“আফগানিসতানে বাল্যবিবাহকে স্বীকৃতি দিচ্ছে তালিবান” – এই শিরোনামটি বিভিন্ন পত্রিকায় আসার পর বহু মুসলিম ভাই বোন হীনমন্যতার শিকার হয়েছেন। তারা এটাকে ভেবেছেন অপরাধ। তাই সাধ্যের সবটুকু ব্যয় করে তারা ইসলামকে তথাকথিত এ জঘন্য অপরাধ থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। আমি আমার সেসকল ইসলামপ্রিয় ভাই বোনদেরকে বলব: ওরা তো ঈমান আনাকেই অপরাধ মনে করে, তাহলে কি আমরা ঈমান আনা থেকেও দায় মুক্তির ঘোষণা দিব?
কেন আমরা হীনমন্যতায় ভুগি? কেন ওরা যেটাকে অপরাধ মনে করে আমরাও সেটাকে অপরাধ মনে করি? কেন আমরা ওদের বেঁধে দেওয়া ফ্রেমে ইসলামকে পরিমাপ করি? কেন আমরা ওদের তথাকথিত অপরাধ থেকে ইসলাম ও মুসলিম উমমাহকে দায় মুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে উঠি?
হে উমমাহ! জঙ্গি, সন্ত্রাসী, মৌলবাদী হওয়া থেকে আপনারা কোথায় পালাচ্ছেন? তিরস্কারকারীর তিরস্কার থেকে আপনারা কীভাবে রেহাই পেতে চাচ্ছেন? আপনাদের কাছে আল্লাহর এ বাণী কি পৌঁছায়নি :
হে মুমিনগণ! তোমাদের মধ্য হতে কেউ যদি নিজ দীন থেকে ফিরে যায়, তবে আল্লাহ এমন লোক সৃষ্টি করবেন, যাদেরকে তিনি ভালোবাসবেন এবং তারাও তাকে ভালোবাসবে। তারা মুমিনদের প্রতি কোমল এবং কাফিরদের প্রতি কঠোর হবে। তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে এবং কোনও নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করবে না। এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, যা তিনি যাকে ইচ্ছা করেন দান করেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।
—আল মায়িদাহ - ৫৪
কেন আমরা হীনমন্যতায় ভুগি? কেন ওরা যেটাকে অপরাধ মনে করে আমরাও সেটাকে অপরাধ মনে করি? কেন আমরা ওদের বেঁধে দেওয়া ফ্রেমে ইসলামকে পরিমাপ করি? কেন আমরা ওদের তথাকথিত অপরাধ থেকে ইসলাম ও মুসলিম উমমাহকে দায় মুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে উঠি?
ওরা জিহাদকে অপরাধ বলে, তাই বলে কি জিহাদ অপরাধ? মাআযাল্লাহ, আল্লাহর নাবী কি জিহাদ করেন নি?
ওরা বাল্যবিবাহকে অপরাধ বলে, তাই বলে কি বাল্যবিবাহ অপরাধ? মাআযাল্লাহ, আল্লাহর নাবী কি আয়িশা রদিয়াল্লাহু আনহাকে বাল্যকালে বিবাহ করেন নি?
ওরা বাল্যবিবাহকে অপরাধ বলে, তাই বলে কি বাল্যবিবাহ অপরাধ? মাআযাল্লাহ, আল্লাহর নাবী কি আয়িশা রদিয়াল্লাহু আনহাকে বাল্যকালে বিবাহ করেন নি?
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مَنۡ یَّرۡتَدَّ مِنۡکُمۡ عَنۡ دِیۡنِہٖ فَسَوۡفَ یَاۡتِی اللّٰہُ بِقَوۡمٍ یُّحِبُّہُمۡ وَیُحِبُّوۡنَہٗۤ ۙ اَذِلَّۃٍ عَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ اَعِزَّۃٍ عَلَی الۡکٰفِرِیۡنَ ۫ یُجَاہِدُوۡنَ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ وَلَا یَخَافُوۡنَ لَوۡمَۃَ لَآئِمٍ ؕ ذٰلِکَ فَضۡلُ اللّٰہِ یُؤۡتِیۡہِ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَاللّٰہُ وَاسِعٌ عَلِیۡمٌ
হে মুমিনগণ! তোমাদের মধ্য হতে কেউ যদি নিজ দীন থেকে ফিরে যায়, তবে আল্লাহ এমন লোক সৃষ্টি করবেন, যাদেরকে তিনি ভালোবাসবেন এবং তারাও তাকে ভালোবাসবে। তারা মুমিনদের প্রতি কোমল এবং কাফিরদের প্রতি কঠোর হবে। তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে এবং কোনও নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করবে না। এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, যা তিনি যাকে ইচ্ছা করেন দান করেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।
—আল মায়িদাহ - ৫৪
[উল্লেখ্য যে, ওয়ালি বা অভিভাভক যদি সন্তানের কল্যাণার্থে অল্প বয়সে বিয়ে দেয় তাহলে সেই বিয়ে ইসলামে বৈধ; ইসলামের বিধান মেনে তালেবান শুধু এই ধরনের বি্বাহকেই বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে; তবে, প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর কনের অধিকার আছে এই বিয়ে বহাল রাখার বা ভেঙ্গে দেওয়ার; তালেবান এসব ক্ষেত্রে নারীদের অধিকারকে সর্বোচ্চ সুরক্ষা দিয়ে থাকে; নারীকে জোরপূর্বক বিবাহ দেওয়ার বিরুদ্ধে তালেবান ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছে।]