বর্বর ইসরায়েলি অবরোধে গাজায় পূর্ণমাত্রায় দুর্ভিক্ষ চলছে

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় বর্বর ইসরায়েলি সেনারা ত্রাণ ঢুকতে না দেওয়ায় সেখানে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। গাজায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সর্বশেষ চিত্র তুলে ধরেছে খাদ্য সংকট ও অপুষ্টি পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি)।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা শহর ও আশপাশের এলাকায় ইতোমধ্যেই দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে। যখন মনে হচ্ছিল গাজার ভয়াবহ পরিস্থিতি বোঝাতে আর কোনো শব্দ অবশিষ্ট নেই, তখন নতুন একটি শব্দ যোগ হলো—দুর্ভিক্ষ। এটি কোনো হঠাৎ ঘটে যাওয়া রহস্যজনক ঘটনা নয়, বরং এটি মানুষের তৈরি এক ভয়ঙ্কর বিপর্যয়। এটি নৈতিকতার চরম ব্যর্থতা এবং মানবতার প্রতি অবমাননা।
আইপিসির বিশ্লেষকরা বলেছেন, গাজায় ৫ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষুধার জালে আটকা পড়েছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দুর্ভিক্ষ দেইর আল বালাহ ও খান ইউনিসে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আইপিসি গাজা সিটিতে খাদ্য সংকট বোঝাতে পর্যায়-৫ উল্লেখ করেছে। খাদ্য সংকট বুঝার এটি শেষ ধাপ। আইপিসির প্রতিবেদন নিয়ে শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও) তাদের ওয়েবসাইটে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
জাতিসংঘের সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার বলেছে, ‘এই দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধযোগ্য ছিল। কিন্তু দখলদার ইসরায়েলের বাধার কারণে খাবার পৌঁছানো যাচ্ছে না।’ আর জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার টুর্ক বলেছে, ‘যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ক্ষুধা ব্যবহার করা যুদ্ধাপরাধের শামিল।’
গাজায় এখন শুধু খাদ্যের অভাব নয়, বরং মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পূর্ণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এখানে চিকিৎসা, খাদ্য, ওষুধ—সবকিছু ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। গাজার এই চিত্র বিশ্বকে আবারও মনে করিয়ে দিল যে, গাজায় চলমান দুর্ভিক্ষ শুধু মানবিক সংকট নয়, এটি রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতারও কঠিন পরীক্ষা।
তথ্যসূত্র:
1. Famine confirmed for first time in Gaza
– https://tinyurl.com/4ptksrjn
2. ‘Man-made disaster’: Famine declared in Gaza City where half a million face starvation
– https://tinyurl.com/2ze674fh
Comment