Announcement

Collapse
No announcement yet.

উম্মাহ নিউজ || ৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৭ হিজরি || ৩০শে আগস্ট, ২০২৫ ঈসায়ী​

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • উম্মাহ নিউজ || ৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৭ হিজরি || ৩০শে আগস্ট, ২০২৫ ঈসায়ী​

    ধরাছোঁয়ার বাইরে গুমের সিন্ডিকেট, দেশ ছেড়ে নিরাপদে পালিয়েছে অনেকেই


    বলপূর্বক গুমের সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। অন্তত ২৫ জন সেনা কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোয় এমন অপরাধী বেশকিছু কর্মকর্তা এখনো ‘ইন সার্ভিসে’ রয়ে গেছে। তাদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা সত্ত্বেও কোনো কাজ হয়নি। এমনকি চিহ্নিত এই অপরাধীদের বাধ্যতামূলক অবসরে পর্যন্ত পাঠানো হচ্ছে না। ফলে গুমের বিচার ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে।

    গুমের তদন্ত, অনুসন্ধান ও বিচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র গণমাধ্যমকে জানায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) থেকে ১১ জন অবসরপ্রাপ্ত ও এলপিআরে থাকা জেনারেল ও সিনিয়র পর্যায়ের সেনাকর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং তাদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের পাসপোর্ট বাতিল করেছিল। একজন ছাড়া বাকি ১০ জন ঊর্ধ্বতন সেনাকর্মকর্তা ঢাকা ক্যান্টনমেন্টেই ছিল। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল করা হয়নি। কয়েকমাস আগে তারা সীমান্ত অতিক্রম করে নিরাপদে ভারতসহ অন্যান্য দেশে পালিয়ে গেছে।

    পতিত শেখ হাসিনার শাসনামলে (২০০৯-২০২৪) বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় মদদে সংঘটিত গুম এক বিভীষিকায় পরিণত হয়। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, ওই সময় তিন হাজার ৫০০ ব্যক্তিকে গুম করা হয় (হিউম্যান রাইটস ওয়াচ)। এদের মধ্যে ছিল সাবেক সেনাকর্মকর্তা, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বিভিন্ন পেশাজীবী, সাংবাদিক এবং অন্যান্য নিরীহ ব্যক্তি। গুম কমিশনে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৮৫০ জনের গুমের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কমিশনের মতে, এখনো নিখোঁজ ২১১ জন হয়তো আর কখনোই ফিরে আসবে না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ও গুম কমিশনের অনুসন্ধান প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গুমের ‘সুপিরিয়র কমান্ড’ ছিল শেখ হাসিনা স্বয়ং। তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক ছিল গুমের ‘মাস্টারমাইন্ড’।

    নির্দেশদাতাদের অন্যতম ছিল তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আর গুম-খুনের ভয়ঙ্কর ব্যক্তিটি ছিল সেনাকর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসান। গুম-খুনের বর্বরতায় জিয়াউল আহসান কুখ্যাত নায়ক ও নৃশংসতার প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। গুম হওয়া ব্যক্তিদের নিজ হাতে খুন করার সময় সে ভিকটিমের মাথার কাছে অস্ত্র নিয়ে গুলি করত। কারণ গুলির পর ভিকটিমের ছিটকে আসা গরম রক্ত ও মগজ শরীরে পড়লে সে এক ধরনের পৈশাচিক ফিলিংস অনুভব করত।

    জিয়াউল আহসান কতটা ভয়ংকর ও অমানবিক ছিল তার আরেকটি উদাহরণ হচ্ছে, সে কীভাবে খুন করে তার একটি ঘটনা স্ত্রীকে দেখানোর জন্য ঘটনাস্থল বরিশালের এক নদীতে নিয়ে গিয়েছিল। গুম হওয়া ব্যক্তিকে রাতে ওই নদীতে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয় এবং তার স্ত্রী এই নৃশংস হত্যার দৃশ্য উপভোগ করে। শেখ হাসিনার খুবই ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন ছিল জিয়াউল আহসান। জাহাঙ্গীর কবির নানকের মাধ্যমে সে হাসিনার প্রিয়ভাজন হয়। নানক তাকে দিয়ে দুটি খুন করিয়েছিল। এরপর হাসিনার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। তাকে দিয়ে যা ইচ্ছা তা করানো যাবে, তাই হাসিনা তাকে কাছে টেনে নেয়। সপ্তাহে একদিন গণভবনে গিয়ে সে হাসিনার সঙ্গে খাবার খেত।

    গুম কমিশন থেকে জানা গেছে, গুমের ঘটনায় প্রধান ভূমিকা ছিল রাষ্ট্রের ৫টি নিরাপত্তা সংস্থার। এগুলো হলো র‌্যাব, পুলিশ, ডিবি, সিটিটিসি ও এনটিএমসির। এছাড়া জড়িত ছিল সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের বিরুদ্ধেও গুমে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়। গুম করে ভিকটিমদের গোপন বন্দিশালা আয়নাঘরে বন্দি করে রাখা হতো।

    তাদের ওপর ভয়ঙ্কর নির্যাতন চালানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। গুম করে অনেককেই নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে এবং লাশের চিহ্ন যাতে পাওয়া না যায় সেজন্য পেট ফেড়ে ইট-বালু ভরে কিংবা ভরা সিমেন্টের বস্তার সঙ্গে বেঁধে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে। ঢাকার বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বরিশালের কয়েকটি নদী এবং সুন্দরবনের নদী হয়েছে অনেক লাশের ঠিকানা। কমিশনের তথ্যে উঠে এসেছে গুম হওয়া বহু ব্যক্তির নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা। তাদের অস্বাস্থ্যকর সেলে বন্দি রাখা, গোপনাঙ্গে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া, ঘূর্ণায়মান চেয়ারে বসিয়ে নির্যাতন, উল্টো করে ঝুলিয়ে মারধর, ঠোঁট সেলাই ইত্যাদি বিভিন্ন কায়দায় নির্যাতন করা হতো।

    গুম কমিশনের রিপোর্ট থেকে আরো জানা যায়, ডিজিএফআইর জেআইসি এবং র‌্যাবের টিএফআই সেল ছিল মূল আয়নাঘর। দেশব্যাপী এমন অসংখ্য গোপন বন্দিশালা বা আয়নাঘরের সন্ধান পেয়েছে কমিশন। তাদের পক্ষ থেকে সারা দেশের এমন ১৪টি আয়নাঘর পরিদর্শনও করা হয়েছে। কমিশন সেগুলো যেভাবে আছে সেভাবে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আরও জানা গেছে যে, গোপন বন্দিশালায় এমন ব্যক্তিরাও দেখা করত যারা হিন্দিসহ অন্যান্য বিদেশি ভাষায় কথা বলত। গুম করে অনেক ভিকটিমকে সীমান্তের ওপারে ভারতীয় বাহিনীর হাতেও তুলে দেয়া হয়েছে।

    গুম কমিশন তাদের অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, গুমের ঘটনায় সেনাবাহিনী প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দায়ী নয়। তবে তারা গুমের ঘটনা জানতো না, এটা বলার সুযোগ নেই। কারণ সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে বলেছে যে, দুইজন সেনা সদস্য তার কাছে আশ্রয় চেয়েছে, তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে চায় না। গুম কমিশন ১,৮৫০ জনের গুমের অভিযোগ পর্যালোচনা করে ২৫৩ জনের একটি তথ্যভিত্তিক দলিল তৈরি করেছে যারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গুম হয়েছিল।

    এক দশকের বেশি সময় ধরে তারা একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। কিন্তু তারা অভিজ্ঞতার যে কাহিনি গুম কমিশনকে পৃথকভাবে বর্ণনা করেছেন, তা অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল। এমন ঘটনা কাকতালীয় হওয়া সম্ভব নয়। এমনকি এটা হাতেগোনা কিছু অবাধ্য কর্মকর্তার বিচ্ছিন্ন অপরাধও হতে পারে না। গুমের এসব ঘটনা একটি সাংগঠনিক ও পদ্ধতিগত কাঠামোর অস্তিত্ব নির্দেশ করে।

    এত মানুষ গুম করার কারণ কী?

    গুম কমিশন, আইসিটি ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অনুসন্ধান থেকে জানা গেছে, শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা চরিতার্থ, আওয়ামী লীগের সমালোচনাকারীদের দমন, জামায়াত-শিবির দমন, বিএনপির পটেনশিয়াল নেতাদের শেষ করে দেওয়া, ভারতবিরোধী লোকদের দমন এবং মাদ্রাসা ও ইসলামের পক্ষের আলেম-ওলামা যাতে কোনো ধরনের অবস্থান সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য জঙ্গি তকমা দিয়ে গুম করে দমন করাই ছিল উদ্দেশ্য।

    গুম কমিশন থেকে আরো জানা গেছে, গুম হওয়া ব্যক্তিদের সম্ভাব্য চার ধরনের পরিণতি হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে;
    গুম হওয়া ভিকটিমকে হত্যা করা।
    বিচারের আগেই ভিকটিমকে মিডিয়ার সামনে উপস্থাপনা করে জঙ্গি তকমা দিয়ে ফৌজদারী মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো।
    ভিকটিমকে সীমান্ত পার করে ভারতের পাঠিয়ে ভারতীয় বাহিনীর মাধ্যমে গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা করা।
    এবং ভিকটিমের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে খুব অল্পসংখ্যক ক্ষেত্রে মামলা না দিয়ে ছেড়ে দেয়া।

    বাহিনীগুলোতে গুমের সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা

    রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোতে এখনো গুমের সঙ্গে জড়িতরা অপরাধীরা রয়ে গেছে। এদের চিহ্নিত করে আইসিটি ও গুম কমিশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেছে। কিন্তু তারা সেখানে বহাল তবিয়তে আছে। অনুসন্ধানে অনেকের নাম জানা গেছে। সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তা র‌্যাব, ডিজিএফআই, এনএসআই, এনটিএমসি ও সিটিটিসিতে প্রেষণে থাকাকালে গুমে ভয়াবহভাবে জড়িয়ে পড়ে। তেমনি গুমের অপরাধী কর্মকর্তারা র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবিতে রয়েছে।

    সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন প্রধানরা অবসর নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। জড়িতদের মধ্যে মেজর জেনারেল শেখ মোহাম্মদ সরওয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল কবির আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তানভীর মাযহার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল সরওয়ার মোস্তফা, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম আজাদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কামরুল হাসান, কর্নেল মাহবুব আলম, কর্নেল মোমেন, লে. কর্নেল সরওয়ার বিন কাশেম (র‌্যাব ইন্ট.), লে. কর্নেল মশিউর রহমান, লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন উল্লেখযোগ্য। নৌবাহিনীর কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহাইয়েল অপহরণ ও গুম খুনে জিয়াউল আহসানের মতোই ছিল দুর্ধর্ষ। সে বর্তমানে জেলে আছে।

    পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) সাবেক প্রধান মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান গুমে জড়িত এক দুর্ধর্ষ অপরাধী। বর্তমানে আসাদুজ্জামান পলাতক রয়েছে। সে ১৮ ব্যাচের কর্মকর্তা। শেখ হাসিনার আমলে তথাকথিত ক্রসফায়ারে যারা হত্যার শিকার হয় বেশির ভাগই আসাদুজ্জামান ও তার ডান হাত হিসেবে পরিচিত এসপি আরিফুর রহমান মণ্ডলের হাতে হয়েছে। সাবেক আইজি শহীদুল আলমের নির্দেশে এবং পলাতক এসবি প্রধান মনিরুলের আশীর্বাদপুষ্ট তারা। আরিফুর রহমান মণ্ডল ছিলেন সিরাজগঞ্জের সাবেক এসপি।

    র‌্যাবের গুম স্কোয়াডে আলেফ উদ্দিন ছিল একজন দুর্ধর্ষ গুমকারী। তেমনি ছিল শাহ মোহাম্মদ মশিউর রহমান। গুমে জড়িত ছিল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকী। সে র‌্যাব-২ দায়িত্ব পালন করত। বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছে। সিসিটিসির গুম স্কোয়াডে ছিল মাহতাব উদ্দিন ও ইশতিয়াক আহমেদ, ওবাইন, মেজবাহ উদ্দিন, আতিকুর রহমান চৌধুরী, আহমেদউল ইসলাম। তারাও অনেক গুমের সঙ্গে জড়িত। র‌্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাকিল আহমেদ ও জসিম উদ্দিন এবং এডিসি ইমরানও গুমে জড়িত কর্মকর্তা।

    র‌্যাবের গুম-খুন-নির্যাতন

    গুমের জন্য র‌্যাবপ্রধানও দায়ী। সর্বাধিক গুম করেছে র‌্যাব এবং তাদের সদস্যরা। র‌্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন বা টিএফআই সেল র‌্যাব-১ সদর দপ্তরে অবস্থিত। এটিকে র‌্যাব একাধিক সংস্থার যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপন করত। বাস্তবে এটি পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হতো র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার সরাসরি তত্ত্বাবধানে। এটি র‌্যাবের মূল গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’। যেমন জেআইসি ডিজিএফআইর মূল বন্দিশালা বা আয়নাঘর। র‌্যাবের টিএফআই সেলে হাজার হাজার মানুষকে দিনের পর দিন, মাস কিংবা বছর অন্ধকার কক্ষে চোখ ও হাত-পা বেঁধে আটকে রাখা হতো।

    গুম কমিশনে ৩৮টি সাক্ষ্য থেকে জানা যায়, এ কেন্দ্রে বন্দিদের পিটিয়ে, বিদ্যুৎ শক দিয়ে, উল্টো ঝুলিয়ে, মাথা ঘুরিয়ে এমনকি শরীরের অঙ্গ ছিঁড়ে নির্যাতন করা হতো। শিশু ও মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিরাও নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পাননি। নারীদেরও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। এই সেলটির পরিচালনায় সেনা সদস্যরাই মূলত নিয়োজিত ছিল। তবে পুলিশের সদস্যরাও এসব অভিযানে অংশ নিত। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে র‌্যাবের অপহৃত বা ডিজিএফআইর হেফাজত থেকে আনা ব্যক্তিদের এই গোপন বন্দিশালায় আনা হতো। অনেক ক্ষেত্রে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া বা রেললাইনে শুইয়ে দেওয়া হতো, যাতে খোঁজ ও শনাক্তকরণ অসম্ভব হয়।

    জিয়াউল আহসানের আরো নৃশংসতার কাহিনি

    গুম খুনের কুখ্যাত নায়ক মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসান একজন সিরিয়াল কিলার হিসেবে ১ হাজার ৩০টি খুন করার কাহিনি গণমাধ্যমে-এ এর আগে প্রকাশ হয়েছে। তার নৃশংসতার আরো ঘটনা জানা গেছে। মেজর জেনারেল (অব.) তারিক সিদ্দিকের নির্দেশেই বেশির ভাগ গুম খুন সে করেছে। তারিক সিদ্দিক নির্দেশ দিতে বিলম্ব করলেও জিয়াউল গুম করতে বিলম্ব করত না। বিশেষ করে র‌্যাবের গোয়েন্দা প্রধান থাকাকালে বেশির ভাগ গুম খুন সে করেছে। র‌্যাব ও এনটিএমসিতে সে সেনাবাহিনী থেকে বাছাই করে দুর্ধর্ষ প্রকৃতির (খুনি) কর্মকর্তাদের প্রেষণে আনত। দেখা যেতো র‌্যাব-১ দিয়ে গুম করাত, রাখত র‌্যাব-৪ এ, আর খুন করাত র‌্যাব-৭ দিয়ে। একবার বিজিবির লেন্স নায়ক নজরুল ইসলাম নামে একজন পালিয়ে গোপালগঞ্জে আত্মগোপন করে।

    জিয়াউল আহসানকে তার পরিচিত এক কর্মকর্তা বিষয়টির খোঁজ নিতে বললে জিয়াউল আহসান তাকে তুলে এনে গুলি করে সুন্দরবনের নদীতে ফেলে দেয়। ওই কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে নজরুল ইসলাম সম্পর্কে জানতে চাইলে তার উত্তর ছিল, ‘সুন্দরবনে মাছের খাবার করে দিয়েছি।’ অথচ ওই কর্মকর্তা তাকে হত্যা করার কথা বলেনি। বরগুনার তাফালবাড়ির সংলগ্ন নদী এবং বরিশালের বিভিন্ন নদীতে নিয়ে গিয়ে অসংখ্য গুম হওয়া মানুষকে জিয়াউল আহসান হত্যা করেছে। গোয়েন্দা নজরদারির জন্য জিয়াউল আহসান প্রথম ‘এনএমসি’ তৈরি করেন। পরে একটি ‘এনটিএমসি’ নাম হয়। এটি প্রতিষ্ঠার কোনো আইনগত বৈধতা নেই। এই প্রতিষ্ঠানে ইসরায়েলের নিষিদ্ধ পেগাসাস প্রযুক্তি আনা হয়েছিল।

    গুমের ক্ষেত্রে ২০০৯ থেকে ২০২৪ র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের তালিকাই দীর্ঘ। এই প্রতিষ্ঠানে জিয়াউল আহসানের ২০ থেকে ২৫ জন বিশ্বস্ত কর্মকর্তা আছে। জিয়াউল আহসান গুম খুনে ৫ থেকে ২০ জনের টিম নিয়ে ৪/৫টি গাড়িতে করে যেত। একদিনে তার সর্বোচ্চ ১৩ জনকে হত্যার রেকর্ড রয়েছে। জিয়াউল আহসানের কোর্সমেট ছিল কর্নেল মোস্তাফিজ। সে এখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে। জিয়াউল আহসানের খুনের নেশা সম্পর্কে সে ৯ পর্বে বিভিন্ন কাহিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছে। ২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনায় জিয়াউল আহসান তারেক সাঈদকে ফাঁসিয়েছিল জেনারেল তারিক সিদ্দিকের ইশারায়। তার চক্রান্তেই নদীতে লাশ ভেসে ওঠে এবং তারেক সাঈদ এ ঘটনায় ফেঁসে যায়। শুধু হাসিনা সিন্ডিকেটের গুমই নয়, জিয়াউল আহসান ভাড়াটে খুনি হিসেবে অনেক খুন করেছে। পরকীয়া, জমিসংক্রান্ত ও ব্যবসায়িক বিরোধ এমনকি মাছের ব্যবসা এবং অন্যান্য বিষয়েও সে টাকার বিনিময়ে খুন করিয়ে দিত।

    গুমের কাঠামো ছিল তিন স্তরবিশিষ্ট পিরামিডের মতো

    গুম কমিশন থেকে জানা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার আমলে গুমের যে কাঠামো চলমান ছিল, তা তিন স্তরবিশিষ্ট পিরামিডের মতো। পিরামিডের শীর্ষে ছিল কৌশলগত স্তর, যেখানে শেখ হাসিনা, জেনারেল তারিক সিদ্দিক, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা যাদের গুম ও বিচারবহির্ভুত হত্যার আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা ছিল। এর নিচে ছিল নির্বাহী স্তর, যেখানে ছিল জ্যেষ্ঠ জেনারেল, পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার শীর্ষ সদস্য। এদের মাধ্যমেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশ সরাসরি বাস্তবায়নের পর্যায়ে আসতো এবং এই ব্যক্তিরাই সম্পৃক্ততার সাক্ষ্য দিতে সক্ষম।

    সর্বনিম্ন স্তরে ছিল কার্যকর। নিরাপত্তা বাহিনীর নিম্নপদস্থ সদস্যরা যারা উপরের নির্দেশ অনুযায়ী অপারেশন পরিচালনা করত বা টিমে থাকত। এই প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, ডিজিএফআইর যেসব জেনারেল ছিল গুমের আদেশ দেয়ার সময় তারা কার্যত সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিশেষ করে শেখ হাসিনা ও জেনারেল তারিক সিদ্দিকের মধ্যবর্তী সংযোগকারীর ভূমিকায় ছিল। জেনারেল আকবর গুম কমিশনকে জানান যে, জেআইসির ভুক্তভোগী হুম্মাম কাদের চৌধুরীর বিষয়টি সে সরাসরি শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করে। ডিজিএফআইর একজন জুনিয়র কর্মকর্তা কমিশনকে বলে, সে নিজে পরিচালককে এক বন্দির ভবিষ্যত নিয়ে এমনভাবে কথা বলতে শুনেছিলেন তাতে স্পষ্ট ছিল, শেখ হাসিনা ওই বন্দি সম্পর্কে অবগত ছিল এবং এ বিষয়ে নিজস্ব মতও প্রকাশ করেছিল। যারা শেখ হাসিনার কমান্ড রেস্পন্সিবিলিটি প্রমাণ করতে পারতো, সে সাক্ষ্যদাতারা পালিয়েছে।

    দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলছে গুম কমিশনের সদস্যরা

    দেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও গুম কমিশনের সদস্যরা বলেছেন, গুমের সঙ্গে জড়িত অপরাধী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে এটা বাহিনীগুলোর ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলার পাশাপাশি দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির সম্মুখীন করবে।

    এ বিষয়ে গুম কমিশনের সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস বলেন, গুমের অপরাধী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে দেশের নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি হবে। তিনি বলেন, আইসিটি যে ১১ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল, তাদের পালিয়ে যেতে দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ডিজিএফআইর সাবেক ডিজিরাও রয়েছে। ফলে তাদের বিচারের সম্মুখীন করা যাচ্ছে না। তারা পালিয়ে যাওয়ায় যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে তা হলো- তারা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বৈরী রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাকে সরবরাহ করে দেবে কিংবা ওই গোয়েন্দা সংস্থাই তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে নেবে। এটা দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।

    নাবিলা ইদ্রিস বলেন, এদের পালিয়ে যেতে দেওয়ার মাধ্যমে বৈরী দেশের গোয়েন্দা বাহিনীর হাতে তাদের এক অর্থে সোপর্দ করা হয়েছে। অথচ তাদের পাসপোর্ট বাতিল করা ছিল এবং তারা ঢাকা ক্যান্টনমেন্টেই ছিল। সহজেই তাদের গ্রেপ্তার করা যেত। তিনি আরো বলেন, গুমের অপরাধী যারা চাকরিতে বহাল আছে, তারা পদে পদে বৈরী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার ব্লাকমেইলের শিকার হবে। সে যে গুমের জন্য অপরাধী সেটা যেন মানুষ জেনে না যায় সেজন্য বাঁচার লক্ষ্যে তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করবে। সেটা সেনাবাহিনী কিংবা অন্যান্য বাহিনীকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। যে একজন মেজর বা ক্যাপ্টেন আছে এবং গুমের সঙ্গে জড়িত, তাদের লম্বা ক্যারিয়ার। তারা দেশকে ঝুঁকিতে ফেলে দেবে।

    তথ্যসূত্র:
    ১. গুমের অপরাধী সিন্ডিকেট এখনো বিচারের বাইরে
    https://tinyurl.com/36cw2czm
    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

  • #2
    বিপদসীমার কাছাকাছি তিস্তার পানি; উত্তরাঞ্চলে ফের বন্যার আশঙ্কা



    উত্তরাঞ্চলের পাঁচটি জেলা- রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধায় আবারো বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

    পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, যেকোনো মুহূর্তে এটি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।

    শনিবার সকাল ৯টার দিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরো বাড়তে পারে। বিশেষত, তিস্তা নদী লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। ফলে নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    তবে পরবর্তী দুই থেকে তিন দিন নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

    রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মুস্তাফিজুর রহমান জানান, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে উত্তরের পাঁচ জেলায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। জেলাগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। এর ফলে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।

    রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, শনিবার সকাল ৬টায় তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহের উচ্চতা ছিল ৫২ সেন্টিমিটার। ওই পয়েন্টে বিপদসীমা ধরা হয় ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার। ফলে পানি বিপদসীমার মাত্র ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একইসাথে কাউনিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহের উচ্চতা ছিল ২৮ দশমিক ৬৩ সেন্টিমিটার। ওই পয়েন্টে বিপদসীমা ধরা হয় ২৯ দশমিক ৩১ সেন্টিমিটার।


    তথ্যসূত্র:
    ১. বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই করছে তিস্তার পানি, উত্তরাঞ্চলে ফের বন্যার আশঙ্কা
    https://tinyurl.com/czmmd7rv
    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

    Comment


    • #3
      কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে ব্যাপক দূর্নীতি, . ‘শেখ হাসিনার মাঝে মধ্যে থাকার জন্য ৪৫০ কোটির রেস্ট হাউস’


      চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘শুধুমাত্র শেখ হাসিনা মাঝে মধ্যে এসে থাকার জন্য ৪৫০ কোটি টাকার পাঁচ তারকা মানের রেস্ট হাউস নির্মাণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলো এখন সরকারের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেখ হাসিনার সরকার উন্নয়নের নামে মেগা প্রকল্পগুলোতে মেগা দুর্নীতি করেছে।’

      শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে আনোয়ারায় এক মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ করেন।

      চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, কর্ণফুলী টানেলকে ঘিরে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। কয়েক দফায় বাজেট বাড়িয়ে নিজেদের পকেট ভারী করা হয়েছে, যার মাশুল এখন জনগণকে দিতে হচ্ছে।

      ডা. শাহাদাত বলেন, শুরুতে কর্ণফুলী টানেলের নির্মাণ ব্যয় আট হাজার কোটি টাকা ধরা হলেও তা কয়েক দফায় বাড়িয়ে ১১ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে।


      তথ্যসূত্র:
      ১. ‘শেখ হাসিনার মাঝে মধ্যে থাকার জন্য ৪৫০ কোটির রেস্টহাউস’
      https://tinyurl.com/384u893a
      নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

      Comment


      • #4
        খোঁজ মেলেনি গুমের শিকার দুই শতাধিক ব্যক্তির; স্বজনদের হাহাকার



        শনিবার (৩০ আগস্ট), গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেশন ফর প্রোটেকশন অব অল পারসনস অ্যাগেইনস্ট এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স’ সম্মেলনে যে আন্তর্জাতিক সনদ কার্যকর হয়, তাতে ৩০ আগস্টকে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য দিনটি কেবল স্মরণ নয়, গভীর এক বেদনার প্রতীক। শত শত পরিবার এখনো জানে না তাদের প্রিয়জন বেঁচে আছে নাকি মৃত। প্রতিটি সকাল তাদের জন্য নতুন শূন্যতা, প্রতিটি রাত নতুন অপেক্ষা।

        বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর পরিবার এখনো নিশ্চিত নয় ইলিয়াস আলী বেঁচে আছে কি না। ইলিয়াস আলীর জন্য এখনো তারা অপেক্ষায় আছেন।

        ফারজানা আক্তারের চোখ কান্নায় ঝাপসা হয়ে যায় যখন তিনি বলেন, “আমার মেয়েটি এখন ভালো খাবার দেখলেই কাঁদে। বলে, ‘বাবা তো ভালো খাবার খেতে পারে না।’ ফ্যান চালু থাকলে বন্ধ করে দেয়। বলে, ‘বাবা তো বাতাসে ঘুমায় না।’ যত বই আছে, প্রতিটি পাতায় শুধু বাবার নাম লিখে রেখেছে।”

        তার স্বামী বংশাল থানা ছাত্রদল নেতা মো. পারভেজ হোসেনকে ২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর সাদা পোশাকধারীরা তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ। বড় মেয়ে আদিবা এখন অষ্টম শ্রেণিতে আর ছোট ছেলে আরাফ চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। বাবাহারা সন্তানদের মানুষ করাই ফারজানার জীবনের লড়াই।

        একই দিন শাহবাগ থেকে তুলে নেওয়া হয় ছাত্রদলের আরেক নেতা মো. সোহেলকে, যাকে এলাকার মানুষ ‘চাচা সোহেল’ হিসেবে চিনত। তার মেয়ে সাদিকা সরকার সাফার বয়স তখন দেড় মাস। আজ সাফা পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। বাবার সাদা-কালো ছবিই তার সম্বল। মা শিল্পী বলেন, ‘মেয়েটি সারাক্ষণ বাবার কথা ভাবে। সে চায় তার বাবার গুমের বিচার হোক।’

        বাংলাদেশের গুম কমিশনের তথ্যমতে, রাজনৈতিক কারণে এখনো অন্তত ২১১ জন নিখোঁজ। গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের গড়া সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর অন্যতম সংগঠক আফরোজা ইসলাম আঁখি বলেন, এ সংখ্যা ৩৫০ জনেরও বেশি।

        গুম হওয়াদের বেশিরভাগই বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামপন্থী অন্যান্য দলের নেতাকর্মী। অথচ একটি ঘটনারও রহস্য উদঘাটিত হয়নি।

        তথ্যসূত্র:
        ১. দুই শতাধিক ব্যক্তির খোঁজ এখনো মেলেনি
        https://tinyurl.com/22kmcsv6
        নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

        Comment


        • #5
          আওয়ামী লীগ ও দিল্লির স্বার্থ বাস্তবায়নের হাতিয়ার ছিল জাতীয় পার্টি: জিএম কাদেরের নাতি সাকিব রহমান



          এবার জাতীয় পার্টি’র চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও তার দল কিভাবে আওয়ামী লীগ ও দিল্লির স্বার্থ বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে, তা প্রকাশ করেছেন বিডিআর ম্যাসাকারে নিহত কর্নেল কুদরতে এলাহীর ছেলে এডভোকেট সাকিব রহমান। যিনি সম্পর্কে জাতীয় পার্টি’র সাবেক চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ ও বর্তমান চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের বোনের নাতি। তিনি জাতীয় পার্টি’র কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দলীয় নেতা হিসেবে পাকিস্তান হাইকমিশনারের বাসভবনে এক নৈশভোজে যোগ দেয়ায় ভারতের রোষানলে পড়েন। পরবর্তীতে ভারতের চাপে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে জিএম কাদের। এই সম্পর্কে লিখা সাকিব রহমানের ফেসবুক পোস্ট হুবহু তুলে ধরছি-

          “আমি জাতীয় পার্টির একজন কার্ডধারী সদস্য ছিলাম এবং আত্মীয়তার বদৌলতে পেয়েছিলাম নেতৃস্থানীয় পদ। এই লেখাটি আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা, যেখানে দলটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

          শৈশব থেকেই রাজনীতির প্রতি আমার গভীর আগ্রহ ছিল। তরুণ বয়সে যখন আমি একজন আইনজীবী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করলাম, তখন রাজনীতির বিশ্লেষণকে বাস্তবে প্রয়োগ করার ইচ্ছে জাগলো। জাতীয় পার্টি বেছে নেওয়ার পেছনে কারণ ছিল এইচ. এম. এরশাদ এবং জি. এম. কাদের ছিলেন আমার বাবার মামা। আমার বাবা ছিলেন একজন পেশাদার সেনা কর্মকর্তা এবং ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে তিনি মারা যান। তিনি কখনো রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন না।
          আমি ভাবলাম, যদি রাজনীতিতে অবদান রাখতে হয়, তবে এই দলটিই হবে আমার জন্য স্বাভাবিক পছন্দ। শুধু যে আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতি একটি পরিচিত পরিবেশ তৈরি করবে তা-ই নয়, আমার মনে হয়েছিলো দলটিকে ঢেলে সাজানোরও সুযোগ আছে।

          ২০১৯ সালে আমি প্রথম জি.এম কাদেরকে (যাকে আমি “দাদু” বলে সম্বোধন করি) আমার আগ্রহের কথা জানাই। আমার পেশাগত জীবনের কথা জেনে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী আমার জন্য উপযুক্ত হবে এবং বিশেষভাবে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের খালি পদে আবেদন করার পরামর্শ দেন। আমি আবেদন জমা দিলে তিনি প্রাথমিক অনুমোদন দেন এবং পরে এরশাদ— যিনি তখন দলের চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা— দলের সংবিধানের বিতর্কিত ধারা ২০(১)(১)(ক) ব্যবহার করে আমাকে নিয়োগ দেন। ধারাটিতে বলা আছে, চেয়ারম্যান ইচ্ছেমতো যে কোনো পদ সৃষ্টি বা বিলুপ্ত করতে পারেন, কাউকে নিয়োগ বা অপসারণ করতে পারেন এবং তিনি যোগ্য মনে করলে পদে যেকোনো পরিবর্তন আনতে পারেন। আমি আদর্শবাদী স্বপ্ন নিয়ে দলে যোগ দিই— দলকে সঠিক পথে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে।

          ২০১৯ সালের জুলাইয়ে এরশাদের মৃত্যুর পর ডিসেম্বর মাসে দলীয় কাউন্সিল হয়। এর ঠিক পরেই বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারি শুরু হয়। কাদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, আর আমার আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদও স্থায়ী হয়। সামাজিক দূরত্বের বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পর ২০২১ সালে আমি পূর্ণাঙ্গভাবে দলীয় কাজে নামি। আমার মূল দায়িত্ব ছিল দুইটি— বিদেশে জাতীয় পার্টির কমিটিগুলোর পুনর্গঠন এবং ঢাকার কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গে দলের প্রতিনিধি হিসেবে যোগাযোগ রাখা।

          বাংলাদেশের আইনে রাজনৈতিক দলের বিদেশে শাখা থাকার অনুমতি নেই। কিন্তু সব বড় দলই বহুদিন ধরে মূলত প্রবাসী এবং অভিবাসীদের অনুদান পেয়ে আসছে। এসব অনুদানের লোভে আইন অমান্য করে দলগুলো “কমিটি” গঠন করে আসছিল। এরশাদের ঘনিষ্ঠ অনেক কেন্দ্রীয় নেতা অনুদানের বিনিময়ে বিদেশে কমিটি অনুমোদন দিয়েছিলেন। কিন্তু সেসব অনুদান দলের অ্যাকাউন্টে জমা হয়নি এবং এইসব কমিটির কথা কাদের জানতেনও না। ফলে কাদেরের একজন বিশ্বস্ত লোকের দরকার ছিল। এসব সমস্যার সমাধানে আমি নিশ্চিত করেছি, যেন কাদেরের সম্মতিতেই সবাই নিয়োগ পান। দলের নথির জন্য তার স্বাক্ষরও নিয়েছি, এবং যথাযথ কাগজপত্র সংরক্ষণ করেছি। এমনকি অফিসে বাড়তি একটি ফাইল রাখা হয়েছিল, যেখানে ওইসব কমিটি থেকে দলের পক্ষে দেওয়া রসিদ ও অর্থপ্রদানের প্রমাণ সযত্নে নথিবদ্ধ করা ছিল।
          আমি জানতাম যে, আত্মীয়তার কারণে আমি এই পদ পেয়েছি এবং কাউন্সিলের লোক দেখানো অনুমোদনও ছিল। চেয়ারম্যানের আত্মীয় হওয়ায় আমার সঙ্গে তার সবসময় সরাসরি যোগাযোগ ছিল, যা অন্যদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করত। তাই আমি মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে থাকি, যাতে কেউ মনে না করে আমি অযোগ্য।

          ২০২২ সালের মে মাসে আমি ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের বাসভবনে এক নৈশভোজে যোগ দিই। নিমন্ত্রণটি ছিল প্রধানত শিক্ষাবিদ, শিল্পী ও সুশীল সমাজের সদস্যদের জন্য। আমি একদিকে শিক্ষাবিদ, অন্যদিকে দলীয় নেতা হিসেবে কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া আমার দায়িত্ব ছিল। সেদিনের একটি ছবি, যেখানে আমি নিমন্ত্রণকারীর সঙ্গে ছিলাম— ভারতীয় রাষ্ট্রের জন্য সেটা সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। ভারতীয় হাইকমিশনের একজন প্রতিনিধি সরাসরি দলের চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানান।

          আমি তখন দলের মধ্যে, বিশেষ করে তরুণ নেতাদের কাছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রচারের জন্য পরিচিত হচ্ছিলাম। হঠাৎ কাদের আমাকে জানালেন যে, ভারতীয় হাইকমিশনের রাজনৈতিক সচিব অনিমেষ (আইএফএস ২০১১ ব্যাচ) আমার পাকিস্তান হাইকমিশনারের সঙ্গে তোলা ছবিতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। ভারতীয় কূটনীতিকের পাকিস্তান-বিরাগ স্বাভাবিক, কিন্তু একটি বিদেশি কূটনীতিক কেন জাতীয় পার্টির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদককে নিয়ে দলের চেয়ারম্যানকে মন্তব্য করবেন? আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কেন সেই মন্তব্য কাদের বা কোনো বাংলাদেশি দলের প্রধানের কাছে গুরুত্ব পাবে?

          অনেকদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল যে, ভারত জাতীয় পার্টি ও দলটির চেয়ারম্যানের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, বিশেষ করে যখন দলটি স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের সর্ববৃহৎ জোটসঙ্গী বা সংসদের বিরোধীদল ছিল। কাদের কখনো ভারত সফরে তার সঙ্গে ভারতীয় প্রতিনিধিদের বৈঠকের বিবরণ আমার সঙ্গে ভাগাভাগি করেননি। তবুও আমি অবাক হলাম যে, অনিমেষের হস্তক্ষেপে কাদেরের ঘুম হারাম হয়ে যায়। অনিমেষ তাকে একটি বার্তা পাঠান, যা কাদের আমাকে ফরোয়ার্ড করেন— “স্যার, ব্যাপারটি আমাদের দেশে গুরুতরভাবে নোট করা হয়েছে। বাকিটা আপনার সিদ্ধান্ত। শুভেচ্ছা।”

          কাদের আমাকে জানান, তাকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, আমাকে সরাতে হবে।

          আমাকে শুধু আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদ থেকেই নয়, দলের আইটি সিস্টেম ও ওয়েবসাইট থেকেও মুছে ফেলা হয়। আমার সাধারণ সদস্যপদও বাতিল হয়। কাদের আমাকে বলেন কিছুদিন কূটনীতিকদের থেকে দূরে থাকতে, পরে আবার ফেরাবেন। কিন্তু আমার বরখাস্তের আনুষ্ঠানিক চিঠি কখনো আমি দেখিনি। যদিও অনিমেষ তা দেখে আশ্বস্ত হয়েছিলেন। অর্থাৎ ভারতীয় কূটনীতিক বরখাস্তের কাগজ দেখেছেন, কিন্তু আমি বা বাংলাদেশি জনগণ কেউই তা দেখিনি।

          ২০২৩ সালের মার্চের মাঝামাঝি নাগাদ আমি লজ্জা ও অনর্থক কাজে নিজের সময় নষ্ট করছি, এই হতাশায় দল থেকে দূরে সরে আসি। তখন আমাকে বরখাস্তের দশ মাস পরে কাদের আমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক পদের প্রস্তাব দেন। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফোন করে জানান যে ভারতীয় হাইকমিশনের আপত্তি আছে। দলের সঙ্গে ভারতের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলো কাদেরের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে ছিল, আমি কোনোটি দেখিনি বা জানতামও না। হয়তো তা জানলেই বুঝতাম, কেন কাদের দিল্লির প্রতি এত অনুগত। শেষ পর্যন্ত, এই অবিচল,অদৃশ্য, অদম্য ভারত রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের শক্তির কাছে হেরে আমি ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জাতীয় পার্টি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতার ঘোষণা দিই। বিজ্ঞপ্তিটি দি ডেইলি স্টারে প্রকাশিত হয়। এরপর আমি আর জাতীয় পার্টিতে ফিরে যাইনি, যাওয়ার ইচ্ছেও নেই।

          এই দায় স্বীকার আমার পক্ষ থেকে সত্য প্রকাশের চেষ্টা। আমার সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক জীবনে আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু অন্যায়ভাবে বরখাস্ত হয়েছি, যা আমি এখন জনসম্মুখে প্রকাশ করছি। এই অন্যায় দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জানে। যদিও আমি কয়েকজনের দিকে আঙুল তুলতে পারি, যারা আমার অপসারণে ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছিল কাদেরের। তিনি নিখুঁতভাবে এক দালালের ভূমিকা পালন করেছেন। আমার বরখাস্তের সময় আমি বুঝেছি, এই দল কখনোই নিজের পরিচয় বহন করেনি। এটি আওয়ামী লীগ ও দিল্লির স্বার্থ বাস্তবায়নের হাতিয়ার ছিল। আমি আশা করি, একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় রাজনৈতিক দল ও এর চেয়ারম্যানের অভ্যন্তরীণ কর্মপরিচালনার এই তথ্য প্রকাশ হলে তা জনগণের কাজে আসবে। এই ব্যাপারটি জানার পর কাদের ও জাতীয় পার্টিকে বাংলাদেশের জনগণ কিভাবে দেখবে, তা পুরোপুরি তাদের ওপর নির্ভর করছে।”


          তথ্যসূত্র:
          https://tinyurl.com/yc39kj8n
          নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

          Comment


          • #6
            সিলেট সীমান্তে বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে হত্যা করলো বিএসএফ; আহত আরও ০৪


            সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ডোনা সীমান্তে আব্দুর রহমান (২৫) নামে এক বাংলাদেশী যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ)। এ সময় গুলিতে আহত হয়েছে আরো চারজন।

            শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরের দিকে এ ঘটনা প্রকাশ পায়। শনিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত নিহতের লাশ ভারতের অভ্যন্তরে পড়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে।

            নিহত আব্দুর রহমান কানাইঘাট উপজেলার আটগ্রাম বড়চাতল (বাকুরি) গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে বলে জানা গেছে।

            বিজিবির বরাত দিয়ে শনিবার গণমাধ্যমকে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আউয়াল। এছাড়া স্থানীয়ভাবে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কানাইঘাট উপজেলার ১ নম্বর পূর্ব লক্ষীপ্রসাদ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার নুরুল ইসলাম।



            তথ্যসূত্র:
            ১. সিলেট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত ১
            https://tinyurl.com/2exkh8jz

            নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

            Comment


            • #7
              গণহত্যা চালাতে ইসরায়েলকে সহায়তা করছে মাইক্রোসফট, বিক্ষোভ করায় ৪ কর্মী চাকরিচ্যুত


              গাজায় গণহত্যা চালাতে দখলদার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে মাইক্রোসফট। গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর গণহত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছেন কোম্পানিটির অনেক কর্মী। কিন্তু তাদের মধ্যে চারজনকে বরখাস্ত করেছে মাইক্রোসফট। ২৯ আগস্ট, শুক্রবার সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

              বিক্ষোভকারী সংগঠন নো আজুর ফর অ্যাপারথাইড ২৭ আগস্ট, বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, অ্যানা হ্যাটল ও রিকি ফ্যামেলিকে ভয়েসমেইলের মাধ্যমে চাকরিচ্যুতির খবর জানানো হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার তারা আরও জানায়, একই কারণে নিসরিন জারাদাত ও জুলিয়াস শানকেও চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

              সম্প্রতি মাইক্রোসফট সদর দপ্তরে তাঁবু ফেলে বিক্ষোভ করেছিলেন এই কর্মীরা। তারা বলেন, গাজায় চলমান বর্বর ইসরায়েলি হামলায় সহায়তা করছে মাইক্রোসফট।

              নো আজুর ফর অ্যাপারথাইড সংগঠন জানায়, মাইক্রোসফটকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে এবং ফিলিস্তিনিদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অ্যানা হ্যাটল এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা এই পর্যায়ে এসেছি কারণ মাইক্রোসফট ‘ইসরায়েল’কে গণহত্যার হাতিয়ার দিচ্ছে, আর নিজ কর্মীদের বিভ্রান্ত করছে।”

              ২৬ আগস্ট, মঙ্গলবার মাইক্রোসফটের প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড স্মিথের কার্যালয় দখল করে সাতজন বিক্ষোভকারী গ্রেপ্তার হন। তাদের মধ্যে হ্যাটল ও ফ্যামেলি মাইক্রোসফটের কর্মী ছিলেন, বাকিরা সাবেক কর্মী ও বাইরের লোকজন।

              সম্প্রতি দ্য গার্ডিয়ান, প্লাস৯৭২ ম্যাগাজিন ও হিব্রু ভাষার গণমাধ্যম লোকাল কল-এর যৌথ অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, দখলদার ইসরায়েলের একটি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা মাইক্রোসফটের ক্লাউড সেবা আজুর-এ ফিলিস্তিনিদের বিপুল টেলিফোন কলের রেকর্ড সংরক্ষণ করছে। এর মাধ্যমে পশ্চিম তীর ও গাজায় বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক নজরদারি চালানো হচ্ছে।

              ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনের গাজায় বর্বর হামলা চালিয়ে আসছে সন্ত্রাসী ইসরায়েল। এতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে মাইক্রোসফট। যা কোম্পানিটির কর্মীরাই ফাঁস করেছেন। তবে যেসব কর্মীই মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে গেছেন তাদের সরাসরি বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে এপ্রিল মাসে মাইক্রোসফটের এআই সিইও মুস্তাফা সুলেইমানের বক্তব্যে এক কর্মী প্রতিবাদ জানালে তাকেও চাকরিচ্যুত করা হয়। ওই ঘটনায় আরও একজন কর্মী বরখাস্ত হন।



              তথ্যসূত্র:
              1. Microsoft fires four workers over protests against firm’s ties to Israel
              https://tinyurl.com/c6zr93ce
              2. Microsoft fires four workers for on-site protests over company’s ties to Israel
              https://tinyurl.com/5e3x3w39

              নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

              Comment

              Working...
              X