Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৫১ || ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১- বিজয়ের সোপান ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ – সপ্তত্রিংশ পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৫১ || ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১- বিজয়ের সোপান ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ – সপ্তত্রিংশ পর্ব

    আল হিকমাহ মিডিয়া পরিবেশিত
    ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১
    বিজয়ের সোপান
    ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি ।।
    [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ– ।।
    –।।থেকে- সপ্তত্রিংশ পর্ব




    বিপদাপদ, দাওয়াতের স্বচ্ছতা ও দাঈদের একনিষ্ঠতার পরিচায়ক


    এটি অপরিবর্তিত এমন একটি বাস্তবতা, তাওহীদবাদী প্রতিটি ব্যক্তিকেই যা স্বীকার করতে হবে। সন্দেহাতীতভাবে এ বিষয়ে তাদের বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে যে, আল্লাহর পথে দাওয়াতের ময়দানে বিপদ-আপদ আসবেই। আল্লাহর পথে দাওয়াতের গুরুভার বহনকারী প্রতিটি জামাত এই বাস্তবতার মুখোমুখি। যে দাওয়াত প্রচারকারী প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয় না, যে দাওয়াতি কাফেলাকে বিপদের অন্ধকার পথ পাড়ি দিতে হয় না, দুর্যোগ-দুর্বিপাকের কালো ছায়া যে দাওয়াতি জামাতকে আচ্ছন্ন করে না, সে দাওয়াত তো দ্বীনে হকের পূর্ণ দাওয়াত নয়। তা তো হচ্ছে মানবিক লালসা সংমিশ্রিত দাওয়াত। তা হচ্ছে সিরাতে মুস্তাকিম থেকে বিচ্যুত দাওয়াত। এই অসম্পূর্ণ দাওয়াত সাইয়েদুল মুরসালিন মুহাম্মাদ -এর আনীত দাওয়াতের বিপরীত। সরল-সঠিক পথ সিরাতে মুস্তাকীম, আর এই দাওয়াতের পথ ভিন্ন ভিন্ন।

    দাওয়াতের মহান দায়িত্ব পালনকারীদেরকে বিপদ কেনই-বা ধাওয়া করবে না? জাহেলিয়াতের ঘন আঁধার কেনই-বা মানবতার সূর্যকে আচ্ছন্ন করতে চেষ্টা করবে না? এই দাওয়াতের দায়িত্বশীলগণ কি সকল সৃষ্টির সেরা মুহাম্মাদ -এর চেয়েও আল্লাহর বেশি প্রিয়? তাঁর বরকতময় সান্নিধ্য লাভে ধন্য মু’মিন দলের চাইতেও তাঁরা কি বেশি মর্যাদাবান? খুঁটিবিহীন আকাশের স্রষ্টার শপথ! কখনই এমনটা নয়। তারা কখনোই অধিক সম্মানিত নয়। তাদের দাওয়াতের পথচলার এই সহজতা সে তো জাহেলিয়াত ও তার ধ্বজাধারীদের সন্তুষ্টি মাত্র। এটা কীভাবে সম্ভব হতে পারে যে, জাহেলিয়াত তাদেরকে আঘাত করবে না অথচ সকাল-বিকাল তাওহীদবাদীদের আজানে একমাত্র ইলাহ্'র শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিধ্বনিত হবে?

    أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا۟ ٱلْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ ٱلَّذِينَ خَلَوْا۟ مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ ٱلْبَأْسَآءُ وَٱلضَّرَّآءُ وَزُلْزِلُوا۟ حَتَّىٰ يَقُولَ ٱلرَّسُولُ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مَعَهُۥ مَتَىٰ نَصْرُ ٱللَّهِ أَلَآ إِنَّ نَصْرَ ٱللَّهِ قَرِيبٌ ﴿البقرة: ٢١٤﴾


    ‘তোমরা কি মনে করে নিয়েছ যে, তোমরা (এমনি এমনিই) জান্নাতে চলে যাবে, (অথচ) পূর্ববর্তী নবীদের অনুসারীদের (বিপদের ) মত কিছুই তোমাদের ওপর এখনো নাযিল হয়নি। তাদের ওপর (বহু) বিপর্যয় ও সংকট এসেছে, কঠোর নির্যাতনে তারা নির্যাতিত হয়েছে, (কঠিন) নিপীড়নে তারা শিহরিত হয়ে উঠেছে, এমন কি স্বয়ং আল্লাহর নবী ও তার সঙ্গী সাথীরা (অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এক পর্যায়ে) এই বলে (আর্তনাদ করে) উঠেছে, আল্লাহ তা’আলার সাহায্য কবে আসবে। তোমরা শুনে নাও, আল্লাহর সাহায্য একান্তই নিকটবর্তী’[1]

    ঘোর শত্রু জাহেলিয়াত কীভাবে দাওয়াত ও তার দাঈদের বিপক্ষে অবস্থান নেবে না অথচ জাহেলি কুরাইশরা আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মুহাম্মাদ -এর বিরুদ্ধে এবং তাঁর অনুসারীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল? মুহাম্মাদ -এর এসব অনুসারীরা তো জমিনে নবী-রাসূলদের পর সর্বশ্রেষ্ঠ মানব ছিলেন! কিন্তু তারপরেও তাঁদের বিরোধিতা করেছিল জাহেলি শক্তি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা দাঈদের বিরুদ্ধে প্রথম যুগের চক্রান্তের কথা এভাবে তুলে ধরেন

    وَقَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لِرُسُلِهِمْ لَنُخْرِجَنَّكُم مِّنْ أَرْضِنَآ أَوْ لَتَعُودُنَّ فِى مِلَّتِنَا فَأَوْحَىٰٓ إِلَيْهِمْ رَبُّهُمْ لَنُهْلِكَنَّ ٱلظَّٰلِمِينَ ﴿ابراهيم: ١٣﴾


    ‘কাফিররা তাদের রাসূলদের বলল, ‘ আমাদের (ধর্মীয়) গোত্রে তোমাদের ফিরে আসতেই হবে, নতুবা আমরা তোমাদের আমাদের দেশ থেকে বহিষ্কার করে দেবো; অতঃপর (ঘটনা চরমে পৌছুলে) তাদের মালিক তাদের কাছে ওহী পাঠালেন, আমি অবশ্যই যালেমদের ধ্বংস করে দেবো’[2]

    রাসূল মুসান্না ইবনে হারেসার প্রতি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'র ওপর ঈমান আনা এবং এই কালিমাকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করার আহ্বান জানালেন তখন নিজের সহজাত সরল গ্রামীণ চিন্তাভঙ্গি দ্বারা এই কালিমার মর্মবাণী অনুধাবন করে মুসান্না ইবনে হারেসা জবাব দিয়েছিলেন, নিশ্চয়ই এটি এমন একটি বিষয় যা রাজা-বাদশাদের অপছন্দের। আরব আজম সকলেই আপনার বিরুদ্ধে লড়াই করবে।

    কীভাবে রাজা বাদশা, কিসরা কায়সার, শাসক মহল ও প্রবৃত্তি পূজারীরা দাওয়াত ও দাঈদের বিপক্ষে অবস্থান না নিয়ে থাকতে পারে?

    এটা কীভাবে হতে পারে যে দ্বীনে হকের চিরশত্রু জাহেলিয়াত এর বিরোধিতা করবে না? দ্বীনে হকের দাওয়াতকে সমূলে মিটিয়ে দিতে চাইবে না? অথচ ওয়ারাকা ইবনে নওফেল বারবার নবীজি -কে এ কথা বলছিলেন, হায়! আমি যদি সে সময় থাকতাম যখন আপনার সম্প্রদায় আপনাকে বের করে দেবে!নবীজি অত্যন্ত আশ্চর্যান্বিত হয়ে অনেকটা অবিশ্বাসের সুরে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমাকে বের করে দেবে আমার সম্প্রদায়?” তৎক্ষণাৎ আল্লাহর পথে দাওয়াতের বাস্তবতা অনুধাবনকারী নওফেল জবাবে বলেছিলেন, ইতিপূর্বে যারাই আপনার মত পয়গাম নিয়ে এসেছে তারাই শত্রুতার শিকার হয়েছে।

    হে মুহাম্মাদ -এর অনুসারীরা! তোমাদের নবীর মত পয়গাম নিয়ে ইতিপূর্বে যারাই এসেছেন, সকলেই বৈরিতার শিকার হয়েছেন। যারাই দ্বীনে হক্বের দাওয়াত নিয়ে এসেছেন, জাহেলিয়াত তাদের বিরুদ্ধেই উঠে পড়ে লেগেছে। যারাই বিশুদ্ধ তাওহীদের বাণী ঘোষণা করেছেন, জাহেলিয়াত একযোগে তাঁদের ওপর হামলে পড়েছে। ইব্রাহীম খলীলের দাওয়াত নিয়ে যারাই দাঁড়িয়েছে, তাঁদের সকলকে নিজ নিজ সম্প্রদায় বহিষ্কার করেছে।

    হে সত্যের অনুসারীরা! এটাই বাস্তবতা তোমাদের নবীদের সীরাত এমনই। তোমাদের কাছে থাকা তোমাদের রবের কিতাবের নির্দেশনা এটাইআমাদের বক্তব্যের যথার্থতা বুঝতে তোমরা মহাগ্রন্থ খুলে পাঠ করে দেখো।

    আল্লাহর তৌফিকে উপরোক্ত আলোচনার পর প্রত্যেক তাওহীদবাদী ব্যক্তির কাছে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, বিপদ মুসিবত হলো আল্লাহর পথে দাওয়াতের বিশুদ্ধতার পরিচায়ক। এ হচ্ছে সত্যের পথে থাকার নিদর্শন। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। রাসূলগণ, বিচার দিবস পর্যন্ত আসতে থাকা তাঁদের সৌভাগ্যবান অনুসারী ও উত্তরসূরীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এই দাওয়াতের দায়িত্বশীলগণ যখন পথ চলতে চান, তখন এই সমস্ত নিদর্শন তাঁদের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

    সত্যান্বেষী প্রত্যেক ব্যক্তির কাছেই স্পষ্ট যে, জাহেলিয়াত যে দাওয়াতের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বিরোধিতা করে না, চক্রান্ত করে যে দাওয়াতকে নিস্তব্ধ করে দিতে চায় না, তা সরল সঠিক পথ তথা সিরাতে মুস্তাকিম থেকে বিচ্যুত দাওয়াত। দ্বীনে হক্বের মূলধারা থেকে তা বিচ্ছিন্ন।

    আমাদের প্রিয় শাইখ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ বলেন,

    আমাদের মন-মস্তিষ্কে এ ধারণা যেন বদ্ধমূল হয়ে যায় যে, দ্বীনে হক আঁকড়ে ধরার কারণে অনিবার্যভাবেই আহলে বাতিলের তরফ থেকে শত্রুতার শিকার হতে হবে। আমাদের আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কর্তৃক বর্ণিত, বুখারী রহিমাহুল্লাহ কর্তৃক সংকলিত একটি বিশুদ্ধ হাদীসে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ আমাদের আম্মাজান খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা'র সঙ্গে ওয়ারাকা ইবনে নওফেলের কাছে গেলেন অতঃপর ওহী নাযিল হতে আরম্ভ করার ঘটনা তাকে শোনালেন তখন ওয়ারাকা ইবনে নওফেল বললেন, হায় আফসোস! আমি যদি ওই সময় থাকতাম যখন আপনার সম্প্রদায় আপনাকে বের করে দেবে!তখন রাসূলুল্লাহ বললেন, আমাকে বের করে দেবে তারা!” তখন ওয়ারাকা ইবনে নওফেল বললেন, ইতিপূর্বে যারাই আপনার মতো পয়গাম নিয়ে এসেছেন, তারাই শত্রুতার শিকার হয়েছেন।এই হচ্ছে মুহাম্মাদ -এর ফিকহ্অতএব, যে ব্যক্তি সত্যিকারভাবে ইসলামকে আঁকড়ে ধরবে, তাঁকে অবশ্যই শত্রুতার শিকার হতে হবে

    লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ- এই কালিমা ও তার দাবি পূর্ববর্তীরা এভাবেই বুঝেছেন যে, ভূপৃষ্ঠে আল্লাহর শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং এর জন্য শত্রুপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে।

    মুসান্না ইবনে হারেসা আমাদের রাসূল মুহাম্মাদ -কে এমনটাই তো বলেছেন, যখন নবীজী তাকে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এই কালিমার প্রতি ঈমান আনার, রক্ষা করার ও আশ্রয় দেয়ার জন্য আহ্বান জানালেন, এটি এমন একটি বিষয় যা রাজা-বাদশাদের অপছন্দের।

    কারাবরণকারী শাইখ আবু মুহাম্মাদ আল মাকদিসি রাসূলদের অনুসারীদের পথ ও তার নিদর্শনাবলী আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, আল্লাহ আমাদেরকে এবং তোমাদেরকে সীরাতে মুস্তাকীমের ওপর অটল রাখুন মিল্লাতে ইবরাহীমের এই দাবি তথা কাফের ও তাদের উপাস্যদের সাথে সর্বাত্মকভাবে সম্পর্কচ্ছেদ, প্রকাশ্যভাবে তাদের প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ, তা বিরাট বিরাট বোঝা চাপিয়ে দেয়। তাই কেউ যেন ধারণা না করে, এই পথ পুষ্পশোভিত অথবা আরাম-আয়েশের অবকাশ পূর্ণ। বরং তা আল্লাহর কসমঅপছন্দনীয় বিষয়াবলী ও বিপদাপদে ভরা। তবে, এর শেষ হচ্ছে সুবাসিত, প্রশান্তি ঘেরা এবং ক্রোধমুক্ত অবস্থায় রব্বী কারীমের সন্তুষ্টি বেষ্টিত। আমরা নিজেদের ও মুসলিমদের জন্য বিপদ কামনা করি নাকিন্তু এ পথে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার সুন্নাহই হচ্ছে এটা, যাতে অপবিত্র পবিত্র থেকে আলাদা হয়ে যায়। এপথ কখনোই শাসক মহল ও প্রবৃত্তি পূজারীদের তুষ্ট করতে পারে না কারণ, তা তাদের বাস্তব অবস্থার সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। এপথে তাদের উপাস্য ও শিরকী কর্মকাণ্ডের সাথে পুরোপুরি সম্পর্কচ্ছেদ ঘোষণা করা হয়। এর বাইরে অন্যান্য পথের অনুসারীদের দেখা যাবে, তারা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করে। দুনিয়ার মোহে তারা আবিষ্ট। বিপদ-আপদের কোনো চিহ্নই তাদের মাঝে দেখা যায় না। আর তা কেনই বা দেখা যাবে, মানুষ তো তার দ্বীন অনুপাতে বিপদের সম্মুখীন হয়। সে হিসেবে সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত নবীগণ অতঃপর যারা সবচেয়ে বেশি তাঁদের কাছাকাছি এবং এঁদের পরে যারা সবচেয়ে বেশি নবীদের কাছাকাছি...। মিল্লাতে ইবরাহীমের অনুসারীরা মানুষদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিপদের সম্মুখীন। কারণ, আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে তারা নবীদের মানহাজের অনুসারীযেমনিভাবে ওয়ারাকা ইবনে নওফেল নবীজি -কে বলেছেন,

    ইতিপূর্বে যারাই আপনার ন্যায় পয়গাম নিয়ে এসেছেন তারাই শত্রুতার শিকার হয়েছেন।

    অতএব, যদি তুমি দেখতে পাও, এ যুগে কেউ দাবি করছে, সে মুহাম্মাদ -এর আদর্শের দিকে নবীজিরই পন্থায় দাওয়াত দিচ্ছে কিন্তু বাতিলপন্থী শাসক মহলের সাথে যদি তার শত্রুতা না থাকে, বরং তাদের মাঝেই সে যদি নিরাপদে নিশ্চিন্তে বসবাসের সুযোগ লাভ করে, তবে এমন ব্যক্তির অবস্থা ভালোভাবে লক্ষ্য করো। হয়ত সে পথচ্যুত; নবীজি -এর আদর্শের ওপর সে নেই, বরং অন্যান্য বক্রপথের সে অনুসারী। নয়ত সে নিজের দাবির ব্যাপারে মিথ্যাবাদী। অথবা সে বিশেষ কিছু কারণে এমন বিষয়ের দাবি করছে, যার যোগ্য সে নয়। সে কারণ হচ্ছে, প্রবৃত্তির অনুসরণ, আত্মগরিমা ও নিজের ব্যাপারে ভালো ধারণা, অথবা পার্থিব কোনো স্বার্থ, যা হাসিলের জন্য সে দ্বীনদার মহলের বিরুদ্ধে শাসকবর্গের গোয়েন্দা ও গুপ্তচর হয়ে কাজ করছে’।

    ওয়ারাকা ইবনে নওফেল রাসূলুল্লাহ কে যে কথাগুলো বলেছিলেন, সেগুলোই রাসূলুল্লাহ -এর কাছে বাইয়াতকালে সাহাবাদের অন্তরে বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছিল। আসআদ ইবনে যুরারা তাঁদেরকে এ বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, “হে ইয়াসরিববাসী! ধীরেসুস্থে সিদ্ধান্ত নাও। আজ তাঁকে এখান থেকে বের করে নেয়াটা গোটা আরবের সাথে তোমাদের বিচ্ছেদ বলে গণ্য হবে। এ কাজ তোমাদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের জীবননাশ আর তোমাদের তরবারির আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার সমতুল্য হবে। তাই যদি তোমরা এসবের ওপর ধৈর্যধারণ করতে পারো, তবে তাঁকে গ্রহণ করো এবং এক্ষেত্রে তোমাদের প্রতিদান থাকবে আল্লাহর কাছে। আর যদি তোমরা নিজেদের প্রাণের ভয় করো, তবে তাঁকে এড়িয়ে যাও এবং এ বিষয়টি স্পষ্ট করো। সেক্ষেত্রে তোমাদের এই কাজ আল্লাহর কাছে তোমাদের জন্য অপারগতা বলে সাব্যস্ত হবে।[3]



    [1] সূরা আল-বাকারা; ০২: ২১৪
    [2] সূরা ইবরাহীম;১৪: ১৩
    [3] এটি রাসূলুল্লাহ এর মদীনায় হিজরতের পূর্বের ঘটনা। মদীনা থেকে আগত একদল মুসলিমদের সাথে মদীনায় হিজরতের ব্যাপারে আলাপ আলোচনা করছিলেন রাসূলুল্লাহ । মদীনার আনসারদের কাছে রাসূলুল্লাহ কি কি প্রত্যাশা করেন তা বিস্তারিত বলার পর আসআদ ইবনে যুরারা রাদিয়াল্লাহু আনহু এই উক্তিটি করেন। ইতিহাসে এই ঘটনা বাইয়াতে আকাবা নামে পরিচিত - সম্পাদক





    ​আরও পড়ুন
    Last edited by tahsin muhammad; 4 hours ago.

  • #2
    দাওয়াতে হকের পথ কখনোই ফুলে বিছানো ছিল না। নবী ﷺ থেকে শুরু করে সকল সত্যের আহ্বানকারীই বিরোধিতা, অপবাদ ও নির্যাতনের সম্মুখীন হয়েছেন। তাই বিরোধিতা দেখে হতাশ হওয়ার নয়; বরং ইখলাস, হিকমাহ ও সবরের সঙ্গে আল্লাহর পথে অটল থাকার শিক্ষা গ্রহণ করাই আমাদের কর্তব্য। আল্লাহ আমাদের সত্যের ওপর দৃঢ় রাখুন এবং দ্বীনের খেদমতের তাওফীক দান করুন। আমীন।

    Comment

    Working...
    X