Announcement

Collapse
No announcement yet.

উম্মাহ নিউজ # ১৭ জমাদিউল আউয়াল , ১৪৪২ হিজরী # ০২ জানুয়ারি, ২০২১ ঈসায়ী

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • উম্মাহ নিউজ # ১৭ জমাদিউল আউয়াল , ১৪৪২ হিজরী # ০২ জানুয়ারি, ২০২১ ঈসায়ী

    চুক্তি অনুয়ায়ী কোনো বছরেই বাংলাদেশকে পানি দেয়নি ভারত

    বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গা পানিচুক্তির দুই যুগ হয়েছে। তবে চুক্তি অনুয়ায়ী কোনো বছরেই বাংলাদেশকে পানি দেয়নি ভারত

    গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় এবার একই সময়ে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পয়েন্টে অন্তত ১৪ হাজার কিউসেক পানি কম বিদ্যমান রয়েছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

    পাউবো উত্তরাঞ্চলীয় পরিমাপ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোর্শেদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে প্রায় ৮৮ হাজার কিউসেক পানি বিদ্যমান। গত বছর ১ জানুয়ারি থেকে প্রথম ১০ দিনে ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গায় এক লাখ ৬১ হাজার কিউসেক পানি ছিল। এর মধ্যে বাংলাদেশের হিস্যা ছিল ৬০ হাজার ৬১ কিউসেক এবং ভারতের ৪০ হাজার কিউসেক পানি। একই সময় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির পরিমাণ ছিল এক লাখ দুই হাজার ৫৭৪ কিউসেক পানি। গত বছরের তুলনায় এবার পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পয়েন্টে অন্তত ১৪ হাজার কিউসেক পানি কম বিদ্যমান।

    এদিকে ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মাপাড়ের বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক বছর ধরে পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে পানি থাকে না। ব্রিজের ১৫টি পিলারের মধ্যে ১০টি পিলারই চরের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। ব্রিজের যে পাঁচ পিলারের নিচে পানি থাকে তার আশপাশে স্থানীয় কৃষকরা আখ, চিনাবাদাম, ধান, গাজরসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন। এ বছরও কৃষকরা চাষ শুরু করেছেন। আর পানিবিহীন পদ্মার বুক থেকে স্থানীয় বালু ব্যবসায়ীরা বালু কেটে বিক্রি করেন। এবারও শুরু হয়েছে বালি বিক্রির কাজ। নদীতে পানি কম থাকায় নদী মাছশূন্য হয়ে পড়ছে বলে পেশাজীবী জেলেরা জানান।

    বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি পানিচুক্তি স্বাক্ষর হয় ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারতের হায়দারাবাদ হাউজে। যদিও চুক্তি অনুয়ায়ী কোনো বছরেই ভারত বাংলাদেশকে পানি দেয়নি।

    তারা বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করে আসছে। ফলে দেশের বৃহত্তম গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প, পাবনা সেচ ও পানি উন্নয়ন প্রকল্প, পানাসি প্রকল্প, বরেন্দ প্রকল্পসহ দেশের বৃহত্তম বিভিন্ন প্রকল্পের হাজার হাজার হেক্টর জমিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও সেচ পাম্প ব্যবহার করেও জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ অঞ্চলের ছোট ছোট নদীগুলোও ক্রমশ মরে যাচ্ছে।
    আপনাদের নেক দোয়ায় আমাদের ভুলবেন না। ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট: alfirdaws.org

  • #2
    নরসিংদীতে বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় প্রাইভেটকারের ৪ যাত্রী নিহত

    নরসিংদীর বেলাবোতে যাত্রীবাহী বাস ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও একজন আহত হয়েছেন।
    শুক্রবার (১ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদী ও ভৈরবের সীমান্তবর্তী এলাকা দরিকান্দি নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
    নিহতদের মধ্যে একজন পুরুষ ও তিনজন নারী রয়েছেন। তারা হলেন- ঢাকা বেইজিং ডাইং অ্যান্ড উইভিং ইন্ডাস্ট্রিজের জেনারেল ম্যানেজার নোয়াব আলী (৫৪), নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চলনা গ্রামের খায়রুন্নাহার (৩৫), তার বোন তিষা (২২) ও কামনা (২৪)। নিহত অন্যজন হলেন প্রাইভেটকারের চালক। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম জানা যায়নি।
    এ ঘটনায় লুনা বেগম (৩৭) নামের এক নারীকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
    পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী আল মোবারাক (ঢাকা মেট্রো ব-১৫-৭২৩৫) বাসটি নরসিংদীর বেলাবোর দড়িয়াকান্দি নামক স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী একটি প্রাইভেটকারের (ঢাকা মেট্রো গ-৩১-৭৮৭২) মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে বাসের নিচে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাইভেটকারের চারযাত্রী নিহত হন। এসময় আরও এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
    ভৈরব হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রহমান জানান, আল মোবারক যাত্রিবাহী বাসটি প্রাইভেটকারের ওপর উঠে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
    আপনাদের নেক দোয়ায় আমাদের ভুলবেন না। ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট: alfirdaws.org

    Comment


    • #3
      ভারতে পুলিশের উপস্থিতিতেই মালাউনদের ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিয়ে মসজিদের মিনার ভাঙ্গচুর

      ভারতের কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন সন্ত্রাসী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর জেলার একটি মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামে নামাজের সময় মসজিদের সামনে উস্কানিমূলক স্লোগান দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় মসজিদের উপরে উঠে ‘জয় শ্রী রাম’ বলে স্লোগান দিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতেই মসজিদের একটি মিনার ভাঙ্গার চেষ্টা করছে উগ্র হিন্দুরা।

      উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের তহবিল সংগ্রহের জন্য ডানপন্থী হিন্দু সংগঠনের আয়োজিত র*্যালি থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল বলে জানা গেছে।

      মঙ্গলবার ইন্দোর জেলার একটি মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। র*্যালিতে অংশগ্রহণকারী হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা একটি মসজিদের সামনে থেমে উস্কানিমূলক স্লোগান দিতে থাকে। মসজিদে তখন মুসল্লিরা নামাজ পড়ছিলেন।

      সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গেরুয়া পতাকাবাহী একটি হিন্দু সন্ত্রাসী দল মসজিদের উপরে উঠে ‘জয় শ্রী রাম’ বলে স্লোগান দিচ্ছে এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই মসজিদের একটি মিনার ভাঙ্গার চেষ্টা করছে।

      মাত্র তিন দিন আগে উজাইনের মুসলিম অধ্যুষিত বেগমবাগ এলাকায় একই ধরণের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই অঞ্চলে বিজেপির যুব সংগঠন ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা (বিজেওয়াইএম) আয়োজিত একটি র*্যালি থেকে পাথর নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

      উজাইন জেলায় প্রথম সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে ২৫ ডিসেম্বর। সেখানে বিজেওয়াইএম সদস্যরা প্রস্তাবিত অযোধ্যা রাম মন্দিরের জন্য তহবিল সংগ্রহ করতে একটি মোটরসাইকেল র*্যালি বের করে।

      বেগমবাগের এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, বিজেওয়াইএম কর্মীরা দিনের বেলায় একাধিকবার একটি এলাকার পাশ দিয়ে মিছিল করে যাওয়ার সময় কিছু স্থানীয়কে গালি দেয়।

      ‘তারা গালিগালাজ করে স্থানীয়দের উস্কে দিচ্ছিল। দিনে কয়েক হাজার বাইকচালক একাধিকবার ওই এলাকা পার হয় এবং প্রতিবারই তারা স্থানীয় ও পথচারীদের বাজে মন্তব্য করতে থাকে,’ উজাইনের মুসলিম নেতা খালিকুর রেহমান বলেন।

      ‘ক্রমাগত উস্কানির ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে স্থানীয় জনগণ। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পাথর ছোঁড়াছুড়ি হয়। এই ঘটনায় অনেক বাসিন্দাদের গাড়ি-বাড়ি ও হাসপাতালের ক্ষয়ক্ষতি হয়।’

      এছাড়া, মঙ্গলবার চন্দনপুর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার (৬২ মাইল) দূরে মন্দাসৌর জেলার দোরানা গ্রামে একটি গোষ্ঠী স্থানীয় একটি মসজিদের মিনার ভাঙচুরের চেষ্টা করেছে বলে জানা গেছে।

      ১৯৯২ সালে শহীদ করা ষোড়শ শতাব্দীর বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণের জন্য ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বেশ কয়েকটি ডানপন্থী হিন্দু সংগঠন তহবিল সংগ্রহ শুরু করেছে।

      ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট বাবরি মসজিদের জায়গায় একটি হিন্দু মন্দির নির্মাণের জন্য সরকার-পরিচালিত একটি ট্রাস্টকে দায়িত্ব দেয়।

      ‘দায়মুক্তির সংস্কৃতি’
      বছরজুড়ে ভারতে কট্টোর হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা সংখ্যালঘুদের বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান ভাঙচুর করেছে।

      ফেব্রুয়ারিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির কয়েকটি অংশে পগরম ছড়িয়ে পড়লে হিন্দুত্ববাদীরা বেশ কয়েকটি মসজিদ ভাঙচুর করে।

      দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অপুরবানান্দ বলেছে, ‘এখন ভারতে দায়মুক্তির একটি সংস্কৃতি চালু হয়েছে।’ সে আরো বলেছে, ‘বিজেপি শাসিত সবক’টি রাজ্যেই আমরা একই রকম ঘটনার বৃদ্ধি দেখতে পাব।’

      ‘জনগণকে খোলা লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে … তারা জানে যে তাদের কিছু হবে না। ‘ – আলজাজিরা

      ভিডিওতে দেখুন মসজিদে উগ্র সন্ত্রাসী দল বিজেপি গুণ্ডাদের আক্রমণ :
      আপনাদের নেক দোয়ায় আমাদের ভুলবেন না। ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট: alfirdaws.org

      Comment


      • #4
        ভয়াবহ হচ্ছে কিশোর গ্যাং কালচার

        সারা দেশে কিশোর গ্যাং কালচার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কিশোররা ব্যবহৃত হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের অপরাধের ধরনও পাল্টে যাচ্ছে।

        এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, চুরি-ছিনতাই থেকে শুরু করে খুনাখুনিসহ নানা অপরাধে কিশোর-তরুণরা জড়িয়ে পড়ছে। মাদক ব্যবসা ও দখলবাজিতেও তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে।

        ১৭ বছরে ঢাকায় কিশোর অপরাধীদের হাতে ১২০ জন খুন হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২ বছরে ৩৪ জন খুন হয়েছেন। এসব ঘটনায় চার শতাধিক কিশোরকে আসামি করা হয়েছে।

        নানা অপরাধে জড়িয়ে কিশোররা ক্রমেই অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। অধিকাংশ কিশোর গ্যাং গড়ে ওঠার পেছনে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা মদদ দিচ্ছে। ‘হিরোইজম’ প্রকাশ করতেও পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাং গড়ে উঠছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, কিশোর গ্যাং সদস্যদের তৎপরতা রোধে শিগগিরই বড় ধরনের অভিযান চালানো হবে।

        আধিপত্য বিস্তার, সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব, প্রেমের বিরোধ, মাদকসহ নানা অপরাধে কিশোররা খুনাখুনিতে জড়িয়ে পড়ছে। সম্প্রতি কিশোর গ্যাংয়ের হাতে খুনের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করে স্থানীয় ‘বড় ভাই’রা। ঢাকায় আন্ডারওয়ার্ল্ডের খুনাখুনিতে কিশোর ও তরুণদের ব্যবহার করার ঘটনাও ঘটেছে।

        একটি গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকায় ৩৪টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। র*্যাবের প্রতিবেদনে ঢাকায় অর্ধশত কিশোর গ্যাং সক্রিয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

        তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকায় শতাধিক কিশোর গ্যাং সক্রিয়। ঢাকার মিরপুর ও উত্তরা এলাকায় সবচেয়ে বেশি কিশোর গ্যাং সক্রিয়। এ দুই এলাকায় প্রায় অর্ধশত কিশোর গ্যাং সক্রিয়। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা খুনাখুনি, মাদক, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে মিরপুর এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় ভয়ংকর সব অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কিশোর গ্যাং কালচার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

        ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু যুগান্তরকে বলেন, নানা কারণে কিশোর গ্যাং গড়ে উঠছে। প্রথমে তুচ্ছ এবং পরে বড় অপরাধের সঙ্গে তারা জড়িয়ে পড়ছে। গডফাদাররা তাদের নিয়ন্ত্রণ করে।

        দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে নতুন বছরের শুরুতে মাঠে নামার পরিকল্পনা করছে একাধিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। এরই মধ্যে ঢাকার পাড়ামহল্লার কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তালিকা ধরে র*্যাবও অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিয়েছে।

        র*্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। অতীতে এ বিষয়ে অনেক অভিযান চালানো হয়েছে। সম্প্রতি র*্যাবের পক্ষ থেকে অনেক কাজ করা হয়েছে। এলাকাভিত্তিক গ্যাং সদস্যদের সংখ্যা, নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়েছে। হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী শিগগিরই বড় ধরনের অভিযান চালানো হবে।

        ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) শাহ আবিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, যখন যেখানে কিশোর গ্যাং সক্রিয় থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া। এছাড়া এ বিষয়ে আমাদের কিছু পর্যবেক্ষণ আছে, সেটি নিয়েও কাজ করছি।

        খুনাখুনি চলছে : এ বছর ৩০ আগস্ট ঢাকার ওয়ারীতে দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক কিশোর মুন্নাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ৭ সেপ্টেম্বর সবুজবাগে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বের জেরে কিশোর জব্বারকে খুন করা হয়। ২০১৯ সালের ২১ মার্চ উত্তরখানে ‘বিগ বস’ এবং ‘কাশ্মীরি’ গ্রুপের সংঘর্ষে কামরুল হাসান হৃদয় খুন হয়। ওই কিশোর ‘বিগ বস’ গ্রুপের সদস্য ছিল। শুধু তিনটি ঘটনা নয়, দুই বছরে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে ৩৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে।

        জানা গেছে, আগে ঢাকার শিশু আদালতে শিশু-কিশোরদের মামলার বিচার হতো। ২০১৯ সালের ১৯ জানুয়ারির পর থেকে এসব মামলার বিচার ঢাকার ৯টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে চলছে। ঢাকার শিশু আদালতে ২০১৮ সালের ৩১ নভেম্বর পর্যন্ত ৮৬টি খুনের মামলার বিচারকাজ চলে। ২০০৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে এসব খুনের ঘটনা ঘটে। পরবর্তী দুই বছরে ঢাকায় আরও ৩৪টি খুনের ঘটনা ঘটে।

        ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে উত্তরায় আদনান কবির হত্যার পর কিশোর গ্যাংয়ের কর্মকাণ্ড আলোচনায় আসে। ওই সময় রাজধানীসহ সারা দেশে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। এর কিছুদিন পর অভিযানে ঢিলেঢালা ভাব শুরু হয়। রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় দুই বছরে তাদের হাতে ৩০টির বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে।

        চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদক সংশ্লিষ্টতা : একাধিক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, কিশোর অপরাধীদের একটা বড় অংশ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভাসমান জীবনযাপন করে। রেললাইন ও বস্তি এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তারা জড়িত। বিশেষ করে মাদক, ছিনতাই ও ডাকাতির সঙ্গে তারা জড়িত।

        র*্যাবের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ৫০টি কিশোর গ্যাং সক্রিয়। এর মধ্যে উত্তরায় ২২টি ও মিরপুরে ১০টি গ্যাং সক্রিয়। এছাড়া তেজগাঁও, ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর, হাজারীবাগ, মহাখালী, বংশাল, মুগদা, চকবাজার ও শ্যামপুরে একাধিক গ্যাং সক্রিয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা খুন, ছিনতাই-চাঁদাবাজি, শ্লীলতাহানি ও ইভটিজিং এবং মাদক ব্যবসার মতো অপরাধে বেশি জড়াচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের নিয়ন্ত্রক বা পৃষ্ঠপোষকের ভূমিকায় সমাজের কিছু ‘বড় ভাই’ রয়েছে।

        জানা গেছে, গ্রেফতার কিশোরদের দেশের তিনটি কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হয়। অধিকাংশ কিশোরই হত্যা, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক, অস্ত্র ও বিস্ফোরক, নারী ও শিশু নির্যাতন, পর্নোগ্রাফি, তথ্যপ্রযুক্তি মামলার আসামি।

        র*্যাব জানায়, ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত র*্যাবের হাতে ২৯২ জন কিশোর অপরাধী গ্রেফতার হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভাসমান ছিনতাইকারীদের বড় অংশই কিশোর। তারা শুধু ছিনতাই নয়- ডাকাতি, মাদক ও চাঁদাবাজির সঙ্গেও জড়িত।

        গত বছরের মাঝামাঝি সময় রাজধানীর উত্তরা থেকে ‘ফার্স্ট হিটার বস’ বা ‘এফবিএএইচ’ নামে কিশোর গ্যাংয়ের ১৪ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। মাদক সেবন, র*্যাগিং, ছিনতাই এবং অশ্লীলতার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তারা জড়িত ছিল।

        সূত্রাপুর থেকে মাদক ব্যবসা, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির অভিযোগে লেজ টু পেজ নামে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। একই বছরের আগস্টে কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, রেললাইন বস্তিসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪৬ জনকে কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়। একই বছরের সেপ্টেম্বরে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪২ কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়।

        বিশেষজ্ঞ মতামত : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হক যুগান্তরকে বলেন, কিশোর গ্যাং কালচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা পর্যায়ক্রমে আলাদা আলাদা গ্রুপ তৈরি করে। তাদের ড্রেস কোড থাকে, আলাদা হেয়ার স্টাইল থাকে, তাদের চালচলনও ভিন্ন। তারা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। তারা নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। নানাভাবে তারা অর্থ সংস্থানের চেষ্টা করে। এলাকার কোনো ‘বড় ভাই’র সহযোগী শক্তি হিসেবেও তারা কাজ করে।

        সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, কিশোরদের একত্রিত করে কতিপয় ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের অপরাধে সম্পৃক্ত করছেন। তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিচয়ও আছে। সহজ ও অল্প খরচে কিশোরদের দিয়ে তারা অপরাধ করানোর সুযোগ নিচ্ছে। অস্ত্রবাজি, মাদক ও হত্যাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তারা কিশোরদের ব্যবহার করে। এছাড়া কোনো কোনো রাজনৈতিক নেতা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে কিশোর গ্যাং তৈরি করছে। এটি হল কিশোর গ্যাং তৈরির একটি দিক। অন্য আরেকটি দিক হল- আমাদের দেশে শিশুদের লালনপালন করার ক্ষেত্রে পরিবারগুলো শিক্ষা, চিকিৎসা এবং অন্যান্য বিষয়ে যথাযথভাবে দায়িত্বপালন করছে না। নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানরা অপরাধে জড়ায় এমন একটি কথা সমাজে প্রচলিত আছে। এ ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। এখন উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরাও অপরাধে জড়াচ্ছে। সঠিক ও সুষ্ঠু সামাজিকীকরণের বিষয়টি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে কিশোরদের মধ্যে ক্ষোভ-হতাশা তৈরি হচ্ছে। এগুলো প্রশমিত না হওয়ায় তারা নানা ধরনের অপরাধে জড়াচ্ছে। এসব কারণ বিশ্লেষণ করে সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ না নিলে কিশোর অপরাধ কমানো সম্ভব নয়।

        সূত্র:যুগান্তর
        আপনাদের নেক দোয়ায় আমাদের ভুলবেন না। ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট: alfirdaws.org

        Comment


        • #5
          মাদরাসাশিক্ষক নির্দোষ প্রমাণিত, বলাৎকারের মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে মামলা

          চাঁদপুরের কচুয়ার সাতবাড়িয়া তা’লীমুল কোরআন মাদরাসায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে হিফজ বিভাগের ১৩ বছরের শিশুছাত্রকে বলাৎকারের আভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। পরে মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষক মুক্তি পাবেন দু’একদিনের মধ্যেই।

          গতকাল প্রথম সারির কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ‘হিফজ বিভাগের ১ত বছরের শিশুছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসাশিক্ষকের মাথা ন্যাড়া করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুরের কচুয়ার সাতবাড়িয়া তা’লীমুল কোরআন মাদরাসায়।

          পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক ওমর ফারুককে (২২) গ্রেপ্তার করেছে। জানা যায়, গত ২৮ ডিসেম্বর বাথরুমে মাদরাসার হিফজ বিভাগের ১৩ বছরের শিশুছাত্রকে সে বলাৎকারের মিথ্যে অভিযােগ আনা হয়। পরে জানাজানি হলে স্থানীয় জনতা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাদরাসা ঘেরাও করে ওই শিক্ষককে আটক করে মাথা ন্যাড়া করে পুলিশকে খবর দেয়।

          খবর পেয়ে কচুয়া থানার এসআই মকবুল হোসেন ফোর্স নিয়ে ওই দিন রাতেই উত্তেজিত জনতার রোষানল থেকে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে এবং বুধবার অভিযুক্ত ওমর ফারুককে জেলহাজতে প্রেরণ করে।’

          মাদরাসার কর্তৃপক্ষের একজন সাজ্জাদ শাফায়াত জানিয়েছেন, ‘তাকে পুলিশ আটক করার পর কচুঁয়ার বড় বড় আলেমদের নিয়ে মিটিং হয়। মিটিংয়ের পর মাদরাসার সি সি টিভি ফুটেজ দেখা হয়। এতে দেখা যায়, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি, শিক্ষক সম্পূর্ণ নির্দোষ। তার নির্দোষ প্রমাণ পাওয়ার পর গ্রামের লোকজন মিটিং করে সমাধান করে দিতে চেয়েছে।

          কিন্তু এটা এতো সহজে সমাধান করা যাবে না। তাই এটার সাথে যারা যারা জড়িত ছিলো তাদের নামে আমাদের অত্র মাদরাসার পরিচালক মাওলানা হোসাইন সাহেব মামলা দেয়, আমার বাবাও মামলা দিবে । বর্তমান হুজুর জেলে আছে তাকে কাল বা পরশু ছেড়ে দিবে, তিনি বের হওয়ার পর আরেকটি মামলা দিবো ইনশাআল্লাহ।’

          এই মাদরাসা প্রতিষ্ঠার পেক্ষাপট তুলে ধরে শাফায়াত বলেন, ‘চাঁদপুর, কচুয়া, রহিমানগর বাজারে সাতবাড়িয়া বড় বাড়ি নামে আমাদের বাড়িটি পরিচিত। দাদু, চাচারা সবাই আমরা ঢাকায় বসবাস করি। তাই আমাদের বাড়িটি আমরা মাদরাসা করে ফেলি। এই ভেবে যে খালি বাড়ি পড়ে থাকার থেকে দুই চার টা ছেলে সেখানে কুরআন পড়বে আর সেখান থেকে কিছু সওয়াব পাবো তা ভেবে মাদরাসা করা।

          আমাদের এই মাদরাসাটির শুরু থেকে বেশ শত্রু লেগে আছে কিন্তু তারপরও আমাদের মাদরাসা টা বেশ ভালো চলতে লাগলো আলহামদুলিল্লাহ। মাদরাসার বেশ সুনামও ছড়িয়ে যায় গ্রামে, মাদরাসাটি মাওলানা হোসাইন সাহেব পরিচালনা করেন, তিনি সম্পর্কে আমার আংকেল হয়।’
          আপনাদের নেক দোয়ায় আমাদের ভুলবেন না। ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট: alfirdaws.org

          Comment


          • #6
            আল্লাহ নির্যাতিত উম্মাহকে হিফাযত করুন ও ভাইদের কাজগুলো কবুল করুন। আমীন
            ‘যার গুনাহ অনেক বেশি তার সর্বোত্তম চিকিৎসা হল জিহাদ’-শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ.

            Comment

            Working...
            X