আল হিকমাহ মিডিয়া পরিবেশিত
ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১
বিজয়ের সোপান
।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি ।।
[আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ– ।।
–।।থেকে- পঞ্চবিংশ পর্ব
আমীরকে শ্রদ্ধা করা
খিলাফতে রাশেদার পুনরুদ্ধারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মুসলিম ভাই; যিনি ইসলামী সমাজ বিনির্মাণে তৎপর মুসলিম জামাতের একজন সাধারণ সদস্য হতে ইচ্ছুক, তাঁর জন্য এ বিষয়টি জানা আবশ্যক। আমীরকে সম্মান করা, তাঁকে শ্রদ্ধা করা, তাঁকে সমীহ করা এবং তাঁর জন্য কল্যাণের দু‘আ করা একটি প্রশংসনীয় বিষয়। একাধিক হাদীসে এ বিষয়ে অনুপ্রেরণা ও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ইমাম মুসলিম, সহীহ মুসলিম গ্রন্থে আউফ ইবনে মালেক থেকে বর্ণনা করেন-
عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ، قَـــــــــالَ: قَتَلَ رَجُلٌ مِنْ حِمْيَرَ رَجُلًا مِنَ الْعَدُوِّ، فَأَرَادَ سَلَبَهُ، فَمَنَعَهُ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ، وَكَانَ وَالِيًا عَلَيْهِمْ، فَأَتَى رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَوْفُ بْنُ مَالِكٍ، فَأَخْبَرَهُ، فَقَالَ لِخَالِدٍ: «مَا مَنَعَكَ أَنْ تُعْطِيَهُ سَلَبَهُ؟» قَالَ: اسْتَكْثَرْتُهُ يَا رَسُولَ اللهِ، قَالَ: «ادْفَعْهُ إِلَيْهِ»، فَمَرَّ خَالِدٌ بِعَوْفٍ، فَجَرَّ بِرِدَائِهِ، ثُمَّ قَالَ: هَلْ أَنْجَزْتُ لَكَ مَا ذَكَرْتُ لَكَ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَسَمِعَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاسْتُغْضِبَ، فَقَالَ: «لَا تُعْطِهِ يَا خَالِدُ، لَا تُعْطِهِ يَا خَالِدُ، هَلْ أَنْتُمْ تَارِكُونَ لِي أُمَرَائِي؟ إِنَّمَا مَثَلُكُمْ وَمَثَلُهُمْ كَمَثَلِ رَجُلٍ اسْتُرْعِيَ إِبِلًا، أَوْ غَنَمًا، فَرَعَاهَا، ثُمَّ تَحَيَّنَ سَقْيَهَا، فَأَوْرَدَهَا حَوْضًا، فَشَرَعَتْ فِيهِ فَشَرِبَتْ صَفْوَهُ، وَتَرَكَتْ كَدْرَهُ، فَصَفْوُهُ لَكُمْ، وَكَدْرُهُ عَلَيْهِمْ»
»
“হিমইয়ার গোত্রের এক লোক শত্রুদলের একজনকে হত্যা করল। তখন লোকটি নিহত ব্যক্তির সালব[1] চাইল। তখন সেনাপতি খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তার আবেদন খারিজ করে দিলেন। তখন আউফ ইবনে মালিক রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এসে ব্যাপারটি তাঁকে অবহিত করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ খালিদকে বললেন, ‘কী কারণে তুমি তাকে তার প্রাপ্য সালব দিচ্ছ না’? খালিদ জবাব দিলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমার মনে হল তা বেশি হয়ে যাচ্ছে’। তখন নবীজী বললেন, ‘তাকে ওসব দিয়ে দাও’। তখন খালিদ, আউফের পাশ দিয়ে অতিক্রম কালে আউফ তাঁর চাদর টেনে ধরে বললেন, ‘রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যে ফয়সালা আমি তোমাকে জানিয়েছি, তা সঠিক হলো তো’? রাসূলুল্লাহ ﷺ একথা শুনে রেগে গিয়ে বললেন, ‘হে খালিদ তাকে তা দিও না… হে খালিদ! তাকে তা দিও না! তোমরা কি আমার আমীরদেরকে অবহেলা করছ? তোমাদের আর তাদের উদাহরণ তো ঐ লোকের মত যাকে উট অথবা বকরির দায়িত্ব দেয়া হলো আর সে সেগুলোকে মাঠে চড়াল। অতঃপর যখন পশুগুলোকে পানি পান করানোর সময় এল তখন লোকটি তাদেরকে একটি হাউজের কাছে নিয়ে গেল। তখন পশুগুলো হাউজের স্বচ্ছ পানি পান করল আর অপরিষ্কার পানি রেখে দিল। অতএব, সেই স্বচ্ছ পানি তোমাদের (মা’মুর) জন্য আর ময়লাযুক্ত পানি তাদের (আমীর) জন্য।” [2]উক্ত হাদীস দ্বারা স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর আমীরদেরকে কতটা সম্মান করতেন! তাঁর আমীরগণ লাঞ্ছিত হবেন, অপদস্থ হবেন, এটা কিছুতেই তিনি মেনে নিতে পারতেন না।
পাঠক চিন্তা করে দেখুন! রাসূলুল্লাহ ﷺ কোন পন্থায় খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর সম্মান রক্ষা করলেন! আর তা হচ্ছে এজন্যই যে, আমীরকে সম্মান করার মাঝে রয়েছে বিরাট কল্যাণ। ইমাম নববী উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় এমনটাই বলেছেন।
আল্লাহ ইমাম নববীর ওপর অনুগ্রহের বারিধারা বর্ষণ করুন। তিনি উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় আরো বলেন, “প্রজাদের ভাগ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও সহজ বিষয়গুলো জুটে থাকে। কোনো প্রকার কদর্যতার সংমিশ্রণ ছাড়াই তারা নিজেদের প্রাপ্যগুলো লাভ করে থাকে। আর কঠিন বিষয়গুলোর ভার বইতে হয় শাসকদেরকে। সঠিক নিয়মে সম্পদ সঞ্চয় করা, সঠিক নিয়মে সম্পদ ব্যয় করা, প্রজাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাদের জন্য স্নেহ অনুভব করা, তাদের পক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তোলা, তাদের মাঝে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা—এই সবই শাসকদের দায়িত্ব। অতঃপর কখনো যদি কোনো ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়, কাউকে যদি তিরস্কার ভর্ৎসনা শুনতে হয়, সেটা শাসকদেরই শুনতে হয়, প্রজাদের নয়’।
‘আওনুল মাবুদ’ গ্রন্থের প্রণেতা শামসুল হক আবাদি উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন, “তোমাদের জন্য আমি যাদেরকে আমীর নির্ধারণ করেছি—যাদের মাঝে রয়েছে খালিদ ইবনে ওয়ালিদ— তাঁদের বিরোধিতা করে এবং তাঁদের অনুসরণ না করে তোমরা তাঁদেরকে কীভাবে পরিত্যাগ করতে পারো? তোমাদের এমন আচরণ আমীরদের শানের উপযোগী নয়।”
ইমাম আহমদসহ অন্যরা মুয়াজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী করীম ﷺ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি ইরশাদ করেন-
«خَمْس مَنْ فَعَلَ وَاحِدَة مِنْهُنَّ كَانَ ضَامِناً عَلَى اللهِ: مَنْ عَادَ مَرِيضاً، أَوْ خَرَجَ مَعَ جَنَازَة، أَوْ خَرَجَ غَازِياً، أَوْ دَخَلَ عَلَى إِمَامه يُرِيدُ تَعْزِيزَهُ وَتَوْقِيرَهُ، أَوْ قَعَدَ فِي بَيْتِهِ فَسَلِمَ النَّاسُ مِنْهُ وَسَلِمَ مِنَ النَّاسِ»
“পাঁচটি এমন কাজ রয়েছে, কোনো ব্যক্তি তারমধ্যে কোনো একটি করলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার কাছে তাঁর প্রতিদান সাব্যস্ত হয়ে যায়। এগুলো হচ্ছে (১) যে ব্যক্তি কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গেল; (২) যে ব্যক্তি জানাযার সঙ্গে বের হলো; (৩) যে ব্যক্তি যুদ্ধের জন্য বের হলো; (৪) যে ব্যক্তি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানোর জন্য কোনো ইমাম বা রাষ্ট্রনায়কের কাছে গেল এবং (৫) যে ব্যক্তি নিজ ঘরে বসে থাকল, আর এতে করে মানুষজন তার থেকে নিরাপদে থাকল আর সেও মানুষজন থেকে নিরাপদে থাকল”। [3]
নবীজি ﷺ আরো ইরশাদ করেন-
(السُّلْطَانُ ظِلُّ اللهِ فِي الأَرْضِ، فَمَنْ أَكْرَمَهُ أَكْرَمَهُ اللهُ، وَمَنْ أَهَانَهُ أَهَانَهُ اللهُ) (رواه الطبراني والبيهقي)
“সুলতান হচ্ছে ভূপৃষ্ঠে আল্লাহর ছায়া। যে ব্যক্তি সুলতানকে সম্মান করল সে যেন আল্লাহ কে সম্মান করল। আর যে ব্যক্তি সুলতানকে অপমান করল সে যেন আল্লাহকে অপমান করল”।[4]
আবু বাকরা থেকে বর্ণিত একটি হাদীস যেটাকে আলবানী হাসান বলেছেন, তাতে নবীজি ﷺ ইরশাদ করেন-
مَنْ أَكْرَمَ سُلْطَانَ اللَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى فِي الدُّنْيَا أَكْرَمَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ أَهَانَ سُلْطَانَ اللَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى فِي الدُّنْيَا أَهَانَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
“যে ব্যক্তি দুনিয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার সুলতানকে সম্মান করবে, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাঁকে সম্মানিত করবেন। আর যে ব্যক্তি দুনিয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার সুলতানকে অপমান করবে, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাকে অপমানিত করবেন”।[5]
তিরমিজির একটি বর্ণনায় এভাবে আছে-
من أهان سلطان الله في الأرض أهانه الله قال أبو عيسى هذا حديث غريب
‘যে ব্যক্তি ভূপৃষ্ঠ আল্লাহর সুলতানকে অপমান করবে, আল্লাহ তাকে অপমানিত করবেন। ইমাম তিরমিজি এই হাদীসের ব্যাপারে বলেন, এটি হাদীসে হাসান গারীব’।[6]
নবীজি ﷺ আরো ইরশাদ করেন-
«إنَّ مِنْ إجْلالِ اللهِ تَعَالَى : إكْرَامَ ذِي الشَّيْبَةِ المُسْلِمِ ، وَحَامِلِ القُرآنِ غَيْرِ الغَالِي فِيهِ ، وَالجَافِي عَنْهُ ، وَإكْرَامَ ذِي السُّلْطَانِ المُقْسِط»رواه أَبُو داود .
“শুভ্রকেশ বিশিষ্ট মুসলিমকে সম্মান করা, কুরআনের এমন ধারক-বাহককে সম্মান করা যে কুরআনের ক্ষেত্রে সীমালংঘন করেনি; আবার শিথিলতাও করেনি, আর ন্যায়পরায়ণ সুলতানকে সম্মান করা—এগুলো আল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অন্তর্ভুক্ত”।[7]
পবিত্র কুরআনে কারীমে ইরশাদ হচ্ছে-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنكُمْ ﴿النساء: ٥٩﴾
‘তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, আনুগত্য করো (তাঁর) রাসূলের এবং সেসব লোকদের,যারা তোমাদের মাঝে দায়িত্বপ্রাপ্ত’। [8]
ইমাম কুরতুবী রহিমাহুল্লাহ আল্লাহ তা’আলার এই বাণীর তাফসীরে বলেন, “সাহল ইবনে আব্দুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘মানুষ ততদিন কল্যাণের মাঝে থাকবে, যতদিন তারা সুলতানকে এবং উলামায়ে কেরামকে সম্মান করবে। যদি তারা এই দুই শ্রেণীকে সম্মান করে, তবে আল্লাহ তাদের দুনিয়া এবং আখিরাত উভয়টিকে পরিশুদ্ধ করে দেবেন। আর যদি মানুষ এই দুই শ্রেণীকে অবহেলা করে, তবে আল্লাহ তাদের দুনিয়া এবং আখিরাত উভয়টিকে ধ্বংস করে দেবেন।”
ইমাম নববী রহিমাহুল্লাহ বলেন, “প্রবেশকারীকে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করার ব্যাপারে আমাদের পছন্দসই মত হল, যাদের ইলম, বুজুর্গী, আভিজাত্য, অথবা রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা ইত্যাদি প্রকাশ্যভাবে স্বীকৃত, তাঁদের বেলায় এমনটি করা মুস্তাহাব। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হতে হবে শ্রদ্ধা নিবেদন, সম্মান প্রদর্শন ও সৌজন্যমূলক আচরণ। লৌকিকতা কিংবা তাঁর বড়ত্ব প্রকাশ করা উদ্দেশ্য হওয়া যাবে না। পূর্বসূরী উলামায়ে কেরাম এবং পরবর্তীদের আমল এমনই ছিল”।
আমীর এবং সুলতানকে সম্মান করার উপায় হলো: তাঁদের জন্য কল্যাণের দু‘আ করা। তাঁদের সামনে বিশেষ করে জনসমক্ষে তাঁদের অপছন্দনীয় কোনো কাজ না করা। তাঁদের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা না বলা। তাঁদের অগোচরে প্রয়োজনের সময়ে তাঁদের হিতাকাঙ্খী হওয়া। তাঁদের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা মিশ্রিত ভীতি যাতে নষ্ট না হয়ে যায়, সেজন্য প্রকাশ্যে তাঁদেরকে কোনো কিছু করতে বারণ না করা। তবে কখনো যদি অবস্থা ও কল্যাণের দাবি এর ব্যতিক্রম হয়, তখন প্রকাশ্যে কোনোকিছু করতে বারণ করলে কোনো অসুবিধা নেই। এমনিভাবে আল্লাহ তা’আলা তাঁদেরকে যে আমানত দান করেছেন তার বোঝা বহন করতে তাঁদেরকে সাহায্য করা। গুনাহ ছাড়া অন্য সবক্ষেত্রে তাদের আনুগত্য করা। অসতর্কতা ও অসচেতনতার সময়ে তাঁদেরকে সতর্ক করে দেয়া। পদস্খলন বা ত্রুটি দেখতে পেলে তার প্রতিকারের ব্যবস্থা করা। তাঁদের পক্ষে ঐক্য ও সংহতি রক্ষার চেষ্টা করা। তাঁদের প্রতি বীতশ্রদ্ধ এমন মানুষের মনে তাঁদের ব্যাপারে সু-ধারণা সৃষ্টি করে। উত্তম পন্থায় তাঁদেরকে অত্যাচার করা থেকে বাঁচিয়ে রাখা এজাতীয় আরো বিভিন্ন বিষয় যেগুলো পালন করা প্রশংসার দাবি রাখে।
আর উলুল আমরকে অপমান করা এবং তাঁদেরকে খাটো করা বিভিন্ন পন্থায় হয়ে থাকে। যেমন, অন্যদের সামনে তাঁদের নিন্দা করা, তাঁদের দোষ চর্চা করা, তাঁদের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো প্রচার করা। তাঁদের সঙ্গে ঠাট্টা বিদ্রুপ করা, তাঁদের নির্দেশ অমান্য করা, তাঁদের থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয়া। মুসলিমদের যে বিষয়ের দায়িত্ব আল্লাহ তাঁদেরকে দান করেছেন, সে বিষয়ে তাঁদেরকে সাহায্য সহযোগিতা না করা। প্রকাশ্যে তাঁদেরকে কোনোকিছু করতে বারণ করা; এজাতীয় আরো বিভিন্ন বিষয়, যেগুলো সাধারণভাবে অযাচিত ও নিন্দনীয় কাজ।
এ কারণেই আমীরকে শ্রদ্ধা করা, তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা মু’মিনদের জন্য একটি আবশ্যকীয় কাজ। এগুলো সাধারণভাবে সদাচারের অন্তর্ভুক্ত। এ কাজ গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা- এই দ্বীনকে সাহায্য করার আকাঙ্ক্ষা এবং মুজাহিদদের ঐক্য রক্ষার ব্যাপারে আন্তরিকতার পরিচায়ক। দ্বীন প্রতিষ্ঠায় প্রচেষ্টারত প্রত্যেকের জন্য উপরোক্ত বিষয়গুলো লক্ষণীয়। যাতে অসতর্কতাবশত সাধারণ সাথীদের দ্বারা আমীরের অবাধ্যতার দরুন এমন কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হতে না হয়, যার ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা ছাড়া আর কেউই জানে না।
[1] সামরিক সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় পাথেয়।
[2] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ৪৬৬৯
[3] আল-মু‘জামুল কাবীর, হাদীস নং- ৫৫
[4] শু‘আবুল ঈমান লিল বায়হাকী, হাদীস নং-৭৩৭৩
[5] মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং- ২০৪৩৩
[6] সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-২২২৪
[7] সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪৮৪৫
[8] সূরা আন-নিসা; ০৪: ৫৯