Announcement

Collapse
No announcement yet.

শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ কী মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহর ওয়াদা ভঙ্গ করেছিলেন? || পর্ব-৩ || মুনশি আব্দুর রহমান

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ কী মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহর ওয়াদা ভঙ্গ করেছিলেন? || পর্ব-৩ || মুনশি আব্দুর রহমান


    শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ কী মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহর ওয়াদা ভঙ্গ করেছিলেন?


    [পাকিস্তানি আলেম মুফতি আব্দুর রহিম সাহেবের উত্থাপিত মনগড়া দাবির দালিলিক জবাব]


    পর্ব-৩


    মুনশি আব্দুর রহমান




    পয়েন্ট-২: বিদেশি সংগঠন বিলুপ্ত ও কাবুলে আটকে রাখার কল্পকাহিনি


    বিদেশি সংগঠনগুলো বিলুপ্ত করে মুজাহিদদের কাবুলে আটকে রাখা হয়েছিল মর্মে মুফতি আব্দুর রহিমের দাবিটিও ঐতিহাসিকভাবে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

    মুফতি আব্দুর রহিমের হুবহু দাবি (ভিডিও-সাক্ষাৎকার অনুসারে):


    ভিডিও-সাক্ষাৎকারে তিনি বিদেশি মুজাহিদদের কাবুলে বন্দি করে রাখার এক অদ্ভুত কল্পকাহিনি ফেঁদেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে:

    “দুই মাস পর তাঁরা একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন। মাওলানা উমর সাহেব রহিমাহুল্লাহ নির্দেশ দিয়ে সমস্ত তানজিম বা সংগঠন ভেঙে দিলেন। তিনি সব সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের তলব করে বললেন, ‘আজ থেকে আপনাদের নিজেদের নামে কোনো সংগঠন পরিচালনার অনুমতি নেই। এমনকি বহির্বিশ্বে কোথাও হামলা চালানোরও কোনো অধিকার আপনাদের নেই।’ এরপর তিনি তাদের সবার ওপর মোল্লা জুমা খান নামের একজনকে আমির হিসেবে নিযুক্ত করলেন। নতুন আরেক সংকট দেখা দিল—এই যোদ্ধারা তো পুরো আফগানিস্তান জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন। তাই সিদ্ধান্ত হলো, এদের সবাইকে কাবুলের দারুল আমানে এনে জড়ো করা হবে। কাবুলের দক্ষিণাংশে অবস্থিত দারুল আমান নামের ওই সুবিশাল এলাকাটি তখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। রীতিমতো কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে পুরো আফগানিস্তানে ছড়িয়ে থাকা সমস্ত সংগঠনের লোকদের এনে সেখানে একত্রিত করা হলো।”


    ঐতিহাসিক নিরিখে এই মিথ্যাচারের বিস্তারিত জবাব:


    বিদেশি মুজাহিদদের ‘রাষ্ট্রীয় বন্দি’ বা ‘নিয়ন্ত্রিত শক্তি’ হিসেবে চিত্রিত করার যে গল্প মুফতি আব্দুর রহিম তৈরি করেছেন, তা মূলত নিজের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ানকে পোক্ত করার একটি কূটকৌশল মাত্র।

    ১. ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বিদেশি মুজাহিদদের সংগঠনগুলো কখনোই বিলুপ্ত করা হয়নি। আফগান যোদ্ধাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করলেও বিদেশি মুজাহিদদের নিজস্ব সাংগঠনিক কাঠামো ছিল সম্পূর্ণ স্বাধীন ও অক্ষুণ্ণ। ঐতিহাসিক বর্ণনায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, কাবুলের রণাঙ্গনে “আরব ভাইদের কেন্দ্রগুলো আফগান ভাইদের অবস্থান থেকে ছিল সম্পূর্ণ স্বাধীন ও আলাদা।” মুজাহিদদের প্রতিটি দলেরই নিজস্ব আমির বা নেতা ছিলেন, যাঁরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজেদের দল পরিচালনা করতেন। উদাহরণস্বরূপ—আবু হানি আল-মাসরির গ্রুপ, হাবিব আল-ইয়েমেনির গ্রুপ এবং আবু হাশেম আল-মক্কির গ্রুপের কথা উল্লেখ করা যায়।

    ২. বিদেশি মুজাহিদদের কাবুলের দারুল আমানে আটকে রাখা বা বন্দি করার দাবিটি ডাহা মিথ্যা। বাস্তবে মুজাহিদরা আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজেদের শক্তিশালী সামরিক প্রশিক্ষণ শিবিরগুলো পরিচালনা করতেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রে এর প্রমাণ হিসেবে পাক্তিয়া প্রদেশের খোস্তে অবস্থিত ‘জিহাদ ওয়াল’ ক্যাম্প এবং লোগার প্রদেশের ‘আইনাক’ ক্যাম্পের কথা উল্লেখ রয়েছে। এই শিবিরগুলোতে আরবদের নিজস্ব স্বাধীন, সুদক্ষ প্রশিক্ষক এবং কমান্ডার নিযুক্ত ছিলেন। সুতরাং, কাবুলে তাঁদের বন্দিজীবন কাটানোর দাবিটি একেবারেই অবাস্তব।

    ৩. মুফতি আব্দুর রহিম দাবি করেছেন, সমস্ত বিদেশি সংগঠন ভেঙে দিয়ে সবাইকে মোল্লা জুমা খানের অধীনস্থ করা হয়েছিল। অথচ নথিপত্র বলছে, মুজাহিদরা কাবুলে বন্দি হয়ে থাকার বদলে খোস্ত, কাবুল ও কান্দাহারের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিলেন। শুধু তা-ই নয়, তাঁরা পরিচালিত হতেন সম্পূর্ণ নিজস্ব আরব ও বিদেশি কমান্ডারদের অধীনেই। যেমন—খোস্তে শায়খ আবুল খায়ের আল-মাসরি ও আবু মুসআব আস-সুরি, কাবুলে আব্দুল হাদি আল-ইরাকি এবং কান্দাহারে আবুল হাসান আল-সাঈদি স্ব স্ব বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। এখানে সবাইকে মোল্লা জুমা খানের অধীনস্থ করার দাবির বিন্দুমাত্র কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই।

    ৪. মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহ বিদেশি মুজাহিদদের কখনো বন্দি করে রাখেননি; বরং আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বহির্বিশ্বে হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে, তাদেরকে নর্দান অ্যালায়েন্সের (উত্তরাঞ্চলীয় জোট) বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ে অংশগ্রহণের নির্দেশ ও অনুমতি প্রদান করেছিলেন। মুজাহিদরা কান্দাহার থেকে কাবুলের প্রথম সারির রণাঙ্গনে ছুটে গিয়েছিলেন এবং নিজস্ব স্বাধীন অবস্থান বজায় রেখেই তালেবানের সাথে একীভূত হয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছিলেন।

    সারকথা হল- নিজের মনগড়া ফতোয়াকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে মুফতি আব্দুর রহিম দাবি করেছেন, মুজাহিদরা এতটাই অবাধ্য ছিলেন যে, বাধ্য হয়ে তাঁদের সংগঠন ভেঙে দিয়ে কাবুলে বন্দি করে রাখতে হয়েছিল। অথচ প্রকৃত ইতিহাস দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণ করে যে, আল-কায়েদাসহ অন্যান্য বিদেশি যোদ্ধারা আফগানিস্তানে অত্যন্ত স্বাধীন ও সম্মানিত ছিলেন এবং নিজস্ব সাংগঠনিক কাঠামোতেই তাঁরা পূর্ণরূপে সক্রিয় ছিলেন। মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহ তাঁদের ওপর বলপ্রয়োগ করে কখনো বন্দি করেননি, বরং আফগানিস্তানের অখণ্ডতা ও প্রতিরক্ষায় তাঁদের অসামান্য সামরিক দক্ষতাকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবেই কাজে লাগিয়েছিলেন।

    *****


    চলবে ইনশা আল্লাহ...
    ​​
    “ধৈর্যশীল, সতর্ক ব্যক্তিরাই লড়াইয়ের জন্য উপযুক্ত।”
    -শাইখ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ

  • #2
    শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ কী মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহর ওয়াদা ভঙ্গ করেছিলেন? || পর্ব-১ || মুনশি আব্দুর রহমান

    https://dawahilallah.com/forum/%E0%A...%A8#post215818


    শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ কী মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহর ওয়াদা ভঙ্গ করেছিলেন? || পর্ব-২ || মুনশি আব্দুর রহমান

    https://dawahilallah.com/forum/%E0%A...A6%BE%E0%A6%A8
    “ধৈর্যশীল, সতর্ক ব্যক্তিরাই লড়াইয়ের জন্য উপযুক্ত।”
    -শাইখ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ

    Comment


    • #3
      আল্লাহ তা’আলা উলামায়ে সূ দের ফিতনা থেকে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহকে হিফাযত করুন,আমীন।

      Comment


      • #4
        সম্মানিত মোহতারাম ভাই। ফোরামে ভিডিও আপলোড কিভাবে করা যায়,দয়াকরে জানালে উপকৃত হতাম।

        Comment

        Working...
        X