Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৫১ || ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১- বিজয়ের সোপান ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ – চতুর্ত্রিংশ পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৫১ || ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১- বিজয়ের সোপান ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ – চতুর্ত্রিংশ পর্ব

    আল হিকমাহ মিডিয়া পরিবেশিত
    ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১
    বিজয়ের সোপান
    ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি ।।
    [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ– ।।
    –।।থেকে- চতুর্ত্রিংশ পর্ব



    বিপদ আপদ, জয় ও প্রতিষ্ঠা লাভের কার্যকরী পন্থা


    আল্লাহর ইচ্ছা এবং তাঁর প্রজ্ঞার দাবি হলো মানব সমাজের স্থিতি দুটি পক্ষের চলমান লড়াইয়ের ওপর নির্ভর করবে। একটি পক্ষে থাকবে সত্যপন্থীরা তাঁরা হলেন রাসূলগণ, তাঁদের অনুসারী ও উত্তরসূরীরা। আরেকটি পক্ষে থাকবে বাতিলপন্থীরা, যাদের নেতৃত্বে রয়েছে অভিশপ্ত ইবলিশ আর তার সাঙ্গপাঙ্গরা। সর্বশক্তিমান আল্লাহ তা’আলা তাঁর কিতাবুল কারীমে এই সত্যটিকে অতি সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি ইরশাদ করেন-

    وَلَوْلَا دَفْعُ ٱللَّهِ ٱلنَّاسَ بَعْضَهُم بِبَعْضٍ لَّفَسَدَتِ ٱلْأَرْضُ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ ذُو فَضْلٍ عَلَى ٱلْعَٰلَمِينَ ﴿البقرة: ٢٥١﴾


    ‘আল্লাহ যদি একজনকে অপরজনের দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তাহলে গোটা দুনিয়া বিধ্বস্ত হয়ে যেতকিন্তু বিশ্ববাসীর প্রতি আল্লাহ একান্তই দয়ালু, করুণাময়”[1]

    ঐশী এই বাণী সন্দেহাতীতভাবে একথা আমাদেরকে জানাচ্ছে যে, বহমান কাল থেকে চলে আসা প্রাকৃতিক এই অমোঘ নীতির বাইরে গিয়ে মানব জীবন টিকতে পারে না। আর সেই অমোঘ নীতি হচ্ছে- হক ও বাতিলের লড়াই। কল্যাণ ও অকল্যাণের সংগ্রাম।

    তাই, যারাই হকের দাওয়াতি মিশনে নামবে, রিসালাতের পয়গাম প্রচার ও আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবে, তাঁদের সামনে অনিবার্যভাবে জাহেলিয়াত তার সর্বশক্তি নিয়ে সদলবলে শক্ত প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। জাহেলিয়াতের ধ্বজাধারীরা, দাওয়াত প্রচারক ও মু’মিন দলের পথে তাদের তল্পিবাহকদের সাহায্যে কালো পাথরের বাঁধ নির্মাণ করবে। কারণ, মু’মিন দল রবের তাবলীগকে নিজেদের কাজ বানিয়েছে, জাহেলিয়াতের সামনে তাঁরা বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে গেছে, জাহেলিয়াতের প্রচলিত রীতিনীতি অস্বীকার করেছে প্রভু দাবিদার মিথ্যাচারী লোকদেরকে ধ্বংস করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে তাদের অপসৃয়মান আধিপত্য চিরতরে মিটিয়ে দেয়ার মিশনে নেমেছে তাদের বিভ্রান্তি প্রকাশ করে মানুষকে ব্যক্তি পূজা, খেয়াল খুশি, খাহেশাত ও প্রবৃত্তি এবং আল্লাহর অধিকারে অন্যায় হস্তক্ষেপ কারীদের বাতিল নিয়ম-নীতি থেকে বের করে আনার গুরু দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেতাঁরা তুচ্ছ ধ্বংসশীল জাহেলী সংঘকে প্রতিহত করে মানুষকে জাহেলিয়াতের অন্ধকার থেকে বের করে ইসলামের আলো ও ঈমানের উজ্জলতায় উঠিয়ে আনার মুষ্টিবদ্ধ অঙ্গীকার করেছে

    আল্লাহর জমিনে আল্লাহর খিলাফত প্রতিষ্ঠার পূর্বের স্তর হিসেবে একটি ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের জন্য একটি মু’মিন দলের প্রয়োজন এই মু’মিনদের দল এই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেবে মানুষের মাঝে ইলাহি পয়গাম প্রচারে মনোনিবেশ করবে মানুষকে সত্যের পথে ডাকবে এমনকি ভূপৃষ্ঠে আল্লাহর শাসন প্রতিষ্ঠার সত্যিকারের প্রচেষ্টা ও কার্যকরী পন্থা গ্রহণের জন্য মানুষকে প্রস্তুত করবেবস্তুত: ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে আল্লাহর চিরাচরিত নিয়ম এমনইতাই এর পাল্টা জবাব হিসেবে বিভিন্ন নামে, বিভিন্ন আকারে যৌথভাবে জাহেলি শক্তি জেগে ওঠা রব্বানী কাফেলার পথ রোধ করতে নিজেদের শত্রুতার তরবারি চালনায় মেতে উঠবে। সহায় সম্বলহীন অল্পসংখ্যক লোকের বরকতময় কাফেলাকে জন্মলগ্নেই পিষে ফেলার জন্য রাত দিন তারা ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে থাকবে।



    তাওহীদবাদীদের বিরুদ্ধে জাহেলি শক্তির চক্রান্তের কয়েকটি স্তর



    প্রথম স্তর: অপপ্রচার ও প্রোপাগান্ডা

    রব্বানী কাফেলার বাহন অন্ধকারাচ্ছন্ন জাহেলিয়াতের ভীড় ভেঙে দুর্গম পথ অতিক্রম করে এরফলে দুর্গন্ধময় জাহেলিয়াতের পঁচা পানির মিশ্রণে বিকৃত মানব মন-মস্তিষ্কের উপর হকের দাওয়াতের প্রভাব পড়তে শুরু করে এমন অবস্থায় হঠাৎ হক বাতিলের মধ্যকার চিরন্তন রক্তাক্ত সংগ্রামের এক একটি অধ্যায়ের চিত্র ভেসে উঠতে আরম্ভ করে। বিপদ যেন কথা বলতে শুরু করে। বর্ণিত হয় কষ্টকর যাত্রার তিক্ত অভিজ্ঞতা সংবলিত রক্তাক্ত উপাখ্যান। সময়ের আকাশে নেমে আসে বিপদের ঘনঘটা। দুর্যোগের নেকড়েগুলোর হিংস্র থাবা মানবতার মুক্তির পয়গাম ছড়িয়ে দেয়ার মিশনে নিয়োজিত অটল অবিচল ধৈর্যশীল দলটির দেহকে ক্ষত-বিক্ষত করতে আরম্ভ করে

    কুরআনুল কারীম শক্তিশালী কুরাইশ বাহিনীর সঙ্গে মু’মিন দলের প্রথম সংগ্রামের চিত্রগুলোর চিত্তাকর্ষক ছবি এঁকে দিয়েছে। মু’মিন দল ও তার প্রধান ব্যক্তিত্ব মুহাম্মাদ -এর দাওয়াত থেকে মানুষকে দূরে রাখার জন্য কুরাইশদের চক্রান্তমূলক জাহেলী প্রচারণার বর্ণনা দিয়েছেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা সত্যের দিশা দানকারী মহামানবের চিত্র বিকৃত করতে এবং তাঁর দাওয়াতকে বিকৃতভাবে উপস্থাপনের জন্য জাহেলি শক্তি যে পন্থার আশ্রয় নিয়েছে তার কিছু উদাহরণ তুলে ধরে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন-

    وَقَالُوا۟ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِى نُزِّلَ عَلَيْهِ ٱلذِّكْرُ إِنَّكَ لَمَجْنُونٌ ﴿الحجر: ٦﴾


    ‘তারা বলে, ওহে- যার ওপর কুরআন নাযিল করা হয়েছে- তুমি অবশ্যই একজন উন্মাদ ব্যক্তি’। [2]

    তিনি আরও ইরশাদ করেন-

    نَّحْنُ أَعْلَمُ بِمَا يَسْتَمِعُونَ بِهِۦٓ إِذْ يَسْتَمِعُونَ إِلَيْكَ وَإِذْ هُمْ نَجْوَىٰٓ إِذْ يَقُولُ ٱلظَّٰلِمُونَ إِن تَتَّبِعُونَ إِلَّا رَجُلًا مَّسْحُورًا ﴿الإسراء: ٤٧﴾


    ‘আমি ভালো করেই জানি যখন ওরা কান পেতে তোমার কথা শোনে, তখন ওরা কান পেতে (কি কথা) শোনে (আমি এও জানি), যখন এই যালেমরা নিজেদের মধ্যে সলাপরামর্শ করে বলে, তোমরা তো একজন যাদুগ্রস্থ লোকেরই অনুসরণ করে চলেছ’[3]

    আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আরও বলেন,

    بَلْ قَالُوٓا۟ أَضْغَٰثُ أَحْلَٰمٍۭ بَلِ ٱفْتَرَىٰهُ بَلْ هُوَ شَاعِرٌ فَلْيَأْتِنَا بِـَٔايَةٍ كَمَآ أُرْسِلَ ٱلْأَوَّلُونَ ﴿الأنبياء: ٥﴾


    ‘ তারা তো বরং (কুরআনের ব্যাপারে) বলে,এগুলো হচ্ছে অলীক স্বপ্নমাত্র, সে নিজেই এসব উদ্ভাবন করেছে, কিংবা সে হচ্ছে একজন কবি, সে (নবী হয়ে থাকলে আমাদের কাছে) এমন সব নিদর্শন নিয়ে আসুক, যা দিয়ে পূর্ববর্তীদের পাঠানো হয়েছিল’। [4]

    আল্লাহ তা’আলা আরও ইরশাদ করছেন-

    أَوْ يُلْقَىٰٓ إِلَيْهِ كَنزٌ أَوْ تَكُونُ لَهُۥ جَنَّةٌ يَأْكُلُ مِنْهَا وَقَالَ ٱلظَّٰلِمُونَ إِن تَتَّبِعُونَ إِلَّا رَجُلًا مَّسْحُورًا ﴿الفرقان: ٨﴾


    ‘কিংবা (গায়েব থেকে) তার কাছে কোনো ধনভান্ডার এসে পড়ল না কেন, অথবা (কমপক্ষে) তার কাছে একটি বাগানই না হয় থাকত, যা থেকে সে (খাবার সংগ্রহ করে) খেতো; এ যালেম লোকেরা (মুসলিমদের আরও) বলে, তোমরা তো (আসলে) একজন যাদুগ্রস্থ ব্যক্তিরই অনুসরণ করছ’[5]

    একইভাবে ইরশাদ হচ্ছে,

    وَإِذَا تُتْلَىٰ عَلَيْهِمْ ءَايَٰتُنَا بَيِّنَٰتٍ قَالُوا۟ مَا هَٰذَآ إِلَّا رَجُلٌ يُرِيدُ أَن يَصُدَّكُمْ عَمَّا كَانَ يَعْبُدُ ءَابَآؤُكُمْ وَقَالُوا۟ مَا هَٰذَآ إِلَّآ إِفْكٌ مُّفْتَرًى وَقَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لِلْحَقِّ لَمَّا جَآءَهُمْ إِنْ هَٰذَآ إِلَّا سِحْرٌ مُّبِينٌ ﴿سبإ: ٤٣﴾


    “যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াত সমূহ তেলাওয়াত করা হয়, তখন তারা বলে, তোমাদের বাপ-দাদারা যার ইবাদাত করত এ লোকটি তা থেকে তোমাদেরকে বাধা দিতে চায়। তারা আরও বলে, এটা মনগড়া মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়। আর কাফেরদের কাছে যখন সত্য আগমন করে, তখন তারা বলে, এতো এক সুস্পষ্ট যাদু”[6]

    জি হ্যাঁ! সাইয়েদুল মুরসালিন মুহাম্মাদ -এর আনীত সুস্পষ্ট সত্যের বিরুদ্ধে জাহেলি কুরাইশদের অপপ্রচার এমনই ছিল। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল, নবীজির আনীত বহুমুখী কল্যাণ থেকে মানুষকে দূরে রাখা। লক্ষ্য ছিল, নির্ভেজাল দ্বীনে হকের দাওয়াত থেকে মানুষকে বিমুখ করে রাখাএমন দাওয়াত থেকে মানুষদের ফিরিয়ে রাখা যার মূল মর্ম ছিল, তাওহীদ তথা আল্লাহর একক সার্বভৌমত্ব স্বীকার করা এবং আল্লাহ ভিন্ন অন্য যত কিছুর উপাসনা করা হয়, সেরকম সকল অংশীদার ও মূর্তিকে সর্বাত্মকভাবে অস্বীকার ও বর্জন করা।

    আল্লাহ তা’আলা অন্তর্দৃষ্টি দান করেছেন; এমন কোনো তাওহীদবাদী ব্যক্তি আজও যদি সমকালীন জাহেলিয়াতের দিকে দৃষ্টিপাত করে, যা গোটা মানব সমাজের ওপর অন্ধকার ছায়া বিস্তার করে আছে, তবে সে জাহেলিয়াতের ধ্বজাধারী এবং তাদের সাঙ্গ-পাঙ্গদেরকে হুবহু সেসব বিষাক্ত তীর ছুড়ে মারতে দেখবে। দেখবে যে, জাহেলি শক্তি মুজাহিদ ওই বাহিনীটির বক্ষকে লক্ষ্যস্থল বানিয়েছে সেইসব মুজাহিদদের পেছনে এরা লেগেছে, যারা আল্লাহর অংশীদারদের প্রতি কুফরি করে বিশুদ্ধ তাওহীদের পতাকা উঁচুতে ধরে রেখেছেন। একত্ববাদী ব্যক্তি আরো দেখতে পাবে, অভিশপ্ত জাহেলি শক্তি তাদের অভিধানের এমন কোনো জঘন্য বিশেষণ, ঘৃণ্য উপাধি, মন্দ ও নিকৃষ্ট শব্দ এবং ঘৃণা উদ্রেককারী এমন কোনো বাক্য অবশিষ্ট রাখছে না, যা তারা সত্যবাদী এই দলটির ব্যাপারে ব্যবহার করছে না।

    একটু লক্ষ্য করে দেখা যাক তারা কী কী বলছেএরা ঘাতক... রক্তপাত ঘটানো এদের মূল কাজএরা অপরাধী সন্ত্রাসীনারী শিশু ও বৃদ্ধদের রক্ত ঝরাতে তাদের বাধে নাএরা উদ্ভ্রান্ত কিছু লোক, যারা অভাবের তাড়নায় বিপথগামী হয়েছেদারিদ্র ও অসহায়ত্বের শিকার হয়ে তারা বিপথে গেছেএরা মূর্খ; সহজ ও ভারসাম্যপূর্ণ ধর্মীয় বাস্তবতা সম্পর্কে এদের কোনো জ্ঞান নেইএরা বিভ্রান্ত ও বিভ্রান্তকারী এমন একটি দল, যারা বৈধ শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে মেতে উঠেছেএরা মাদক ব্যবসায়ী, নেশাদ্রব্যের সওদা এদের পেশাএরা নিজেদের জীবনের ব্যাপারে নিরাশ এবং সামাজিক অবহেলার শিকার। তাই বিভ্রান্ত দিশেহারা হয়ে জিহাদী সন্ত্রাসী দলের মধ্যেই নিজেদের আশ্রয়ের ঠিকানা খুঁজে নিয়েছেএরা এইএরা ওইআরো কত কি!

    ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ ‘মাদারিজুস সালেকীন’ গ্রন্থে লিখেন,

    যাকে নিজ দ্বীনের ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা অন্তর্দৃষ্টি, রাসূলের সুন্নতের ব্যাপারে গভীর জ্ঞান এবং নিজ কিতাবের ওপর গভীর ব্যুৎপত্তি দান করেছেন, তাকে তিনি দেখিয়েছেন যে, মানুষ কত রকম ফিৎনা-ফাসাদ, বিদ‘আত ও বিভ্রান্তির মাঝে ডুবে আছে! রাসূলুল্লাহ ও তাঁর সাহাবীদের দ্বীন থেকে তারা কত দূরে এমন মু’মিন ব্যক্তি যদি সরল পথে চলতে চায়, তবে সে যেন মূর্খদের টিটকারি, বিদাতপন্থীদের বিদ্রুপ, ঠাট্টা-মশকরা, অপবাদ ও দুর্নাম, তার ব্যাপারে মানুষের মাঝে খারাপ ধারণা সৃষ্টি করা এবং মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয়াএই জাতীয় সব প্রতিকূলতার মুখে ধৈর্য ধারণ করে। কারণ, এইসব বিভ্রান্ত লোকের পূর্বপুরুষ কাফেররাও হকপন্থীদের ইমাম ও অগ্র-পথিক মুহাম্মাদ -এর সঙ্গে অনুরূপ আচরণ করেছে। হকের ঝাণ্ডাবাহী যদি এসমস্ত বাতিল শক্তিকে সরল পথের দিকে ডাকে, তাদের বাতিল মতাদর্শকে যদি সে তুচ্ছ করে, তখনই তাদের প্রলয়ংকারী ঝড় আরম্ভ হয়ে যায়। তারা হকের বিরুদ্ধে হট্টগোল আরম্ভ করে দেয়। ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে শুরু করে। অশ্বারোহী ও পদাতিক সর্বস্তরের বাহিনী নিয়ে হকের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে পড়ে। তখন হকপন্থী ব্যক্তি নিজের দ্বীন পালন করতে গিয়ে অপরিচিত হয়ে যায়। তারা বিদ‘আত আঁকড়ে ধরার কারণে হকপন্থী লোকটি সুন্নাহ আঁকড়ে ধরতে গিয়ে বিচ্ছিন্নতার শিকার হয়। তারা ভ্রান্ত আকীদা-বিশ্বাস পোষণ করার কারণে হকপন্থী লোকটি সুন্নাহ সম্মত আকীদাহ বিশ্বাস পোষণ করতে গিয়ে অপরিচিত হয়ে যায়।


    মক্কার সেই প্রথম জাহেলিয়াতের বিরুদ্ধে আমাদের কমান্ডার মুহাম্মাদ -এর নেতৃত্বে একটি বিপ্লবী কাফেলা যাত্রা আরম্ভ করেছিল ঠিক সেই একই জাহেলিয়াত নতুন পোশাকে আজ হাজির হয়েছে ষড়যন্ত্র, চক্রান্তের জাল বিছিয়ে অপরিচিতির শিকার মুজাহিদ দলের পথ রোধ করে দাঁড়াচ্ছে। তারা এমন অশ্লীল নতুন নতুন শব্দ ও বাক্যের আবিষ্কার করছে, যা তাদের পূর্বসূরী প্রথম জাহেলি যুগের নেতৃবৃন্দ চিন্তাও করতে পারেনি

    [1] সূরা আল –বাকারা; ০২: ২৫১
    [2] সূরা আল-হিজর; ১৫: ০৬
    [3] সূরা আল-ইসরা; ১৭: ৪৭
    [4] সূরা আল-আম্বিয়া; ২১: ০৫
    [5] সূরা আল-ফুরকান; ২৫: ০৮
    [6] সূরা সাবা; ৩৪: ৪৩





    আরও পড়ুন​
    ত্রয়োত্রিংশ পর্ব ----------------------------------------------------------------------------- পঞ্চত্রিংশ পর্ব
    Last edited by tahsin muhammad; 3 weeks ago.

  • #2


    ইতিহাসের একটি পুনরাবৃত্ত সত্য হলো—যখনই কেউ তাঁর রবের বিধান, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শের উপর দৃঢ়ভাবে দাঁড়ায়, তখন তাকে ভুল বোঝা, উপহাস করা বা একঘরে করার চেষ্টা করা হয়। ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহর উদ্ধৃত বক্তব্য আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, সত্যের পথে অবিচল থাকা সব যুগেই ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও আত্মত্যাগের দাবি রাখে। তাই ব্যক্তি বা দল নয়, বরং দলিল, ন্যায় এবং সত্যের মানদণ্ডেই চিন্তা ও অবস্থানকে মূল্যায়ন করা উচিত।


    Comment

    Working...
    X