Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৫১ || ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১- বিজয়ের সোপান ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ – পঞ্চত্রিংশ পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৫১ || ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১- বিজয়ের সোপান ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ – পঞ্চত্রিংশ পর্ব

    আল হিকমাহ মিডিয়া পরিবেশিত
    ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১
    বিজয়ের সোপান
    ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি ।।
    [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ– ।।
    –।।থেকে- পঞ্চত্রিংশ পর্ব


    দ্বিতীয় স্তর: শারীরিক নিপীড়ন

    দাওয়াতের গুরুভার বহনের কারণে জাহেলি শক্তির চক্রান্তমূলক অপপ্রচারের মুখে মু’মিন দলের প্রথম সারির লোকেরা ধৈর্য ধারণ করতে থাকেন। একত্ববাদী দলের অনুসারী ও সমর্থকদের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। স্বল্পসংখ্যক তাওহীদবাদী লোকের উপস্থাপিত দ্বীনে হকের সঙ্গে সত্যান্বেষী ব্যক্তিরা পরিচিত হতে থাকেন। বিপ্লবী দলের নেতৃবৃন্দের অবিচলতা, আদর্শ কেনাবেচার বাজারে তাঁদের আপোষহীনতা, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে তাঁদের সর্বস্ব বিলিয়ে দেয়ার মানসিকতা হেদায়েত প্রত্যাশীরা প্রত্যক্ষ করেন সেই সঙ্গে আরো প্রত্যক্ষ্য করেন বিপ্লবীদের সর্বাত্মক ত্যাগ-তিতিক্ষা, নিজেদের নীতি-আদর্শ বাস্তবায়ন ও মানব সমাজের বাস্তব ক্ষেত্রে তা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তাঁদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এ সকল বিষয় চর্ম চক্ষু দ্বারা অবলোকন করে এবং অন্তর্দৃষ্টি দ্বারা অনুধাবন করে দ্বীনে হককে সাহায্য করার জন্য আগ্রহী হৃদয়গুলো অধিকহারে দ্বীনি মেহনতে অংশগ্রহণ করতে থাকে। দুর্যোগ মোকাবেলার এই স্তর পার করার পর আসে দ্বিতীয় অধ্যায়।

    দাওয়াত ও দাওয়াতের ধারক-বাহকরা জাহেলিয়াতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে অনেক কাঠখড় পোড়াতে থাকে। জাহেলি শক্তি প্রচার প্রোপাগান্ডা চালাতে থাকে। মহাকালের এক নির্দিষ্ট সময়ে সত্য ন্যায়ের মুষলধারে বর্ষিত বারিধারা থেকে পান করার আকুতি নিয়ে তাকিয়ে থাকা জনসাধারণ ও হকের দাওয়াতের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির সবরকম প্রয়াস চালায়। এরপরও যখন জাহেলিয়াতের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়, তখন শুরু হয় মু’মিনদের পরীক্ষার দ্বিতীয় অধ্যায়। তখন দাওয়াতের ধারক-বাহকরা ন্যাক্কারজনক আক্রমণ ও ধ্বংসাত্মক এমন নির্যাতনের শিকার হন, যা শুনে শিউরে উঠতে হয়। রবের প্রতি একনিষ্ঠ তাওহীদবাদী এবং দাওয়াতী কার্যক্রমে সহায়তা করতে ও মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী খুব কম লোকই সে নির্যাতন থেকে রক্ষা পান।

    আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা মানব চরিত্রের খুঁটিনাটি সম্পর্কে সম্যক অবগত তিনি রাসূলদের অনুসারীদেরকে সম্মানিত করেছেন তাঁদের উদ্দেশ্যে মহাগ্রন্থ আল কুরআনে সেসব বিপদাপদের কিছুটা বর্ণনা দিয়েছেন সমাজ নির্মাতা ও গৌরব অর্জনকারীদের যাত্রাপথের দুর্যোগ ও দুরাবস্থার কিছু চিত্র তুলে ধরেছেন যাতে আল্লাহর দ্বীনের পথে সংগ্রামকারীরা কন্টকাকীর্ণ বিপদসংকুল এই পথে চলতে গিয়ে অর্জিত তাঁদের পূর্বসূরিদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে অবগতি লাভ করতে পারেন। তাঁরা যেন এই বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারেন, পরাক্রমশালী মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আল্লাহর শাসন প্রতিষ্ঠার কার্যকারী পথ ও পন্থা শুধুই এটি। উম্মাহর হৃত সিংহাসন পুনরুদ্ধারের উপায় কেবল এটি। এসব উপলব্ধি করার পর তাঁরা যেন আর কখনোই পৃষ্ঠ প্রদর্শন না করেন। আদর্শ থেকে সরে দাঁড়ানোর চিন্তা কখনোই যেন না করেন। পালিয়ে যাবার কল্পনাও যেন তাঁদের মাথায় না আসে। তাঁরা যেন এ বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস অর্জন করেন যে, এটাই রাসূলদের পথ, এমনটাই তাঁদের দাওয়াতের প্রক্রিয়া এবং কেয়ামত দিবস পর্যন্ত তাদের অনুসারী ও উত্তরসূরীদের কর্মপন্থা এমনই

    ফেরাউনের অহংকারী সদস্যবৃন্দ ও দুর্বিনীত সুশীল মহলের ভাষায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা ইরশাদ করছেন-

    وَقَالَ الْمَلَأُ مِن قَوْمِ فِرْعَوْنَ أَتَذَرُ مُوسَىٰ وَقَوْمَهُ لِيُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَيَذَرَكَ وَآلِهَتَكَ قَالَ سَنُقَتِّلُ أَبْنَاءَهُمْ وَنَسْتَحْيِي نِسَاءَهُمْ وَإِنَّا فَوْقَهُمْ قَاهِرُونَ ﴿الأعراف: ١٢٧﴾

    ‘ফেরাউনের জাতির সরদাররা তাকে বলল, তুমি কি মূসা ও তার দলবলকে এ যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টি করার জন্যে এমনিই ছেড়ে দিয়ে রাখবে এবং তারা তোমাকে ও তোমার দেবতাদের (এভাবে) বর্জন করেই চলবে? সে বলল, (না, তা কখনো হবে না), আমি (অচিরেই) তাদের ছেলেদের হত্যা করে ফেলব এবং মেয়েদের জীবিত রাখব, আমি তাদের ওপর বিপুল ক্ষমতায় ক্ষমতাবান’।[1]

    জাহেলিয়াতের রক্ষকরা এভাবেই তাদের জাহেলি ব্যবস্থাকে রক্ষা করেছিল।

    এই অভিন্ন চিত্র সময়ে সময়ে দেখা গিয়েছে। এসব চিত্রে আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য ও বিজয় প্রাক্কালীন একেকটি ধারা ও পর্যায় পরিস্ফুট হয়েছে। উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহ তা’আলা ফেরাউনের সময়কার জাহেলিয়াতের অবস্থা তুলে ধরেছেন এমন এক সময়ের কথা আলোচনা করেছেন, যখন গোটা জাহেলি শক্তি তাওহীদবাদী দুর্বল দলটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে তাঁদেরকে ধ্বংস করে দেয়ার, তাঁদের ঐক্যকে খানখান করে দেয়ার,তাঁদের নেতৃবৃন্দকে হত্যা করার উদ্দেশ্য সামনে নিয়ে মু’মিন বাহিনীর সদস্যরা তখন নির্যাতন নিপীড়নে নিষ্পেষিত হচ্ছিলেন। বিপদ ও কষ্ট দাওয়াতি গুরুদায়িত্ব বহনকারীদের ওপর পুরোপুরিভাবে আঘাত হেনেছিল। জাহেলিয়াতের দোসররা পাশবিক উল্লাসে মেতে উঠেছিল। এমন কোনো পথ ও পন্থা, ষড়যন্ত্রের এমন কোনো উপায় ও মাধ্যম তারা অবশিষ্ট রাখেনি, রবের প্রতি ঈমান আনয়নকারী জামাতের শক্তি ভেঙে দিতে; যা তারা অবলম্বন করেনি। সত্যপন্থীদের ঐক্য বিনষ্ট করার লক্ষ্যে, তাঁদেরকে সর্বাত্মকভাবে দমন করার জন্য কোনো কিছু করতে বাতিল শক্তি পিছপা হয়নি। তাইতো বাতিলের কারাগারের দরজাগুলো খুলে গেছে। মু’মিন বাহিনীর নেতৃবৃন্দকে অন্ধ কুঠুরিতে কারান্তরীণ রাখা হয়েছে। ইবলিসের পুলিশ বাহিনী আর জাহেলিয়াতের কর্তাব্যক্তিরা প্রথম সারির হকপন্থী নেতৃবৃন্দকে হত্যা করার জন্য নানান শৈল্পিক উপায় উদ্ভাবন করেছে। সাধারণ অনুসারীরা নানা রকম শাস্তি ভোগ করেছেন। দুর্যোগ-দুর্বিপাক তাঁদেরকে ঘিরে রেখেছে। এমন কোনো একত্ববাদী অবশিষ্ট থাকেননি, যাকে নির্যাতন ভোগ করতে হয়নি।

    বিপদ মুসিবতের কশাঘাত, নির্যাতিতদের আর্তচিৎকার, দাঈ ও অনুসারীদের চোখের সামনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রক্তাক্ত পবিত্র দেহাবশেষ, অন্ধ জাহেলিয়াতের বস্তুবাদী উপায়-উপকরণের অহংকার, হেদায়াতের আলোকবর্তিকা নূরানী কাফেলার ওপর বয়ে যাওয়া দুর্যোগের ঝড়এতসব অবস্থা পার হওয়ার পর মুষ্টিমেয় মু’মিনরা দুই দলে বিভক্ত হয়ে যেতে আরম্ভ করে। তখনই সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা শুরু হয়। ব্যক্তিসত্তার প্রকৃতি তখন পরিস্ফুট হয় জাহেলি শক্তির নির্যাতনে নিষ্পেষিত অবস্থায় আসল পরিচয় উদ্ঘাটিত হয় সকলের। মৃত্যুভয় ও দুর্বলতার শিকার একটি দল তখন পৃথক হয়ে যায়। বিশ্বাস ও চেতনায় স্থান পাওয়া মতাদর্শের প্রচার-প্রসারে ধৈর্য ধারণের স্বাদ থেকে তারা বঞ্চিত হয়দাওয়াতের গুরুভার বহনে অক্ষম ওই দলটি ইবাদাত ও মুজাহাদার মাধ্যমে আদর্শের প্রাণ সঞ্জীবিত রাখতে পারে না। অটল অবিচল মুষ্টিমেয় ধৈর্যশীল দলের সুখময় পরিণতি পর্যন্ত তারা পৌঁছাতে পারে না। দুর্গম রক্ত পিচ্ছিল কণ্টকাকীর্ণ পথে কাঁটা বিদ্ধ হয়ে দ্বিতীয় দফায় কিছু লোক পড়ে যায়। তারা দুর্লঙ্ঘ্য ঘাঁটি অতিক্রম করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এরপর কান্তার মরু পথে বহু বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর তৃতীয় দফায় আরও কিছু লোক দুঃসাধ্য এই যাত্রা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়

    দীর্ঘ সংগ্রাম, মরু রোদ্দুরের তীব্র উত্তাপ, রাতের গভীর অন্ধকারের সঙ্গে সঙ্গে যাত্রার দুর্ভোগে ক্লিষ্ট, দুর্যোগের লেলিহান শিখায় দগ্ধ কারো কারো মনে বিরক্তি উপস্থিত হতে শুরু করে। বাস্তবতার চাপ সহ্য করতে না পেরে, তারা তখন আপস ও হাল ছেড়ে দেয়ার চিন্তাভাবনা করতে থাকে। সহসাই তাদের মনে ভয়ের সঞ্চার হয়। শেষ পর্যন্ত তারা মূলধারা থেকে দূরে সরে যেতে থাকে। ত্যাগ-তিতিক্ষার আদর্শ পিছনে ফেলে আরাম-আয়েশ এবং স্বাচ্ছন্দ জীবনযাপনের আশায় তারা বিভোর হয়ে যায়। কষ্ট সহিষ্ণুতা ও দুর্যোগ মোকাবেলার কথা তারা ভুলে যায়। অটল অবিচল মুষ্টিমেয় ধৈর্যশীলদের যে দলটিতে আল্লাহর ইচ্ছা ও অনুমতি সাপেক্ষে সাহায্য ও বিজয় আসার পরম সত্য প্রতিশ্রুতি রয়েছে, কিছু লোক এই দলটির সঙ্গে সহযোগিতার সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়।



    তৃতীয় স্তর: নানাবিধ বৈষয়িক প্রলোভন

    জাহেলিয়াতের ঝড়ে যে সময়টাতে দ্বীনে হকের অনুসারী ও নবী রাসূলদের উত্তরসূরীরা গৃহহীন হয়ে যেতে থাকেন, তখন দীর্ঘযাত্রার কোনো কোনো দায়িত্বশীলকে টার্গেট করে প্রলোভনের তীর ছোড়া আরম্ভ হয়। লোভের ফাঁদে আটকে ফেলতে চেষ্টা করা হয় কাউকে কাউকে। দায়িত্ব, ইতিপূর্বের ত্যাগ-তিতিক্ষা, মতবাদ ও আদর্শ সবকিছু কিনে ফেলতে তাদের জন্য টোপ ফেলা হয়। বাতিলের আশা থাকে, ঐশী আহ্বান প্রচারে ত্যাগ স্বীকার করতে না পারা কিছু লোক তাদের টোপ গিলে ফেলবে।

    যোগ্যতাসম্পন্ন কিছু উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তি ও দাওয়াতি কার্যক্রমের উর্দ্ধতন দায়িত্বশীলদেরকে মোহনীয় কিছু বৈষয়িক সুযোগ-সুবিধা ও মিথ্যা আশ্বাসের ফাঁপা বেলুন দেখায় জাহেলিয়াতের শয়তানি শক্তি। এই ষড়যন্ত্রের কারণে দুর্বল কিছু লোক পথচ্যুত হয়ে যায়। অস্থায়ী পার্থিব সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের লালসা, পদ-পদবির মোহ, উচ্চ আসন ও ক্ষমতাএসবের পেছনে পড়ে কিছু লোক আদর্শচ্যুত হয়ে যায়। দুনিয়া প্রেমিক ও মৃত্যু ভয়ে ভীত এসব লোকের স্পৃহা স্তিমিত হয়ে যায়। প্রাণ উচ্ছ্বাসে ভরপুর এক সময়কার উচ্চ বৃক্ষটি শুকিয়ে যায়। আদর্শ প্রতিষ্ঠা, নীতি বাস্তবায়ন ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য একসময় যে অন্তরগুলো উৎসাহ-উদ্দীপনায় ছিল জাজ্জ্বল্যমান, সে অন্তরগুলো নিভে যায়।

    পরিশেষে অবস্থা এই দাঁড়ায় যে, একসময় ফেরেশতারা পথে-ঘাটে যাদের প্রশংসা করে বেড়াত , সেই মহাপ্রাণ ব্যক্তিগুলো ঝরে যায় তারা জাহেলিয়াতের স্তম্ভ ও বড় বড় দায়িত্বশীলে পরিণত হয় এভাবেই এই জাতীয় লোকদের মাঝে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার নিম্নোক্ত বাণী প্রতিফলিত হয়েছে

    وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ الَّذِي آتَيْنَاهُ آيَاتِنَا فَانسَلَخَ مِنْهَا فَأَتْبَعَهُ الشَّيْطَانُ فَكَانَ مِنَ الْغَاوِينَ ﴿الأعراف: ١٧٥﴾ وَلَوْ شِئْنَا لَرَفَعْنَاهُ بِهَا وَلَٰكِنَّهُ أَخْلَدَ إِلَى الْأَرْضِ وَاتَّبَعَ هَوَاهُ فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ الْكَلْبِ إِن تَحْمِلْ عَلَيْهِ يَلْهَثْ أَوْ تَتْرُكْهُ يَلْهَث ذَّٰلِكَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا فَاقْصُصِ الْقَصَصَ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ ﴿الأعراف: ١٧٦﴾

    ‘(হে মুহাম্মাদ) তুমি তাদের কাছে (এমন) একটি মানুষের কাহিনী (পড়ে) শোনাও, যার কাছে আমি (নবীর মাধ্যমে) আমার আয়াতসমূহ নাযিল করেছিলাম, সে তা থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে, অতপ’অর শয়তান তার পিছু নেয় এবং সে সম্পূর্ণ গোমরাহ লোকদের দলভুক্ত হয়ে পড়ে অবশ্য আমি ইচ্ছা করলে তার মর্যাদা বাড়িয়ে দিতাম সে সকল নিদর্শনসমূহের দৌলতে। কিন্তু সে তো নিম্নমুখী জমিনের প্রতিই আসক্ত হয়ে পড়ে এবং কামনা-বাসনার অনুসরণ করে। সুতরাং তার অবস্থা হল কুকুরের মত; যদি তাকে তাড়া কর তবুও হাঁপাবে আর যদি ছেড়ে দাও তবুও হাঁপাবে। এ হলো সেসব লোকের উদাহরণ; যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে আমার নিদর্শনসমূহকে। এ কাহিনীগুলো (তাদের) তুমি পড়ে শোনাও, হয়তো বা তারা চিন্তা-গবেষণা করবে’।[2]


    [1] সূরা আল- আরাফ; ০৭: ১২৭
    [2] সূরা আল-আরাফ; ০৭: ১৭৫-১৭৬





  • #2
    “সত্যের পথ কখনো সহজ ছিল না। অপপ্রচার, বাধা ও ষড়যন্ত্রের মাঝেও যারা আদর্শের ওপর অবিচল থাকেন, তাদের ধৈর্য, ত্যাগ ও নিষ্ঠাই মানুষের হৃদয়ে প্রভাব ফেলে। কথার চেয়ে কর্ম, দাবির চেয়ে আত্মত্যাগ এবং স্লোগানের চেয়ে চরিত্রই সত্যের দাওয়াতকে শক্তিশালী করে। ইতিহাস সাক্ষী, প্রতিকূলতার অন্ধকার ভেদ করেই পরিবর্তনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।”

    Comment

    Working...
    X