Announcement

Collapse
No announcement yet.

শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ কী মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহর ওয়াদা ভঙ্গ করেছিলেন? || পর্ব-২ || মুনশি আব্দুর রহমান

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ কী মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহর ওয়াদা ভঙ্গ করেছিলেন? || পর্ব-২ || মুনশি আব্দুর রহমান

    শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ কী মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহর ওয়াদা ভঙ্গ করেছিলেন?

    [পাকিস্তানি আলেম মুফতি আব্দুর রহিম সাহেবের উত্থাপিত মনগড়া দাবির দালিলিক জবাব]


    পর্ব-২


    মুনশি আব্দুর রহমান




    পয়েন্ট-১: ‘৬ সদস্যের আলেম কমিটির ফতোয়া ও চুক্তি’র বানোয়াট আখ্যান


    মুফতি আব্দুর রহিম ‘৬ সদস্যের আলেম কমিটির ফতোয়া ও চুক্তি’ সংক্রান্ত যে দাবিটি করেছেন, তা আগাগোড়া ভিত্তিহীন।


    মুফতি আব্দুর রহিমের হুবহু দাবি (ভিডিও-সাক্ষাৎকার অনুসারে):

    তিনি দাবি করেছেন, বহির্বিশ্বে হামলা পরিচালনাকে কেন্দ্র করে মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহ এবং শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহর মাঝে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিরসনে তিনি নিজেই একটি মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন। তাঁর ভাষায়:

    “মোল্লা উমর সাহেব তিনজন আলেমের নাম দিলেন... আর শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহও নিজ তরফ থেকে তিনজনকে নির্বাচন করলেন... আমরা সেই ৬ জন একত্রিত হলাম। এরপর টানা এক সপ্তাহ ধরে আমাদের মাঝে আলোচনা চলল। সেখানে হানাফী, শাফেয়ী, হাম্বলী, মালেকী ও সালাফী—এই পাঁচ ফিকহের আলোকেই বিস্তারিত পর্যালোচনা হয়। সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্তই প্রমাণিত হয় যে, জিহাদের উদ্দেশ্যে যেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা বা প্রশাসন কায়েম আছে, সেখানে নিজস্ব বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো জিহাদি সংগঠন তৈরি করে অন্য দেশে হামলা চালানোর বিন্দুমাত্র অনুমতি ইসলামি শরীয়তে নেই।”

    চুক্তিতে স্বাক্ষরের বিষয়ে তিনি বলেছেন:

    “রীতিমতো এই কথাগুলো লিখিত রূপ পেল এবং চুক্তিনামায় সবার স্বাক্ষর নেওয়া হলো। সেখানে উসামা বিন লাদেনের স্বাক্ষর ছিল, মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহর স্বাক্ষর ছিল, এমনকি আমাদের সবারই স্বাক্ষর ছিল।”

    বর্তমান প্রেক্ষাপট টেনে তিনি আরও বলেছেন:

    “বর্তমানে যারা সেখান থেকে মাটি ব্যবহার করছে বা প্রক্সি হয়ে লড়ছে, তারা সম্পূর্ণ শরীয়তবিরোধী কাজ করছে। কারণ, এই ফতোয়া খোদ তালেবানের আমির আলেমদের মাধ্যমে তৈরি করিয়েছেন। সবার স্বাক্ষরসংবলিত সেই সুবিশাল লিখিত দলিলটি আফগানিস্তানের কোথাও না কোথাও আজও সংরক্ষিত আছে।”


    ঐতিহাসিক নিরিখে এই মিথ্যাচারের বিস্তারিত জবাব:

    মুফতি আব্দুর রহিমের বয়ান করা এই গল্পটি একটি নিখুঁত রাজনৈতিক মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়। বর্তমান পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিরোধ যুদ্ধকে অবৈধ সাব্যস্ত করাই এর মূল উদ্দেশ্য । নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক নথিপত্র ঘাঁটলেই এই কল্পকাহিনির পেছনের নগ্ন সত্যটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে ওঠে:

    ১. ইতিহাসে ৬ সদস্যবিশিষ্ট এমন কোনো ফিকহী মজলিস, ইজমা বা ফতোয়া চুক্তির আদৌ কোনো অস্তিত্ব নেই। প্রকৃত ঘটনা হলো, তৎকালীন সময়ে ইসলামি ইমারাত আফগানিস্তানের ওপর আমেরিকা ও ইউরোপের প্রবল চাপ এবং আন্তর্জাতিক অবরোধ চেপে বসেছিল। সেই কঠিন পরিস্থিতিতে মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহ মুজাহিদদের একটি বিশেষ নির্দেশ প্রদান করেন। নির্দেশটি ছিল—সংকট পুরোপুরি কেটে না যাওয়া পর্যন্ত মুজাহিদরা যেন বহির্বিশ্বে আমেরিকানদের ওপর হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন এবং এর বদলে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধফ্রন্টে পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করেন। এটি ছিল নিখাদ রাজনৈতিক ও কৌশলগত একটি সামরিক নির্দেশ। এটিকে কোনোভাবেই “রাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া জিহাদ অবৈধ” মর্মে দেওয়া কোনো ফিকহী ইজমা বা ফতোয়া বলার সুযোগ নেই।

    ২. ফতোয়া দিয়ে সব ধরনের হামলা চিরতরে নিষিদ্ধ করা হয়েছে—এমন দাবি যে চরম মিথ্যা, তা স্বয়ং মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহর একটি সুস্পষ্ট বক্তব্য থেকেই প্রমাণিত হয়। ফিলিস্তিনের গাজায় মুসলমানদের ওপর ভয়াবহ রক্তপাত ও হত্যাযজ্ঞ শুরু হলে মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহ নিজেই ইহুদি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালানোর জন্য মুজাহিদদের সুস্পষ্ট অনুমতি প্রদান করেছিলেন । একটি বিশেষ বৈঠকে ইহুদিদের বর্বরতায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহ শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহকে সরাসরি বলেছিলেন, “হে উসামা, আমি তোমাকে অনুমতি দিচ্ছি। তুমি চাইলে ইহুদিদের যেকোনো জায়গায় আঘাত হানতে পারো।”

    ৩. মুফতি আব্দুর রহিম দাবি করেছেন, মুজাহিদরা চুক্তি লঙ্ঘন ও অবাধ্য হয়ে নাইন-ইলেভেনের হামলা চালিয়েছিল। অথচ ইতিহাস বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহ যখন সাময়িকভাবে আমেরিকার ওপর হামলা স্থগিত করার সামরিক নির্দেশটি দেন, ঠিক সেই মুহূর্তে নাইন-ইলেভেন হামলার প্রস্তুতি ছিল প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। এমনকি হামলাকারীরা ততদিনে আমেরিকার ভেতরে নিজেদের অবস্থানও নিশ্চিত করে ফেলেছিল। তা সত্ত্বেও মুজাহিদরা মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহর আনুগত্য ও নির্দেশনার প্রতি ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ও দায়বদ্ধ।

    পরবর্তীতে মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহ যখন ইহুদিদের ওপর পুনরায় হামলার অনুমতি দেন, তখন আল-কায়েদার শুরা কাউন্সিলে একটি জরুরি আলোচনা হয়। সেখানে ভাবা হচ্ছিল, আমেরিকার ভেতরে চলমান পরিকল্পনার সাথে মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহর নতুন এই নির্দেশনার কীভাবে সমন্বয় ঘটানো যায়। কেননা, শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহর কাছে আমেরিকা ও ইহুদিরা ছিল একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। কিন্তু আমেরিকার অভ্যন্তরে অবস্থানরত প্রধান রূপকার মুহাম্মাদ আতা তখন জানিয়ে দেন যে, অভিযানের ওই পর্যায়ে এসে লক্ষ্যবস্তু পরিবর্তন করা একেবারে অসম্ভব। অগত্যা পরিস্থিতি ও বাস্তবতার সূক্ষ্ম বিবেচনা টানতে গিয়ে মুজাহিদরা নিজেদের মূল পরিকল্পনাতেই অটল থাকেন। এটি কোনোভাবেই আমিরের অবাধ্যতা বা ফতোয়া লঙ্ঘন ছিল না; বরং তা ছিল পরিবর্তিত ও জটিল এক পরিস্থিতিতে মুজাহিদদের কৌশলগত অপারেশনের নিখুঁত ও সফল বাস্তবায়ন।

    সারকথা হল- পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বর্তমানে যেসব গোষ্ঠী যুদ্ধরত, তাদেরকে ‘ফতোয়া অমান্যকারী’ হিসেবে পেশ করাই মুফতি আব্দুর রহিমের মূল উদ্দেশ্য। এই হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যই তিনি অত্যন্ত সুকৌশলে মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহর একটি ‘সাময়িক স্থগিতাদেশ’ ও ‘কৌশলগত সামরিক নির্দেশ’কে ‘স্থায়ী ফিকহী ইজমা’ বা ‘ফতোয়া’ রূপ দিয়েছেন। নিজের মনগড়া ফতোয়াকে বিশ্বাসযোগ্য করতে তিনি এর সাথে শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ ও মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহর স্বাক্ষরের এক কল্পিত গল্প জুড়ে দিয়ে সম্পূর্ণ ইতিহাসকে নির্লজ্জভাবে বিকৃত করেছেন।

    *****


    চলবে ইনশা আল্লাহ...

    “ধৈর্যশীল, সতর্ক ব্যক্তিরাই লড়াইয়ের জন্য উপযুক্ত।”
    -শাইখ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ

  • #2
    হে আল্লাহ! তুমি চক্রান্তকারীদের চক্রান্ত বুঝার ও এর থেকে বাচার তৌফিক দাও।
    হে আল্লাহ! তুমি চক্রান্তকারীদের চক্রান্ত থেকে আমাদের তাওহীদ, ঈমান ও আমলের হিফাজত কর। আমীন।

    Comment

    Working...
    X