Announcement

Collapse
No announcement yet.

শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ কী মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহর ওয়াদা ভঙ্গ করেছিলেন? || পর্ব-৮ (শেষ) || মুনশি আব্দুর রহমান

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ কী মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহর ওয়াদা ভঙ্গ করেছিলেন? || পর্ব-৮ (শেষ) || মুনশি আব্দুর রহমান


    শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ কী মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহর ওয়াদা ভঙ্গ করেছিলেন?


    [পাকিস্তানি আলেম মুফতি আব্দুর রহিম সাহেবের উত্থাপিত মনগড়া দাবির দালিলিক জবাব]

    পর্ব-৮


    মুনশি আব্দুর রহমান​​​​​





    মুফতি আব্দুর রহিমের সমর্থক ও ভ্রান্ত ইতিহাস প্রচারকারীদের প্রতি যুক্তির নিরিখে কয়েকটি জিজ্ঞাসা:


    দীর্ঘদিন ধরে যারা মুফতি আব্দুর রহিমের এই খণ্ডিত বয়ানকে বিনা বাক্য ব্যয়ে সত্য বলে মেনে এসেছেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে এই বিকৃত ইতিহাস প্রচার করে চলেছেন, ঐতিহাসিক নথিপত্র ও বস্তুনিষ্ঠ সত্যের আলোকে তাদের বিবেকের কাছে কয়েকটি যৌক্তিক প্রশ্ন তুলে ধরা প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছি:

    প্রথমত, যদি সত্যিই ৬ সদস্যের আলেম কমিটির কোনো সর্বসম্মত লিখিত ফতোয়া বা চুক্তিনামা থাকত এবং তাতে মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহ ও শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহর মতো শীর্ষ নেতাদের স্বাক্ষর থাকত, তবে বিগত দুই দশকে তালেবান বা আল-কায়েদার অন্য কোনো শীর্ষ নেতার বক্তব্যে তার বিন্দুমাত্র উল্লেখ পাওয়া যায় না কেন? সবার স্বাক্ষরসংবলিত এত বড় একটি ‘ঐতিহাসিক দলিল’ আজ পর্যন্ত লোকচক্ষুর অন্তরালে কীভাবে রয়ে গেল?

    দ্বিতীয়ত, বিদেশি মুজাহিদদের যদি সত্যিই সংগঠন বিলুপ্ত করে কাবুলের দারুল আমানে বন্দি বা নজরবন্দি করে রাখা হতো, তবে সমসাময়িক ঐতিহাসিক নথিতে কীভাবে খোস্ত, লোগার এবং কাবুলের প্রথম সারির রণাঙ্গনে আরব ও বিদেশি কমান্ডারদের স্বাধীন ও বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের অকাট্য প্রমাণ মেলে? বন্দিরা কি কখনো স্বাধীনভাবে রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দিতে পারেন?

    তৃতীয়ত, মুজাহিদরা আফগানিস্তানে আশ্রয় নেওয়ার পর হঠাৎ অবাধ্য হয়ে বহির্বিশ্বে হামলা শুরু করেছিল—এই দাবিটি কি ঐতিহাসিকভাবেই চরম হাস্যকর নয়? কারণ, ১৯৯৬ সালে তালেবান কাবুলের ক্ষমতায় আসার অনেক আগে, অর্থাৎ ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যেই তো সোমালিয়া, ফিলিপাইন ও নিউইয়র্কে আল-কায়েদার বৈশ্বিক অপারেশন সংঘটিত হয়েছিল। তাহলে আফগান রাষ্ট্রের আশ্রয়ে গিয়ে হঠাৎ অবাধ্য হওয়া বা বেইমানির প্রশ্নটি আসে কীভাবে?

    চতুর্থত, যিনি একজন মুসলিম অতিথিকে ক্রুসেডারদের হাতে তুলে দেওয়ার চেয়ে নিজের তিল তিল করে গড়ে তোলা ইসলামি ইমারাত ধ্বংস হয়ে যাওয়াকে হাসিমুখে মেনে নিয়েছিলেন, সেই আপসহীন ও পাহাড়সম দৃঢ়চেতা আমিরুল মুমিনিন মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহকে একজন দুর্বল, হতাশ ও সাহায্যপ্রার্থী শাসক হিসেবে মেনে নেওয়া কি তাঁর সুদৃঢ় ঈমানি শক্তির প্রতি এক চরম অবমাননা নয়?

    পঞ্চমত, সামগ্রিক প্রেক্ষাপট ও ইতিহাসের এই নির্লজ্জ বিকৃতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে আপনাদের কি মনে হয় না যে, বর্তমান পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিরোধ যুদ্ধকে অবৈধ বা ‘ফতোয়া অমান্যকারী’ সাব্যস্ত করার নিছক রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যেই এই মনগড়া আখ্যানের অবতারণা করা হয়েছে?

    ইতিহাস কোনো একক ব্যক্তির মনগড়া বয়ানে রচিত হয় না; তা টিকে থাকে অকাট্য দলিল ও বস্তুনিষ্ঠ সত্যের ওপর ভিত্তি করে। আশা করি, অন্ধ অনুকরণের চশমা খুলে ঐতিহাসিক সত্যের আয়নায় আপনারা এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করবেন।


    শেষ কথা

    মুফতি আব্দুর রহিমের সামগ্রিক বয়ান ও দাবিগুলো সুনিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করলে এটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, তিনি নিছক বর্তমান রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের হীন বাসনা থেকেই ইতিহাস বিকৃতির আশ্রয় নিয়েছেন। মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহর মতো একজন দৃঢ়চেতা, আপসহীন ও দূরদর্শী নেতাকে তিনি একজন অসহায়, ভীত ও দুর্বল শাসক হিসেবে চিত্রিত করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন। সেই সাথে মুজাহিদদের আত্মত্যাগ ও সুদীর্ঘ বৈশ্বিক সামরিক কৌশলকে আমিরের ‘অবাধ্যতা’ হিসেবে পেশ করতে চেয়েছেন। অথচ নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক নথিপত্র সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে, মুজাহিদরা সর্বদা ইসলামি ইমারাতের নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহও চরম আন্তর্জাতিক চাপ ও রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ঈমান, ইসলামি ভ্রাতৃত্ব ও জিহাদের প্রশ্নে পাহাড়ের মতো অবিচল ছিলেন। ইতিহাসকে তার আপন আলোয় ও দালিলিক প্রমাণে পাঠ করাই সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি; কোনো মনগড়া কল্পকাহিনি বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ফতোয়ার আবরণে প্রকৃত ইতিহাসকে চিরকাল ঢেকে রাখা সম্ভব নয়।

    *****


    সংশ্লিষ্ট সূত্র:
    ২০০১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর 'দ্য গার্ডিয়ান'কে দেওয়া মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহর ঐতিহাসিক সাক্ষাৎকার- মোল্লা ওমর — ইন হিজ ওন ওয়ার্ডস (Mullah Omar - in his own words), লিংক- https://archive.ph/HaYTF​


    সমাপ্ত আলহামদু লিল্লাহ...​​​​​
    “ধৈর্যশীল, সতর্ক ব্যক্তিরাই লড়াইয়ের জন্য উপযুক্ত।”
    -শাইখ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ

  • #2
    শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ কী মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহর ওয়াদা ভঙ্গ করেছিলেন? || পর্ব-১ || মুনশি আব্দুর রহমান
    https://dawahilallah.com/forum/%E0%A...%A8#post215818

    শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ কী মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহর ওয়াদা ভঙ্গ করেছিলেন? || পর্ব-২ || মুনশি আব্দুর রহমান
    https://dawahilallah.com/forum/%E0%A...A6%BE%E0%A6%A8

    শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ কী মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহর ওয়াদা ভঙ্গ করেছিলেন? || পর্ব-৩ || মুনশি আব্দুর রহমান
    https://dawahilallah.com/forum/%E0%A...%A8#post215847

    শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ কী মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহর ওয়াদা ভঙ্গ করেছিলেন? || পর্ব-৪ || মুনশি আব্দুর রহমান
    https://dawahilallah.com/forum/%E0%A...A6%BE%E0%A6%A8

    শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ কী মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহর ওয়াদা ভঙ্গ করেছিলেন? || পর্ব-৫ || মুনশি আব্দুর রহমান


    শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ কী মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহর ওয়াদা ভঙ্গ করেছিলেন? || পর্ব-৬ || মুনশি আব্দুর রহমান


    শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ কী মোল্লা উমর রহিমাহুল্লাহর ওয়াদা ভঙ্গ করেছিলেন? || পর্ব-৭ || মুনশি আব্দুর রহমান
    https://dawahilallah.com/forum/%E0%A...0%A6%AF/215943

    “ধৈর্যশীল, সতর্ক ব্যক্তিরাই লড়াইয়ের জন্য উপযুক্ত।”
    -শাইখ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ

    Comment


    • #3
      ইতিহাসের যেকোনো দাবি আবেগ বা রাজনৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে নয়, বরং নির্ভরযোগ্য দলিল, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য এবং গ্রহণযোগ্য গবেষণার আলোকে মূল্যায়ন করা উচিত।

      Comment

      Working...
      X