Announcement

Collapse
No announcement yet.

দ্বীনকে আইডোলজি বা মতাদর্শ হিসেবে নেওয়া

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • দ্বীনকে আইডোলজি বা মতাদর্শ হিসেবে নেওয়া

    والصلاه والسلام على رسول الله পৃথিবীতে যেকোন আদর্শবাদী দলকে টিকে থাকতে হলে তাকে আইডোলোজি অনুসরণ করতে হয়।যেমন কোন সংগঠন বা রাজনৈতিক দল তার নিজ নিজ আদর্শ অনুসরণ করে।যার আদর্শ যত মজবুত, তার টিকে থাকা তত টুকুই সম্ভব হয়।প্রত্যেক দল বা সংগঠন একটা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে তৈরি হয়।তাকে তত দূর টেনে নিয়ে যায় যতটুকু আদর্শ সে লালন করে।তার আদর্শে সে সফলকাম হতে ও পারে আবার সে ঝরেও পড়তে পারে। এটা ইসলামীক বা অনৈসলামীক সকল দলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।সেটা কোন অর্গানাইজেশন বা সামাজিক সংগঠন হতে পারে। এবার ইসলামী সংগঠনের কথা ধরা যাক।যেমন ইখওয়ানুল মুসলিমীন ,তারা গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কিন্তু গণতন্ত্র একটি কুফরী মতবাদ। তাদের আদর্শ কোরআন সম্মত নয় তাদের আদর্শের ভিত শক্তিশালী নয়।তাই তারা যেকোন বিপদেই মচকে যায়। কিন্তু তালেবান বা আল কায়েদা একটি আদর্শিক জিহাদী সংগঠন।যা পুরোটাই নববী মানহাজ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসে এসেছে আমার উম্মতের একটি অংশ কেয়ামত পর্যন্ত জিহাদ করবে এবং বিজয়ী থাকবে। ইতিহাস থেকে দেখা যায় আদর্শ শক্তিশালী না হলে কোন দলই দীর্ঘ দিন টিকে থাকতে পারে না।যা আমরা অন্য ইসলামী সংগঠনের মধ্যে দেখতে পাই। কিন্তু তানজিম আল কায়েদা রাসূলুল্লাহর আদর্শ তথা মহান জিহাদকে লালন করে। রাসূলুল্লাহর গোটা জিবন দ্বীন বিজয়ের জন্য জিহাদ করেছেন।তা সাহাবায়ে কেরাম হয়ে, উসমানীয় খিলাফত হয়ে আজকে আফগান পর্যন্ত পৌঁছেছে। وجاهدوا في الله حق جهاده। তোমরা আল্লাহর পথে লড়াই করো, যেমনভাবে করা উচিত। (সুরা হজ্জ ৭৮) কোরআনে ও হাদীসে আরো এসেছে মুজাহিদের সুসংবাদ জান্নাত ও দুনিয়ায় সাফল্য।কিতালের মাধ্যমে ফিতনাকে দমন করা হয় এবং একটি সুখী সমাজ ও আদর্শ রাষ্ট্র গঠন সম্ভব। যেখানে মানুষ থাকবে সুখে শান্তিতে।। উম্মাহর কষ্ট গুলো মুছে দিবে। وقاتلوهم حتى لاتكون فتنه ويكون الدين كله لله فان انتهوا فان الله بما يعملون باسيروতোমরা ততক্ষন পর্যন্ত জিহাদ করো যতক্ষণ পর্যন্ত না ফিতনা দূরীভূত হয়"(সূরা বাকারার ১৯৩)। মুজাহিদদের জিহাদ কেয়ামত পর্যন্ত চলবে। ইখওয়ানী মানহাজে আমরা দেখতে পাই নেতা মারা যাওয়ার পর তারা ভেঙে পড়ে। আগের মত গুছিয়ে উঠতে পারে না। আবার অনেক সংগঠন নেতা মারা যাওয়ার পর তাদের আদর্শ টিকে থাকে না। পরবর্তী প্রজন্ম পর্যন্ত পৌঁছায় না। কিন্তু আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন রাহিমাহুল্লাহর শাহাদাতের পর এবং তালেবান আমির মোল্লা ওমর মৃত্যুর পর মুজাহিদদের আদর্শিক চেতনা আর ও বাড়িয়েছে। মুজাহিদরা এখন আর ও শক্তিশালী। এটা হলো জিহাদকে আদর্শ গ্ৰহণের ফল। আবার ইতিহাস থেকে দেখা যায় জিহাদ কখনো বন্ধ ছিল না। ক্রুসেড হামলায় বিপর্যস্ত অবস্থায় জেগে উঠলেন ইমামুদ্দিন জঙ্গি রহিমাহুল্লাহ,তারা ধারাবাহিকতায় নুরউদ্দিন জেংকি, সালাহউদ্দিন আল আইয়ুবী।যখন মঙ্গলদের বর্বরতায় জবাব দেওয়ার কেউ ছিল না তখন জেগে উঠেছিলেন সাইফুদ্দিন কুর্তুজ ও রুকনুদ্দিন বাইবার্স।কাজেই জিহাদের আদর্শ কখনো নিভে যায় না।তা জ্বলতে থাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। কিন্তু যারা জিহাদকে আদর্শ হিসেবে গ্ৰহণ করতে পারে না।তারা নিছক সামান্য বিপদেই ভেঙে পড়ে। কারণ তারা জিহাদকে জীবনের উদ্দেশ্য এবং জান ও মাল বাজি রাখার খালেস নিয়ত নিয়ে প্রবেশ করেনি। বস্তুত তারা জিহাদকে সামান্য নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাতের মত অতি সহজ ইবাদত মনে করেছে। কিন্তু তারা জিহাদী জিবনের কঠিন বাস্তবতা উপলব্ধি করনি।তাই তারা বিপদে মচকে যায়। কোরআনুল কারিমে আল্লাহ এরশাদ করেন يا ايها الذين امنوا هل ادلكم علاي نزار اديل من عذاب اليم تؤمنون بالله ورسوله وتجاهدون في سبيل الله باموالهم وانفسهم ذلكم خير لكم ان كنتم تعلمون। হে ঐলোক সকল,যারা ঈমান এনেছ। আমি কি তোমাদের এমন এক ব্যবসায়ের কথা বলব তা তোমাদের কষ্টদায়ক আযাব থেকে বাঁচাবে? তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি ঈমান আন এবং তোমাদের জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করো।এটাই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা জানতে (সূরা সফ-১০-১১) অন্য এক আয়াতে আল্লাহ বলেন ان الله اشترى من المؤمنين انفسهم واموالهم بيان اللهم الجنه আল্লাহ তোমাদের জান ও মালকে" জান্নাতের বিনিময়ে কিনে নিয়েছেন।(সূরা তওবা, আয়াত১১১)কাজেই এই আদর্শ গ্ৰহণ না করলে যে কেউ পা ফসকে ছিটকে যেতে পারে।দ্বীনকে নিজের জীবনোদ্দেশ্য বানানো এবং নিজের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সেই আদর্শ অনুসরণ করা।দ্বীনকে আঁকড়ে ধরা এবং যেকোন বিপদে ছিটকে না যাওয়া। واعتصموا بحبل الله جميعا ولا تفرقوا(সূরা আল ইমরান, আয়াত ১০৩)"তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর দলাদলি করো না।ক। জিহাদকে আদর্শ হিসেবে না নেওয়ার কয়েকটি কারণ থাকতে পারে।যেমন:লোভ-লালসা থাকা,ব্যক্তিস্বার্থ চিন্তা করা ও নিফাক।এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো নিফাক। জিহাদের পথে অনেকে ব্যক্তি স্বার্থ চিন্তা করে।সে জিহাদ করে কতটুকু আয় করবে, কতটুকু রিজিক সে পাবে।সে পরবর্তীতে বিজয়ের পর সে লাভ করবে,কি ক্ষমতা লাভ করবে, নেতৃত্বে আসন পাবে।যে এই চিন্তায় পড়ে আছে ,তার মধ্যে আদর্শ বিচ্যুতি রয়েছে। ইতিহাসে পাতা উল্টিয়ে দেখা যায় জিহাদ পরবর্তী সময়ে মুজাহিদদের মধ্যে ক্ষমতা ও সম্পদ নিয়ে দ্বন্দ।লোভ না থাকা একটি আদর্শ।উহুদের ময়দানে স্বল্প সংখ্যক সাহাবির দায়িত্ব ছিল পাহাড়ের পেছনে পাহাড়া দেয়া। কিন্তু লোভে পড়ে তারা গণিমত সংগ্ৰহে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।এটাই তাদের ব্যর্থতার কারণ।লোভ কখনো মুমিনের গুণাবলী হতে পারে না। লোভ থাকলে সে কুফফারদের ফাঁদে পা দিতে দ্বিধাবোধ করবে না। আরেকটি হলো মুনাফিকিত্ব ।এটা এক ধরনের রোগ।যার কোন চিকিৎসা নেই।যা রোগাক্রান্ত প্রাণীর মৃত্যুর মত ভয়ংকর।সে এই রোগে ভুগে দ্বীন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।মুনাফিকরা প্রকৃত পক্ষে জিহাদ করতে চায় না। জিহাদ হতে পালিয়ে বাঁচতে চায়।তাবুক যুদ্ধের সময় কিছু সাহাবী যুদ্ধে না যাওয়ার তালবাহানা করছিল এবং জিহাদ হতে নিজেদের বিরত রেখেছিল। কাজেই আল্লাহ সূরা তাওবায় কঠোর ভাবে তাদের সমালোচনা করেন। কাজেই আমাদের মধ্যে নূন্যতম নিফাকি ও স্বার্থ চিন্তা রাখা যাবে না। দুনিয়াবি কাজের দোহাই দিয়ে জিহাদ থেকে পালায়ন করা যাবে না। আমিরের থেকে প্রাপ্ত দায়িত্ব যথাযথ পালন করতে হবে। আইডোলজি নিজের জীবনে পুরোপুরি ধারণ করতে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করতে হবে। দোয়ার কোন বিকল্প নেই। ইখলাসের সাথে নিজ দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে এবং আল্লাহর কাছেই তার প্রাপ্ত পাওয়া যাবে। আল্লাহর কাছে সৎ থাকতে হবে। নিজের অন্তরের খবর একমাত্র তিনিই জানেন।সবসময় তাকে হাজির নাজির জেনে আমল করতে হবে। আমাদের জীবনে রাসূলুল্লাহর আদর্শ পূর্ণ রূপে গ্ৰহণ করতে হবে। জিহাদী সফলতার জন্য এটার কোন বিকল্প নেই। কেননা জিহাদ নববী মানহাজ। মহান আল্লাহ বলেন "তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর জীবনে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ"।(সূরা আহযাব ,২১)। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে তার আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। জিহাদী জীবনে সবচেয়ে বড় ধাক্বা হলো পরীক্ষা,। বিপদ মুসিবতে আমরা অনেকেই ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলি। আল্লাহ আমাদের বিপদ দিয়ে পরীক্ষা করবেন যাতে দেখে নিতে পারেন আমরা মুমিন কিনা।তাই আমাদের বিপদে ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, তারা কি মনে করে আমরা ঈমান এনেছি একথা বললেই ছেড়ে দেয়া হবে।অথচ কোন পরীক্ষা করা হবে না? আমি তাদের পূর্ববর্তীদেরকেও পরীক্ষা করেছি। আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন কারা সত্যবাদি আর কারা মিথ্যুক। (সূরা আনকাবুত, আয়াত২-৩)। কাজেই পরীক্ষা আসবে। দুনিয়ার জীবন যেমন অশান্তি আর অস্থিরতায় পরিপূর্ণ। তেমনি জিহাদী জীবন কাটা বিছানো পথ।এই পথ ফুলের বিছানো পথ নয়।এটি দুর্গম পথ। সাহাবায়ে কেরাম যখন কাফেরদের অত্যাচারে অতিষ্ট। তখন আল্লাহ আয়াত নাজিল করলেন। তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিদেরকে লোহার চিরুনি দিয়ে গোশত আলাদা করে ফেলা হতো। আমাদের অনেক ভাইদেরকে জেল জুলুমের শিকার হতে হয়। তাদের জীবন ধ্বংস হয়ে যায়।ক্যারিয়ার নষ্ট হয়ে যায়।এই অবস্থায় আমাদের আদর্শকে টিকিয়ে রাখতে হবে। আল্লাহ আমাদের সকলকে আইডলোজিকে আঁকড়ে ধরার তৌফিক দিন।আমিন।।

  • #2
    মাশাআল্লাহ, সুন্দর বলেছেন ভাই...জাযাকাল্লাহ
    হে আল্লাহ, আমাদেরকে আদর্শিকভাবে মজবুতি দান করুন। আমীন
    ‘যার গুনাহ অনেক বেশি তার সর্বোত্তম চিকিৎসা হল জিহাদ’-শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ.

    Comment


    • #3
      মাশাআল্লাহ ভাই,জাযাকাল্লাহ। অনেক চমৎকার একটা পোষ্ট। উপকৃত হলাম ভাই জাযাকাল্লাহ।

      Comment


      • #4
        আল্লাহ তায়া’লা আমাদেরকে আদর্শিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে দিন... আমাদেরকে দ্বীনের মুজাহিদ ও উত্তম শহীদ হিসাবে কবুল করে নিন... আমিন ইয়া রব্ব।

        Comment


        • #5
          আল্লাহ আপনার কলমকে আরো শাণিত করুন। আমিন
          গোপনে আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকার মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত সফলতা ৷

          Comment

          Working...
          X