Announcement

Collapse
No announcement yet.

উম্মাহ নিউজ || ৪ঠা রবিউল আউয়াল, ১৪৪৭ হিজরি || ২৮ আগস্ট, ২০২৫ ঈসায়ী​

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • উম্মাহ নিউজ || ৪ঠা রবিউল আউয়াল, ১৪৪৭ হিজরি || ২৮ আগস্ট, ২০২৫ ঈসায়ী​

    অন্যায়ভাবে গুমকৃত ব্যক্তিদের জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ে চাপ প্রয়োগ করেছিল খোদ ম্যাজিস্ট্রেটরাও




    শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে গুম থেকে ফেরা দুই শতাধিক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ করেছেন যে, জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ে পুলিশের সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটরাও যৌথভাবে ভূমিকা রেখেছে। তাদের অধিকাংশ জানান, গুমকালীন তাদের নির্যাতনের পর পুলিশের লিখে দেওয়া বক্তব্য হুবহু স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়েছিল।

    গুম থেকে ফেরা ব্যক্তিদের সংগঠন ‘ভয়েস অব এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ার্ড পারসন্স (ভয়েড)’ এই অভিযোগনামা লিখিতভাবে তৈরি করেছে। ভুক্তভোগীদের বেশিরভাগই গুম-সংক্রান্ত কমিশনে পৃথকভাবে তাদের অভিযোগ জমাও দিয়েছেন। অনেকে এ নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলাও করেছেন। গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তৎকালীন সরকারের বাহিনীগুলো যে মামলা করেছিল, সেসব মামলা থেকে অনেকে খালাস পেয়েছেন, বাকিরা খালাস পেতে আবেদন করেছেন।

    অভিযোগ অনুযায়ী, স্বীকারোক্তি আদায় শুধু পুলিশের কাজ ছিল না; অনেক ক্ষেত্রে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরাও পুলিশের সাজানো বক্তব্যকে বৈধতা দিয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ম্যাজিস্ট্রেটের ভূমিকা গুমকারীদের মতোই ছিল। নারী শিক্ষার্থী, দিনমজুর, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এসব অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

    ভয়েড-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা গুমফেরত প্রকৌশলী মাসরুর আনোয়ার চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শেখ হাসিনার শাসনামলে স্বীকারোক্তি আদায়ের প্রক্রিয়া কেবল পুলিশের নির্যাতনের ওপর নির্ভরশীল ছিল না; বরং অনেক ক্ষেত্রেই আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটরাও তা বৈধতা দিতে সহায়তা করেছে। ভুক্তভোগীদের ভাষায়, এ ধরনের আচরণ বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি করেছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের স্পষ্ট উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি বলেন, ভয়েডের সদস্য দুই শতাধিক। গুম করে তাদের বিরুদ্ধে মামলার পর বেশিরভাগেরই জবানবন্দি আদায়ের ক্ষেত্রে তৎকালীন কিছু অসৎ পুলিশ কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেট যৌথভাবে কাজ করেছেন।

    স্বীকারোক্তি আদায়ের লোমহর্ষক বর্ণনা

    ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারার বিধানমতে, হলি আর্টিজান হামলার আসামি হাদিসুর রহমানের লিখিত বক্তব্যে উঠে এসেছে স্বীকারোক্তি আদায়ের চাঞ্চল্যকর বর্ণনা।

    হাদিসুর রহমান বলেন, ‘…ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে এসি ইমরান বসে ছিল। ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশকে বলে, কী আনছেন? দেন। পুলিশ তখন টাইপ করা কাগজ ম্যাজিস্ট্রেটকে দেয়। ম্যাজিস্ট্রেট বলেন স্বাক্ষর কর। আমি বলি, না পড়ে আমি স্বাক্ষর করব না। ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশকে চোখ টিপ দিয়ে বলে, একে নিয়ে যান। পুলিশ আমাকে ম্যাজিস্ট্রেটের খাসকামরার পাশে বাথরুমে নিয়ে গিয়ে হাত-পা, চোখ-মুখ বেঁধে নির্যাতন করে, বুট দিয়ে লাথি দিয়ে আমার পায়ের আঙুল থেঁতলে দেয়। একটু পর আবার ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিয়ে আসে। তখনো পুলিশ অফিসার ম্যাজিস্ট্রেটের কামরায় ছিলেন।’

    ‘এরপর আমি ম্যাজিস্ট্রেটকে বলি, স্যার, আপনার সঙ্গে আমি কথা বলব। ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশকে বাইরে যেতে বলে। আমি ম্যাজিস্ট্রেটকে বলি, স্যার দেখুন আমাকে কীভাবে নির্যাতন করেছে, আমার পায়ের আঙুল থেঁতলে দিয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট তখন বলে, স্বাক্ষর দে বাবা, না হলে আরো বেশি মারবে। এ কথা শুনে আমি হতবাক হয়ে যাই। বলি, স্বাক্ষর করব না। ম্যাজিস্ট্রেট তখন বলেন, ও স্বাক্ষর করবে না। ওকে নিয়ে যাও, আচ্ছামতো বানাও; কোনোরকম যেন বেঁচে থাকে। এরপর কোর্ট গারদে জমা দিয়ে যাবে।’

    হোলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার তদন্তেও অনেক আসামির পুলিশি নির্মমতা এড়িয়ে গিয়েছিল ম্যাজিস্ট্রেট। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায়ে পুলিশের সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটের যোগসাজশের অভিযোগ উঠে এসেছে সেই মামলায় আমৃত্যু সাজাপ্রাপ্ত কয়েকজন আসামির বর্ণনায়।

    আমৃত্যু সাজাপ্রাপ্ত আসামি সবুর খানের পক্ষে তার ভাই হাফিজুল ইসলাম গুম-সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারিতে জমা দেওয়া চিঠিতে তার ভাইকে গুমের পর নির্যাতন ও ম্যাজিস্ট্রেটের উদাসীনতার অভিযোগ তোলেন।

    গুম-সংক্রান্ত কমিশনে সবুর লেখেন, ২০১৭ সালের ১০ মে তাকে নাচোল থেকে আটক করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ। এরপর বগুড়া ডিবির বিভিন্ন কর্মকর্তার নেতৃত্বে তাকে কয়েক সপ্তাহ ধরে একাধিক স্থানে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এ সময় তার হাত ও চোখ বেঁধে রাখা হতো, ঘুমতে দেওয়া হতো না এবং ক্রমাগত ভয় দেখানো হতো। এরপর তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কোনো সত্যিকারের শুনানি বা তদন্ত ছাড়াই পুলিশের তৈরি কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করানো হয়। পুলিশ হুমকি দিত যে, স্বীকারোক্তি না দিলে তার বিপদ হবে। এভাবে পুলিশের নির্যাতন ও ম্যাজিস্ট্রেটের যোগসাজশের মাধ্যমে তাকে জোরপূর্বক ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়।

    ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখার কারণে গুম হয়েছিলেন ইমরান হুসাইন। বর্তমানে শিক্ষকতা পেশায় জড়িত ইমরান বলেন, ‘আমার জবানবন্দি নেওয়ার সময় তদন্ত কর্মকর্তা ছিল ইকবাল আহম্মেদ। জবানবন্দি চলাকালীন একাধিকবার তদন্ত কর্মকর্তা প্রাইভেট রুমে প্রবেশ করে ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কানে কানে কথা বলে। একবার জিআরও পুলিশের মাধ্যমে চিরকুট পাঠানো হয়। জবানবন্দিতে আমি গুম ও অত্যাচারের কথা উল্লেখ করলেও তা লেখা হয়নি। বরং এমন কিছু লেখা হয়েছে, যা আমি বলিনি। শেষ পর্যন্ত আমাকে জবানবন্দিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়।’

    গুমফেরত শিক্ষার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘মাদারীপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনের সামনে আমাকে ডাণ্ডাবেড়ি ও হাতকড়া পরিয়ে উপস্থিত করা হয়। সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টায় আমাকে ম্যাজিস্ট্রেটের খাসকামরায় নিয়ে যাওয়া হয়। ম্যাজিস্ট্রেট রূঢ় আচরণ করে এবং হুমকি দেয় যে, জবানবন্দি না দিলে পুলিশ আমাকে মেরে ফেলবে।’

    একাডেমিয়ায়ে উলুমুল হাদিসের এই শিক্ষার্থী আরো বলেন, ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরীও খারাপ আচরণ করেছিল। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়ার সময় বাইরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিরাজুম মনিরাসহ অন্যান্য পুলিশ অস্ত্র তাক করে দাঁড়িয়ে ছিল। শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখানোর পরও ম্যাজিস্ট্রেট কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বরং বলেছিল, তোমাকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতেই হবে।’ মাদারীপুরের অধিবাসী খালেদ সাইফুল্লাহ পরবর্তীতে সব মামলায় খালাস পেয়েছেন।

    সিলেটের ছাতক মাদরাসার শিক্ষার্থী মো. লুকমান মিয়া ১৬ মাস র‍্যাব-৭-এর কাছে গুম ছিলেন। তিনি বলেন, ‘রাঙামাটিতে একটি মামলায় আদালতে তোলা হলে র‍্যাবের এডিসি ইকবাল ও একজন ম্যাজিস্ট্রেট জোর করে জবানবন্দি নিতে চায়। অস্বীকার করলে দুজনই হত্যার হুমকি দেয়। র‍্যাবের ইকবাল বলেন, এরে সারা বাংলাদেশে ১৫টা মামলা দিয়ে দেব, দেখব কীভাবে আলোর মুখ দেখে।’

    রাজধানীর মাতুয়াইলের রফিকুল ইসলাম স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, গুম অবস্থায় ভেবেছিলাম ম্যাজিস্ট্রেট নিরপেক্ষ থাকবে। কিন্তু আদালতে তোলা হলে ম্যাজিস্ট্রেট বলে, সাইন করো। আমি পড়তে চাইলে উত্তর আসে, ‘তোমার জায়গা-জমি লিখে নিচ্ছি না’। অস্বীকার করলে পুলিশ লাথি মারে এবং বাবা-মাকে তুলে আনার হুমকি দেয়। পরে ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘আজ না দিলে কাল অস্ত্র মামলায় চাইব, তারপর হত্যা মামলায় চাইব। দেখি কটা না দিতে পারিস। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে স্বীকারোক্তি দিই।’

    গুমফেরত কয়েকজন বলেন, তাদের নিজ হাতে লিখতে দেওয়া হয়নি, জানানো হয়নি যে স্বীকারোক্তি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে পারে। কেউ কেউ জানান, পুলিশ জোর করে লিখিয়ে নিয়েছে, আবার কারো কারো গায়ে চড়-থাপ্পড় দিয়েছে ম্যাজিস্ট্রেটরাই।

    গুমফেরত এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমি ১৬৪ দিইনি, এজন্যই ম্যাজিস্ট্রেট প্রাণনাশের ভয় দেখিয়েছিল।’

    তোমরা নাকি শুধু হিন্দু মারো ম্যাজিস্ট্রেটের প্রশ্ন

    জেএমবি-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পুলিশের সাজানো মামলায় প্রায় সাড়ে ছয় বছর বিনাবিচারে নরসিংদী কারাগারে বন্দি ছিলেন মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ইসরাত জাহান মৌ ও খাদিজা পারভীন মেঘনা। ২০১৮ সালে গুমের পর নরসিংদীর নিলুফার ভিলায় নিয়ে গিয়ে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) একটি জঙ্গি নাটক মঞ্চস্থ করে। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ছয়টি মামলার মধ্যে হত্যা মামলা থেকে ইতোমধ্যে খালাস পেয়েছেন তারা।

    জামিনে মুক্ত মেঘনা জানান, রাতে হঠাৎ একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে ইশরাত জাহান মৌ, পরে তাকে এক নারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক। ম্যাজিস্ট্রেট প্রশ্ন করে, ‘কীভাবে জঙ্গি হয়ে উঠলেন?’ জবাবে মেঘনা বলেন, ‘আমরা জঙ্গি নই, সবই সাজানো নাটক।’ কিন্তু তাদের কোনো বক্তব্য শোনা হয়নি।

    তিনি আরো বলেন, ভীতিকর পরিবেশে রাইফেল হাতে পুলিশ ছিল। আব্দুর রাজ্জাক ওই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নানাভাবে প্রভাবিত করছিল। এমন সময় ম্যাজিস্ট্রেট ফোনে বলে, ‘ওরা বলছে ওরা জঙ্গি নয়, আর বাসা থেকেও কিছু পাওয়া যায়নি।’ এরপর আবার তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘তোমরা নাকি শুধু হিন্দু মারো?’ মেঘনা জবাব দেন, ‘আমরা তো ছাত্রী, হিন্দু মারব কেন?’ কিন্তু তাতেও সন্দেহ কাটেনি।

    মেঘনা অভিযোগ করেন, তারা স্বাক্ষর না করলে একজন নারী পুলিশ ডেকে আনা হয়। তারপর জোর করে প্রতিটি পাতায় স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। পরে জানতে পারেন, এই স্বাক্ষরকে স্বীকারোক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

    অন্য আসামি ইশরাত জাহান মৌ বলেন, ‘একজন নারী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আমাকে নেওয়া হয়। আমি হাতকড়ার দাগ ও নির্যাতনের চিহ্ন দেখাই। কিন্তু সে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, বরং পুলিশের লিখে দেওয়া খসড়ায় স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করেছিল।’

    একই মামলার আরেক আসামি রাকিবুল হাসান ওয়ালিদ জানান, ‘আমাদের সবার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নরসিংদীর তৎকালীন অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শামীমা আক্তার নিয়েছিল।’

    বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ও হকার সবার একই অভিযোগ

    ২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে জাতীয় শোক দিবস পালনের প্রস্তুতির সময় ঢাকার পান্থপথের ওলিও ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে পুলিশ ও সোয়াটের যৌথ অভিযানে খুলনার বিএল কলেজের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম নিহত হয়। তার পরিবার জানায়, তিনি চাকরির খোঁজে ঢাকায় এসেছিলেন।

    এ ঘটনায় পরে ১৩ জনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আসামি করা হয়। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, পুলিশের নির্যাতনের পাশাপাশি কিছু ম্যাজিস্ট্রেটও স্বীকারোক্তি আদায়ে সহযোগিতা করেছে। মামলার আসামি তানভীর ইয়াসিন করিম আদালতে জানান, নির্যাতনের পরও ম্যাজিস্ট্রেট তাকে আরো রিমান্ডের হুমকি দিয়ে জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছিল। একই মামলার আসামি কাসেম বলেন, নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন থাকা সত্ত্বেও ম্যাজিস্ট্রেট সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী কোনো তদন্ত না করে পুলিশের খসড়া কাগজে স্বাক্ষর দিতে চাপ দেয়। অর্থাৎ, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের বিধান এখানে মানা হয়নি।

    স্বীকারোক্তি আদায় নিয়ে যা হয়েছে, সে সম্পর্কে সাবেক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বর্ণনা

    ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪(১) ধারা অনুযায়ী মেট্রোপলিটন বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আসামির জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করতে পারে। আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে, আসামি জবানবন্দি দিতে বাধ্য নন; চাইলে তা প্রত্যাহার করতে পারবেন। ম্যাজিস্ট্রেটকে নিশ্চিত হতে হবে যে, জবানবন্দি স্বেচ্ছায় দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া ৩৬৪ ধারায় বলা হয়েছে, আসামির বক্তব্য তার নিজস্ব ভাষায় রেকর্ড করতে হবে, পড়ে শোনাতে হবে এবং স্বাক্ষরের আগে নিশ্চিত হতে হবে যে, আসামি তা বুঝেছেন।

    সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ২৩ ধারায় আসামিদের স্বীকারোক্তি আদায়ের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। ২৩ ধারায় আছে, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বীকারোক্তি রেকর্ড সম্পর্কিত বিশেষ বিধান : যে কোনো মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অথবা এতদুদ্দেশ্যে বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত যে কোনো ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত স্বীকারোক্তিমূলক কোনো বক্তব্য রেকর্ডকালে, যদি উক্ত ব্যক্তি ঘটনা সম্পর্কে লিখিতভাবে বিবৃতি প্রদান করিতে সক্ষম ও আগ্রহী হন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তিকে তাহার স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য স্বহস্তে লিপিবদ্ধ করিবার অনুমতি প্রদান করিবেন।’

    কিন্তু একাধিক আলোচিত মামলার বর্ণনা প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এসব বিধান মানা হয়নি। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের কোনো মামলাতেই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা আসামিদের স্বহস্তে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিখতে দেয়নি। বরং তারা নিজেরাই পুলিশের কথামতো তথাকথিত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিখেছেন।

    তথ্যসূত্র:
    ১. জোরপূর্বক জবানবন্দি আদায়ে পুলিশের সঙ্গী ম্যাজিস্ট্রেটরাও
    https://tinyurl.com/mw24k9zt
    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

  • #2
    গাজায় তীব্র রূপ ধারণ করেছে দুর্ভিক্ষ, অনাহারে মৃত্যু ৩১৩ জনের



    ​দখলদার ইসরায়েলের অবরোধ ও চলমান হামলার কারণে ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় আরও তীব্রতর হচ্ছে দুর্ভিক্ষ। এ পরিস্থিতিতে সেখানে অপুষ্টি ও অনাহারে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া তীব্র অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে আরও এক লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি শিশু। অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়েছে বলে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছে জাতিসংঘ।

    আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোও সতর্ক করে বলছে, গাজায় দুর্ভিক্ষ এখন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্বর ইসরায়েলের অবরোধ ও অব্যাহত হামলার কারণে সহায়তা প্রবেশ করতে না পারায় শিশুদের না খেয়ে মৃত্যুর ঘটনা বেড়েছে।

    ২৭ আগস্ট, বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া এক বিবৃতিতে কর্মকর্তারা বলেছে, গাজায় দুর্ভিক্ষ ও ব্যাপক ক্ষুধা ইচ্ছাকৃতভাবে সৃষ্ট মানবসৃষ্ট বিপর্যয়।

    জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক উপপ্রধান জয়েস মুসুইয়া জানায়, উত্তর-মধ্য গাজায়, বিশেষ করে গাজা সিটিতে দুর্ভিক্ষ চলছে। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ দুর্ভিক্ষ দক্ষিণের দেইর আল-বালাহ ও খান ইউনিসে ছড়িয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    বর্তমানে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ অনাহার, দারিদ্র্য ও মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছেন। সেপ্টেম্বরের শেষে এই সংখ্যা ৬ লাখ ৪০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। গাজার কোনো মানুষই ক্ষুধার হাত থেকে বাঁচতে পারছেন না।

    এর আগে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ২৭ আগস্ট, বুধবার দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টিতে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। এতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১৩ জনে। যার মধ্যে ১১৯ জনই শিশু।

    তথ্যসূত্র:
    1. Updates: Israel kills 51 in Gaza, 10 more Palestinians starve to death
    https://tinyurl.com/3vknjv2j
    2. Pope demands ‘collective punishment’ end in Gaza as 10 more die of hunger
    https://tinyurl.com/mpj38pza
    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

    Comment


    • #3
      ভারতে হাসিনার সাথে এস আলমের গোপন বৈঠক, দেশকে অস্থিতিশীল করতে হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা


      ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত বছরের পাঁচ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে ১৫ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতার মসনদ হারায়। হাসিনা পালানোর পর দলের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতা ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যায়।

      তবে দেশের বাইরে অবস্থান করলেও আওয়ামী লীগকে আবার দেশে ক্ষমতায় বসার জন্য নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার সহযোগীরা। দেশে অবস্থান করা নেতাকর্মী ও আওয়ামী ঘনিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছে হাসিনা।

      এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি দিল্লিতে হাসিনার সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেছে ব্যাংকের তহবিল লুটের জন্য অভিযুক্ত, জনগণের টাকা পাচারকারী এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ। বৈঠকে তারা আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসন ফেরাতে নতুন পরিকল্পনা করেছে।

      বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় ফেরানোর উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনাকে ২৫০০ কোটি টাকা হস্তান্তর করেছে এবং আরো দুই হাজার কোটি টাকা দেয়ার আশ্বাস দিয়ে এসেছে এস আলম।

      এদিকে অন্তর্বর্তী সরকার হটাতে তৈরি করা হচ্ছে ভয়াবহ নাশকতার ছক। বিভিন্ন দেশে পলাতক মুজিববাদী নেতাকর্মী এবং আমলা, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের সাবেক কর্মকর্তাদের দিয়ে আঁটা হচ্ছে কূটকৌশল। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দলীয় ক্যাডারদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। ভারতে বসে এ নীলনকশা প্রস্তুত করছে শেখ হাসিনা। জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার তৈরি করা প্রতিবেদনে মিলেছিল উদ্বেগজনক এ তথ্য।

      গোয়েন্দা সূত্র গণমাধ্যমকে জানায়, গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্ণ উপলক্ষ্যে ৫ আগস্ট দেশ দখলের স্বপ্ন দেখেছিল আওয়ামী লীগ। অস্থিরতা তৈরি করতে ঢাকা ও দিল্লিতে চলছিল প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় চার শতাধিক আওয়ামী ক্যাডারকে কর্মশালার নামে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে।

      জানা যায়, পবিত্র উমরাহ পালন করার দোহাই দিলেও সাইফুল আলম মাসুদের মক্কায় যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সে সেখানে যায় মূলত দেশ থেকে পালানো আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে। মক্কার ফেয়ারমন্ট হোটেলে বসে সে পলাতক আওয়ামী নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করে।

      আরও জানা গেছে যে, ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসর ও জনগণের অর্থ আত্মসাৎকারী হিসেবে চিহ্নিত সাইফুল আলম মাসুদ দেশ থেকে পাচারকৃত অর্থের বিনিময়ে মক্কায় একটি বিলাসবহুল হোটেল কেনার উদ্দেশ্যে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথেও জরুরি মিটিং করে।

      মক্কায় পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে দেশবিরোধী বিভিন্ন পরিকল্পনা সাজানো শেষে ৪ আগস্ট এস আলম মদিনায় চলে যায় এবং ‘ইলাফ আল তাকওয়া’ হোটেলে উঠে। সেখানে সে চট্টগ্রামের কিছু চিহ্নিত আওয়ামী ব্যবসায়ীর সাথে দেখা করে এবং বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করে। দুই দিন সেখানে অবস্থান শেষে ৬ আগস্ট সে দুবাইতে চলে যায়।

      আরব আমিরাতের দুবাইতে কোনো রকম বিলম্ব না করে ৬ আগস্ট বিশেষ ফ্লাইটে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে পৌঁছায় এস আলম। প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, দিল্লি সফরে তার সঙ্গী ছিল স্ত্রী ফারজানা পারভীনসহ তাদের ছোট ছেলে ও ইসলামী ব্যাংকের সাবেক একজন চেয়ারম্যান। দিল্লিতে নেমে তারা ওঠে ভারতের বিখ্যাত পাঁচ তারকা হোটেল দি ওবেরেই নিউ দিল্লিতে আর সেখান থেকে শুরু হয় এস আলমের এই সফরের মূল এজেন্ডা।

      এ সময় তার সাথে দেখা করে পলাতক সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ অনেকে। মূলত দেশকে অস্থিতিশীল করতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক আলোচনা হয় তাদের মধ্যে।

      এস আলমের দিল্লি সফরের সবচেয়ে বড় এজেন্ডা ছিল স্বয়ং শেখ হাসিনার সাথে গোপন মিটিং। ৮ আগস্ট দুপুরে হোটেলে এস আলম তার সব ফোন ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস রেখে একটি নম্বরপ্লেটহীন গাড়িতে রওনা করে, আর পথে দুই-দুইবার পরিবর্তন করা হয় তাকে বহন করা গাড়ি। অবশেষে তাকে বহনকারী গাড়িটি পৌঁছায় Lutyens Bungalwo Zone-LBZ-এ অবস্থিত হাসিনার বাসভবনে। সেখানে এস আলম বেলা ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২৭ মিনিট পর্যন্ত অবস্থান করে।

      এই দীর্ঘ সময়ে শেখ হাসিনার সাথে একান্ত আলাপ হয় এস আলমের। প্রাপ্ত তথ্য মতে, এই সময়ে ভারতের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও সেখানে উপস্থিত ছিল। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করা ও ক্ষমতায় ফিরে আসতে তার দীর্ঘদিনের সহযোগী এস আলমের কাছে চার হাজার পাঁচশত কোটি টাকা চায় এবং এস আলম এই পরিমাণ টাকা তাকে দিতে সম্মত হয়। এই অর্থ নির্দিষ্ট কিছু খাতে ব্যয় করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

      যার মধ্যে রয়েছে- প্রথমত. ইন্ট্যারন্যাশনাল লবি ও বিভিন্ন দেশের পলিসি মেকারদের আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করার জন্য ম্যানেজ করা; দ্বিতীয়ত. আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরে দেশজুড়ে নাশকতা সৃষ্টি করে এমন এক অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, যাতে অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নিতে বাধ্য হয়; তৃতীয়ত. সরকারি আমলা, পুলিশ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কিনে ফেলা; চতুর্থত. আওয়ামী নেতাকর্মীদের জামিনের লক্ষ্যে খরচ করা এবং পঞ্চমত. এস আলমের সুগার রিফাইনারিসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের মাধ্যমে আন্দোলন সংগঠন করা।

      আর এ অর্থ গ্রহণ, বিতরণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য গঠিত তিনজনের কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তরা হল, আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

      তথ্যসূত্র:
      ১. হাসিনার সঙ্গে এস আলমের গোপন বৈঠক, আ.লীগ ফেরাতে নতুন পরিকল্পনা
      https://tinyurl.com/2m97xbaf
      নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

      Comment


      • #4
        দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ড্রেস কোডে নেই হিজাব ও নিকাব; অন্তর্ভুক্তির দাবি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের



        রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ড্রেসকোড আছে। এতে বিপাকে পড়ছেন পর্দা করতে চাওয়া ছাত্রীরা। পোশাকবিধির বাইরে গিয়ে বড় ওড়না বা হিজাব পরা নিয়ে বাধা-বিপত্তির মুখে পড়ছেন তারা। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকায় সমালোচনার ঝড় উঠছে। এমনকি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়েও হিজাব বা নেকাব পরা নিয়ে বাধার মুখে পড়ার ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আন্দোলনসহ বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটতে দেখা যায়। সর্বশেষ রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি কাণ্ডে চাপা অস্থিরতা বিরাজ করছে।

        শিক্ষক-অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টদের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ড্রেসকোড ও হিজাব নিয়ে বিতর্ক বা জটিলতার স্থায়ী সমাধান হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশ হিসেবে এবং অনৈতিকতা থেকে রক্ষার জন্য সাধারণভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শালীন ড্রেসকোড থাকা দরকার। এর বাইরে আগ্রহীদের হিজাব বা বড় ওড়না পরার সুযোগ রেখেই ড্রেসকোড নির্ধারণ করতে হবে। তাছাড়া সরকারিভাবে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একই পোশাকবিধি নির্ধারণ করে দেওয়া, হিজাবের সুফল তুলে ধরা এবং এতে বাধাদানকারীদের শাস্তির আওতায় আনা জরুরি।

        গত ২৪ আগস্ট ভিকারুননিসা স্কুলের বসুন্ধরা শাখায় ওড়না পরার কারণে শিক্ষার্থীদের ক্লাস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে শিক্ষক ফজিলাতুন নাহারের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দুদিন পর একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগমের সই করা নোটিসে ফজিলাতুন নাহারকে সাময়িক বরখাস্ত করার কথা জানানো হয়।

        নোটিশে বলা হয়, স্কুলের বসুন্ধরা প্রভাতি শাখার ষষ্ঠ শ্রেণির একটি শ্রেণিকক্ষ থেকে ২২ শিক্ষার্থীকে হিজাব পরার কারণে বের করে দেওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এবং অ্যাডহক কমিটির (অস্থায়ী কমিটি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাকে কেন চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হবে না, তার কারণ সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয় নোটিশে।

        তবে বাস্তবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ড্রেসকোডের বাইরে গিয়ে হিজাব বা ওড়নাধারী শিক্ষার্থীদের প্রতি কেউ কেউ নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে, এতে সংশ্লিষ্টদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।

        এ বিষয়ে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু গণমাধ্যমকে বলেন, রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১৯৭৩ সাল থেকে ড্রেসকোডে মেয়েদের দুটি ওড়না ও মুসলিম ছেলেদের মাথায় টুপি ছিল। কিন্তু ২০২০ সালে স্কুলটির সভাপতির দায়িত্বে থাকা আওয়ামীপন্থী এক সচিব ওই ড্রেসকোড বাতিল করে। এ নিয়ে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে আন্দোলন হয়। আন্দোলনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টরা তিনটি মামলা করে। তাতে তিনি ও ফোরামের কয়েকজন জেলেও যান। পরে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলে আবার আগের ড্রেসকোড ফিরিয়ে আনা হয়।

        শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় হিজাবের সুযোগ রেখে ড্রেসকোড থাকা উচিত জানিয়ে জিয়াউল কবির দুলু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা ২০২২ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দেওয়া আবেদনে জানিয়েছিলাম, সরকারিভাবে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ড্রেসকোড নির্ধারণ করে দেওয়া হোক। তবে নৈতিক অবক্ষয় রোধে অবশ্যই শালীনতা বজায় রেখেই সব ড্রেসকোড করতে হবে। সে দাবি আবারও জানাচ্ছি।’

        রাজধানীর খিলগাঁও ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক কাকলী পারভীন গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশের মতো মুসলিম দেশের স্কুলে মেয়েদের ড্রেসকোড শালীন থাকা উচিত। তাতে অবশ্যই হিজাবের সুযোগ রাখতে হবে। কিছু স্কুলের ড্রেস খুবই আপত্তিকর।

        মোহাম্মদপুরের অন্যতম খ্যাতনামা ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ওই স্কুলে মেয়েদের হিজাব পরতে বাধা দেওয়া হয়। তার মেয়ে হিজাব পরে যাওয়ায় স্কুল থেকে তাকে সিস্টারের রুমে ডেকে নিয়ে স্কুল কম্পাউন্ডের মধ্যে হিজাব পরতে নিষেধ করা হয়। পরে ওই অভিভাবক স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করলে তাকে বলা হয়, এটা ব্রিটিশ কারিকুলাম ও ড্রেসকোড অনুযায়ী চলে। এ নিয়ম সবাই মানতে বাধ্য।


        তথ্যসূত্র:
        ১. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ড্রেসকোডে ঝুলছে ছাত্রীদের হিজাব
        https://tinyurl.com/3p9u7ycn
        নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

        Comment


        • #5
          থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রসহ গ্রেফতার বিএনপি নেতা



          গত বছর ৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ইপিজেড থানা থেকে লুট হওয়া একটি চায়না পিস্তল ও আট রাউন্ড গুলিসহ স্থানীয় এক বিএনপি নেতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সকালে বাগেরহাটের মোংলা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

          গ্রেপ্তারকৃতরা হল- মোংলার মালগাজি গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় বিএনপি নেতা কামাল হাওলাদার (৪৫) এবং তার সহযোগী মো. মানিক (৩০)।

          ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ও বৃহস্পতিবার সকালে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে কামালকে আটক করা হয়। পরে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি বাংলাদেশ পুলিশের ব্যবহৃত মডেল (৭.২)।

          গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, গ্রেফতার কামাল হাওলাদার স্থানীয় বিএনপি নেতা। সে মোংলার মালগাজি গ্রামের মৃত আব্দুল মোত্তালেবের ছেলে। কামাল দীর্ঘদিন স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সম্প্রতি উপজেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে চাঁদপাই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল।

          পুলিশ আরও জানায়, ৫ আগস্টের ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশঙ্কা ছিল যে লুট হওয়া অস্ত্রগুলো সন্ত্রাসী চক্রের হাতে চলে যেতে পারে। প্রায় এক বছর পর প্রথমবারের মতো তাদের এই আশঙ্কা সত্যি হলো। তদন্তকারীরা এখন এই অস্ত্র চক্রের মূল হোতাদের খুঁজছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।


          তথ্যসূত্র:
          ১. লুট হওয়া অস্ত্রসহ বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার
          https://tinyurl.com/4rwbuxwm
          নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

          Comment

          Working...
          X