হয়। ঈমানের সতেজতা অন্তরকে স্পর্শ করলে কেউই এর প্রতি ত্যক্ত-বিরক্ত হতে পারে না।

    শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, হাদীস ও সুন্নাহর অনুসারী উলামায়ে কেরাম এবং পুণ্যবান সাধারণ লোকদের মধ্য থেকে কারো ব্যাপারে এমনটা জানা যায় না যে, তিনি নিজ বক্তব্য ও আক্বীদা-বিশ্বাস থেকে ফিরে এসেছেন। বরং আদর্শের জন্য মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি কষ্ট স্বীকার করেন তাঁরাই। যত রকম পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হোক না কেন এবং যতপ্রকার বিপদ-আপদের মুখোমুখি হতে হোক না কেন, তাঁরা নিজেদের বক্তব্য থেকে একচুলও সরে আসেন না। নবীগণ এবং পূর্ববর্তীদের মধ্যে নবীদের অনুসারীদের অবস্থা এমনই ছিল। যেমন আহলে উখদুদ এবং এদের মত আরও যারা রয়েছেন এমনিভাবে এই উম্মাহর সালফে সালেহীন যাদের প্রথম সারিতে রয়েছেন সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন ও অন্যান্য ইমামগণ। এটি এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে, ইমাম মালেক রহিমাহুল্লাহ এমনও বলতেন, ‘এই দ্বীনের জন্য কষ্ট সহ্য করেনি এমন কারো প্রতি তোমরা ঈর্ষা করো না’ তিনি আরো বলতেন, ‘আল্লাহ অবশ্যই মু’মিনকে পরীক্ষা করবেন। যদি সে ধৈর্য ধারণ করে তবে তিনি তাঁর মর্যাদা উন্নীত করবেন’ আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন-

    الم ﴿١﴾ أَحَسِبَ النَّاسُ أَن يُتْرَكُوا أَن يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ ﴿العنكبوت: ٢﴾ وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ ﴿العنكبوت: ٣﴾

    ‘আলিফ-লাম-মীম। মানুষ কি মনে করে যে, তারা একথা বলেই অব্যাহতি পেয়ে যাবে যে, আমরা বিশ্বাস করি এবং তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে না? আমি তাদেরকেও পরীক্ষা করেছি, যারা তাদের পূর্বে ছিল। আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন কারা সত্যবাদী এবং নিশ্চয়ই জেনে নেবেন কারা মিথ্যাবাদী’[2]


    আশা করি প্রতিটি মুসলিমের কাছে প্রতিভাত হয়ে উঠেছে যে, আল্লাহর হুকুম বাস্তবায়নকারী এবং নবীজি -এর আদর্শ অনুসরণকারী বিজয়ী দলটির একটি নিদর্শন হলো, বিপদ-আপদ, অপরিচিতি ও দেশান্তর, ত্যাগ স্বীকার ইত্যাদি

    সত্যপন্থী তায়িফা আল মানসূরার প্রধান নিদর্শনগুলো আমরা জানতে পারলাম এখন আমাদেরকে জানতে হবে, বর্তমানে ইসলামী অঙ্গনে তৎপর কোন জামাতের মাঝে উক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো পাওয়া যাচ্ছে?

    কাফেরদের জুলুম, আগ্রাসন মুসলিমদের কোনো একটি ঘরকেও অবশিষ্ট রাখেনি এগুলো নিয়ে চিন্তা করলে যে কারো কাছে খুব সহজেই ধরা পড়বে, তাতারীদের আগ্রাসন কালের মুসলিমদের অবস্থার সঙ্গে আমাদের বর্তমান অবস্থার খুব বেশী তফাৎ নেই। এসব ফিতনা-ফ্যাসাদের সময় মানুষের শ্রেণীবিভাগ, যা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ বিশ্লেষণ করেছেনতাও যেন ওই যুগের সঙ্গে হুবহু মিলে যাচ্ছে। শাইখুল ইসলাম ফিতনার জামানায় সকল মানুষকে কয়েকটি শ্রেণীতে বিভক্ত করে বলেন,

    এজাতীয় বিপর্যয়ের সময় মানুষ কয়েক ভাগে ভাগ হয়ে যায়। এক ভাগ হলো: তায়িফা আল মানসূরাতাঁরা হলেন ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে জিহাদের ঝাণ্ডা উত্তোলনকারী মুজাহিদিন। দ্বিতীয় শ্রেণীটি হলো: খোদ গোলযোগ সৃষ্টিকারী এবং নামধারী মুসলিমদের সহযোগী। তৃতীয় ভাগ হলো: হাত গুটিয়ে বসে থাকা এবং জিহাদ পরিত্যাগকারী মানুষ যদিও তারা সত্যিকার অর্থে মুসলিম

    এখন প্রত্যেকের ভেবে দেখা উচিত, সে ঐশী সাহায্যপ্রাপ্ত মুজাহিদের দলে থাকতে চায়, নাকি জিহাদ পরিত্যাগকারীদের দলে নাকি সরাসরি বিরোধিতাকারীদের দলে? এর বাইরে চতুর্থ কোনো দল বা ভাগ নেই

    জিহাদের মাঝে ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ নিহিত রয়েছে। পক্ষান্তরে, তা পরিত্যাগের পরিণতি হচ্ছে উভয় জগতের ক্ষতিআল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন-

    قُلْ هَلْ تَرَبَّصُونَ بِنَا إِلَّا إِحْدَى الْحُسْنَيَيْنِ ﴿التوبة: ٥٢﴾

    ‘আপনি বলে দিন, তোমরা আমাদের ব্যাপারে দুই কল্যাণের কোন এক কল্যাণ ছাড়া অন্য আর কিসেরই বা অপেক্ষা করতে পারো’?[3]

    আল্লাহ তা’আলা বোঝাচ্ছেন, হয় সাহায্য ও বিজয় নয়ত শাহাদাত ও জান্নাত। মুজাহিদদের মাঝে যারা বেঁচে থাকবেন, তাঁরা হবেন সম্মানিত গাজী। তাঁদের জন্য একদিকে থাকবে দুনিয়ার প্রতিদান, অন্যদিকে থাকবে আখিরাতের উত্তম বিনিময়। আর তাঁদের মাঝে যারা নিহত হবেন, তাঁদের যাত্রা হবে জান্নাতের দিকে।

    আমাদের বর্তমান অবস্থা উপরোক্ত বিপর্যয়কালীন মুসলিমদের অবস্থা থেকে খুব একটা আলাদা নয়। বরং অকল্যাণের দিক থেকে আমরা তাদের সময়ের চাইতে বহুগুণে এগিয়ে। আল্লাহ তা’আলা যাদেরকে জ্ঞান দান করেছেন তাঁদের কাছে এ বিষয়টা স্পষ্ট। আর ঠিকই এই ফিতনায় মুসলিমরা তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে:

    এক ভাগ আল্লাহর নির্দেশনা মোতাবেক কাফেরদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এ ক্ষেত্রে তাঁরা কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কারে কর্ণপাত করছেন না। লড়াই পরিত্যাগে আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দিচ্ছেন না। কোনো গুজব প্রচারকারীর গুজবে কান দিচ্ছেন না। বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী কোনো মহলের কথায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন না। তাঁরাই হচ্ছেন আল্লার রাস্তার মুজাহিদএই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত তাঁরাও যারা সাধ্যমত তাঁদের সাহায্য সহযোগিতা করছেন।

    আরেক পক্ষ হচ্ছে, যাদের শিরায় রক্ত শুকিয়ে গেছে। ক্রুসেডার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশের উক্তি— 'হয় আমাদের পক্ষে না হয় সন্ত্রাসের পক্ষে' তাদের অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে দিয়েছে। ডব্লিউ বুশের কথার অর্থ হচ্ছে, হয় ক্রুসেডারদের পক্ষে না হয় ইসলাম ও তার প্রতিরক্ষা শক্তি মুজাহিদদের পক্ষে। এই শ্রেণীটি ক্রুসেডার ও তাদের আমলাদের তোষামোদ আর চাটুকারিতায় লিপ্ত হয়ে পড়েছে। এরা হলো স্থানীয় মুরতাদ শাসকবর্গ। এদের মাঝে অনেকে তো আবার একেবারে কাফেরদের গুপ্তচর ও মুখপাত্রে পরিণত হয়ে গেছে। কাফেররা নিজেদের জন্য যতটা না কাজ করছে, এরা তার চাইতেও বেশি কাফেরদেরকে সাহায্য করছে!

    আরেকটি শ্রেণী হলো: যারা এদিকেও নেই ওদিকেও নেই। জীবিকা উপার্জনের পেরেশানি আর ঝক্কি-ঝামেলায় তারা আটকা পড়ে আছে। দুনিয়াজুড়ে কি হচ্ছে, মুসলিমদের অবস্থা কোন দিকে গড়াচ্ছে, দ্বীন-দুনিয়া নিয়ে কি সব ষড়যন্ত্র হচ্ছেকোনটা নিয়েই তাদের মাথা ব্যথা নেই।

    বর্তমান সময়ে আল্লাহর রাস্তায় লড়াইরত ইসলামের প্রতিরক্ষা শক্তিটিই তাইফা আল মানসূরাতাতারীদের আগ্রাসনের সময় মুসলিমদের অবস্থার বিবরণে শাইখুল ইসলামের উপরোক্ত বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে আলোচ্য প্রকারভেদ সামনে রেখে বিচার করলে আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে উঠে। কাজেই, তাঁদের জনবল বৃদ্ধি করা, তাঁদের কাতারে শামিল হওয়া, জান ও মালের বিনিময়ে তাঁদেরকে সাহায্য করা, অন্ততপক্ষে তাঁদের জন্য দু‘আ করা প্রতিটি মুসলিমের ওপর ওয়াজিব।

    শাইখুল ইসলাম রহিমাহুল্লাহ তাঁর যুগের তাইফা আল মানসূরার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, আর সিরিয়া, মিশর ও এজাতীয় অন্যান্য অঞ্চলে বর্তমান সময়ে দ্বীন ইসলামের পক্ষ হয়ে লড়াইরত দলটি রাসূলুল্লাহ কর্তৃক হাদীসে বর্ণিত তাইফা আল মানসূরার অন্তর্ভুক্ত হবার সবচেয়ে বেশি হকদার। নবীজি থেকে সুপ্রসিদ্ধ ও বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হাদীসে এ দলের কথা এসেছে। যেমন: নিরবচ্ছিন্নভাবে আমার উম্মতের একটি দল সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে। যারা তাঁদের বিরোধিতা করবে এবং তাঁদেরকে ফিরে আসতে বলবে, তারা কেয়ামত পর্যন্ত এই দলের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।



    [1] সূরা আল- বাকারা; ২: ২১৪

    [2] সূরা আল-আনকাবুত; ২৯: ১-৩
    [3] সূরা আত-তাওবাহ; ৯: ৫২





    আরও পড়ুন​


    ঊনবিংশ পর্ব
Working...
X