Announcement

Collapse
No announcement yet.

উম্মাহ নিউজ || ২৯ রজব, ১৪৪৭ হিজরি || ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ঈসায়ী

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • উম্মাহ নিউজ || ২৯ রজব, ১৪৪৭ হিজরি || ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ঈসায়ী

    উত্তরপ্রদেশে বিনা অনুমতিতে নামাজ আদায়ের অভিযোগে ১২ জনকে আটক ও জরিমানা করেছে হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন



    উত্তরপ্রদেশের বেরেলি জেলায় একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে বিনা অনুমতিতে নামাজ আদায়ের অভিযোগে ১২ জন মুসলিমকে আটক ও জরিমানা করেছে হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন।

    ১৮ জানুয়ারি পিটিআই সংবাদ সংস্থার দেয়া তথ্যমতে, শান্তি ভঙ্গ আইনের অধীনে এই ১২ জনকে চালান দেওয়া হয় এবং ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়। পরবর্তীতে ম্যাজিস্ট্রেট তাদের জামিন মঞ্জুর করে।

    পুলিশ সুপার আনশিকা ভার্মা জানায়, মোহাম্মদগঞ্জ গ্রামের একটি খালি বাড়ি অস্থায়ী মাদ্রাসা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। আইন অনুযায়ী বিনা অনুমতিতে নতুন কোনও ধর্মীয় কার্যকলাপ বা জমায়েত নিষিদ্ধ। যদি এই ধরনের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি করা হয়, তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে হিন্দুত্ববাদী এই পুলিশ।

    প্রাথমিক তদন্তের আলোকে পুলিশ জানায়, বাড়িটি হানিফ নামে এক ব্যক্তির, এই বাড়ি জুমার নামাজের জন্য সাময়িকভাবে ব্যবহার করা হত। তবে সেখানে মাদ্রাসা বা প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মীয় কার্যকলাপের কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

    ব্যক্তিগত বাড়িতে নামাজ আদায়ের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। এই ভিডিও বেশ কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী অ্যাকাউন্টে থেকে শেয়ার করা হয়েছে। এই সকল পোস্টে মুসলমানদের প্রতি কটাক্ষ করে ঘৃণামূলক মন্তব্য ছড়ানো হয়েছে।

    সারাদেশে বিভিন্ন জায়গায় ব্যক্তিগত বাড়িতে মুসলমানগণ জামাআতবদ্ধ নামাজ আদায় করে থাকে। বিশেষ করে যেখানে মসজিদে প্রবেশাধিকারের সুযোগ কম বা পর্যাপ্ত নামাজের জায়গার অভাব রয়েছে সেখানে এটি সাধারণ ব্যাপার। উগ্র হিন্দুত্ববাদী প্রশাসনের ইসলাম বিদ্বেষ কতটা ব্যাপক তা উক্ত ঘটনা থেকে প্রতীয়মান হয়।


    তথ্যসূত্র:
    1. https://tinyurl.com/2wmb2x3b
    2. https://tinyurl.com/2sefeh8z
    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

  • #2
    কুমিল্লায় বিজিবির অভিযানে প্রায় দেড় কোটি টাকার ভারতীয় মালামাল জব্দ



    কুমিল্লায় দেড় কোটি টাকার অবৈধ ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার শাড়ী থ্রি-পিস এবং বাজি উদ্ধার করল কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন-১০ বিজিবি। কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক কর্নেল মীর আলী এজাজ অবৈধ ভারতীয় মালামাল আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    ১৮ জানুয়ারি রোববার সকাল আটটায় কুমিল্লা জেলার সদর উপজেলায় পৃথক দুটি অভিযানে এসব অবৈধ ভারতীয় মালামাল উদ্ধার করা হয়।

    বিজিবি সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) নিজস্ব দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে। ১৮ জানুয়ারি সকাল আটটায় কুমিল্লা জেলার সদর উপজেলার আওতাধীন যশপুর বিওপি-এর টহল-দল দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী পৃথক পৃথক অভিযান পরিচালনা করে।

    অভিযানে সীমান্তের ২৫০ গজ বাংলাদেশের ভেতরে মুড়াপাড়া এবং ১০০ গজ ভেতরে পাহাড়পুর নামক স্থানে বিজিবি টহল দল মালিক বিহীন অবস্থায় একটি মিনি পিকআপসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় শাড়ী, থ্রি-পিস এবং বাজি জব্দ করে। যার মূল্য ১ কোটি ৩৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা।

    কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) অধিনায়ক কর্নেল মীর আলী এজাজ বলেন, আটককৃত চোরাচালানী মালামালসমূহ বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। চোরাচালান বন্ধে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

    তথ্যসূত্র:

    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

    Comment


    • #3
      তীব্র শীত ও অবরোধে গাজায় মানবিক সংকট আরও ভয়াবহ



      শীতের তীব্রতা আর ঝড়ো হাওয়ার মধ্যে গাজা উপত্যকা এখন এক গভীর মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি। এরই মধ্যে নতুন করে আরেকটি শক্তিশালী ঝড় আঘাত হানার পূর্বাভাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে লক্ষ লক্ষ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনির মাঝে, যারা ছেঁড়া তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়ে খোলা আকাশের নিচে জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

      দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান ইসরায়েলি গণহত্যামূলক যুদ্ধ গাজার প্রায় পুরো জনসংখ্যাকে নিজ ঘরবাড়ি থেকে উৎখাত করেছে, আর কঠোর শীত ও অবরোধের মধ্যে এই মানুষগুলো এখন বেঁচে থাকার ন্যূনতম নিরাপত্তাটুকুও হারাতে বসেছে।

      গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুতি শিবিরে থাকা এক লক্ষ পঁয়ত্রিশ হাজার তাঁবুর মধ্যে এক লক্ষ সাতাশ হাজার তাঁবুই সাম্প্রতিক চরম আবহাওয়ার কারণে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। গাজা শহর থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক তারেক আবু আজজুম জানান, বাস্তবতা অত্যন্ত ভয়াবহ। ছেঁড়া তাঁবু ও ছাদহীন ঘরে বসবাস করতে বাধ্য হওয়া শত শত হাজার পরিবার ঠান্ডা, বৃষ্টি ও হিমশীতল রাতের মুখোমুখি হচ্ছে।

      তারেক আবু আজজুম বলেন, এই দুর্ভোগ সরাসরি ইসরায়েলি বিধিনিষেধের ফল। শীত মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রিফ্যাব্রিকেটেড ঘর, নির্মাণসামগ্রী ও জরুরি মানবিক সহায়তা গাজায় প্রবেশে কঠোর বাধা দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির আওতায় প্রতিদিন অন্তত ছয় শত ট্রাক ত্রাণ প্রবেশের কথা থাকলেও, গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তরের তথ্যমতে বাস্তবে গড়ে মাত্র একশ পঁয়তাল্লিশটি ট্রাকই গাজায় ঢুকছে, তাও যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই তা লঙ্ঘন করেছে।

      চরম দুর্দশা লাঘবের জন্য বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা নিজেদের মতো করে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। ছেঁড়া তাঁবুতে প্লাস্টিকের চাদর জুড়ে দেওয়া, জ্বালানির অভাবে কাপড় পরেই রাত কাটানো এবং গরমের জন্য ঝুঁকিপূর্ণভাবে আবর্জনা জ্বালানোর মতো পদ্ধতির আশ্রয় নিতে হচ্ছে তাদের। তারেক আবু আজজুম জানান, ফিলিস্তিনের শীত স্বাভাবিকভাবেই তীব্র, এর উপর আবার দীর্ঘ বাস্তুচ্যুতি, ক্ষুধা ও ক্লান্তির ওপর এ শীত মানুষের সহনশীলতার শেষ সীমায় পৌঁছেছে।

      অবিরাম বোমাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোও তীব্র শীত ও ঝড়ের কারণে ধসে পড়ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে এ ধরনের দুর্ঘটনায় অন্তত পঁচিশ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষরা। সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর জানিয়েছে, ঠান্ডাজনিত কারণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে চব্বিশে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে একুশ জনই শিশু। এদের সবাই বাস্তুচ্যুতি শিবিরে বসবাসরত ফিলিস্তিনি।

      গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, শীতজনিত অসুস্থতায় বিশেষ করে শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি বাড়ছে এবং প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে শত শত জরুরি সহায়তার আবেদন এসেছে। এদিকে ফিলিস্তিনি আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে যে, মঙ্গলবার রাত ও বুধবার ভোরে গাজাসহ ফিলিস্তিনের বিস্তীর্ণ এলাকায় মেরু অঞ্চলের শীতল বায়ু প্রবাহের প্রভাবে তীব্র তুষার ও হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


      তথ্যসূত্র:
      1. New storm to hit Gaza, piling on suffering for thousands of displaced
      https://tinyurl.com/56vszdav
      নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

      Comment


      • #4
        ময়মনসিংহের ভালুকায় কার্টনে মিলল নবজাতকের লাশ



        ময়মনসিংহের ভালুকায় ভরাডোবা হাইওয়ে থানার পুলিশ মহাসড়কের হাজির বাজার নামক স্থানে সড়কের পাশে পরিত্যক্ত কার্টনের ভেতর থেকে এক নবজাতককে উদ্ধার করেছে। পরে ভালুকা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। সাধারণ মানুষের ধারণা, ঘটনাটি কোনো ক্লিনিকের কাজ হতে পারে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৮ জানুয়ারি রাত ৭টার দিকে উপজেলার হাজির বাজার এলাকায়।

        এলাকাবাসী জানায়, তারা কার্টনের ভেতরে জীবিত নবজাতককে দেখতে পেয়ে হাইওয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ নবজাতকে উদ্ধার করে ভালুকা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

        ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফনের জন্য আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


        তথ্যসূত্র:

        নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

        Comment


        • #5
          রংপুরের গঙ্গাচড়ার তিস্তা চরে বালু উত্তোলন, হুমকিতে বাঁধ



          রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার দক্ষিণ কোলকোন্দ এলাকায় তিস্তা নদীর তীর রক্ষা গ্রোয়েন বাঁধ কেটে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন । এতে বাঁধটি এখন ধ্বংসের মুখে।

          জানা গেছে , রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তা নদীর চরাঞ্চল থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। এই বালু উত্তোলনে গড়ে উঠেছে একটি সিন্ডিকেট । অবৈধ এই চক্রের কারণে শুধু নদীর চর নয়, পুরো গ্রোয়েন বাঁধব্যবস্থাই ভেঙে পড়ার মুখে। গ্রোয়েন বাঁধ নদীর স্রোতকে তীর থেকে দূরে সরিয়ে মাঝ নদীর দিকে প্রবাহিত করে, যাতে তীর ভাঙন রোধ হয় এবং নদীর পলি জমে জমি শক্ত হয়। দক্ষিণ কোলকোন্দ এলাকায় এটি নির্মাণ করা হয়েছিল বসতবাড়ি, কৃষিজমি, স্কুল, রাস্তা ও অবকাঠামো রক্ষার জন্য। কিন্তু এখন সেই গ্রোয়েন বাঁধই বালু লুটের সুবিধাজনক উৎসে পরিণত হয়েছে। বাঁধ থাকায় এখানে নদীর স্রোত কম, পলি ও বালু জমে উঁচু চর তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিস্তা চরের জমির তথাকথিত মালিক ও দখলদাররা মাহিন্দ্রা ট্রাক্টরের মালিকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয়। এরপর মাহিন্দ্রাচালকেরা নদীর চর থেকে দিনের পর দিন বালু বিক্রি করে।

          গঙ্গাচড়া মডেল থানার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর দক্ষিণ কোলকোন্দ গ্রোয়েন বাঁধসংলগ্ন তিস্তা নদীর চরে অবৈধ বালু উত্তোলনের সময় পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় বালুবোঝাই মাহিন্দ্রা আটক করতে গেলে আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায়।

          উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, যারা বাঁধ কেটে বালু উত্তোলন করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, এই গ্রোয়েন বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিস্তা নদীর প্রবাহের দিক বদলে যেতে পারে। এর প্রভাব শুধু দক্ষিণ কোলকোন্দ নয়, বিস্তীর্ণ এলাকা এমনকি রংপুর শহর পর্যন্ত পড়তে পারে। এলাকাবাসীর দাবি, শুধু শ্রমিক বা চালক নন, চরের জমির মালিক, দখলদার, মাহিন্দ্রা ট্রাক্টরের মালিক ও চালক এ পুরো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রোয়েন বাঁধ অবিলম্বে সংস্কার না করলে আসন্ন বর্ষায় দক্ষিণ কোলকোন্দসহ বৃহত্তর রংপুরে ভয়াবহ নদীভাঙন ও মানবিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।


          তথ্যসূত্র:

          নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

          Comment


          • #6
            আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ সাড়ে ২৯ হাজার কোটি টাকা




            দেশের ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) খেলাপি ঋণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে এ খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ২৯ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩৭ শতাংশেরও বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

            খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মূলত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বহুল আলোচিত পি কে হালদারের মাধ্যমে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের প্রভাব এখনো পুরো খাতে বহমান। পি কে হালদারের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় থাকা কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও খেলাপি ঋণ বাড়ছে। ফলে সার্বিকভাবে এ খাতের পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।

            বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের জুন শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট ঋণ স্থিতি ছিল ৭৭ হাজার ৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৭ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭২ শতাংশ। সেপ্টেম্বর শেষে মোট ঋণ স্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯ হাজার ২৫১ কোটি টাকা। এর বিপরীতে খেলাপি ঋণ হয়েছে ২৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩৭ দশমিক ১১ শতাংশ। অর্থাৎ, তিন মাসে ঋণ বেড়েছে ২ হাজার ১৫৯ কোটি টাকা এবং একই সময়ে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা।

            অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই খাতে আমানত হিসাবের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে, যদিও আমানতের পরিমাণে ওঠানামা রয়েছে।

            বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে এই খাতে আমানতকারীর সংখ্যা কমেছিল প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৬৮। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৭০ হাজার ১৯৪, যা ২০২৪ সালের জুনে নেমে আসে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৯১ জনে। পরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে আবার বাড়তে শুরু করে আমানতকারী। গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪০ হাজার ৮২৫। শুধু জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসেই বেড়েছে প্রায় ৬০ হাজার ৬৬২ জন আমানতকারী। এক বছরের ব্যবধানে মোট বেড়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৩৭ জন।

            বর্তমানে দেশে মোট ৩৫টি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উচ্চখেলাপি ঋণ এবং আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০টি প্রতিষ্ঠান কেন বন্ধ করা হবে না—তা জানতে চেয়ে সম্প্রতি নোটিস দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার বা ঘুরে দাঁড়ানোর কর্মপরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় সেগুলো বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকেও সম্মতি পাওয়া গেছে।

            যে ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হতে যাচ্ছে, সেগুলো হলো—এফএএস ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।

            বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এই খাতে মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৫৫ শতাংশই এই ৯টি প্রতিষ্ঠানের। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট আমানতের পরিমাণ ১৫ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তি পর্যায়ের আমানত ৩ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা এবং ব্যাংক ও করপোরেট গ্রাহকদের আমানত ১১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা।

            সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, অবসায়নের পথে থাকা ৯টি রুগ্‌ণ এনবিএফআইয়ের ব্যক্তি পর্যায়ের আমানতকারীরা আগামী ফেব্রুয়ারিতে রমজানের আগেই তাদের মূল টাকা ফেরত পাবেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ মূল্যায়নের কাজ শুরু করা হবে। মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ ইতিবাচক না নেতিবাচক। তার ভিত্তিতেই শেয়ারহোল্ডাররা কিছু পাবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

            কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে সরকার মৌখিকভাবে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে। তবে আমানতকারীরা কেবল তাদের আসল টাকা ফেরত পাবেন, কোনো সুদ দেওয়া হবে না।

            তথ্যসূত্র:

            নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

            Comment

            Working...
            X