Announcement

Collapse
No announcement yet.

উম্মাহ নিউজ || ১৭ রজব, ১৪৪৭ হিজরি || ০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ঈসায়ী

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • উম্মাহ নিউজ || ১৭ রজব, ১৪৪৭ হিজরি || ০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ঈসায়ী

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ‌ সীমান্ত থেকে বাংলাদেশি দুই যুবককে ধরে নিয়ে গেলো ভারতীয় পুলিশ



    ​চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত থেকে দুই বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় পুলিশ। ৬ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) ভোরে জহুরপুর সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের ধরে নিয়ে যায় ভারতের জঙ্গিপুর থানা পুলিশ। বুধবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান।

    তারা হলেন- সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের দেবীপুর গ্রামের খাইরুল ইসলাম (৩০) ও মমিন আলী (২৫)। স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার ভোরে সীমান্তে গরু আনতে যায় চার যুবক।

    এ সময় বিএসএফের সহযোগিতায় ভারতীয় পুলিশ খাইরুল ও মমিনকে ধরে নিয়ে চলে যায়। অপর দুজন বাবু (২২) ও পিঠুর (২৯) মধ্যে একজন ভারতে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। অপরজন বাংলাদেশে ফিরে আসে।

    নারায়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজির উদ্দিন বলেন, দুজনকে আটকের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তারা গরুর ব্যবসার সাথে জড়িত বলে জানা গেছে।

    এ বিষয়ে ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, চারজন ব্যক্তি গরু আনার জন্য জহুরপুর সীমান্তে যায়। এর মধ্যে দুজনকে আটক করে ভারতীয় পুলিশ। অপর একজন ভারতের অংশে অবস্থান করছে। আরেকজন বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। এ সময় ৭টি গরু জব্দ করে নিয়ে গেছে বিএসএফ।

    তথ্যসূত্র:

    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

  • #2
    খাগড়াছড়িতে ভারতের জন্য বন্দর নির্মাণে পাহাড় কেটে জমি ভরাট



    খাগড়াছড়ির রামগড়ে ভারতের স্বার্থে নির্মিত স্থলবন্দরের জমি ভরাটে পরিবেশ ধ্বংস করে নির্বিচারে পাহাড় কাটা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চললেও তা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ লক্ষ করা যাচ্ছে না বলে তাদের দাবি।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রকল্প এলাকা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের অন্তত তিনটি পাহাড় সম্পূর্ণ কেটে ফেলা হয়েছে। এসব পাহাড়ের মাটি রাতের আঁধারে ট্রাকে করে এনে রামগড় স্থলবন্দরের প্রায় ১০ একর জমি ভরাট করা হয়েছে। অথচ টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী, বালু কিনে এনে জমি ভরাট করার কথা ছিল। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের আগ্রহে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার এই বন্দরকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ আখ্যা দিয়ে এর লাভ-ক্ষতি পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণা দেয়। সে সময় কিছুদিন ধীরগতিতে চললেও সাম্প্রতিক সময়ে আবার পুরোদমে শুরু হয়েছে নির্মাণকাজ।

    এখন ঠিকাদার নিজের দায় এড়িয়ে দোষ দিচ্ছেন সাব-ঠিকাদারকে। আর প্রশাসনের লোকজনও দায়সারা বক্তব্য দিয়ে স্বীকার করছেন, কাজ প্রায় শেষের দিকে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ও বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছন।

    সূত্র জানায়, ভারতের আবদারে খাগড়াছড়ি ও ফেনী সীমান্তের রামগড়ে স্থলবন্দর প্রকল্প গ্রহণ করে পতিত আওয়ামী লীগ সরকার। শেষ না হওয়া সত্ত্বেও ভারতের আগ্রহে গত বছরের ১৪ আগস্ট যাত্রী পারাপারের জন্য বন্দরের কার্যক্রম উদ্বোধন করার দিন নির্ধারণ করে পতিত সরকার। কিন্তু ৫ আগস্ট পতন হয় হাসিনা সরকারের। এতে বন্ধ হয়ে যায় স্থলবন্দরটির উদ্বোধনী কার্যক্রম।

    গত ১০ জানুয়ারি এ বিষয়ে দৈনিক আমার দেশে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশের দুই দিন পর রামগড় স্থলবন্দর পরিদর্শনে যান অন্তর্বর্তী সরকারের নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) ড. এম শাখাওয়াত হোসেন। তিনি প্রকাশ্যে বলেন, এই বন্দর মূলত ভারতের স্বার্থে তৈরি হচ্ছে এবং এতে একতরফাভাবে লাভবান হবে ভারত। প্রকল্পে বাংলাদেশের লাভ-ক্ষতি পুনর্নিরীক্ষার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের কথাও জানান তিনি।

    সরকারপতনের আগে প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও পরবর্তী অংশ সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিল। তবে বর্তমানে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ফেনী নদীতীরবর্তী এলাকায় পাহাড় কেটে আনা মাটি দিয়ে ট্রাক টার্মিনালসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে।

    বালুর বদলে মাটি, মান নিয়ে শঙ্কা

    এ প্রকল্পে ভারতের স্বার্থে পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি বালুর পরিবর্তে মাটি ব্যবহার করায় শতকোটি টাকার এ স্থাপনার মান ও স্থায়িত্ব নিয়েও শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, পুরো প্রকল্প তৈরিতে অসংখ্য পাহাড় সাবাড় করা হয়েছে। প্রকল্পের মধ্যে মিরসরাইয়ের বারৈয়ারহাট থেকে রামগড় পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার পাহাড়ি এলাকায় চার লেনের সড়ক তৈরির প্রকল্প রয়েছে। এই এলাকার মধ্যে রিজার্ভ ফরেস্টও আছে। অসংখ্য পাহাড় আর সংরক্ষিত বনাঞ্চল ধ্বংস করেই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেয় আওয়ামী লীগ সরকার। গণঅভ্যুত্থানে তাদের পতন হলে নতুন করে পরিবেশ ধ্বংস হবে নাÑএমন আশায় বুক বাধেন স্থানীয়রা। কিন্তু তাদের হতাশ করে অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে নতুন করে পাহাড় কাটায় মেতেছে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

    পাহাড় কাটা ও প্রশাসনের ভূমিকা

    রামগড় পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বলিটিলা মসজিদের সামনে একটি পাহাড়, একই ওয়ার্ডের আরেকটি পাহাড় এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চৌধুরীপাড়া এলাকার একটি পাহাড় পুরোপুরি কেটে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মাটি ভরাট ছাড়াও পুরো প্রকল্প তৈরিতে ছোটবড় অসংখ্য পাহাড় কেটে ধ্বংস করা হয়েছে। অনেক পাহাড় খাড়াখাড়িভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে কাটা হয়েছে। এতে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি পাহাড় ধসে জীবনহানিরও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বালি ভরাটের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন দ্রুততার সঙ্গে বন্দরের ইয়ার্ডের কাজ শেষ করা হচ্ছে।

    এ ব্যাপারে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী শামীম বলেন, গত মাসে পাহাড় কাটার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আগের সরকার আমলে এখানকার একজন উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এই পাহাড়গুলো কেটে প্রকল্পে মাটি সরবরাহ করা হয়েছে। বর্তমানে পাহাড় কাটা হচ্ছে না। তারপরও স্থানীয়রা যখন অভিযোগ করেছে, তখন বিষয়টি তদন্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বালুর পরিবর্তে পাহাড়ি মাটি ব্যবহার করায় শতকোটি টাকার এ প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিয়ে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চট্টগ্রামের সম্পাদক খান মোহাম্মদ আমিনুর রহমান বলেন, ভরাটের কাজে সাধারণত নদীর বালি ব্যবহার করা হয়। পাহাড়ি মাটির কমপ্যাকশন কম হওয়ায় সময়ের সঙ্গে জমি দেবে যাওয়া, ফাটল ধরা ও অবকাঠামোর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে ওই জায়গার ওপর নির্মিত পুরো অবকাঠামোর মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে বাধ্য।

    বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ২০২২ সালে রামগড়ের মহামুনি এলাকায় অধিগ্রহণ করা ১০ একর জমিতে ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট (আইসিপি), কাস্টমস অফিস, প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন, পোর্ট বিল্ডিং, ট্রান্সশিপমেন্ট শেড, ওয়্যার হাউস, ইয়ার্ড ও আবাসিক ভবন নির্মাণে ১৬১ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রথমে মনিকো লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়। তবে ২০২২ সালের ১১ জানুয়ারি কাজ শুরু হলে ভারতের ডিজাইনে কাজ না হওয়ার অজুহাতে তাতে বাধা দেয় সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ। এক বছরের বেশি সময় কাজ বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বাতিল হয়।

    পরে ভারতীয় পক্ষের সম্মতির পর প্রকল্প আবার চালু হলে এমএসসিএল অ্যান্ড এমএসডিবিএল জেবি ও মনিকো লিমিটেডকে যৌথভাবে নতুন করে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে মনিকো লিমিটেড বন্দরের ১০ একর জমি ভরাটসহ ওয়্যার হাউস, ইয়ার্ড, রিটেইনিং ওয়াল, বাউন্ডারি ওয়াল ও দুটি ওয়েব্রিজ স্কেল নির্মাণের জন্য প্রায় ৮৯ কোটি টাকার কাজ পায়। নিয়ম অনুযায়ী, প্রায় ২২ ফুট উচ্চতায় বালু দিয়ে ভরাট করার কথা থাকলেও বাস্তবে পাহাড় কেটে আনা মাটি দিয়েই পুরো এলাকা ভরাট করা হয়েছে।

    বিষয়টি স্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মনিকো লিমিটেডের স্থানীয় ব্যবস্থাপক হাফিজুর রহমান জানান, প্রজেক্টের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা বিশ্বপ্রদীপ কারবারির একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাব-কন্ট্রাক্টে বালি ভরাটের কাজ দেওয়া হয়েছিল। কন্ট্রাক্টে উল্লেখ ছিল পাহাড়ি ঝরনার বালি সরবরাহ করতে হবে। খাগড়াছড়ি এলাকার সব বালিই লাল রঙের, তাই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পাহাড় কেটে বালি সরবরাহ করলে তা বোঝার উপায় নেই।

    একতরফা লাভ ভারতের

    রামগড়ের ওপারে আসামের গোহাটি ও ত্রিপুরার আগরতলা সেভেন সিস্টারের মূল বাণিজ্যিক কেন্দ্র। নিকটতম মূল শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে কলকাতা। শিলিগুড়ি করিডোর হয়ে গোহাটি কিংবা আগরতলার দূরত্ব এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৬৫০ কিলোমিটারের মধ্যে। দুর্গম ও পাহাড়ি এসব পথে ভারী পরিবহন চলাচল একেবারেই অসম্ভব। বিপরীতে রামগড় হয়ে আগরতলার সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব মাত্র ৩০০ কিলোমিটার আর গোহাটির দূরত্ব ৬০০ কিলোমিটারের কাছাকাছি। রামগড় বন্দর হয়ে ট্রানজিট সুবিধা পেলে বিচ্ছিন্ন এ রাজ্যগুলোর সঙ্গে সহজ যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি হবে ভারতের। আর এ কারণেই ছোট্ট এ বন্দরের প্রতি তাদের এত আগ্রহ।

    রামগড় ব্রিজ পার হলে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাবরুম এলাকার অবস্থান। এ সাবরুমকে কেন্দ্র ধরে সম্প্রতি সেভেন সিস্টারের রাজ্যগুলোর সঙ্গে সড়ক ও রেলপথে কানেকটিভিটি বাড়িয়েছে ভারত। তাদেরই আগ্রহে রামগড়ে বন্দর তৈরি করে দিচ্ছে বাংলাদেশ। এর আগে ফেনী নদীর ওপর নিজস্ব অর্থায়নে ১৩৩ কোটি টাকা খরচ করে ব্রিজ বানিয়ে দিয়েছে দিল্লি। রামগড় থেকে বারইয়ারহাট পর্যন্ত রাস্তা বানানোর খরচের প্রায় অর্ধেকের জোগানও দিয়েছে দেশটি। তবে এই টাকা চড়া সুদে নিয়েছে বাংলাদেশ।

    চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে ট্রানজিট সুবিধায় তামাবিল, আখাউড়া ও রামগড় বন্দর দিয়ে পণ্য নেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছে ভারত। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর থেকে তামাবিলের দূরত্ব ৪০০ কিলোমিটারের কাছাকাছি। আখাউড়াও ২০০ কিলোমিটারের বেশি। কিন্তু রামগড় মাত্র ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে। ফলে বন্দর চালু হলে একচেটিয়া ট্রানজিট সুবিধা ভোগ করবে ভারত।

    নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের বক্তব্য

    রামগড় বন্দরের নামে ভারতের সঙ্গে যে কানেকটিভিটি তৈরি হয়েছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহীদ উল্লাহ চৌধুরী জানান, রামগড় থেকে বঙ্গোপসাগরের দূরত্ব ৫০ কিলোমিটারের কিছু বেশি। তাই এ এলাকাটি বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি। ভারতের জন্য চিকেন নেক যেমন গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য রামগড়ও তেমনই গুরুত্বপূর্ণ। ছোট্ট এ এলাকাটি দখলে নিতে পারলে পুরো চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। বন্দরের জন্য সেতু তৈরি হওয়ার আগে সরাসরি ভারতের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ বাংলাদেশের ছিল না। ফেনী নদী প্রাকৃতিকভাবে দুই দেশকে আলাদা করার পাশাপাশি সীমান্ত সুরক্ষিত করে রেখেছিল। কিন্তু এই স্থলবন্দরের জন্য নদীর ওপর নির্মিত সেতু আমাদের জন্য অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

    ২০১০ সালে রামগড়কে স্থলবন্দর ঘোষণা করে সরকার। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ পায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো। এর ধারাবাহিকতায় রামগড় বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়।

    কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

    রামগড় স্থলবন্দর প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব শামসুল আলম বলেন, মূলত ভোলাগঞ্জ, শ্যাওলা ও রামগড়Ñএ তিনটি বন্দর নিয়ে একটি প্রকল্প, যার কাজ ৯৭ শতাংশ শেষ হয়েছে। সেক্ষেত্রে রামগড় বন্দরের অবকাঠামোগত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে বন্দর কবে চালু হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার

    তথ্যসূত্র:

    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

    Comment


    • #3
      গ্যাস সংকটে ঢাকার অধিকাংশ এলাকায় জ্বলছে না চুলা


      রাজধানীতে আবাসিক এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাস না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। নিয়মিত বিল দিয়েও এই প্রাকৃতিক জ্বালানির ন্যূনতম সরবরাহ না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। রান্নাবান্না করতে না পারায় পরিবারগুলো নিয়মিত তিন বেলা খেতেও পারছে না। অনেকে বাড়তি টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা।
      তিতাসের পাইপলাইনের গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় এলপি গ্যাস বা সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। কিন্তু এক মাস ধরে সিলিন্ডারের বাজারে চরম নৈরাজ্য চালাচ্ছে সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট। এতে বহুমাত্রিক রূপ নিচ্ছে এই সংকট। নির্ধারিত এক হাজার ২৫৩ টাকার পরিবর্তে কোথাও কোথাও সিলিন্ডারের দাম প্রায় দুই হাজার টাকায় পৌঁছেছে। বাড়তি দাম দিয়েও অনেক ক্ষেত্রে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না।

      ভুক্তভোগীরা জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে যাত্রাবাড়ী, মাতুয়াইল, কাজলাপাড়, ভাঙ্গা প্রেস, শনিরআখড়া, মগবাজারের নয়াটোলা, চেয়ারম্যানগলি, রামপুরা, বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট চরমে পৌঁছেছে। মিরপুর, মোহাম্মদপুর হাউজিং সোসাইটিগুলো, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনের বড় অংশজুড়ে গ্যাসের চাপ কম কিংবা একেবারেই থাকছে না। কোথাও কোথাও ভোর বা গভীর রাতে কয়েক ঘণ্টার জন্য চুলা জ্বললেও তা দিয়ে স্বাভাবিক রান্না সম্ভব হচ্ছে না। এতে অনেক পরিবার একবেলার জন্য রান্না করতেই হিমশিম খাচ্ছে।

      মিরপুর ১০ নম্বরের বাসিন্দা রেবা রেহানা বলেন, ঘরে অসুস্থ মা আছে। পরিবারের সদস্যদের জন্য রান্না ছাড়াও মায়ের জন্য গরম পানি করাসহ বিভিন্ন কাজে গ্যাস প্রয়োজন হয়। সংসারে নানা কাজের পাশাপাশি চুলা ধরে গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকা সম্ভব হয় না, এ কারণে তিন বেলা রান্না করে খাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বাইরে থেকে খাবার কিনে এনে ক্ষুধা নিবারণ করতে হচ্ছে। আবার হোটেলেও গ্যাস সংকটের কারণে তারাও খাবারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

      যাত্রাবাড়ীর কাউন্সিলর বড়বাড়ী এলাকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক রিপন আহমেদ আমার দেশকে বলেন, ভোর হতে না হতেই গ্যাসের চাপ কমে যায়। সারা দিন আর আসে না। প্রতিদিন রান্না করার জন্য না ঘুমিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। রাত ১২টা থেকে ১টার মধ্যে চুলা জ্বলে।

      রাজধানীর দক্ষিণ কাজলার পাড়ের বাসিন্দা দোকানদার সুকান্ত বিশ্বাসের বাসায় তিতাসের গ্যাস লাইন থাকলেও রান্নার সময় প্রায়ই চাপ থাকে না। বাধ্য হয়ে প্রতি মাসে ১২ কেজির এলপি গ্যাসের একটি সিলিন্ডার কিনতে হয়।

      পুরান ঢাকা এলাকার নাজিরমহল্লা, রায়সাহেব বাজার, লক্ষ্মীবাজার এলাকার ভুক্তভোগীরা বলেন, গ্যাস সংকট তীব্র হয়েছে। রাতে ১টার পর কিছুক্ষণের জন্য গ্যাস আসে। দুয়েক ঘণ্টার মধ্যে রান্না না করলে পরে আর পাওয়া যায় না। সকালে বাচ্চাকে স্কুলে পাঠানোর আগে খাবার ইলেকট্রিক চুলায় গরম করে খাওয়াতে হয়। কোনো পুষ্টিকর খাবার তৈরি করে শিশুকে খাওয়ানোর অবস্থা থাকে না। প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে অনেক সময় ঠান্ডা খাবার খাইয়ে ও শীতল পানিতে গোসল করিয়ে সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে হয়।

      তিতাসের তথ্য বলছে, সিস্টেম লসের কারণে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যত গ্যাস অপচয় হয়েছে, তা দিয়ে ৩০ লাখ চুলায় টানা এক বছর তিন বেলা রান্না করা যেত। গত অর্থবছরে দেশে প্রায় এক হাজার ৭৯৬ মিলিয়ন ঘনমিটার (এমএমসিএম) গ্যাস অপচয় হয়েছে। খুচরা পর্যায়ে গ্যাসের গড় বিক্রয়মূল্যের হিসেবে, এই অপচয়ের আর্থিক ক্ষতি প্রায় চার হাজার ১০৭ কোটি টাকা। বাংলাদেশে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘সিস্টেম লস’ বলতে চুরি ও অবৈধ সংযোগ, পুরোনো পাইপলাইনে গ্যাস লিক হওয়া, রক্ষণাবেক্ষণের সময় ক্ষতি, মিটারিং ত্রুটি এবং ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতায় গ্যাসের অপচয়কেই বোঝায়।

      পেট্রোবাংলার পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, গত ৫ জানুয়ারি দেশে অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন হয়েছিল ২৬৪ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট। আগের বছরের একই সময়ে উৎপাদন হয়েছিল ২৭২ কোটি ঘনফুট। দেশীয় তিনটি ক্ষেত্র থেকে ১১৩ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুটের সক্ষমতার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৭১ কোটি ঘনফুট। অন্যদিকে দুটি বিদেশি কোম্পানির ১৬১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের সক্ষমতার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১০১ কোটি ৮৬ লাখ ঘনফুট।

      পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যে পরিমাণ উৎপাদন হচ্ছে চাহিদা তার চেয়ে অনেক বেশি। যেমন—৫ জানুয়ারিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোয় গ্যাসের চাহিদা ছিল ২৫২ কোটি ৪৯ লাখ ঘনফুট। বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে ৭৪ কোটি ৮৬ লাখ ঘনফুট। সার কারখানাগুলোয় ৩২ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুটের বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ২৩ কোটি ৪৩ লাখ ঘনফুট। বাকি গ্যাস শিল্প ও আবাসিকে সরবরাহ করা হয়। তবে যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হয় তার মধ্যে উৎপাদনের মাত্র ১০ শতাংশ আবাসিকে দেওয়া হয়।

      তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ আমার দেশকে বলেন, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কমে গেছে। গত বছরের তুলনায় দিনে ২৫ কোটি ঘনফুট কম উৎপাদন হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে সরবরাহে। আবার শিল্পের উৎপাদন ঠিক রাখতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে আবাসিকে সংকট বাড়ছে।

      তিনি বলেন, শীতকালে এমনিতেই গ্যাসের চাপ কম থাকে। এর ওপর উৎপাদন কমে যাওয়ায় সামগ্রিক প্রভাব পড়েছে সবক্ষেত্রে। অভ্যন্তরীণ উৎপাদন না বাড়ালে এ সংকট নিরসন হবে না। এজন্য প্রয়োজন নতুন নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কার করা। এছাড়া পুরোনো কূপগুলোও সংস্কার করে উৎপাদন বাড়ানো যেতে পারে।

      তথ্যসূত্র:

      নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

      Comment


      • #4
        গুম কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন: সেনাকাঠামোর সব স্তর গুমে জড়িত ছিল



        দেশে গুম বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এমনকি অতি উৎসাহী কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তারও কাজ নয়। জোরপূর্বক নিখোঁজ রেখে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা ছিল সেনা ও নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরে পরিকল্পিত, সমন্বিত এবং দীর্ঘদিন ধরে টিকিয়ে রাখা একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা। গুমসংক্রান্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া এই অপরাধের দায় শুধু মাঠ পর্যায়ের সেনাসদস্যদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং অপারেশনাল ইউনিট, মধ্যম পর্যায়ের কমান্ড, গোয়েন্দা নেতৃত্ব এবং সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তারা—সবার ওপর বর্তায় বলে কমিশনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

        গত ৪ জানুয়ারি গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গুমের প্রথম ধাপ ছিল চোখ বেঁধে তুলে নেওয়া, অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া এবং আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তার দেখানো ছাড়াই আটক রাখা। এসব কাজ মাঠ পর্যায়ের সেনা ও নিরাপত্তা সদস্যরাই বাস্তবায়ন করেছেন। এই পর্যায়ের সদস্যরা নির্দ্বিধায় সরাসরি অপরাধে যুক্ত ছিলেন, কারণ তারা জানতেন যে, গ্রেপ্তারের কোনো আইনি কাগজ নেই, আটক ব্যক্তির অবস্থান গোপন রাখা হচ্ছে এবং পরিবার ও আদালতও অন্ধকারে ছিল। এ কারণে মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের দায় প্রাথমিক ও প্রত্যক্ষ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

        মধ্যম পর্যায়ের কমান্ডারদের দায়

        কমিশন বলছে, গুমের অপরাধ কেবল মাঠপর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। ইউনিট কমান্ডার ও মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তারা আটক সেল সম্পর্কে জানতেন। এছাড়া নিয়মিত রোল কল ও প্রস্তুতির নির্দেশ দিতেন এবং পরিদর্শনের সময় আটক ব্যক্তিদের সেল দেখেছেন। সৈনিকদের সাক্ষ্যে এসেছে যে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঈদের দিনও আটক সেল পরিদর্শনে গেছেন।

        কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই স্তরের সেনা কর্মকর্তারা শুধু জানতেনই না, বরং অননুমোদিত আটক রাখার কার্যক্রম চলমান রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তাই এটি ইচ্ছাকৃত সহায়তা ও অনুমোদনের দায়।

        গোয়েন্দা ও বিশেষ ইউনিটে দায়

        কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিভিন্ন ইউনিটে চোখ বাঁধার ধরন, আটক রাখার পরিবেশ, জিজ্ঞাসাবাদের কৌশল ও মুক্তির পর মামলা দেওয়ার প্যাটার্ন প্রায় অভিন্ন ছিল। এক ইউনিট থেকে আরেক ইউনিটে আটক ব্যক্তিদের হস্তান্তরের সময়ও পদ্ধতিগত সমন্বয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের বর্ণনায় এসেছে যে ডিজিএফআই এবং র‌্যাবের আলাদা সরঞ্জাম ও ভিন্ন ব্যবস্থাপনা ছিল। এ ধরনের সমন্বয় পরিকল্পনা ছাড়া সম্ভব নয়, যা গোয়েন্দা ও বিশেষ ইউনিটগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক দায়ের প্রমাণ।

        সর্বোচ্চ সেনা কমান্ডের দায়

        প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়ার পর সেনা কর্মকর্তাদের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অজুহাত ছিল—তারা নাকি জানতেন না। কমিশন এই দাবি তিনটি ভিত্তিতে বাতিল করেছে। কারণ, আটক রাখার সেলগুলো ছিল কমান্ডিং অফিসারদের অফিসের কাছেই। একই ভবন, সিঁড়ি ও লিফট ব্যবহার করে এবং অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি দৃষ্টিসীমার মধ্যে ছিল। শব্দরোধী ব্যবস্থা না থাকায় নির্যাতনের শব্দ শোনা যেত। এমন অবস্থায় অজ্ঞতার দাবি বাস্তবতাবিবর্জিত।

        অনুসন্ধানকালে কমিশনের সামনে ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল আকবর স্বীকার করেছেন যে, হুম্মাম কাদেরের গুম নিয়ে তিনি সরাসরি শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছেন। সিটিআইবি ও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে আটকদের বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা হতো। এছাড়া জেআইসি ও টিএফআইতে পরিদর্শন করা হয়েছে, যা সর্বোচ্চ সেনা নেতৃত্বের অবগত থাকার বিষয়টি প্রমাণ করে।

        কমিশন বলছে, গুম একটি চলমান অপরাধ। যতক্ষণ একজন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে আটক রাখা হয় এবং তার অবস্থান গোপন থাকে, ততক্ষণ অপরাধ চলতে থাকে। এই নীতির বাস্তব প্রয়োগ দেখা যায় ব্রিগেডিয়ার আজমি গুমের ঘটনায়। সেনাবাহিনীর নিজস্ব কোর্ট অব ইনকোয়ারির রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, শুধু প্রাথমিক অনুমোদনদাতা নন, পরবর্তী ডিরেক্টর জেনারেলরাও দায়ী। কারণ, তারা অননুমোদিত আটকের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

        সেনাকাঠামোর দায় আড়ালের চেষ্টা

        গুমকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ ও ‘সন্ত্রাস দমন’-এর অজুহাতে বৈধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল জানিয়ে কমিশন বলছে, এটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে কোনো জরুরি অবস্থায় বা যুদ্ধকালেও জোরপূর্বক নিখোঁজ রাখা বৈধ নয়।

        কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গুমের শিকার ব্যক্তিদের বড় অংশই ছিলেন রাজনৈতিক বিরোধী ও সমালোচক। এ কারণে এটি নিরাপত্তা নয় বরং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার ছিল।

        দায় এড়ানোর কাঠামোগত কৌশল

        প্রতিবেদনে বলা হয়, গুমের ঘটনায় সেনা আইনের আওতায় বিচার চাওয়া হয়, যা বাস্তবে দায় এড়ানোর কৌশল। কারণ, সেনা আইনে গুম অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত নয় এবং কমান্ড দায়ের সুস্পষ্ট বিধান নেই। ব্রিগেডিয়ার আজমির ঘটনায় কোর্ট অব ইনকোয়ারির সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি। র‌্যাব ও ইলিয়াস আলী গুম তদন্ত বোর্ডের বিপুল প্রমাণ ‘অনুপলব্ধ’ হয়ে গেছে। এটি প্রাতিষ্ঠানিক বাধা ও দায় আড়াল করার নজির।

        কমিশনের সামগ্রিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, দেশে গুমের ঘটনা ছিল ইচ্ছাকৃত, পরিকল্পিত ও সেনা-নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা। এতে মাঠ পর্যায়ের সেনাসদস্য, ইউনিট, মধ্যম পর্যায়ের কমান্ডার, গোয়েন্দা ও বিশেষ ইউনিটের নেতৃত্ব এবং সর্বোচ্চ সেনা কমান্ডের দায় আছে । সরাসরি জড়িত অথবা নীরবতার মাধ্যমে—সব স্তরই এ অপরাধ সম্ভব করেছে।

        তথ্যসূত্র:

        নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

        Comment


        • #5
          এবার রাজধানীতে সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা



          ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আনোয়ার হোসেন নামে আরেকজন।

          ৭ জানুয়ারি (বুধবার) রাত ৮টার কিছু পরে রাজধানীর বসুন্ধরা মার্কেটের পেছনে তেজতুরি বাজার এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা তাদের গুলি করে।

          ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের এডিসি ফজলুল করিম বলেন, স্টার কাবাবের পাশের ওই গলিতে দুজনকে গুলি করা হয়েছে। এদের একজন মারা গেছেন। তাদেরকে বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

          তথ্যসূত্র:

          নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

          Comment


          • #6
            হিন্দুত্ববাদী প্রশাসনের নির্দেশে দিল্লিতে প্রাচীন মসজিদ সংলগ্ন স্থাপনা উচ্ছেদ, ব্যাপক সংঘর্ষ



            ৭ জানুয়ারি দিল্লির তুর্কমান গেট-রামলীলা ময়দান এলাকায় একটি প্রাচীন মসজিদের পাশে অবস্থিত স্থাপনাসমূহে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে হিন্দুত্ববাদী ভারত প্রশাসন। দিল্লির প্রাচীন এই মসজিদের নাম ফয়েজ-ই-ইলাহি। হাইকোর্টের নির্দেশে ৩০০ হিন্দুত্ববাদী কর্মী ও ১৭টি বুলডোজার এই অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছে।

            এই সময় স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানালে পুলিশের সাথে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটে। এর ফলে ১০ জন নিরীহ নাগরিককে আটক করেছে হিন্দুত্ববাদী পুলিশ।

            সংঘর্ষ চলাকালীন জনগণের প্রতিবাদ নিয়ন্ত্রণ করতে কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করেছে পুলিশ। এছাড়া সিসিটিভি ও অন্যান্য ভিডিও ফুটেজ দেখে আরও অনেককে গ্রেপ্তার করা হবে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

            মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি জানায়, স্থাপনাসমূহ ১০০ বছরের অধিক পুরনো, উক্ত জমি দিল্লি ওয়াক্বফ বোর্ডের অধীন, তাই এর জন্য নিয়মিত লিজ ফি প্রদান করা হয়েছে। এই নির্দয় পদক্ষেপের মাধ্যমে কবরস্থানসহ মুসলমানদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাগুলো কেড়ে নিল হিন্দুত্ববাদী ভারত প্রশাসন।

            উল্লেখ্য যে, এর আগে গত নভেম্বর মাসে তুর্কমান গেটসংলগ্ন রামলীলা গ্রাউন্ড এলাকায় প্রায় ৩৮ হাজার ৯৪০ বর্গফুট এলাকা তিন মাসের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতে দিল্লি পৌর কর্পোরেশন (এমসিডি) ও দিল্লি পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে।

            তথ্যসূত্র:
            1. https://tinyurl.com/4zzndtcc
            নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

            Comment


            • #7
              কিশোরগঞ্জে দুর্বৃত্তদের আগুনে মসজিদে রাখা ৩০ কুরআন পুড়ে ছাই, আটক ১



              কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় একটি মসজিদে থাকা অন্তত ৩০টি পবিত্র কোরআন শরীফ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

              গত ৬ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) গভীর রাতে পাকুন্দিয়ার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের বালিয়াপাড়ায় একটি মসজিদে এ দূর্ঘনা ঘটে। এ ঘটনায় পারভেজ নামের সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

              স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে স্থানীয় বাজারের একটি মাইক সার্ভিসের কয়েকজন কর্মচারী ওয়াজ মাহফিলের কাজ শেষে বাড়ি ফেরেন। এসময় পথিমধ্যে মসজিদের বারান্দায় আগুন দেখতে পান তারা। তখন তাদের চিৎকারে মসজিদের ইমামসহ এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে এসে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে মসজিদের বারান্দায় মক্তবের শিক্ষার্থীদের রাখা প্রায় ৩০টি পবিত্র কোরআন শরীফ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

              মসজিদের ইমাম মাওলানা বায়েজিদ জানান, মসজিদের পাশের একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পথচারীদের ডাকচিৎকারে ঘুম ভেঙে উঠে দেখি কে বা কারা পবিত্র কোরআন শরীফে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

              বুধবার এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

              পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাস, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফুল হক, আহুতিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোস্তফা কামাল, পাকুন্দিয়া উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম এবং পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরুজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন

              পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুপম দাস বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

              আহুতিয়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোস্তফা কামাল জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পারভেজ নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।


              তথ্যসূত্র:

              নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

              Comment


              • #8
                মৌলভীবাজারে বাড়িতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক মুসলিম তরুণীকে ধর্ষণ করল হিন্দু যুবক


                মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সমীরন মালাকার (২৫) নামে এক ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৯। শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের নছিরগঞ্জ বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সমীরন ভুইগাঁও গ্রামের ছয়নেল মালাকারের ছেলে।

                রবিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে র‍্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া অফিসার) কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সমীরন পেশায় একজন সিএনজি চালক। সিএনজিতে যাতায়াতের সুবাদে ভিকটিমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

                একপর্যায়ে সে ভিকটিমকে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব দেয়। ধর্মীয় ভিন্নতার কারণে ভিকটিম প্রস্তাবে রাজি না হলে অভিযুক্ত বিভিন্নভাবে বিয়ের প্রলোভন দেখায় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

                একপর্যায়ে গত বছরের ১২ নভেম্বর রাত আনুমানিক ১২টার দিকে অভিযুক্ত ভিকটিমের বাড়িতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। উক্ত ঘটনায় ভিক্টিম নিজে বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

                তিনি আরও জানান, মামলার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে হিন্দু ধর্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে কুলাউড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


                তথ্যসূত্র:

                নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

                Comment


                • #9
                  স্বামীর সঙ্গে তর্ক করায়, নওগাঁয় হিন্দুত্ববাদী কায়দায় বাসচালক কে ডেকে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করল হিন্দু পুলিশ সুপার



                  নওগাঁয় সিটবিহীন টিকিটে স্বামীর বাসযাত্রাকে কেন্দ্র করে তর্কের জেরে এক বাসের চালককে ডেকে নিয়ে গিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সহকারী পুলিশ সুপার (সাপাহার সার্কেল) শ্যামলী রানী বর্মণের বিরুদ্ধে।

                  রোববার (৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয় সাপাহার সার্কেল অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

                  এর আগে ওইদিন সকাল সাড়ে ৯টায় সাপাহার থেকে রাজশাহীগামী ‘হিমাচল’ পরিবহনে ধানসুরা যাওয়ার পথে বাসচালক ও সুপারভাইজারের সঙ্গে তর্কে জড়ায় শ্যামলী রানী বর্মণের স্বামী জয়ন্ত বর্মন।

                  ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীগামী হিমাচল পরিবহনের একটি বাস রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় সাপাহার থেকে ছেড়ে যায়। রাজশাহী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের ওই বাসে যাত্রী হয়ে ধানসুরা নামার উদ্দেশ্যে সিটবিহীন টিকিট কেটে উঠেছিল শ্যামলী রানী বর্মণের স্বামী কলেজ শিক্ষক জয়ন্ত বর্মণ। বাসটি দিঘার মোড়ে পৌঁছালে ওই স্টপেজ থেকে রাজশাহীগামী যাত্রীর যেই সিটে জয়ন্ত বর্মণ বসেছিল সেটি থেকে উঠে যেতে অনুরোধ করেন সুপারভাইজার সিয়াম। ওই সময় নিজেকে সার্কেল এসপির স্বামী পরিচয় দিয়ে সুপারভাইজারকে হুমকি দিতে শুরু করে জয়ন্ত। একপর্যায়ে সৃষ্ট তর্ক বাড়তে থাকলে সিট ছেড়ে দিয়ে বাসচালক বাদলের কাছে এগিয়ে যায় জয়ন্ত। চালকের সঙ্গে চলে তুমুল বাকবিতণ্ডা। এরপর নির্ধারিত গন্তব্য ধানসুরায় নেমে যাওয়ার আগে চালক ও সুপারভাইজারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায় জয়ন্ত বর্মণ।

                  তারা আরও জানান, জয়ন্ত বর্মণ গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার পর সাপাহারের টিকিট মাস্টারকে অফিসে ডেকে নেয় শ্যামলী রানী বর্মণ। টিকিট মাস্টারের ব্যবহৃত মুঠোফোন থেকে বাসচালক বাদলকে কল করে সে। এরপর চালক ও সুপারভাইজারকে হুমকি ধামকি দেয়। যাত্রাপথে বারবার শ্যামলী রানী বর্মণের কল আসায় বাসটি নির্ধারিত সময়ে রাজশাহী পৌঁছাতে কিছুটা দেরি করে। পরবর্তীতে রাত ১০টায় হিমাচল পরিবহনের ওই বাস পুনরায় সাপাহারে ফিরলে চালককে বাসস্ট্যান্ড থেকে অফিসে ডেকে নেয় শ্যামলী রানী বর্মণ। সেখানে পৌঁছানোর পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বাসচালক বাদলের পেটে প্রথমেই সজোরে লাথি দেয় শ্যামলী। বেধড়ক পেটাতে শুরু করে তার স্বামী জয়ন্ত বর্মণও। এরপর শ্যামলী রানী বর্মণের নির্দেশে তার দেহরক্ষী আনন্দ বর্মণ পাইপ দিয়ে চালককে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
                  জানা যায়, পরে আহত অবস্থায় বাদল জ্ঞান হারালে সাপাহারের কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা না নেওয়ার শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে পরের দিন সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীতে ফিরে রাজশাহী মেডিকেলে কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন বাসচালক বাদল।

                  ভুক্তভোগী বাস চালক বাদল বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় বিশ্রামে আছেন। যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে নির্যাতনের শিকার চালক বাদল বলেন, ‘এএসপি (শ্যামলী রানী বর্মণ) ম্যাডাম ও ওনার স্বামী (জয়ন্ত বর্মন) আমাকে অফিসে ডেকে নিয়ে শরীরের গোপন জায়গা গুলোতে মেরেছে। উনি (শ্যামলী রানী বর্মণ) বডিগার্ডকে বললেন মাইরা হাত পা ভেঙে দে। তারপর বডিগার্ড আমাকে এসএস পাইপ দিয়ে ইচ্ছেমতো পিটিয়েছে। আমি এর বিচার চাই। শ্রমিক বলে আমরা কি মানুষ না?’

                  এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজশাহী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, ‘আমাদের বাসের এক চালককে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে সার্কেল এসপি শ্যামলী রানী বর্মণ নির্যাতন করার পর থেকে স্থানীয় বাস মালিক ও শ্রমিকদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি (শ্যামলী রানী বর্মণ) আমাদের সঙ্গেও অশোভন আচরণ করেছেন। আমরা অবিলম্বে তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারসহ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি। অন্যথায় হরতালসহ কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে।’


                  তথ্যসূত্র:

                  নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

                  Comment

                  Working...
                  X